📄 নিঃস্বার্থপরতা (ইখলাস)
দাওয়াতদানকারী শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ এবং মানুষকে কল্যাণের পথে আনার নিমিত্তে দাওয়াতি কাজ করবেন। এর পেছনে যদি কোনো প্রকার পার্থিব চিন্তা বা স্বার্থ লুক্কায়িত থাকে তবে তার সমস্ত তৎপরতাই পশু হয়ে যাবে।
দাওয়াতদানকারী যে মহাসত্যের দিকে মানুষকে দাওয়াত দেবেন তার সত্যতা মানুষ তখনই উপলব্ধি করবে, যখন তিনি সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে দাওয়াতি কাজ করবেন।
তার মধ্যে বিন্দুমাত্র কোনো পার্থিব স্বার্থ রয়েছে বলে যদি মানুষ উপলব্ধি করে, তবে কিছুতেই মানুষের উপর তার দাওয়াতের প্রভাব পড়বে না। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সা. দাওয়াতকালে মানুষকে সুস্পষ্টভাবে নিজের নিঃস্বার্থপরতার কথা জানিয়ে দিয়েছেন :
قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْعَالَمِينَ
“হে নবী তুমি বলে দাও : এ দাওয়াতের কাজের জন্যে তোমাদের কাছে তো আমি কোনো পারিশ্রমিক দাবি করছি না। এতো হলো বিশ্ববাসীর জন্য সাধারণ উপদেশ।” (সূরা ৬ আল আনআম, আয়াত : ৯০)।
📄 দাওয়াত দিতে হবে আল্লাহর দিকে
দাওয়াত দিতে হবে আল্লাহ্র দিকে, ইসলামে দাওয়াতদানকারী মানুষকে দাওয়াত দেবেন আল্লাহ্র দিকে, নিজের বা নিজের দলের দিকে নয়। আল্লাহ বলেন :
وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِّمَّن دَعَا إِلَى اللَّهِ
“ঐ ব্যক্তির চাইতে উত্তম কথা আর কার হতে পারে, যে মানুষকে আল্লাহ্র দিকে দাওয়াত দেয়?” (সূরা ৪১ হামীমুস সাজদা : আয়াত ৩৩)।
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফহীমুল কুরআনে বলা হয়েছে :
“একজন সত্যপথের দাওয়াতদানকারীর বৈশিষ্ট্য এটা যে : তার দাওয়াত হবে আল্লাহ্র দিকে। তার সামনে কোনো প্রকার পার্থিব উদ্দেশ্য থাকবে না। থাকবে না কোনো দেশীয়, বংশীয় কিংবা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় কোনো উদ্দেশ্যই তার মনের কোনো স্থান পেতে পারবে না। যে ব্যক্তি খালেছভাবে আল্লাহ্র দিকে আহ্বান করেন, কুরআন মজীদের শিক্ষা অনুযায়ী এমন আহ্বানকারীর প্রথম বৈশিষ্ট্য এটাই হতে হবে যে, তিনি আল্লাহ্র একত্বের (তাওহীদের) প্রতি দাওয়াত দেবেন।
তাকে এভাবে আহ্বান করতে হবে : হে মানুষ! এক আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা করবে না, আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না, তিনি ছাড়া অন্য কারো কাছে কিছু পাওয়ার লোভ ও কামনা করবে না। কেবলমাত্র আল্লাহ্র হুকম ও নির্দেশ সমূহের আনুগত্য করো। কেবলমাত্র তাঁর বিধানেরই অনুসরণ করো।” (তাফহীমুল কুরআন)।
ইসলামি আন্দোলন ও দাওয়াতি তৎপরতার মূল লক্ষ্যই হলো পরকালের মুক্তি। তাই, একজন দায়ী যখনই কাউকে দীনের দাওয়াত দেবেন, তখন তার কাছে অবশ্যই এর মূল লক্ষ্য অর্থাৎ পরকালীন মুক্তির কথা তুলে ধরতে হবে। তুলে ধরতে হবে পরকালীন আযাবের বীভৎস রূপ। সুসংবাদ দিতে হবে সীমাহীন সুখ সম্ভোগের জান্নাতের।
আর দুনিয়ার জীবন যাপনের পথ নির্ধারণের উপরই যে পরকালীন আযাব কিংবা জান্নাতের বিষয়টা নির্ভরশীল তাও স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে।
📄 পরকালের জবাবদিহীর চেতনা জাগ্রত করে দিতে হবে
বুঝিয়ে দিতে হবে, আল্লাহ্র বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করলেই কেবল পরকালে জান্নাত লাভ করা যাবে। আর তাঁর বিধান অমান্য করে চললে পরকালের অনন্ত জীবন হবে সীমাহীন আযাব, লাঞ্ছনা আর দুঃখের।
فَأَمَّا مَن طَغَىٰ • وَآثَرَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا • فَإِنَّ الْجَحِيمَ هِيَ الْمَأْوَىٰ • وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَىٰ • فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَىٰ
“দুনিয়ায় যে আল্লাহ্র বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল আর পৃথিবীর জীবনকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছিল, দোযখই হবে তার আবাস। আর যে তার রবের সামনে দাঁড়াবার ভয় করেছিল আর প্রবৃত্তিকে মন্দ বাসনা থেকে বিরত রেখেছিল, জান্নাতই হবে তার ঠিকানা।” (সূরা ৭৯ আন নাযিয়াত : আয়াত ৩৭-৪১)
এখানে সংক্ষিপ্ত পরিসরে কুরআনের আলোকে দাওয়াতি কাজের একটি চিত্র তুলে ধরা হলো। কুরআনে এ কাজের আরো বিভিন্ন দিক আলোচিত হয়েছে। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সা.-এর জীবনেও রয়েছে এ কাজের অনেক বাস্তব উদাহরণ। আল্লাহ্র দিকে দাওয়াতদানকারীদের কুরআন ও সীরাতের আলোকে এ বিষয়ে ব্যাপক জ্ঞানার্জন করা কর্তব্য।