📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 মহা প্রলয়ের দিবস ও তার ভয়ঙ্কর অবস্থা

📄 মহা প্রলয়ের দিবস ও তার ভয়ঙ্কর অবস্থা


১৮০- অতঃপর কবরের এই পরিক্ষা নিরীক্ষার পর মহাপ্রলয়ের দিবস পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ হতে নিয়ামত অথবা শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।
১৮১- তারপর সমস্ত রুহগুলিকে তাদের দেহে ফেরৎ করে দেওয়া হবে।
১৮২- অতঃপর সেই কিয়ামত কায়েম হবে, যার সম্পর্কে মহান আল্লাহ স্বীয় গ্রন্থে ও তাঁর রাসূলের ﷺ বাণীর মাধ্যমে জ্ঞাত করেছেন এবং তার প্রতি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত রয়েছে।
১৮৩- সুতরাং মানুষ তাদের কবর হতে বিশ্বজাহানের পালনকর্তার উদ্দেশ্যে খালি পায়ে, উলঙ্গাবস্থায় এবং খাতনা বিহীন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে।
১৮৪- আর সূর্য তাদের নিকটবর্তী হয়ে যাবে।
১৮৫- আর ঘামে তারা হাবুডুবু করতে থাকবে।
১৮৬- এবং দাঁড়ি পাল্লা কায়েম করা হবে। অতঃপর তাতে বান্দার আমল সমূহ ওজন করা হবে। এরশাদ হচ্ছেঃ
فَمَنْ تَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ * وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ
الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ (المؤمنون: ১০২-১০৩)
অর্থাৎ- যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। আর যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই সাধন করেছে। তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। (সুরা আল মুমিনুনঃ ১০২-১০৩)
১৮৭- রেজিষ্টার সমূহ খুলে দেওয়া হবে। আর তা হচ্ছে, আমলনামা (যাতে পাপ ও পুণ্য লিপিবদ্ধ হবে)। তারপর অনেক মানুষ তাদের আমলনামা ডান হাতে ধারণ করবে। আবার অনেকে তাদের আমলনামা বাম হাতে অথবা পশ্চাত হতে ধারণ করবে।
১৮৮- যেমন কি মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেনঃ
وَكُلَّ إِنْسَانِ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ
مَنْشُورًا * اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا
(الاسراء : ১৩-১৪)
অর্থাৎ- আমি প্রত্যেক মানুষের কর্ম, তার গ্রীবা লগ্ন করে রেখেছি এবং কিয়ামত দিবসে আমি তার জন্য একটি কিতাব বের করে দিব, যা সে উন্মুক্ত রূপে পাবে। তুমি তোমার কিতাব পাঠ কর। তোমার হিসাব গ্রহনের জন্য আজ তুমিই যথেষ্ট।
(সুরা বনী ইসরাঈলঃ ১৩-১৪)
১৮৯- মহান আল্লাহ সৃষ্টি জগতের হিসাব নিবেন।
১৯০- এবং আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার সঙ্গে নির্জনে তার গুনাহ সমূহের অঙ্গীকার করাবেন। যেমন কি কুরআন ও সুন্নাহে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৯১- আর কাফেরদের তাদের (মুমিনদের) মত হিসাব নিকাশ হবে না, যাদের নেকী ও বদী ওজন করা হবে। কারণ তাদের (কাফেরদের) কোন নেকী নেই। তবে কাফেরদের আমল সমূহ গণনা করা হবে ও তাদের থেকে সে সমস্ত গুনাহ সমূহের স্বীকারোক্তি নেয়া হবে এবং তার প্রতিদান দেয়া হবে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 হাউজে কাউছার

📄 হাউজে কাউছার


১৯২- কিয়ামতের মাঠে নবী মুহাম্মদ ﷺ এর হাউজ (কাওছার) হবে।
১৯৩- যার পানি দুধ অপেক্ষা সাদা এবং মধু অপেক্ষা মিষ্টি।
১৯৪- সেই হাউজের পাত্রের সংখ্যা আকাশের তারকারাজীর সংখ্যার সমান।
১৯৫- সেই হাউজের দৈর্ঘ্য এক মাসের পথ এবং তার প্রস্থ এক মাসের পথ।
১৯৬- যে ব্যক্তি সেখানে তা হতে একবার পান করবে, সে তার পরে আর কখনও পিপাসিত হবে না।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 পুলসিরাত

