📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 রসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা

📄 রসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা


মানুষ নিজেই নিজের জীবন-বিধান ও জীবন যাপনের সঠিক ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে না। কারণ মানুষ তাঁর সীমিত, দুটি অগ্রপশ্চাৎ এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে সে অজ্ঞ। ফলে মানুষ কিছুতেই তার জীবন বিধান ও জীবন যাপনের স্থায়ী ব্যবস্থা প্রণয়ন করতে পারে না।
মানুষের জীবন যাপনের সঠিক ব্যবস্থা তো তিনিই দিতে পারেন, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি জানেন, কিসে মানুষের কল্যাণ আর কিসে অকল্যাণ। যিনি অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যত সম্পর্কে সমান রাখেন, ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, সত্য -মিথ্যা ও লাভ-ক্ষতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট জ্ঞান রাখেন।
এমন সত্তা তো মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ হতে পারে না। হ্যাঁ কেবল মহান আল্লাহই সেই সত্তা, যিনি মানুষকে তার সঠিক চলার পথ বলে দিতে পারেন, যিনি মানুষকে অকল্যাণ থেকে বাঁচার পথ এবং সত্যিকারের কল্যাণের পথ দেখাতে পারেন।
মহান আল্লাহই তো সেই সত্তা যিনি সমগ্র প্রকার সৃষ্টি, সকল মানুষ যার জন্মান্তর দাস, সকল মানুষ যিনি সমগ্র কালে কল্যাণ দান, অসীম সৃষ্টি হিসেবে সকল মানুষকে সমানভাবে ভালোবাসেন। তাই জীবন বিধান ও জীবন ব্যবস্থা দেবার জন্য তিনিই সবাই উপযোগী। তিনি পরম দয়ালু। তিনি তাঁর সৃষ্টি মানুষকে এতোটাই ভালোবাসেন। তাইতো মানুষের জীবন যাপনের পথ বাতলে দিয়েছেন। দেখিয়ে দিয়েছেন সিরাতুল মুস্তাকীম। এজন্যই তিনি রাসূল নিয়োগ করেছেন। কিতাব নাযিল করেছেন। মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা.-এর মাধ্যমে পরিপূর্ণ হিদায়াত নাযিল করে কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের মুক্তির ব্যবস্থা তিনি করেছেন।
মুহাম্মদ সা. আল্লাহ্র হিদায়াত অনুযায়ী নিজেকে গড়েছেন, সমাজ নির্মাণ করেছেন, রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, পরিচালনা করেছেন। তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবন ছিলো আল্লাহ প্রদত্ত হিদায়াত ও জীবন ব্যবস্থার মূর্ত প্রতীক। মানুষকে দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় অকল্যাণ থেকে মুক্তি পেতে হলে, আল্লাহ্র বিরাগভাজন হওয়া থেকে বাঁচতে হলে এবং তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে হলে অবশ্যই মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা.-এর আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে। কারণ তিনি আল্লাহ্র পক্ষ থেকে হিদায়াতের মডেল :
لَّقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
“রাসূলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।” (সূরা ৩৩ : ২১)
قُلْ إِن كُنتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ
“হে নবী ওদের বলে দাও! তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, তবে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।” (সূরা ৩ : ৩১)
সুতরাং আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তথা জীবনের সকল দিক ও বিভাগে রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। এটা শুধু তাঁর প্রতি আমাদের ভক্তি শ্রদ্ধার কারণেই নয়, বরং আমাদের ইহ জাগতিক এবং পারলৌকিক মুক্তির এটাই একমাত্র পথ।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 রসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন বলতে কি বুঝায়?

📄 রসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন বলতে কি বুঝায়?


রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়নের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হবার পর এখন আমাদের দেখতে হবে, রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠা বলতে আসলে কি বুঝায়?
রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন বলতে মূলত রাসূলুল্লাহ সা. ইসলামকে যেভাবে পেশ করেছেন, ইসলামের ভিত্তিতে যেভাবে জীবন যাপন করতে শিখিয়েছেন, ইসলামের ভিত্তিতে যেভাবে সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে ও পরিচালনা করেছেন সেভাবে পরিচালনা করা, যেভাবে জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে ইসলামের ভিত্তিতে পরিচালনা করতে শিখিয়েছেন, আমাদের পূর্ণাঙ্গ জীবন এবং জীবনের সকল দিক ও বিভাগকে সেভাবে গড়ে তোলা ও পরিচালনা করাটাই হলো রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠা। আর এসব ক্ষেত্রে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণ, বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠা বলতে বুঝায় :
১. আল্লাহ্র কিতাব আল-কুরআনের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন।
২. রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শের পরিপূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়ন।
৩. খলিফায়ে রাশেদীনের আদর্শের অনুসরণ।
৪. সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল স্তর থেকে সর্বপ্রকার জাহেলিয়াত তথা শিরক, বিদয়াত, ফিসক, ফুযূর ও ফাহেশাত ইত্যাদি উচ্ছেদ।
৫. সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এক্ষেত্রে আল্লাহ্র আইন ও কর্তৃত্ব তথা আল্লাহ্র দীনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠা।
৬. কুরআন সুন্নাহভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, অর্থব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা চালু করা।
৭. রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সকল প্রকার মাধ্যমকে প্রধানত ইসলামের প্রচার ও জনগণের প্রশিক্ষণে এবং কল্যাণমূলক কাজে নিয়োজিত রাখা।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 বাংলাদেশে রসূলুল্লাহ্র আদর্শ বাস্তবায়নে সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা

📄 বাংলাদেশে রসূলুল্লাহ্র আদর্শ বাস্তবায়নে সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা


একটা তিক্ত হলেও সত্য যে শতকরা প্রায় নব্বই ভাগ মুসলিম অধ্যুষিত এই বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জীবনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়িত নেই। এদেশের মানুষ রাসূলুল্লাহ সা.-এর নামে ব্যাকুল। কিন্তু তাঁর আদর্শ অনুসরণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উদাসীন ও গাফিল। এদেশের মানুষ কোনো বিধর্মী কর্তৃক রাসূলুল্লাহর অবমাননা বরদাশত করতে এক মুহূর্তও প্রস্তুত নয়। কিন্তু নিজেদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে অবহেলা করে যে তাঁর আদর্শের অনুসৃতি নেই সেদিকে আমরা জাতি হিসেবে সেক্ষেত্রে সম্পূর্ণ করছি না।
ফলে বাংলাদেশে যারাই রাসূলুল্লাহর আদর্শ বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠার কাজে এগিয়ে আসেন, তারা কতিপয় সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন। আমরা এখানে সংক্ষেপে কতিপয় সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করছি :
১. ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা : অজ্ঞতা শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই নয়, শুধু আধুনিক শিক্ষিতদের মধ্যেই নয়, বরং মাদ্রাসায় শিক্ষিত লোকদের মধ্যেও ইসলাম সম্পর্কে রয়েছে অজ্ঞতা। কারণ মাদ্রাসায় শিক্ষিত লোকদের মধ্যেও ইসলাম সম্পর্কে রয়েছে অজ্ঞতা। কারণ মাদ্রাসায় প্রচলিত পাঠ্যপুস্তক গুলো ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক অজ্ঞতা রয়েছে। একদল আলেমের ইসলাম সম্পর্কে সেকুলার দৃষ্টিভঙ্গিও রয়েছে।
২. ভ্রান্ত আকিদা বিশ্বাস : কুরআন সুন্নাহ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে এদেশের মুসলমানদের আকিদা বিশ্বাসের মধ্যে শিরক, বিদয়াতসহ ব্যাপক অনেক ইসলাম-ধারণার নামেই প্রবেশ করে আছে।
৩. শিরক ও বিদয়াতপন্থী ধর্মীয় কাঠামো কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা এবং তাদের পক্ষে সরকার ও ধনিক শ্রেণীর পৃষ্ঠপোষকতা।
৪. অনেক ইসলামি শিক্ষা ব্যবস্থা, ইসলামি শিক্ষা সচেতন।
৫. ব্রাহ্মণ্যবাদী, নাস্তিক্যবাদী ও বস্তুবাদী সংস্কৃতির প্রভাব।
৬. অনেক ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা।
৭. অনেক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা।
৮. অনেক সরকার। সরকারের ইসলাম বৈরিতা।
৯. বিভিন্ন ধ্যান ধারণপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীসমূহের মধ্যে কোন্দল।
১০. আলেমদের অনৈক্য।
১১. ইসলামি দলসমূহের ঐক্যের অভাব।
১২. আন্তর্জাতিক ইসলামি বিরোধী শক্তির প্রভাব।
১৩. বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর খণ্ডিত ইসলাম প্রচার।
১৪. প্রচার মাধ্যমসমূহের বৈরিতা এবং প্রচার মাধ্যমে ইসলামি আদর্শ প্রচারের অবাধ সুযোগ না থাকা।
১৫. ইসলামের বিরুদ্ধে সক্রিয় অপপ্রচার।
১৬. ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও দলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
১৭. ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। ইসলামপন্থীদের উপর নির্যাতন।
১৮. সরকার ও প্রভাবশালী শ্রেণীর সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব।
১৯. মেয়েদেরকে ইসলামি শিক্ষা প্রদানের অপ্রতুল ব্যবস্থা।
২০. অনেক ক্ষেত্রে কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্ধ অনুকরণ।
২১. অপসংস্কৃতির আগ্রাসন।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 বাংলাদেশে রসূলুল্লাহ্র আদর্শ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা

📄 বাংলাদেশে রসূলুল্লাহ্র আদর্শ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা


এতোসব সমস্যা, বাধা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমাদের মতে বাংলাদেশে রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর সম্ভাবনাময় দিক। আমরা এখানে সংক্ষেপে কয়েকটি দিক উল্লেখ করছি :
১. ইসলামে ধর্মের গভীর বন্ধন : আলহামদুলিল্লাহ। সাধারণভাবে বাংলাদেশের মুসলমানদের অন্তরে ইসলামের শিকড় এতোটা গভীর ও বদ্ধমূল যে, তা নিশ্চিহ্ন করবার সাধ্য কারো নেই। আল্লাহ্, কুরআন, রাসূলুল্লাহ সা., রাসূলের সুন্নাহ এগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো কথা বলে এবং এগুলোর প্রকাশ্যে অবমাননা করে এদেশে কারো পক্ষেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। এর প্রমাণ এদেশের মুসলমানরা বারবারই দিয়েছে। এমনকি ইসলামের কথা না বলে এবং ইসলামের প্রতি সহানুভূতি না দেখিয়ে এদেশে কারো পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়াও কঠিন।
২. মাদ্রাসা শিক্ষা : মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ইসলামি না হলেও এ শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে জড়িত লোকেরা ইসলামের সাথে সম্পর্ক রাখেন। তাদের অধিকাংশই রাসূলুল্লাহ সা.-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত রয়েছেন এবং তাঁর শিক্ষা প্রচার আন্তরিকভাবে করেন। তাঁরাই এদেশে ইসলামকে জিঁইয়ে রেখেছেন এবং ইসলামের বাতি জ্বেলে রেখেছেন।
৩. ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলন : এদেশে বিরাট সংখ্যক লোক এখন রাসূলুল্লাহর পূর্ণাঙ্গ আদর্শ বাস্তবায়নের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন ও প্রতিষ্ঠার জন্য অহোরাত্র কাজ করে যাচ্ছেন। ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এখন আর নগণ্য নয়। সকল সমস্যা, বাধা ও প্রতিবন্ধকতার মুখেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এ আন্দোলন ছাত্র/ছাত্রীসহ সকল শ্রেণীর মানুষের মধ্যে দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে।
৪. কুরআন শিক্ষা ও প্রচারের প্রতি আগ্রহ : আলহামদুলিল্লাহ! সম্প্রতি বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে কুরআনের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শিক্ষিত লোকদের মধ্যে কুরআনভিত্তিক আলোচনা সভা, কুরআন ক্লাস, সাধারণ মানুষের মধ্যে তাফসির মাহফিল এবং কুরআন বিশুদ্ধভাবে পড়তে শিখার প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
৫. দা'য়ী ও প্রচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি : খাঁটি ইসলাম প্রচারকদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ওয়াজ মাহফিল, তাবলীগী কাজ, ব্যক্তিগত দাওয়াত, ইসলামের বিভিন্ন দিকের উপর আলোচনা সভা ইত্যাদি এখন অহরহমান।
৬. তাফসির ও ইসলামি সাহিত্য রচনা : ইতোমধ্যে বাংলায় প্রয়োজনীয় অনেকগুলো তাফসির প্রকাশ হয়েছে। প্রচুর ইসলামি সাহিত্যও প্রকাশিত হয়েছে এবং এগুলোর বিরাট বিরাট চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00