📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 ঈমানদারগণ কিয়ামতের দিবসে তাদের পালনকর্তার দ্বীদার লাভ করবেন, তার প্রমাণ

📄 ঈমানদারগণ কিয়ামতের দিবসে তাদের পালনকর্তার দ্বীদার লাভ করবেন, তার প্রমাণ


ঈমানদারগণ কিয়ামতের দিবসে তাদের পালনকর্তার দ্বীদার লাভ করবেন তার প্রমাণঃ
১২৫- মহান আল্লাহর বাণীঃ
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاصِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ (القيامة: ٢٢-٢٣)
অর্থাৎ- সেই কিয়ামত দিবসে কতকগুলি মুখমন্ডল আনন্দোৎফুল্ল হবে। তারা তাদের পালন কর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
(আল কিয়ামতঃ ২২-২৩)
১২৬- মহান আল্লাহ বলেনঃ
عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ [المطففين: ۲৩]
অর্থাৎ- তারা সুসজ্জিত আসনে সমাসীন থেকে অবলোকন করতে থাকবে। (আল মুতাফফিফীনঃ ২৩)
১২৭- মহান আল্লাহ বলেনঃ
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ [يونس: ٢٦]
অর্থাৎ- যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আরো অধিক। (ইউনুসঃ ২৬)
১২৮- আল্লাহ আরো বলেনঃ
لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ [ق: ٣٥]
অর্থাৎ- সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং তারও অধিক আমার নিকট রয়েছে। (ক্বাফঃ ৩৫)
) مزيد 3 زيادة )অধিক) এর তফসীর আল্লাহর দ্বীদার ও দর্শন(
(অনুবাদক)
১২৯- মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এই ব্যাপারে অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে।
১৩০- যে ব্যক্তি কুরআন দ্বারা সঠিক পথ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাতে গবেষণা করবে তার জন্য সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

১২৫- মহান আল্লাহর বাণীঃ
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاصِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ (القيامة: ২২-২৩)
অর্থাৎ- সেই কিয়ামত দিবসে কতকগুলি মুখমন্ডল আনন্দোৎফুল্ল হবে। তারা তাদের পালন কর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
(আল কিয়ামতঃ ২২-২৩)
১২৬- মহান আল্লাহ বলেনঃ
عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ [المطففين: ২৩]
অর্থাৎ- তারা সুসজ্জিত আসনে সমাসীন থেকে অবলোকন করতে থাকবে। (আল মুতাফফিফীনঃ ২৩)
১২৭- মহান আল্লাহ বলেনঃ
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ [يونس: ২৬]
অর্থাৎ- যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আরো অধিক। (ইউনুসঃ ২৬)
১২৮- আল্লাহ আরো বলেনঃ
لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ [ق: ৩৫]
অর্থাৎ- সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং তারও অধিক আমার নিকট রয়েছে। (ক্বাফঃ ৩৫)
) مزيد 3 زيادة )অধিক) এর তফসীর আল্লাহর দ্বীদার ও দর্শন(
(অনুবাদক)
১২৯- মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এই ব্যাপারে অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে।
১৩০- যে ব্যক্তি কুরআন দ্বারা সঠিক পথ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাতে গবেষণা করবে তার জন্য সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 এই উম্মতের দল সমূহের মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মধ্যপন্থী

📄 এই উম্মতের দল সমূহের মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মধ্যপন্থী


১৫১- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার দল সমূহের মাঝে মধ্যপন্থী, যেরূপ এই উম্মত সমস্ত উম্মতের মাঝে মধ্যপন্থি।
১৫২- সুতরাং তারা মহান আল্লাহর গুণাবলীর ক্ষেত্রে গুণাবলীর অস্বীকৃতিদানকারী দল 'জাহমিয়াহ' ও সাদৃশ্যতা পোষণকারী দল 'মুশাব্বিহার' মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৩- এবং মহান আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে "কাদরিয়া” ও "জাবরিয়ার” মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৪- আর আল্লাহর শাস্তির ক্ষেত্রে "মুরজিয়াহ” ও “কাদরিয়া-হর” অর্ন্তভূক্ত "ওয়াইদিয়াহ”ও অন্যান্যদের মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৫- আর ঈমান ও ধর্মের (দ্বীনের) ক্ষেত্রে "হারুরীয়াহ” ও "মু'তাযিলাহ" এবং "মুরজিয়াহ" ও "জাহমিয়াহর” মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৬- আর রাসূল ﷺ এর সাহাবাগণের ক্ষেত্রে "রাফেযা" (শিয়াহ) "খারেজীদের” মাঝামাঝি রয়েছেন।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 মহান আল্লাহর আকাশ সমূহের উপর আরশে সমাসীন হওয়ার প্রতি বিশ্বাস তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত

