📄 পরকালে যেসব কাজ হবে
২০৯- পৃথিবীর জান্নাতী মানুষেরা জান্নাতে প্রবেশ করার পরও অনেক জায়গা খালি রয়ে যাবে।
২১০- অতএব মহান আল্লাহ আরো অনেক মানুষকে সৃষ্টি করে তাদেরকে জান্নাতে স্থান দান করবেন।
২১১- পরকালে যেসব কাজ হবে, তা নিম্নরূপঃ হিসাব-নিকাশ, শাস্তি ও প্রতিদান এবং জান্নাত ও জাহান্নাম।
২১২- আর এ সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আসমানী গ্রন্থাবলীতে এবং নবীগণ হতে বর্ণিত জ্ঞানের মাঝে নিহিত রয়েছে।
২১৩- তবে নবী মুহাম্মদ ﷺ হতে এ সম্পর্কে যে জ্ঞান পৌঁছেছে, তাই যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি এ সমস্ত জ্ঞান অন্বেষণ করবে, সে অবশ্যই তা অর্জন করতে পারবে।
📄 ভাল-মন্দ তকদীরের প্রতি বিশ্বাস
এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদঃ ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের প্রথম পর্যায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের দ্বিতীয় পর্যায়।
📄 ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের প্রথম পর্যায়
নাজাত প্রাপ্তদল, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ভাল-মন্দ তক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস রাখেন।
২১৪- ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের দুটি পর্যায় আছে এবং প্রতি পর্যায় দুটি বস্তুতে শামিল।
২১৫- সুতরাং প্রথম পর্যায়ে একথার বিশ্বাস করা যে, সৃষ্টি জগৎ কি কি কাজ করবে, তা মহান আল্লাহ তার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত, অর্থাৎ-তাদের আনুগত্য, পাপাচার, রিযিক ও আয়ু সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে একথার প্রতি বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহ লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) সৃষ্টিরাজীর ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।
২১৬- সুতরাং সর্ব প্রথম আল্লাহ কলম সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে বলেনঃ লিখ! কলম বলল, আমি কি লিখব? তিনি বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, তুমি তা লিখ।
(আহমাদ-৫/৩১৭, আবু দাউদ-৪৭০০)
২১৭- মানুষেরা যে আপদ বিপদে নিপতিত হয় (যা ভাগ্যে লেখা আছে) তাতে ভুল হতে পারে না। আর যে আপদ-বিপদ ভাগ্যে লিখা নেই, তা কোন দিন ঘটতে পারে না। কলমের কালি শুকিয়ে গিয়েছে এবং ভাগ্য লিপি বন্ধকরে দেয়া হয়েছে।
২১৮- যেমন কি আল্লাহ পাক বলেছেনঃ
ألم تعلم أن الله يعلم ما في السماء والأرض إن ذلك في كتاب إن
ذلك على الله يسير (الحج: ৭০)
অর্থাৎ- তুমি কি অবগত নও যে, আসমান জমীনে যা কিছু রয়েছে, সে সকল কিছুই আল্লাহ অবগত রয়েছেন। নিশ্চয় তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আল্লাহর নিকট অবশ্যই ইহা সহজতর। (সুরা হজ্জ্বঃ ৭০)
২১৯- আল্লাহ আরো বলেনঃ
ما أصاب من مصيبة في الأرض ولا في أنفسكم إلا في كتاب
من قبل أن نبرأها إن ذلك على الله يسير (الحديد: ২২)
অর্থাৎ- পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগত ভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আপতিত হয়ে থাকে, তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আমি লিপিবদ্ধ করে থাকি। নিশ্চয় তা আল্লাহর পক্ষে সহজতর।
(সুরা আল হাদীদঃ ২২)
