📄 হাউজে কাউছার
১৯২- কিয়ামতের মাঠে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর হাউজ (কাওছার) হবে।
১৯৩- যার পানি দুধ অপেক্ষা সাদা এবং মধু অপেক্ষা মিষ্টি।
১৯৪- সেই হাউজের পাত্রের সংখ্যা আকাশের তারকারাজীর সংখ্যার সমান।
১৯৫- সেই হাউজের দৈর্ঘ্য এক মাসের পথ এবং তার প্রস্থ এক মাসের পথ।
১৯৬- যে ব্যক্তি সেখানে তা হতে একবার পান করবে, সে তার পরে আর কখনও পিপাসিত হবে না।
📄 পুলসিরাত
১৯৭- জাহান্নামের উপর পুলসিরাত কায়েম করা হবে।
১৯৮- আর পুলসিরাত সেই পুল, যা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে অবস্থিত হবে।
১৯৯- মানুষ নিজ নিজ আমল অনুযায়ী তার উপর দিয়ে অতিক্রম করবে। সুতরাং তাদের অনেকে চক্ষের পলকের ন্যায় অতিক্রম করবে। আবার কেউ তা বিদ্যুতের ন্যায় পার হবে। আর কতক লোক হাওয়ার মত বেগে পার হবে, কতক লোক দ্রুতগামী ঘোড়ার মত অতিক্রম করবে, কতক লোক উষ্ট্রারোহীর মত তা পার হবে, অনেকে দৌড়ে পার হবে, অনেকে সাধারণ গতিতে চলে পার হবে, অনেকে পাছার ভরে চলবে এবং অনেক মানুষ আচঁড় লেগে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। উক্ত পুলের উপর অনেক কাঁটা রয়েছে, মানুষকে তাদের আমল অনুযায়ী আঁচড় দিবে।
২০০- অতএব যে ব্যক্তি পুলসিরাত পার হয়ে যাবে, সে অবশ্য জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২০১- সুতরাং পুলসিরাত অতিক্রম করার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে এক পুলের উপর তাদেরকে দাঁড় করানো হবে। অতঃপর একে অপর থেকে কেসাস (অন্যায়ের প্রতিশোধ) নেবে। তারপর তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
২০২- মুহাম্মদ ﷺ প্রথম ব্যক্তি, যিনি জান্নাতের দরজা খুলতে বলবেন।
📄 শাফাআত
২০৩- আর সমস্ত উম্মতের মাঝে সর্ব প্রথম নবী মুহাম্মদ ﷺ এর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
২০৪- নবী মুহাম্মদ ﷺ এর কিয়ামতের দিনে তিন প্রকারের শাফাআত (সুপারিশ) হবে।
২০৫- প্রথম শাফাআতঃ এই শাফাআত হাশরের ময়দানের সমস্ত লোকদের জন্য হবে, যেন তাদের বিচার ফয়সালা করা হয়। সমস্ত নবীগণ এই শাফাআত করতে অস্বীকার করবেন। তাঁদের মধ্যে হবেন, আদম, নুহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা বিন মারইয়াম ﷺ। নবী মুহাম্মদ ﷺ তখন সুপারিশ করবেন।
২০৬- দ্বিতীয় প্রকার শাফাআতঃ নবী ﷺ জান্নাতীদের তাঁর উম্মতের জান্নাতে প্রবেশের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইবেন। আর এই দুই প্রকারের শাফাআত শুধু মাত্র নবী মুহাম্মদ ﷺ করতে পারবেন।
২০৭- তৃতীয় প্রকারের শাফাআতঃ সেই সব ব্যক্তির জন্য হবে, যাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে যাবে। আর এই প্রকারের শাফাআত যেমন নবী ﷺ করবেন, তেমনি সমস্ত নবী ও রাসূলগণ, সিদ্দিকান, শহীদগণ এবং সৎ ব্যক্তিগণও করবেন। অনেক লোক এমন হবে যে, তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে যাবে। সেই সব লোকদের জন্য তাঁরা শাফাআত করবেন, যেন তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ না করা হয়। আর অনেকে এমন হবে, যাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়ে যাবে, তাঁরা তাদের নরক থেকে বের করার জন্য শাফাআত করবেন।
২০৮- এছাড়াও নরক থেকে মহান আল্লাহ্ অনেক লোকদের বিনা শাফাআতে নিজ অনুগ্রহে বের করবেন।
📄 পরকালে যেসব কাজ হবে
২০৯- পৃথিবীর জান্নাতী মানুষেরা জান্নাতে প্রবেশ করার পরও অনেক জায়গা খালি রয়ে যাবে।
২১০- অতএব মহান আল্লাহ আরো অনেক মানুষকে সৃষ্টি করে তাদেরকে জান্নাতে স্থান দান করবেন।
২১১- পরকালে যেসব কাজ হবে, তা নিম্নরূপঃ হিসাব-নিকাশ, শাস্তি ও প্রতিদান এবং জান্নাত ও জাহান্নাম।
২১২- আর এ সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা আসমানী গ্রন্থাবলীতে এবং নবীগণ হতে বর্ণিত জ্ঞানের মাঝে নিহিত রয়েছে।
২১৩- তবে নবী মুহাম্মদ ﷺ হতে এ সম্পর্কে যে জ্ঞান পৌঁছেছে, তাই যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি এ সমস্ত জ্ঞান অন্বেষণ করবে, সে অবশ্যই তা অর্জন করতে পারবে।