📄 পুলসিরাত


১৯৭- জাহান্নামের উপর পুলসিরাত কায়েম করা হবে।
১৯৮- আর পুলসিরাত সেই পুল, যা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে অবস্থিত হবে।
১৯৯- মানুষ নিজ নিজ আমল অনুযায়ী তার উপর দিয়ে অতিক্রম করবে। সুতরাং তাদের অনেকে চক্ষের পলকের ন্যায় অতিক্রম করবে। আবার কেউ তা বিদ্যুতের ন্যায় পার হবে। আর কতক লোক হাওয়ার মত বেগে পার হবে, কতক লোক দ্রুতগামী ঘোড়ার মত অতিক্রম করবে, কতক লোক উষ্ট্রারোহীর মত তা পার হবে, অনেকে দৌড়ে পার হবে, অনেকে সাধারণ গতিতে চলে পার হবে, অনেকে পাছার ভরে চলবে এবং অনেক মানুষ আচঁড় লেগে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে। উক্ত পুলের উপর অনেক কাঁটা রয়েছে, মানুষকে তাদের আমল অনুযায়ী আঁচড় দিবে।
২০০- অতএব যে ব্যক্তি পুলসিরাত পার হয়ে যাবে, সে অবশ্য জান্নাতে প্রবেশ করবে।
২০১- সুতরাং পুলসিরাত অতিক্রম করার পর জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে এক পুলের উপর তাদেরকে দাঁড় করানো হবে। অতঃপর একে অপর থেকে কেসাস (অন্যায়ের প্রতিশোধ) নেবে। তারপর তাদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে।
২০২- মুহাম্মদ ﷺ প্রথম ব্যক্তি, যিনি জান্নাতের দরজা খুলতে বলবেন।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 শাফাআত

📄 শাফাআত


২০৩- আর সমস্ত উম্মতের মাঝে সর্ব প্রথম নবী মুহাম্মদ ﷺ এর উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
২০৪- নবী মুহাম্মদ ﷺ এর কিয়ামতের দিনে তিন প্রকারের শাফাআত (সুপারিশ) হবে।
২০৫- প্রথম শাফাআতঃ এই শাফাআত হাশরের ময়দানের সমস্ত লোকদের জন্য হবে, যেন তাদের বিচার ফয়সালা করা হয়। সমস্ত নবীগণ এই শাফাআত করতে অস্বীকার করবেন। তাঁদের মধ্যে হবেন, আদম, নুহ, ইব্রাহীম, মূসা ও ঈসা বিন মারইয়াম ﷺ। নবী মুহাম্মদ ﷺ তখন সুপারিশ করবেন।
২০৬- দ্বিতীয় প্রকার শাফাআতঃ নবী ﷺ জান্নাতীদের তাঁর উম্মতের জান্নাতে প্রবেশের জন্য আল্লাহর নিকট অনুমতি চাইবেন। আর এই দুই প্রকারের শাফাআত শুধু মাত্র নবী মুহাম্মদ ﷺ করতে পারবেন।
২০৭- তৃতীয় প্রকারের শাফাআতঃ সেই সব ব্যক্তির জন্য হবে, যাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে যাবে। আর এই প্রকারের শাফাআত যেমন নবী ﷺ করবেন, তেমনি সমস্ত নবী ও রাসূলগণ, সিদ্দিকান, শহীদগণ এবং সৎ ব্যক্তিগণও করবেন। অনেক লোক এমন হবে যে, তাদের জন্য জাহান্নাম নির্ধারিত হয়ে যাবে। সেই সব লোকদের জন্য তাঁরা শাফাআত করবেন, যেন তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ না করা হয়। আর অনেকে এমন হবে, যাদেরকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়ে যাবে, তাঁরা তাদের নরক থেকে বের করার জন্য শাফাআত করবেন।
২০৮- এছাড়াও নরক থেকে মহান আল্লাহ্ অনেক লোকদের বিনা শাফাআতে নিজ অনুগ্রহে বের করবেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00