📄 বিতর্কের পথ পরিহার
দাওয়াতদানকারী প্রতিপক্ষের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়বেন না। কারণ তর্ক-বিতর্ক এমন একটি জিনিস, যা দাওয়াতদানকারীর উদ্দেশ্য পশু করে দেয়। প্রতিপক্ষের সাথে অধিকতর দুরত্ব সৃষ্টি করে। এতে প্রতিপক্ষ জিদের বশবর্তী হয়ে অধিকতর অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয়। বিতর্ক এমন একটি জিনিস, যাতে উভয় পক্ষই জিততে চায়। আর যেখানে জেত-জিতের পালা এসে যায়, সেখানে কিছুতেই দাওয়াতি কাজের পরিবেশ থাকে না। তাই কুরআন বলছে :
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“আহলে কিতাবের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া ছাড়া বিতর্ক করো না।” (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৪৬)
وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“আর লোকদের সাথে বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়।” (সূরা ১৬ আন নাহল : আয়াত ২৫)
‘উত্তম পন্থা’ মানে তোমার প্রতিপক্ষ যদি তোমার সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তবে তুমি তাতে অংশ নেবে কেবল যুক্তি সংগত, প্রমাণসিদ্ধ, সত্য শাহীনের এবং বুঝানোর ভাষায়। তর্কের জন্যে তর্ক এবং যে কোনোভাবে জেতার জন্যে বিতর্কে লিপ্ত হবে না। কারণ তাতে তোমার দ্বারা লোকেরা অধিকতর গোমরাহির দিকে ধাবিত হবে।
📄 ভালো কথা দিয়ে মন্দ কথার জবাব দান
এ ব্যাপারে কুরআন বলছে :
ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ السَّيِّئَةَ ۚ نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَصِفُونَ
“মন্দকে সেই ভালো দ্বারা দূর করো যা সর্বোত্তম। প্রতিপক্ষ তোমাদের বিরুদ্ধে যেসব কথা রচনা করছে, তা আমি জানি।” (সূরা ২৩ মুমিনূন : ৯৬)
সূরা হামীম আস সাজদায় বলা হয়েছে :
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ۚ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“ভালো আর মন্দ এক নয়। মন্দকে সেই ভালো দিয়ে দূর করো যা সর্বোত্তম।” (সূরা ৪১ হামীম আস সাজদা : আয়াত ৩৪)
সত্য পথের দাওয়াতদানকারী যে কোনো সময় মন্দ আচরণের সম্মুখীন হতে পারেন। কিন্তু মন্দ আচরণের জবাবে তিনিও মন্দ আচরণ করবেন না। তিনি এমন সুন্দর আচরণ করবেন, যা দ্বারা মন্দকরকারী লজ্জিত হবে এবং তার আচরণে বিমুগ্ধ হবে।
📄 যাদের পেছনে সময় বেশি দিতে হবে
দাওয়াতের দায়িত্ব পালনে আল্লাহ তায়ালা মুমিনদেরকে একটা সুবিধা দিয়েছেন। তাহলে অভিযুক্তদের ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, লোকটা উপদেশ (দাওয়াত) গ্রহণ করতে পারে, তার পেছনে সময় বেশি দিতে হবে। আর যার ব্যাপারে মনে হবে যে, তার দাওয়াত গ্রহণ করার কোনো সম্ভাবনা নেই, তার পেছনে অযথা সময় নষ্ট করার দায়িত্ব মুমিনদের নেই। সূরা আল আ'লায় রাসূল সা.-কে বলা হয়েছে :
وَذَكِّرْ إِن نَّفَعَتِ الذِّكْرَىٰ
“আমি তোমাকে সহজ পন্থার সুবিধা দিচ্ছি। তাহলে উপদেশ দান সেখানেই অব্যাহত রাখো, যেখানে তা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করবে।” (সূরা আ'লা : আয়াত ৮-৯)
সূরা আবাসায় এ কথাটি আরো বলিষ্ঠভাবে বলা হয়েছে।
📄 মা'রূফের প্রতি আহ্বান
কুরআনে নবী করিম সা.-কে বলা হয়েছে : ‘ওয়া’মুর বিল উরফি-মা'রূফের আদেশ করো।’
এর ব্যাখ্যায় তাফসীর তাফহীমুল কুরআনে বলা হয়েছে : “দাওয়াতদানকারীর বড় বড় দর্শন ও সূক্ষ্ম তত্ত্বের পরিবর্তে লোকদের সরাসরি ‘মা'রূফ’ মনে-য্যোগ ও সুস্পষ্ট কল্যাণের শিক্ষা দেবে, যেসব কথাকে সাধারণ মানুষ ভালো কথা বলে জানে কিংবা যা ভালো কথা বলে মনে করার জন্য তাদের সাধারণ বুদ্ধিই (Common sense) যথেষ্ট হতে পারে।
এ পন্থা গ্রহণের ফলে সত্য পথের দাওয়াতদানকারীর আবেদন সাধারণ ও সুধী সবাইকেই প্রভাবিত করে। শ্রোতার ওপর এর প্রভাব ভেদ করে দাওয়াত আপনিতেই তার মর্মে গিয়ে পৌঁছায়। এমন ‘মারূফ’ দাওয়াতের বিরুদ্ধে যারা চিৎকার ও হাঙ্গামা করে, তারা নিজেরাই নিজেদের ব্যর্থতা ও দাওয়াতের কামিয়াবির ক্ষেত্র তৈরি করে করে।” (তাফহীমুল কুরআন, সূরা ৭ আ'রাফ, টীকা : ১৫০)।