📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 বাংলাদেশে রসূলুল্লাহ্র আদর্শ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা

📄 বাংলাদেশে রসূলুল্লাহ্র আদর্শ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা


এতোসব সমস্যা, বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের মতে বাংলাদেশে রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনাময় দিক। আমরা এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি দিক উল্লেখ করছি :
১. ইসলামে ধর্মের গভীর বন্ধন : আলহামদুলিল্লাহ। সাধারণভাবে বাংলাদেশের মুসলমানদের অন্তরে ইসলামের শিকড় এতোটা গভীর ও বদ্ধমূল যে, তা নিশ্চিহ্ন করবার সাধ্য কারো নেই। আল্লাহ্, কুরআন, রাসূলুল্লাহ সা., রাসূলের সুন্নাহ এগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলে এবং এগুলোর প্রকাশ্যে অবমাননা করে এদেশে কারো পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এর প্রমাণ এদেশের মুসলমানরা বারবারই দিয়েছে। এমনকি ইসলামের কথা না বলে এবং ইসলামের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে এদেশে কারো পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়াও কঠিন।
২. মাদ্রাসা শিক্ষা : মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ইসলামি না হলেও এ শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত লোকেরা ইসলামের সাথে সম্পর্ক রাখেন। তাদের অধিকাংশই রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত রয়েছেন এবং তাঁর শিক্ষা প্রচার আন্তরিকভাবে করেন। তাঁরাই এদেশে ইসলামকে জিঁইয়ে রেখেছেন এবং ইসলামের বাতি জ্বেলে রেখেছেন।
৩. ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন : এদেশে বিরাট সংখ্যক লোক এখন রাসূলুল্লাহর পূর্ণাঙ্গ আদর্শ বাস্তবায়নের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠার জন্য অহোরাত্র কাজ করে যাচ্ছেন। ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এখন আর নগণ্য নয়। সকল সমস্যা, বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মুখেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আন্দোলন ছাত্র/ছাত্রীসহ সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
৪. কুরআন শিক্ষা ও প্রচারের প্রতি আগ্রহ : আলহামদুলিল্লাহ! সম্প্রতি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে কুরআনের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষিত লোকদের মধ্যে কুরআনভিত্তিক আলোচনা সভা, কুরআন ক্লাস, সাধারণ মানুষের মধ্যে তাফসির মাহফিল এবং কুরআন বিশুদ্ধভাবে পড়তে শিখার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫. দা'য়ী ও প্রচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি : খাঁটি ইসলাম প্রচারকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগী কাজ, ব্যক্তিগত দাওয়াত, ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপর আলোচনা সভা ইত্যাদি এখন অহরহমান।
৬. তাফসির ও ইসলামি সাহিত্য রচনা : ইতোমধ্যে বাংলায় প্রয়োজনীয় অনেকগুলো তাফসির প্রকাশ হয়েছে। প্রচুর ইসলামি সাহিত্যও প্রকাশিত হয়েছে এবং এগুলোর বিরাট বিরাট চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 রসূলুল্লাহর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য চাই বলিষ্ঠ অংগীকার

📄 রসূলুল্লাহর আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য চাই বলিষ্ঠ অংগীকার


ইসলাম প্রিয়দের যেসব বিষয়ে আরো সচেতন সেক্ষেত্রে আমরা কতিপয় প্রস্তাব, পরামর্শ ও সুপারিশ নিয়ে পেশ করছি :
১. ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের আন্দোলন জোরদার করার অংগীকার।
২. ব্যাপকভাবে কুরআন ক্লাস, তাফসির মাহফিল ও হাদিসের মাহফিল চালু করার অংগীকার।
৩. ১০০% শিশুকে ইসলামি শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে পাড়ায় পাড়ায় মক্তব প্রতিষ্ঠা করা। মেয়েদেরকে উদ্বুদ্ধ করা।
৪. ইসলামি লেখক লেখিকা ব্যাপকভাবে ইসলামি সাহিত্য রচনায় উদ্বুদ্ধ করা। ইসলামি লেখালেখি তৈরি করা। এ জন্যে পদক্ষেপ নেয়া।
৫. ব্যাপকভাবে ইসলামি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলা।
৬. ওয়ায়েয সৃষ্টি করা এবং ব্যাপকভাবে ওয়ায় মাযফিলের আয়োজন করা।
৭. মসজিদগুলোকে ইসলাম প্রচারের কেন্দ্রে পরিণত করা।
৮. ব্যাপকভাবে মাদ্রাসা গড়ে তোলা এবং ছেলে মেয়েদেরকে মাদ্রাসায় দেয়ার জন্য অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করা। মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা।
৯. ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে গণমাধ্যম সৃষ্টি করা।
১০. পাড়ায় পাড়ায় ইসলামি পাঠাগার গড়ে তোলা।
১১. ব্যাপকভাবে ইসলামি গ্রন্থ মেলা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা।
১২. ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে জোরদার করা এবং আন্দোলনের নেতা ও কর্মীদের রাসূলুল্লাহর আদর্শে উজ্জীবিত হওয়া।
১৩. শিরক ও বিদয়াতের বিরুদ্ধে সরকার আন্দোলন গড়ে তোলা।
১৪. ইসলামের কল্যাণ ও বাস্তবতার প্রতি ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টি করা।১৫. ব্যাপকভাবে মহিলাদেরকে দাওয়াত সম্প্রসারণ, ইসলামি শিক্ষায় প্রসার, ইসলাম প্রদত্ত অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করা এবং ইসলাম প্রচারের কাজে মহিলাদের সম্পৃক্ত করা।
১৬. অমুসলিমদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কে বিদ্যমান বিভ্রান্তিসমূহ দূর করার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা। ইসলামি রাষ্ট্র যে অমুসলিমদের জন্য সবচেয়ে কল্যাণকর, তা তাদের বুঝিয়ে দেয়া। তাদের মধ্যে ব্যাপক দাওয়াতি কাজ করা। ইসলামের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার জন্য তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলা।
১৭. যুব সমাজের মধ্যে মূল্যবোধের ভিত্তিতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ। ব্যাপক সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মোকাবিলা করা।
১৮. ইসলামের আদর্শ এবং ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরে ব্যাপক সাহিত্য ভিত্তিও প্রোগ্রাম তৈরি ও প্রচার করা। রেডিও টিভিতে প্রোগ্রাম করা।
১৯. বিভিন্ন বুদ্ধিভিত্তিক পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ, যেমন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিসেবীদের মধ্যে ইসলামি দাওয়াত সম্প্রসারণের জন্য বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তাদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা।
২০. ইসলামি ব্যক্তিত্ব, সংস্থা, সংগঠন ও তৎপরতাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ।
পরিশেষে বলতে চাই, এদেশে রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়নে সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা প্রচুর। কিন্তু এক্ষেত্রে সম্ভাবনা আরো প্রচুর। প্রয়োজন শুধু সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য একদল শিক্ষিত, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান যুবক যুবতীর এগিয়ে আসা। প্রয়োজন ইসলামি যুবশক্তির আন্দোলনে অংগীকার। প্রয়োজন দৃঢ় শপথের। প্রয়োজন প্রিয় রাসূলকে ভালোবাসার। প্রয়োজন আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য জীবনবাজি রাখার।
হে দীপ্তপ্রাণ যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মাঝে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি আর রাসূলের ভালোবাসার পথে সব বাধা ডিঙিয়ে এগিয়ে যাবার কেউ আছে কি?
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا
“যারা আমার পথে এগিয়ে যাবার সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবো।” (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৬৯)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00