📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ

📄 কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ


কোরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হওয়ার প্রমাণ:
১২২-মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ
[ وهذا كتاب أنزلناه مبارك [ الانعام : ١٥٥
অর্থাৎ- আর এটা কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যা বরকতপূর্ণ করে আমি অবতীর্ণ করেছি। (আল-আনআমঃ ১৫৫)
১২৩- তিনি আরো বলেনঃ
لو أنزلنا هذا القرمان على جبل لرأيته خاشعا متصدعا من خشية الله
[الحشر: ২১ ]
অর্থাৎ- যদি আমি এই কোরআনকে পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতাম তবে তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে পেতে। (আল-হাশরঃ ২১)
১২৪- আল্লাহ আরো বলেনঃ
وإذا بدلنا عاية مكان عاية والله أعلم بما ينزل قالوا إنما أنت مفتر بل
أكثرهم لا يعلمون * قل نزله روح
القدس من ر
بك بالحق ليثبت
الَّذِينَ عَامَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ * وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ
إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُنْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا نِسَانٌ عَرَبِيٌّ
مبين
النحل : ١٠١-١٠٣ ]
অর্থাৎ- আমি যখন এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াতকে বদল করে থাকি, আর আল্লাহ উত্তমরূপে অবগত আছেন যা তিনি অবতীর্ণ করে থাকেন । তখন তারা বলে থাকে তুমি কেবল মাত্র মিথ্যা উদ্ভাবন করে থাক। কিন্তু তারা অধিকাংশই অবগত নয়। তুমি বল, তোমার পালনকর্তার পক্ষ হতে জিব্রাঈল তা যথাযথভাবেই অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মুমিনদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করবার জন্য এবং এটা মুসলিম জনগণের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ। আমি অবশ্যই জানি যে, তারা বলে থাকে, তাঁকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা প্রদান করে থাকে। যার প্রতি তারা এটা আরোপ করে থাকে তার ভাষা অনারবী অথচ এই কোরআন সুষ্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ। (আননাহলঃ ১০১-১০৩)

১২২-মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ
[ وهذا كتاب أنزلناه مبارك [ الانعام : ১৫৫
অর্থাৎ- আর এটা কোরআন এমন একটি গ্রন্থ যা বরকতপূর্ণ করে আমি অবতীর্ণ করেছি। (আল-আনআমঃ ১৫৫)
১২৩- তিনি আরো বলেনঃ
لو أنزلنا هذا القرمان على جبل لرأيته خاشعا متصدعا من خشية الله
[الحشر: ২১ ]
অর্থাৎ- যদি আমি এই কোরআনকে পর্বতের উপর অবতীর্ণ করতাম তবে তুমি তাকে আল্লাহর ভয়ে বিনীত ও বিদীর্ণ দেখতে পেতে। (আল-হাশরঃ ২১)
১২৪- আল্লাহ আরো বলেনঃ
وإذا بدلنا عاية مكان عاية والله أعلم بما ينزل قالوا إنما أنت مفتر بل
أكثرهم لا يعلمون * قل نزله روح
القدس من র
بك بالحق ليثبت
الَّذِينَ عَامَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُسْلِمِينَ * وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ
إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ لِسَانُ الَّذِي يُنْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَذَا نِسَانٌ عَرَبِيٌّ
مبين
النحل : ১০১-১০৩ ]
অর্থাৎ- আমি যখন এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াতকে বদল করে থাকি, আর আল্লাহ উত্তমরূপে অবগত আছেন যা তিনি অবতীর্ণ করে থাকেন । তখন তারা বলে থাকে তুমি কেবল মাত্র মিথ্যা উদ্ভাবন করে থাক। কিন্তু তারা অধিকাংশই অবগত নয়। তুমি বল, তোমার পালনকর্তার পক্ষ হতে জিব্রাঈল তা যথাযথভাবেই অবতীর্ণ করেছেন, যাতে মুমিনদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করবার জন্য এবং এটা মুসলিম জনগণের জন্য পথনির্দেশ ও সুসংবাদ। আমি অবশ্যই জানি যে, তারা বলে থাকে, তাঁকে জনৈক ব্যক্তি শিক্ষা প্রদান করে থাকে। যার প্রতি তারা এটা আরোপ করে থাকে তার ভাষা অনারবী অথচ এই কোরআন সুষ্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতীর্ণ। (আননাহলঃ ১০১-১০৩)

