📄 ঈমানের ছয় স্তম্ভ
ঈমানের ছয় স্তম্ভঃ
নাজাতপ্রাপ্ত দলের আক্বীদা (মৌলিক বিশ্বাস), যেই দল কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত থাকবে, সেই দলটি হ'ল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা'আত।
১- আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর ফেরেস্তাদের প্রতি বিশ্বাস, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি বিশ্বাস, তাঁর রাসুলগণের প্রতি বিশ্বাস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রতি বিশ্বাস এবং ভাল-মন্দ ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস।
📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমানের (বিশ্বাসের) মৌলিক নীতিমালা
প্রথম পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমানের (বিশ্বাসের) মৌলিক নীতিমালা:
২- আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেঃ তিনি স্বীয় কিতাবে তাঁর যে সমস্ত গুণাবলী বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসুল মুহাম্মদ ﷺ তাঁর যে সব গুণাবলী বর্ণনা করেছেন তা কোন প্রকার বিকৃতি, অস্বীকৃতি ধরণ-গঠন বা সাদৃশ্য সাব্যস্ত না করে ঈমান (বিশ্বাস) স্থাপন করা।
৩- বরং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, বিশ্বাস রাখেন যে,
نَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ( الشورى : (١١)
অর্থাৎ- মহান আল্লাহর কোন কিছুই সাদৃশ্য নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। (সুরা শুরাঃ ১১)
৪- সুতরাং আল্লাহ যে সমস্ত গুণাবলী দ্বারা নিজেকে ভূষিত করেছেন তা তাঁরা অস্বীকার করেন না।
৫-এবং আল্লাহর বাণীকে তাঁর স্থান হতে বিচ্যুতও করেন না।
৬- আর আল্লাহর নাম ও আয়াত সমূহের তাঁরা বিকৃতিও ঘটান না।
৭- আর তাঁরা আল্লাহর গুণাবলীকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলীর সাথে সাদৃশ্যও করেন না।
৮- কারণ আল্লাহ পাকের কেউ সমতুল্য নেই, তাঁর কোন সমকক্ষ নেই, তাঁর কেউ অংশীদার নেই এবং মহান আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করা যাবে না ।
৯- আল্লাহ পাক তাঁর সম্পর্কে ও তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে অধিক জ্ঞান রাখেন এবং তাঁর সৃষ্টি অপেক্ষা অধিক সত্য ও অতি উত্তম কথা বলেন।
১০- অতঃপর তাঁর সত্যবাদী রাসুলগণ যাঁদের সত্যায়ন করা হয়েছে (তাঁরা অন্যদের তুলনায় সর্বাধিক সত্য ও উত্তম কথা বলেছেন) । আর তারা এর পরিপন্থী, যারা এমন কথা বলে, যার সম্পর্কে তারা জ্ঞানহীন।
১১- তাই মহান আল্লাহ্ পাক এরশাদ করেনঃ
سُبْحَانَ رَبِّكَ رَبِّ الْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ * وَسَلَامٌ عَلَى الْمُرْسمين *
للْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ ( الصافات : ۱۸۰-۱۸۲ )
অর্থাৎ- পবিত্র তোমার পালনকর্তা যা তারা বর্ণনা করে থাকে তা থেকে সম্মানিত ও পবিত্র। রাসুলগণের প্রতি সালাম বর্ষিত হোক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব-পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। (আসাফ্ফাতঃ ১৮০-১৮২)
১২- সুতরাং রাসুলগণের বিরোধীরা, যেসব গুণে আল্লাহকে ভূষিত করেছে তা থেকে তিনি নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন এবং রাসুলগণের কথা-বার্তা ত্রুটি ও দোষ হতে নিরাপদ হওয়ার কারণে তাঁদের প্রতি সালাম পেশ করেছেন।
১৩- আল্লাহ পাক যে সব নাম ও গুণাবলী দ্বারা নিজেকে ভূষিত করেছেন তাতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক গুণকে একত্রিত করেছেন।
১৪- অতএব রাসুলগণ যে বিধান নিয়ে আগমন করেছেন তা হতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত অপসৃত হতে পারে না।
১৫- কারণ ইহাই হচ্ছে সহজ সরল পথ, তাঁদের পথ যাদেরকে আল্লাহ অনুগৃহীত করেছেন, তাঁরা হচ্ছেনঃ নবী-রাসূল, সিদ্দীক (অতি সত্যবাদী), শহীদ ও সৎ কর্ম- শীল ব্যক্তিবর্গ।
📄 আল্লাহ্ চিরঞ্জীব
২১- আল্লাহ পাকের বাণীঃ
وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ [ الفرقان : ٥٨ )
অর্থাৎ- আর তুমি চিরঞ্জীব আল্লাহর উপর ভরসা করে চলবে, যিনি মৃত্যু বরণ করবেন না। (সূরা ফুরক্বানঃ ৫৮)
📄 আল্লাহর ইলম ও জ্ঞান
আল্লাহর ইল্ম ও জ্ঞান
২২- মহান আল্লাহ এরশাদ করেনঃ
هُوَ أَوَّلُ وَنَآخِرُ وَالظَّاهِرُ وَالْبَاطِنُ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ [الحديد:
[٣
অর্থাৎ- তিনিই প্রথম, তিনিই সর্বশেষ, তিনিই প্রকাশমান ও অপ্রকাশমান এবং তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।
(সূরা আল-হাদীদঃ ৩)
২৩- আল্লাহ পাকের এরশাদঃ
وَهُوَ الْعَلِيمُ الحكيم * [التحريم: ٢]
অর্থাৎ- আর তিনিই (আল্লাহ) সর্বোজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
(সূরা আত্তাহরীমঃ ২)
২৪-আল্লাহ পাক আরো বলেনঃ
بعده ما يبجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ
فيها (سبا: (٢)
অর্থাৎ- তিনি অবগত রয়েছেন যা ভূগর্ভে প্রবেশ করে, যা তা হতে নির্গত হয় এবং যা আকাশ হতে বর্ষিত হয় ও যা আকাশে উত্থিত হয়। (সূরা সাবাঃ ২)
২৫- আল্লাহ্ আরো বলেনঃ
وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا
تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِنَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَضْ وَلَا
يابس إلا في كِتَابٍ مُبِين [الأنعام: ٥٩ ]
অর্থাৎ- গায়েবের চাবি আল্লাহর নিকটেই রয়েছে। এগুলো তিনি ব্যতীত আর কেউ অবগত নন। স্থল ভাগে এবং জল ভাগে যা কিছু আছে সেই সকলই তিনি অবগত রয়েছেন। তাঁর অজ্ঞাতে বৃক্ষের একটি পাতাও ঝরতে পারে না। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যবীজ নেই এবং সরস নিরস কোন কিছু নেই যা সুস্পষ্ট গ্রন্থে সন্নিবেশিত নেই। (আল-আনআমঃ ৫৯)
২৬- মহান আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أَنثَى وَلَا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ (فاطر: (۱۱)
অর্থাৎ- আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভও ধারণ করে না এবং প্রসবও করে না। (ফাতিরঃ ১১)
২৭- আরো এরশাদ হচ্ছে :
لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ
عِنْمًا [ الطلاق : ۱۲ |
অর্থাৎ- যাতে তোমরা জেনে নিতে পার যে, আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং আল্লাহ স্বীয় জ্ঞান দ্বারা সব কিছুকে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। (আত্ তালাক্বঃ ১২)