📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 মহান আল্লাহর আকাশ সমূহের উপর আরশে সমাসীন হওয়ার প্রতি বিশ্বাস তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত

📄 মহান আল্লাহর আকাশ সমূহের উপর আরশে সমাসীন হওয়ার প্রতি বিশ্বাস তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত


১৫৭- মহান আল্লাহ স্বীয় কিতাবে তাঁর যে সমস্ত গুণাবলীর কথা বলেছেন ও রাসূল (স) হতে তা অকাট্য ভাবে প্রমাণিত এবং এই উম্মাতের সালাফগণ (সাহাবা ও তাবেয়ীগণ) যে সমস্ত ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ পাক আকাশের উপরে আরশে সমাসীন রয়েছেন, তাঁর সৃষ্টির উপর তিনি মহাউচ্চ এবং বান্দাগণ যেখানেই থাকে, আল্লাহ পাক তাদের সাথে রয়েছেন। যা কিছু তারা করে সব কিছুই তিনি জানেন।
১৫৮- যেমন ভাবে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উপরোক্ত দুটো বস্তু বর্ণনা করেছেনঃ
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ
فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (جديد: ٤)
অর্থাৎ- তিনি ছয়দিবসে আসমান ও জমীন সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন। ভূগর্ভে যাকিছু প্রবেশ করে ও যাকিছু তা হতে উদগত হয় এবং আকাশ হতে যা কিছু অবতীর্ণ হয় ও আকাশে যা কিছু উত্থিত হয়, সেই সকলই তিনি অবগত আছেন। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন, তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্মের সম্যক দ্রষ্টা। (আল্ হাদীদঃ ৪)
১৫৯- মহান আল্লাহ যে বলেছেন, "وهو معك" "তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন”। তার অর্থ এই নয় যে, তিনি সৃষ্টির মাঝে মিশে রয়েছেন। কারণ আরবী ভাষাও এই অর্থ নিতে বাধ্য করেনা। এছাড়া এটা এই উম্মতের সালাফগণ (সাহাবা ও তাবেয়গণ) যে সম্পর্কে ঐক্যমত হয়েছেন, তার পরিপন্থি কথা এবং সৃষ্টি জগতকে যেই প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তারও পরিপন্থী কথা।
১৬০- বরং চাঁদ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন, আল্লাহর একটি ক্ষুদ্র সৃষ্টি। আর তা আকাশে অবস্থিত থাকা সত্য ও মুসাফির (পথিক) মুকিম (বাড়ীতে অবস্থানকারী), যেখানেই থাকনা কেন, চাঁদ তাদের সাথেই রয়েছে।
১৬১- আর আল্লাহ পাক আরশের উপর থেকে তার সৃষ্টির প্রতি পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের সংরক্ষক ও তাদের সম্পর্কে ওয়াকেফহাল রয়েছেন। এছাড়াও আরো অনেক গুণাবলী মহান পালনকর্তার রয়েছে।
১৬২- এ সমস্ত কথা যা আল্লাহ পাক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আরশের উপর সমাসীন রয়েছেন এবং তিনি আমাদের সাথেও রয়েছেন। তা চির সত্য, যার বিকৃতির প্রয়োজন নেই, কিন্তু মিথ্যা সংশয় থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 মহান আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া তাঁর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত

📄 মহান আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া তাঁর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত


১৬৩- একথার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস রাখা যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির অতি নিকটবর্তী।
১৬৪- যেমন মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ (البقرة: ১৮৬)
অর্থাৎ- হে নবী! আমার বান্দাগণ যখন আমার ব্যাপারে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, (তাদের বলে দিন) আমি তো নিকটেই আছি। আহ্ববানকারী যখন আহ্ববান করে থাকে, তার আহ্ববানে আমি সাড়া দিয়ে থাকি। সুতরাং আমার নির্দেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথ প্রাপ্ত হতে পারে। (আল বাক্বারাহঃ ১৮৬)
১৬৫- নবী ﷺ বলেছেনঃ নিশ্চয় যেই সত্ত্বার নিকট তোমরা দুআ করো, তিনি তোমাদের সওয়ারীর কাঁধ অপেক্ষাও তোমাদের নিকটবর্তী। (বুখারী ও মুসলীম)
১৬৬- আর কুরআন ও সুন্নাহতে যে আল্লাহর নিকটস্থ ও সাথে হওয়ার কথা আলোচিত হয়েছে, তা তাঁর সর্বোচ্চতার পরিপন্থী নয়। কারণ মহান আল্লাহর কোন গুণে, তাঁর মত কেউ নেই। তিনি নিকটে হওয়া সত্য ও সর্বোচ্চ হওয়াও সত্য এবং তিনি অতি নিকটে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 আল্লাহ্, তাঁর কিতাব সমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান

📄 আল্লাহ্, তাঁর কিতাব সমূহ ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান


এই অধ্যায়ে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছেঃ
প্রথম পরিচ্ছেদঃ একথার প্রতি ঈমান রাখা যে, কুরাআনে করীম আল্লাহর নাযিলকৃত বাণী, তাঁর সৃষ্টি নয়।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদঃ একথার প্রতি বিশ্বাস যে, মুমিনগণ কিয়ামত দিবসে তাদের প্রতি-পালককে দেখবেন।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 এ কথার প্রতি বিশ্বাস যে, কুরআন আল্লাহর নাযিলকৃত বাণী, যা সৃষ্টি নয়

📄 এ কথার প্রতি বিশ্বাস যে, কুরআন আল্লাহর নাযিলকৃত বাণী, যা সৃষ্টি নয়


১৬৭- একথার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যে, কুরআন করীম আল্লাহর অবতরণকৃত বাণী, যা সৃষ্টি নয়। (বরং তা আল্লাহর একটি গুণ)।
১৬৮- আল্ কুরআনের সূত্রপাত আল্লাহ হতেই এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করবে।
১৫৯- আর মহান আল্লাহ সত্যিকারে সঠিক অর্থে কুরআন করীম নিজ ভাষায় বলেছেন।
১৭০- আর এই কুরআন যা মহান আল্লাহ স্বীয় নবী মুহাম্মদ ﷺ এর প্রতি নাযিল করেছেন। তা সত্যিকার আল্লাহর বাণী, অন্য কোন ব্যক্তির বাণী নয়।
১৭১- একথা বলা সঠিক নয় যে, আল্ কুরআন আল্লাহর বাণীর নকল অথবা তাঁর বাণীর নাম মাত্র।
১৭২- বরং যখন মানুষ তা পাঠ করে বা মুসহাফে লিখে, তখন তা সত্যিকার আল্লাহর বাণীর আওতা হতে বের হয়ে যায়না। কারণ কোন বাণী আসলে তারই বলে অভিহিত করা যায়, যে প্রথম সে বাণী বলে থাকে। তার বাণী কখনও বলা যায়না, যে ব্যক্তি সেই বাণী পৌঁছাবার উদ্দেশ্যে বলে থাকে।
১৭৩- আল্ কুরআনের অক্ষর সমূহ ও তার ভাব, সমস্ত আল্লাহর রাণী। আল্লাহর বাণীর ভাব বাদ দিয়ে শুধু অক্ষরসমূহ আল্লাহর বাণী নয় এবং অক্ষর বাদ দিয়ে শুধু ভাবটুকুই আল্লাহর বাণী নয়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية