📄 চারিত্রিক ও নৈতিক শক্তি
যে কোনো দাওয়াত ও আন্দোলন যদি শুধু শাব্দিক দাওয়াত হয় আর তার সাথে নৈতিক শক্তির সমন্বয় না থাকে, তবে তা মোটেই মনোমুগ্ধকর হোক না কেন এবং সাময়িকভাবে যতোই ধুয়াধার প্রভাব সৃষ্টি করে ফেলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত তা ধুলার কূন্ডলীর মতো বাতাসে মিলিয়ে যায়। ইতিহাসের উপর কেবল কথা দ্বারা প্রভাব বিস্তার করা যায়না। শুধু কথা দিয়ে কোনো কালে কোনো বিপ্লব সাধিত হয়নি। কথার জাদুতে কখনই কিছু প্রভাব সৃষ্টি হয়, যখন কাজের মাধ্যমে তার কিছু অর্থ নির্মিত হয়। শুধু কথার সাথে যখন মানুষের মোর্চা সুদর্শন প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় দেখতো, ইসলামের বাণীর আগে পর ভালো লোকদের লোকদের একেক করে চলছে, সাহসী এবং একজন মানুষ নিজের বিবেককে টীকা বন্ধ হয়ে বদলে যাওয়ায় আমাদের কাছে আত্মসমর্থন করতো। যে ব্যক্তি একদিন আগে পর্যন্ত মদ্যপায়ী ছিল, তার আমূল পরিবর্তন হয়ে যায়। তার বস্তুত ও শকুনী পাল্টে যায়। তার অতীত অভ্যাস ও রীতিনীতি বিকার হয়ে যায়। তার আচরণ সম্পূর্ণ এরূপ ধারণ করে। ইতিপূর্বে যে সব বিষয়ে তার আগ্রহ ছিলো, সেগুলো পাল্টে গিয়ে নতুন বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আর সে সাথেই সে নতুন শক্তিকে রূপায়িত হয়।
তার মধ্যে একটা নতুন শক্তির উন্মেষ ঘটে। তার সুস্থ যোগ্যতা ও প্রতিভা জেগে উঠে। তার বিবেক নতুন প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়। তার মধ্যে উত্তম চরিত্রের বিকাশ ঘটতে থাকে। যে ব্যক্তি কাফের থেকে মুসলমান হয়, তার ভেতর থেকে যেনো একেবারে নতুন মানুষের আবির্ভাব ঘটতো। সে নিজে অনুভব করতো, আমি পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রকম এবং নতুন। পরিবেশও তাকে দেখে অনুভব করতো, সে পাল্টে গেছে।
ঋণী সত্ত্বা ইসলাম গ্রহণ করে জীবনের বাজি হয়ে যেতো। চোর ইসলাম গ্রহণ করে আমানতদার পরিণত হতো, ব্যভিচারী ইসলাম গ্রহণ করে শান্তি ও সমঝোতার মূর্ত প্রতীক হয়ে যেতো। খামখেয়াজী ও বখাটেদের পোশাক লোক ইসলামে ছায়াতলে এসে সহনশীল বিনয়ী ও অমায়িক মানুষ হয়ে যেতো। সুদখোর এসে দানশীল হয় যেতো। নির্দয় ও মেহাহীন লোক এসে উচ্চ প্রতিষ্ঠা ও যোগ্যতার পরিচয় দিতো। নিম্ন সামাজিক স্তর থেকে এসে উচ্চ মহৎ উচ্চ স্তরে উঠে যেতো। এদের উচ্চ স্তর থেকে এসে অন্যায় কোনো জগতে প্রতিষ্ঠিত।