২২০- আর এই তকদীর যা আল্লাহ পাকের ইল্ম ও জ্ঞান অনুসারে ঘটে থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত লিখা হয়েছে আবার অনেক ক্ষেত্রে বিস্তারিত।
২২১- সুতরাং আল্লাহ নিজ ইচ্ছানুযায়ী লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) ভাগ্য লিখেছেন।
২২২- অতঃপর যখন দেহে আত্মা প্রদানের পূর্বে গর্ভে অবস্থিত শিশুর দেহ সৃষ্টি করেন। তখন তার নিকট একজন ফেরেস্তাকে চারটি কথা লিখার নির্দেশ দিয়ে পাঠান। উক্ত ফেরেস্তাকে বলা হয়ঃ এর রেযেক, বয়স, কাজ-কর্ম এবং সৎ ও অসৎ হওয়া ইত্যাদি।
২২৩- বিগত যুগে কট্টরপন্থি “ক্বান্দ্রিয়া” (ভাগ্যকে অস্বীকার-কারী দল) উপরোক্ত তকদীরকে অস্বীকার করত। আজকাল এই প্রকার তকদীরকে অস্বীকারকারীদের সংখ্যা অল্প।
📄 ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের দ্বিতীয় পর্যায়
২২৪- দ্বিতীয় পর্যায় হলোঃ মহান আল্লাহর চুড়ান্ত ইচ্ছা ও ব্যাপক ক্ষমতা।
২২৫- আর তা হলোঃ একথার প্রতি বিশ্বাস যে, আল্লাহ যা চান তাই হয়। আর যা চান না, তা হয় না।
২২৬- আসমান ও জমীনে যা কিছু হয়, আল্লাহ পাকের ইচ্ছাতেই হয়। তাঁর বিনা ইচ্ছায় গাছের একটি পাতাও নড়ে না
|
২২৭- মহান আল্লাহ পাক সে সমস্ত জিনিসের উপর, (যার অস্তিত্ব রয়েছে আর যার অস্তিত্ব নেই) সর্ব শক্তিমান।
২২৮- আকাশ ও জমীনে যে কোন সৃষ্টি রয়েছে, আল্লাহ পাকই তার সৃষ্টিকর্তা। তাঁর ছাড়া অন্য কোন স্রষ্টা নেই এবং তাঁর ছাড়া অন্য কোন পালনকর্তাও নেই।
২২৯- মহান আল্লাহ বান্দাদের তাঁর আনুগত্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ হতে নিষেধ করেছেন।
২৩০- তাই তিনি সংযমশীল, একনিষ্ঠ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠাকারীদের ভালবাসেন।
২৩১- আর আল্লাহ ঈমানদার ও সৎ কর্মশীলদের উপর সন্তুষ্ট হন, কাফেরদের ভালবাসেন না, ফাসেক (পাপিষ্ট) সম্প্রদায়ের উপর অসন্তুষ্ট হন এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেননা।
২৩২- তিনি স্বীয় বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং ফিতনা ফাসাদ ও বিপর্যয়ও ভালবাসেন না।
২৩৩- বান্দাগণ আসলে কর্ম করে থাকে এবং আল্লাহ তাদের কর্মের সৃষ্টিকর্তা।
৩৩৪- আর বান্দা বলা হয়ঃ মুমিন, কাফের, সৎ - অসৎ, নামাযী ও রোযাদার সর্ব প্রকারের মানুষকে।
৩৩৫- আর বান্দার নিজ আমলের (কাজ ও কর্মের) উপর শক্তি সামর্থ্য রয়েছে এবং স্বেচ্ছায় তা করে থাকে এবং মহান আল্লাহ তাদেরকে যেমন সৃষ্টি করেছেন, তেমনি শক্তি ও ইচ্ছাও সৃষ্টি করেছেন।
২৩৬- যেমন কি আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেনঃ
لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ * وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
(التكوير: ২৮-২৯)
অর্থাৎ- তোমাদের মধ্যকার সেই ব্যক্তির জন্য, যে সরল পথে চলতে ইচ্ছুক। তোমরা সমগ্র জাহানের পালনকর্তা আল্লাহর ইচ্ছা বহির্ভূত অন্য কোন ইচ্ছা করতে পারনা। (সুরা তাকভীরঃ ২৮-২৯)
২৩৭- তকদীরের এই পর্যায়টিকে অধিকাংশ কাদ্বরিয়াগণ (যাদেরকে নবী ﷺ এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিপূজক) বলে আখ্যায়িত করেছেন) অস্বীকার করে।
২৩৮- আর যারা তকদীরে বিশ্বাসী, তাদের একটি দল এ সম্পর্কে বাড়াবাড়ী করে, বান্দার শক্তি ও ইচ্ছা এবং ক্ষমতাকে তাদের হতে ছিনিয়ে নিয়েছে এবং আল্লাহর কার্যাবলী ও বিধান হতে তার হেকমত ও গূঢ় রহস্যকে বহিষ্কার করেছে। (অর্থাৎ-আল্লাহর বিধি-বিধানে কোন হেকমত নেই।)