📄 মহান আল্লাহর আকাশ সমূহের উপর আরশে সমাসীন হওয়ার প্রতি বিশ্বাস তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত


১৫৭- মহান আল্লাহ স্বীয় কিতাবে তাঁর যে সমস্ত গুণাবলীর কথা বলেছেন ও রাসূল (স) হতে তা অকাট্য ভাবে প্রমাণিত এবং এই উম্মাতের সালাফগণ (সাহাবা ও তাবেয়ীগণ) যে সমস্ত ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ পাক আকাশের উপরে আরশে সমাসীন রয়েছেন, তাঁর সৃষ্টির উপর তিনি মহাউচ্চ এবং বান্দাগণ যেখানেই থাকে, আল্লাহ পাক তাদের সাথে রয়েছেন। যা কিছু তারা করে সব কিছুই তিনি জানেন।
১৫৮- যেমন ভাবে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উপরোক্ত দুটো বস্তু বর্ণনা করেছেনঃ
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ
فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (جديد: ٤)
অর্থাৎ- তিনি ছয়দিবসে আসমান ও জমীন সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন। ভূগর্ভে যাকিছু প্রবেশ করে ও যাকিছু তা হতে উদগত হয় এবং আকাশ হতে যা কিছু অবতীর্ণ হয় ও আকাশে যা কিছু উত্থিত হয়, সেই সকলই তিনি অবগত আছেন। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন, তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্মের সম্যক দ্রষ্টা। (আল্ হাদীদঃ ৪)
১৫৯- মহান আল্লাহ যে বলেছেন, "وهو معك" "তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন”। তার অর্থ এই নয় যে, তিনি সৃষ্টির মাঝে মিশে রয়েছেন। কারণ আরবী ভাষাও এই অর্থ নিতে বাধ্য করেনা। এছাড়া এটা এই উম্মতের সালাফগণ (সাহাবা ও তাবেয়গণ) যে সম্পর্কে ঐক্যমত হয়েছেন, তার পরিপন্থি কথা এবং সৃষ্টি জগতকে যেই প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তারও পরিপন্থী কথা।
১৬০- বরং চাঁদ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন, আল্লাহর একটি ক্ষুদ্র সৃষ্টি। আর তা আকাশে অবস্থিত থাকা সত্য ও মুসাফির (পথিক) মুকিম (বাড়ীতে অবস্থানকারী), যেখানেই থাকনা কেন, চাঁদ তাদের সাথেই রয়েছে।
১৬১- আর আল্লাহ পাক আরশের উপর থেকে তার সৃষ্টির প্রতি পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের সংরক্ষক ও তাদের সম্পর্কে ওয়াকেফহাল রয়েছেন। এছাড়াও আরো অনেক গুণাবলী মহান পালনকর্তার রয়েছে।
১৬২- এ সমস্ত কথা যা আল্লাহ পাক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আরশের উপর সমাসীন রয়েছেন এবং তিনি আমাদের সাথেও রয়েছেন। তা চির সত্য, যার বিকৃতির প্রয়োজন নেই, কিন্তু মিথ্যা সংশয় থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া 📄 মহান আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া তাঁর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত

📄 মহান আল্লাহর তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হওয়া তাঁর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভূক্ত


১৬৩- একথার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাস রাখা যে, তিনি তাঁর সৃষ্টির অতি নিকটবর্তী।
১৬৪- যেমন মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ
وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ
فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ (البقرة: ১৮৬)
অর্থাৎ- হে নবী! আমার বান্দাগণ যখন আমার ব্যাপারে আপনাকে জিজ্ঞাসা করে, (তাদের বলে দিন) আমি তো নিকটেই আছি। আহ্ববানকারী যখন আহ্ববান করে থাকে, তার আহ্ববানে আমি সাড়া দিয়ে থাকি। সুতরাং আমার নির্দেশ মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস স্থাপন করা তাদের একান্ত কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথ প্রাপ্ত হতে পারে। (আল বাক্বারাহঃ ১৮৬)
১৬৫- নবী ﷺ বলেছেনঃ নিশ্চয় যেই সত্ত্বার নিকট তোমরা দুআ করো, তিনি তোমাদের সওয়ারীর কাঁধ অপেক্ষাও তোমাদের নিকটবর্তী। (বুখারী ও মুসলীম)
১৬৬- আর কুরআন ও সুন্নাহতে যে আল্লাহর নিকটস্থ ও সাথে হওয়ার কথা আলোচিত হয়েছে, তা তাঁর সর্বোচ্চতার পরিপন্থী নয়। কারণ মহান আল্লাহর কোন গুণে, তাঁর মত কেউ নেই। তিনি নিকটে হওয়া সত্য ও সর্বোচ্চ হওয়াও সত্য এবং তিনি অতি নিকটে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px