📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 শাফাআত

📄 শাফাআত


২০৩- আর সমস্ত উম্মতের মাঝে সর্ব প্রথম নবী মুহাম্মদ ﷺ এর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
২০৪- নবী মুহাম্মদ ﷺ এর কিয়ামতের দিনে তিন প্রকারের শাফাআত (সুপারিশ) হবে।
২০৫- প্রথম শাফাআতঃ এই শাফাআত হাশরের ময়দানের সমস্ত লোকদের জন্য হবে, যেন তাদের বিচার ফয়সালা করা হয়। সমস্ত নবীগণ এই শাফাআত করতে অস্বীকার করবেন। তাঁদের মধ্যে হবেন, আদম, নুহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা বিন মারইয়াম ﷺ। নবী মুহাম্মদ ﷺ তখন সুপারিশ করবেন।
২০৬- দ্বিতীয় প্রকার শাফাআতঃ নবী ﷺ জান্নাতীদের তাঁর উম্মতের জান্নাতে প্রবেশের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইবেন। আর এই দুই প্রকারের শাফাআত শুধু মাত্র নবী মুহাম্মদ ﷺ করতে পারবেন।
২০৭- তৃতীয় প্রকারের শাফাআতঃ সেই সব ব্যক্তির জন্য হবে, যাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে যাবে। আর এই প্রকারের শাফাআত যেমন নবী ﷺ করবেন, তেমনি সমস্ত নবী ও রাসূলগণ, সিদ্দিকান, শহীদগণ এবং সৎ ব্যক্তিগণও করবেন। অনেক লোক এমন হবে যে, তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে যাবে। সেই সব লোকদের জন্য তাঁরা শাফাআত করবেন, যেন তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ না করা হয়। আর অনেকে এমন হবে, যাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়ে যাবে, তাঁরা তাদের নরক থেকে বের করার জন্য শাফাআত করবেন।
২০৮- এছাড়াও নরক থেকে মহান আল্লাহ্ অনেক লোকদের বিনা শাফাআতে নিজ অনুগ্রহে বের করবেন।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 পরকালে যেসব কাজ হবে

📄 পরকালে যেসব কাজ হবে


২০৯- পৃথিবীর জান্নাতী মানুষেরা জান্নাতে প্রবেশ করার পরও অনেক জায়গা খালি রয়ে যাবে।
২১০- অতএব মহান আল্লাহ আরো অনেক মানুষকে সৃষ্টি করে তাদেরকে জান্নাতে স্থান দান করবেন।
২১১- পরকালে যেসব কাজ হবে, তা নিম্নরূপঃ হিসাব-নিকাশ, শাস্তি ও প্রতিদান এবং জান্নাত ও জাহান্নাম।
২১২- আর এ সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আসমানী গ্রন্থাবলীতে এবং নবীগণ হতে বর্ণিত জ্ঞানের মাঝে নিহিত রয়েছে।
২১৩- তবে নবী মুহাম্মদ ﷺ হতে এ সম্পর্কে যে জ্ঞান পৌঁছেছে, তাই যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি এ সমস্ত জ্ঞান অন্বেষণ করবে, সে অবশ্যই তা অর্জন করতে পারবে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 ভাল-মন্দ তকদীরের প্রতি বিশ্বাস

📄 ভাল-মন্দ তকদীরের প্রতি বিশ্বাস


এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদঃ ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের প্রথম পর্যায়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের দ্বিতীয় পর্যায়।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের প্রথম পর্যায়

📄 ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের প্রথম পর্যায়


নাজাত প্রাপ্তদল, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ভাল-মন্দ তক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস রাখেন।
২১৪- ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের দুটি পর্যায় আছে এবং প্রতি পর্যায় দুটি বস্তুতে শামিল।
২১৫- সুতরাং প্রথম পর্যায়ে একথার বিশ্বাস করা যে, সৃষ্টি জগৎ কি কি কাজ করবে, তা মহান আল্লাহ তার সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত, অর্থাৎ-তাদের আনুগত্য, পাপাচার, রিযিক ও আয়ু সম্পর্কে ওয়াকিফহাল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে একথার প্রতি বিশ্বাস করা যে, মহান আল্লাহ লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) সৃষ্টিরাজীর ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন।
২১৬- সুতরাং সর্ব প্রথম আল্লাহ কলম সৃষ্টি করেন, অতঃপর তাকে বলেনঃ লিখ! কলম বলল, আমি কি লিখব? তিনি বললেন, কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু হবে, তুমি তা লিখ।
(আহমাদ-৫/৩১৭, আবু দাউদ-৪৭০০)
২১৭- মানুষেরা যে আপদ বিপদে নিপতিত হয় (যা ভাগ্যে লেখা আছে) তাতে ভুল হতে পারে না। আর যে আপদ-বিপদ ভাগ্যে লিখা নেই, তা কোন দিন ঘটতে পারে না। কলমের কালি শুকিয়ে গিয়েছে এবং ভাগ্য লিপি বন্ধকরে দেয়া হয়েছে।
২১৮- যেমন কি আল্লাহ পাক বলেছেনঃ
ألم تعلم أن الله يعلم ما في السماء والأرض إن ذلك في كتاب إن
ذلك على الله يسير (الحج: ৭০)
অর্থাৎ- তুমি কি অবগত নও যে, আসমান জমীনে যা কিছু রয়েছে, সে সকল কিছুই আল্লাহ অবগত রয়েছেন। নিশ্চয় তা কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। আল্লাহর নিকট অবশ্যই ইহা সহজতর। (সুরা হজ্জ্বঃ ৭০)
২১৯- আল্লাহ আরো বলেনঃ
ما أصاب من مصيبة في الأرض ولا في أنفسكم إلا في كتاب
من قبل أن نبرأها إن ذلك على الله يسير (الحديد: ২২)
অর্থাৎ- পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগত ভাবে তোমাদের উপর যে বিপর্যয় আপতিত হয়ে থাকে, তা সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই আমি লিপিবদ্ধ করে থাকি। নিশ্চয় তা আল্লাহর পক্ষে সহজতর।
(সুরা আল হাদীদঃ ২২)
২২০- আর এই তকদীর যা আল্লাহ পাকের ইল্ম ও জ্ঞান অনুসারে ঘটে থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত লিখা হয়েছে আবার অনেক ক্ষেত্রে বিস্তারিত।
২২১- সুতরাং আল্লাহ নিজ ইচ্ছানুযায়ী লাওহে মাহফুজে (সংরক্ষিত ফলকে) ভাগ্য লিখেছেন।
২২২- অতঃপর যখন দেহে আত্মা প্রদানের পূর্বে গর্ভে অবস্থিত শিশুর দেহ সৃষ্টি করেন। তখন তার নিকট একজন ফেরেস্তাকে চারটি কথা লিখার নির্দেশ দিয়ে পাঠান। উক্ত ফেরেস্তাকে বলা হয়ঃ এর রেযেক, বয়স, কাজ-কর্ম এবং সৎ ও অসৎ হওয়া ইত্যাদি।
২২৩- বিগত যুগে কট্টরপন্থি “ক্বান্দ্রিয়া” (ভাগ্যকে অস্বীকার-কারী দল) উপরোক্ত তকদীরকে অস্বীকার করত। আজকাল এই প্রকার তকদীরকে অস্বীকারকারীদের সংখ্যা অল্প।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00