রাসূল সা. এবং তাঁর সাথিরা ছিলেন ইসলামে অধিষ্ঠিত আদর্শগুলোকে নিয়োজিত, সত্যের একনিষ্ঠ সেবক, সৎকাজের উদ্যোক্তা, কল্যাণের আহ্বায়ক, অন্যায় ও অসত্যের দুশমন, যুদ্ধের সংগ্রামে লিপ্ত, রাতের বেলায় আল্লাহ্র সাথে একনিষ্ঠ সংলাপে নিয়োজিত, মিসকীনদের খাদ্য দানকারী, পথিকের আশ্রয়প্রার্থীতা, এীতীম ও বিধবার সেবক, অভাবী ও অবৈধ লোকদের গুলো থেকে সংযম অবলম্বনকারী, বিলাসী ও অসভ্যতার সাথে যে কোনো ধরনের সম্পর্ক ছিন্নকারী।
যখন নেতা সাথিদের মধ্যে এই ধরনের যোগ্যতা ও প্রতিভা স্ফূরণ ঘটছে, তার সমাজ প্রত্যক্ষ করছে। তারা দেখেছে, ইসলাম গ্রহণকারীদের মনমগজে বিস্ময়কর দ্রুততার সাথে নেকীর বিকাশ ঘটে চলছে। যারা অবাক হয়ে দেখছে, তাদের মধ্যে কেউ প্রতিহিংসাতে, কেউ ব্যবসায় বাণিজ্য, কেউ যুদ্ধ বিদ্যায়, কেউ প্রশাসনে, কেউ কূটনীতিতে, মোটকথা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করে নতুন ব্যক্তিত্ব অর্জন করছে।
ইসলামের বিরুদ্ধে বৈরী আনুগত্য চলনো। এই চরিত্রের দ্যুতি এতো বেশি ছিলো যে, তা ইসলামের জীবন্তকর্মশক্তি মতো মেঘেও প্রভাবিত হয়নি এবং এর বিলাসবহুল জীবন দেখেও হীনমন্যতায় আক্রান্ত হয়নি। মুসলমানরা বড় বড় রাজ দরবারে নিজেদের বেদুঈন সুলভ চালচলন নিয়েই মূল্যবান কার্পেট পদদলিত করে মাথা না ঝুঁকিয়েই হাজির হয়েছে। পূর্ণ সাহসিকতার সাথে নিজ বক্তব্য পেশ করেছে।
এই চরিত্রকে যখন মানসিকভাবে পুরোপুরি মজবুত ও স্থিতিশীল করা হয়েছে এবং সব ধরনের হীনমন্যতার ঊর্ধ্বে তুলে দেয়া হয়েছে, তখন রণক্ষেত্রে তার বীরত্ব ও দৃঢ়তার বিশ্বব্যাপী খ্যাতি হয়েছে। বিশ্বব্যাপী তাদের চারিত্রিক শক্তি এতো বেশি পরিমাণে ছিলো যে, তা কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত দেখা দেখা শেষ করা যাবে না। এই চরিত্রের শিক্ষক নিজে ব্যতিক্রমী থেকে বিদায় হবার সময় নিজের হত্যাকারীর গঠিত আমানত ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করে গেছেন। এই চরিত্র লাভকারীরা অত্যাচারের তরবারি দ্বারা প্রহৃত হবার উপযুক্ত হয় অপরাধের স্বীকারোক্তি করেছে এবং ইসলামি আদালতের কাছ থেকে নিজের মৃত্যুদন্ড আদায় করে ছেড়েছে, যাতে করে তারা আল্লাহ্র কাছে পবিত্র অবস্থায় উপস্থিত হতে পারে। এই চরিত্রকে ইসলাম গ্রহণের কয়েক মিনিট পরই যখন জনৈক সুন্দরী যুবতী তার সামনে সশরীরে হাজির হবার আহ্বান জানিয়েছেন তখন সে এই বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে, আমি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হতে পারিনা।
মহান নেতার সাথিদের মধ্যে যে ধরনের যোগ্যতা ও প্রতিভা স্ফূরণ ঘটছে, তার সমাজ প্রত্যক্ষ করছে। তারা দেখেছে, ইসলাম গ্রহণকারীদের মনমগজে বিস্ময়কর দ্রুততার সাথে নেকীর বিকাশ ঘটে চলছে। যারা অবাক হয়ে দেখছে, তাদের মধ্যে কেউ প্রতিহিংসাতে, কেউ ব্যবসায় বাণিজ্য, কেউ যুদ্ধ বিদ্যায়, কেউ প্রশাসনে, কেউ কূটনীতিতে, মোটকথা প্রত্যেকেই কোনো না কোনো বিষয়ে পারদর্শিতা লাভ করে নতুন ব্যক্তিত্ব অর্জন করছে।