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 ঈমানদারগণ কিয়ামতের দিবসে তাদের পালনকর্তার দ্বীদার লাভ করবেন, তার প্রমাণ

📄 ঈমানদারগণ কিয়ামতের দিবসে তাদের পালনকর্তার দ্বীদার লাভ করবেন, তার প্রমাণ


ঈমানদারগণ কিয়ামতের দিবসে তাদের পালনকর্তার দ্বীদার লাভ করবেন তার প্রমাণঃ
১২৫- মহান আল্লাহর বাণীঃ
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاصِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ (القيامة: ٢٢-٢٣)
অর্থাৎ- সেই কিয়ামত দিবসে কতকগুলি মুখমন্ডল আনন্দোৎফুল্ল হবে। তারা তাদের পালন কর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
(আল কিয়ামতঃ ২২-২৩)
১২৬- মহান আল্লাহ বলেনঃ
عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ [المطففين: ۲৩]
অর্থাৎ- তারা সুসজ্জিত আসনে সমাসীন থেকে অবলোকন করতে থাকবে। (আল মুতাফফিফীনঃ ২৩)
১২৭- মহান আল্লাহ বলেনঃ
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ [يونس: ٢٦]
অর্থাৎ- যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আরো অধিক। (ইউনুসঃ ২৬)
১২৮- আল্লাহ আরো বলেনঃ
لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ [ق: ٣٥]
অর্থাৎ- সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং তারও অধিক আমার নিকট রয়েছে। (ক্বাফঃ ৩৫)
) مزيد 3 زيادة )অধিক) এর তফসীর আল্লাহর দ্বীদার ও দর্শন(
(অনুবাদক)
১২৯- মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এই ব্যাপারে অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে।
১৩০- যে ব্যক্তি কুরআন দ্বারা সঠিক পথ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাতে গবেষণা করবে তার জন্য সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

১২৫- মহান আল্লাহর বাণীঃ
وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاصِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ (القيامة: ২২-২৩)
অর্থাৎ- সেই কিয়ামত দিবসে কতকগুলি মুখমন্ডল আনন্দোৎফুল্ল হবে। তারা তাদের পালন কর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।
(আল কিয়ামতঃ ২২-২৩)
১২৬- মহান আল্লাহ বলেনঃ
عَلَى الْأَرَائِكِ يَنْظُرُونَ [المطففين: ২৩]
অর্থাৎ- তারা সুসজ্জিত আসনে সমাসীন থেকে অবলোকন করতে থাকবে। (আল মুতাফফিফীনঃ ২৩)
১২৭- মহান আল্লাহ বলেনঃ
لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا الْحُسْنَى وَزِيَادَةٌ [يونس: ২৬]
অর্থাৎ- যারা কল্যাণকর কাজ করে, তাদের জন্য রয়েছে কল্যাণ আরো অধিক। (ইউনুসঃ ২৬)
১২৮- আল্লাহ আরো বলেনঃ
لَهُمْ مَا يَشَاءُونَ فِيهَا وَلَدَيْنَا مَزِيدٌ [ق: ৩৫]
অর্থাৎ- সেখানে তারা যা কামনা করবে তাই পাবে এবং তারও অধিক আমার নিকট রয়েছে। (ক্বাফঃ ৩৫)
) مزيد 3 زيادة )অধিক) এর তফসীর আল্লাহর দ্বীদার ও দর্শন(
(অনুবাদক)
১২৯- মহাগ্রন্থ আল কুরআনে এই ব্যাপারে অনেক কিছু বর্ণিত হয়েছে।
১৩০- যে ব্যক্তি কুরআন দ্বারা সঠিক পথ হাসিলের উদ্দেশ্যে তাতে গবেষণা করবে তার জন্য সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে যাবে।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 এই উম্মতের দল সমূহের মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মধ্যপন্থী

📄 এই উম্মতের দল সমূহের মধ্যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত মধ্যপন্থী


