📄 মুমিনগণ কিয়ামতের দিবসে তাঁদের পালনকর্তাকে দেখবেন
১৭৪- একথার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা অপরিহার্য যে, মুমিনগণ কিয়ামতের দিবসে আল্লাহকে স্বচক্ষে দেখবেন। যেভাবে সূর্য পরিষ্কার ভাবে এমন আকাশে দেখা যায়, যাতে কোন রকম মেঘের আবরণ না থাকে। আর যেমন পূর্ণিমার চাঁদ দেখে থাকে এবং তা দেখতে কোন কষ্ট হয়না।
১৭৫- মুমিনগণ কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ পাককে দেখবেন।
১৭৬- অতঃপর মুমিনগণ জান্নাতে যাওয়ার পর মহান আল্লাহ পাক যেমন ভাবে চাইবেন, তাঁরা তাঁকে দেখতে থাকবেন।
📄 পরকালের প্রতি বিশ্বাস
এতে দুটো পরিচ্ছেদ রয়েছেঃ
প্রথম পরিচ্ছেদঃ সে সমস্ত বস্তুর প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস স্থাপন করা, যা মরণের পর হবে বলে নবী ﷺ জানিয়েছেন।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ মহাপ্রলয় (কিয়ামত) ও তার ভয়ঙ্কর অবস্থা।
📄 মরণের পরে যা কিছু হবে, তার প্রতি বিশ্বাস
১৭৭- সে সমস্ত জিনিসের প্রতি বিশ্বাস রাখা, যা মৃত্যুর পর হবে বলে নবী ﷺ জানিয়েছেন।
১৭৮- সুতরাং তাঁরা (আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত), কবরের ফিৎনা (পরীক্ষা নিরিক্ষা) এবং কবরের আযাব ও নেয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখেন।
১৭৯- সুতরাং মানুষের কবরে পরীক্ষা নিরীক্ষা হবে। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবেঃ তোমার পালনকর্তা কে? তোমার দ্বীন কি? তোমার নবী কে? তখন যারা মুমিন, তাদেরকে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত বাণীর দ্বারা ইহলৌকিক ও পরলৌকিক জীবনে প্রতিষ্ঠা দান করে থাকেন। (সুরা ইবরাহীমঃ ২৭)
তাই মুমিন ব্যক্তি প্রতিউত্তরে বলবেঃ আমার পালনকর্তা আল্লাহ, আমার দ্বীন হলো ইসলাম এবং আমার নবী হলেন মুহাম্মদ ﷺ।
পক্ষান্তরে সংশয়ে নিমজ্জিত ব্যক্তি বলবেঃ হায়, হায়! আমি কিছুই জানিনা। লোকদেরকে যেভাবে বলতে শুনেছি, তাই বলেছি। অতঃপর তাকে লোহার হাতুড়ী দ্বারা এমন ভাবে আঘাত করা হবে, যাতে সে এমন ভাবে চিৎকার করবে, যা মানুষ ব্যতীত সমস্ত জীব শুনতে পাবে। আর যদি মানুষ তা শুনতে পেত, তাহলে বেহুঁশ হয়ে যেত। (আহমদ, আবু দাউদ, হাদিস সহীহ)
📄 মহা প্রলয়ের দিবস ও তার ভয়ঙ্কর অবস্থা
১৮০- অতঃপর কবরের এই পরিক্ষা নিরীক্ষার পর মহাপ্রলয়ের দিবস পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ হতে নিয়ামত অথবা শাস্তি ভোগ করতে থাকবে।
১৮১- তারপর সমস্ত রুহগুলিকে তাদের দেহে ফেরৎ করে দেওয়া হবে।
১৮২- অতঃপর সেই কিয়ামত কায়েম হবে, যার সম্পর্কে মহান আল্লাহ স্বীয় গ্রন্থে ও তাঁর রাসূলের ﷺ বাণীর মাধ্যমে জ্ঞাত করেছেন এবং তার প্রতি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যমত রয়েছে।
১৮৩- সুতরাং মানুষ তাদের কবর হতে বিশ্বজাহানের পালনকর্তার উদ্দেশ্যে খালি পায়ে, উলঙ্গাবস্থায় এবং খাতনা বিহীন অবস্থায় দণ্ডায়মান হবে।
১৮৪- আর সূর্য তাদের নিকটবর্তী হয়ে যাবে।
১৮৫- আর ঘামে তারা হাবুডুবু করতে থাকবে।
১৮৬- এবং দাঁড়ি পাল্লা কায়েম করা হবে। অতঃপর তাতে বান্দার আমল সমূহ ওজন করা হবে। এরশাদ হচ্ছেঃ
فَمَنْ تَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ * وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ
الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ فِي جَهَنَّمَ خَالِدُونَ (المؤمنون: ১০২-১০৩)
অর্থাৎ- যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই সফলকাম হবে। আর যাদের পাল্লা হাল্কা হবে, তারা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই সাধন করেছে। তারা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। (সুরা আল মুমিনুনঃ ১০২-১০৩)
১৮৭- রেজিষ্টার সমূহ খুলে দেওয়া হবে। আর তা হচ্ছে, আমলনামা (যাতে পাপ ও পুণ্য লিপিবদ্ধ হবে)। তারপর অনেক মানুষ তাদের আমলনামা ডান হাতে ধারণ করবে। আবার অনেকে তাদের আমলনামা বাম হাতে অথবা পশ্চাত হতে ধারণ করবে।
১৮৮- যেমন কি মহান আল্লাহ পাক এরশাদ করেনঃ
وَكُلَّ إِنْسَانِ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ وَنُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ
مَنْشُورًا * اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا
(الاسراء : ১৩-১৪)
অর্থাৎ- আমি প্রত্যেক মানুষের কর্ম, তার গ্রীবা লগ্ন করে রেখেছি এবং কিয়ামত দিবসে আমি তার জন্য একটি কিতাব বের করে দিব, যা সে উন্মুক্ত রূপে পাবে। তুমি তোমার কিতাব পাঠ কর। তোমার হিসাব গ্রহনের জন্য আজ তুমিই যথেষ্ট।
(সুরা বনী ইসরাঈলঃ ১৩-১৪)
১৮৯- মহান আল্লাহ সৃষ্টি জগতের হিসাব নিবেন।
১৯০- এবং আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার সঙ্গে নির্জনে তার গুনাহ সমূহের অঙ্গীকার করাবেন। যেমন কি কুরআন ও সুন্নাহে বর্ণনা করা হয়েছে।
১৯১- আর কাফেরদের তাদের (মুমিনদের) মত হিসাব নিকাশ হবে না, যাদের নেকী ও বদী ওজন করা হবে। কারণ তাদের (কাফেরদের) কোন নেকী নেই। তবে কাফেরদের আমল সমূহ গণনা করা হবে ও তাদের থেকে সে সমস্ত গুনাহ সমূহের স্বীকারোক্তি নেয়া হবে এবং তার প্রতিদান দেয়া হবে।