ইসলামের বিরুদ্ধে বৈরী আনুগত্য চলনো। এই চরিত্রের দ্যুতি এতো বেশি ছিলো যে, তা ইসলামের জীবন্তকর্মশক্তি মতো মেঘেও প্রভাবিত হয়নি এবং এর বিলাসবহুল জীবন দেখেও হীনমন্যতায় আক্রান্ত হয়নি। মুসলমানরা বড় বড় রাজ দরবারে নিজেদের বেদুঈন সুলভ চালচলন নিয়েই মূল্যবান কার্পেট পদদলিত করে মাথা না ঝুঁকিয়েই হাজির হয়েছে। পূর্ণ সাহসিকতার সাথে নিজ বক্তব্য পেশ করেছে।
এই চরিত্রকে যখন মানসিকভাবে পুরোপুরি মজবুত ও স্থিতিশীল করা হয়েছে এবং সব ধরনের হীনমন্যতার ঊর্ধ্বে তুলে দেয়া হয়েছে, তখন রণক্ষেত্রে তার বীরত্ব ও দৃঢ়তার বিশ্বব্যাপী খ্যাতি হয়েছে।
📄 সমঝোতা ও সন্ধি চুক্তির শক্তি
মহান নেতা রাসূলুল্লাহ সা. জনগণের মধ্যে দাওয়াত যে ব্যাপারে কাজ উপরোক্ত প্রভাব সম্পর্কে সজাগ করে, তার সাথে আরো কিছু বড় বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপও গ্রহণ করেন। এগুলোর মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিলো মদিনার রাজনৈতিক প্রভাব সৃষ্টি। এই প্রভাব সম্প্রসারণের কাজটা অনেকগুলো সমাধান হয় চুক্তি ও মৈত্রী সম্পর্কের মাধ্যমে। চুক্তি ও সমঝোতার মাধ্যমে রাসূল সা. তাঁর সরকারের প্রভাব বলায় সম্প্রসারণ করেন। এ ব্যাপারে তাঁর স্বাভাবিক মনোবল প্রদান থেকে স্পষ্টই প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যতোদূর সম্ভব যুদ্ধবিগ্রহ এড়িয়ে যেতে চাইছিলেন এবং চেয়েছিলেন শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছিলেন, যাতে করে এ ধরনের শান্ত পরিবেশে ভালোভাবে দাওয়াত কাজ করা যায় এবং সামরিক উত্তেজনা মাথা বাধা হয়ে না দাঁড়ায়।
যেখানে ইসলাম, ইসলামি রাষ্ট্র ও শান্তি রক্ষার জন্য সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, সেখানে তো তিনি কোনো রকম দ্বিধা করেননি। কিন্তু যুদ্ধ জয়ের অব্যাহত লাভ করা যদি সম্ভব হতো এবং স্থিতিশীল ইসলামী দাওয়াত দেয়ার বাধার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো, তাহলে তিনি সন্ধি ও সমঝোতার পথ কখনো পরিহার করেননি। রাসূল সা. রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ও তার প্রভাব সম্প্রসারণের জন্য মিত্রতার সম্পর্কে এতো ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন যে, তার তুলনায় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের নজির নগণ্য।