১৫১- আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত উম্মতে মুহাম্মাদিয়ার দল সমূহের মাঝে মধ্যপন্থী, যেরূপ এই উম্মত সমস্ত উম্মতের মাঝে মধ্যপন্থি।
১৫২- সুতরাং তারা মহান আল্লাহর গুণাবলীর ক্ষেত্রে গুণাবলীর অস্বীকৃতিদানকারী দল 'জাহমিয়াহ' ও সাদৃশ্যতা পোষণকারী দল 'মুশাব্বিহার' মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৩- এবং মহান আল্লাহর কার্যাবলীর ক্ষেত্রে "কাদরিয়া” ও "জাবরিয়ার” মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৪- আর আল্লাহর শাস্তির ক্ষেত্রে "মুরজিয়াহ” ও “কাদরিয়া-হর” অর্ন্তভূক্ত "ওয়াইদিয়াহ”ও অন্যান্যদের মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৫- আর ঈমান ও ধর্মের (দ্বীনের) ক্ষেত্রে "হারুরীয়াহ” ও "মু'তাযিলাহ" এবং "মুরজিয়াহ" ও "জাহমিয়াহর” মাঝামাঝি রয়েছেন।
১৫৬- আর রাসূল ﷺ এর সাহাবাগণের ক্ষেত্রে "রাফেযা" (শিয়াহ) "খারেজীদের” মাঝামাঝি রয়েছেন।

📘 আক্বীদা ওয়াসেত্বিয়া > 📄 মহান আল্লাহর আকাশ সমূহের উপর আরশে সমাসীন হওয়ার প্রতি বিশ্বাস তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত

📄 মহান আল্লাহর আকাশ সমূহের উপর আরশে সমাসীন হওয়ার প্রতি বিশ্বাস তার প্রতি ঈমান ও বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত


১৫৭- মহান আল্লাহ স্বীয় কিতাবে তাঁর যে সমস্ত গুণাবলীর কথা বলেছেন ও রাসূল (স) হতে তা অকাট্য ভাবে প্রমাণিত এবং এই উম্মাতের সালাফগণ (সাহাবা ও তাবেয়ীগণ) যে সমস্ত ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ পাক আকাশের উপরে আরশে সমাসীন রয়েছেন, তাঁর সৃষ্টির উপর তিনি মহাউচ্চ এবং বান্দাগণ যেখানেই থাকে, আল্লাহ পাক তাদের সাথে রয়েছেন। যা কিছু তারা করে সব কিছুই তিনি জানেন।
১৫৮- যেমন ভাবে মহান আল্লাহ তাঁর এই বাণীতে উপরোক্ত দুটো বস্তু বর্ণনা করেছেনঃ
هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ
يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ
فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ (جديد: ٤)
অর্থাৎ- তিনি ছয়দিবসে আসমান ও জমীন সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশে সমাসীন হয়েছেন। ভূগর্ভে যাকিছু প্রবেশ করে ও যাকিছু তা হতে উদগত হয় এবং আকাশ হতে যা কিছু অবতীর্ণ হয় ও আকাশে যা কিছু উত্থিত হয়, সেই সকলই তিনি অবগত আছেন। তোমরা যেখানেই থাকনা কেন, তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্মের সম্যক দ্রষ্টা। (আল্ হাদীদঃ ৪)
১৫৯- মহান আল্লাহ যে বলেছেন, "وهو معك" "তিনি তোমাদের সঙ্গে রয়েছেন”। তার অর্থ এই নয় যে, তিনি সৃষ্টির মাঝে মিশে রয়েছেন। কারণ আরবী ভাষাও এই অর্থ নিতে বাধ্য করেনা। এছাড়া এটা এই উম্মতের সালাফগণ (সাহাবা ও তাবেয়গণ) যে সম্পর্কে ঐক্যমত হয়েছেন, তার পরিপন্থি কথা এবং সৃষ্টি জগতকে যেই প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, তারও পরিপন্থী কথা।
১৬০- বরং চাঁদ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন, আল্লাহর একটি ক্ষুদ্র সৃষ্টি। আর তা আকাশে অবস্থিত থাকা সত্য ও মুসাফির (পথিক) মুকিম (বাড়ীতে অবস্থানকারী), যেখানেই থাকনা কেন, চাঁদ তাদের সাথেই রয়েছে।
১৬১- আর আল্লাহ পাক আরশের উপর থেকে তার সৃষ্টির প্রতি পর্যবেক্ষণ করেন, তাদের সংরক্ষক ও তাদের সম্পর্কে ওয়াকেফহাল রয়েছেন। এছাড়াও আরো অনেক গুণাবলী মহান পালনকর্তার রয়েছে।
১৬২- এ সমস্ত কথা যা আল্লাহ পাক বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আরশের উপর সমাসীন রয়েছেন এবং তিনি আমাদের সাথেও রয়েছেন। তা চির সত্য, যার বিকৃতির প্রয়োজন নেই, কিন্তু মিথ্যা সংশয় থেকে নিজেকে বাঁচাতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00