📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 কথার সৌন্দর্য ও কোমলতা

📄 কথার সৌন্দর্য ও কোমলতা


মানুষকে দাওয়াতদানের ক্ষেত্রে কুরআন কথার সৌন্দর্য ও কোমলতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে। সূরা বনী ইসরাঈলে নবী সা.-কে নির্দেশ দেয়া হয়েছে :
قُل لِّعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“হে নবী, আমার বান্দাদের বলে দাও, তারা যেনো সর্বোত্তমভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত ভাষায় কথা বলে।” (সূরা ১৭ বনি ইসরাঈল : আয়াত ৫৩)
সূরা তোয়াহায় মূসা ও হারূণ আলাইহিস সালামকে ফেরাউনের নিকট দাওয়াতি কাজে পাঠাবার প্রাক্কালে তাঁকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে :
فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ
“তার সাথে কোমল ও নম্রভাবে কথা বলবে। এ পন্থায় উপদেশে গ্রহণযোগ্য হওয়া কিংবা অন্তরে ভয় ঢোকার সম্ভাবনা থাকবে।” (সূরা ২০ তোয়াহা : আয়াত ৪৪)
এ হচ্ছে দাওয়াত কার্যকর হবার প্রভাবশালী পন্থা। দাওয়াত দানকারীকে কোনো অবস্থায়ই মিথ্যা এবং অতিরঞ্জিত কথা বলা যাবে না। কথা যে কটা যতোটা বলা হয় তা যেনো নিজের প্রয়োজনে এবং অপরকে পরাস্ত করার দাবি করা যাবে না। তার বা তার দলের প্রতি এতোই অভিযোগ ও আপত্তি তোলা হোক না কেন, তিনি উত্তেজিত হবেন না। সর্বাবস্থায়ই তার মুখমণ্ডল হাস্যোদ্দীপক, ভাষা হবে কোমল মাধুর্যময়, আচরণ হবে বিনয়ী, সৌন্দর্যমণ্ডিত ও আকর্ষণীয়।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 পুলিশী কায়দা পরিত্যাজ্য

📄 পুলিশী কায়দা পরিত্যাজ্য


কোনো ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে পুলিশি কায়দায় চাপ প্রয়োগ করে ইসলামের চৌহদ্দিতে প্রবেশ করাতে হবে, এ দায়িত্ব দাওয়াত দানকারীকে দেয়া হয়নি। এমন দায়িত্ব ন্যস্তও ছিলনা। দাওয়াতদানকারীর দায়িত্ব হচ্ছে, যুক্তি প্রমাণের মাধ্যমে সত্যকে সত্যরূপে আর বাতিলকে বাতিলরূপে স্পষ্ট করে মানুষের সামনে তুলে ধরে তাঁকে সত্যের প্রতি আহ্বান জানানো। কাউকেও হিদায়াত করা তার দায়িত্ব নয়।
এটা আল্লাহ্র দায়িত্ব। আল্লাহ্ স্বয়ং নবীকে উদ্দেশ্য করে বলেন : “আল্লাহ্ চাইলে তারা শিরক করতো না। আমি তোমাকে তাদের উপর পাহারাধার নিযুক্ত করিনি আর তুমি তাদের (হিদায়াত করার) দায়িত্বশীল নও।” (সূরা ৬ আল আনআম : আয়াত ১০৭। এই সূরা ১০৪ আয়াতেও একই কথা বলা হয়েছে।)

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 হিকমাহ ও উত্তম উপদেশ

📄 হিকমাহ ও উত্তম উপদেশ


দাওয়াতদানকারীর বক্তব্য তর্ক-বিতর্ক কিংবা জ্ঞান-বুদ্ধির দাপট দেখানোর জন্যে হবে না। কথার জোরে প্রতিপক্ষকে জব্দ করার মনোভাব তার মধ্যে থাকতে পারবে না। বরঞ্চ তাকে অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য পন্থায় এবং মর্মস্পর্শী উপদেশ পেশ করতে হবে। এ ব্যাপারে কুরআনের নির্দেশনা হচ্ছে :
ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ
“তোমার রবের পথের দিকে মানুষকে ডাকো হিকমাহ্ এবং মাওযিয়ায়ে হাসানার মাধ্যমে।” (সূরা ১৬ আন নাহল : আয়াত ১২৫)
এ আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী রহ. তাঁর তাফসীরে লিখেছেন :
“দাওয়াতে হিকমাহ্ প্রয়োগের মানে হচ্ছে, বোকামির সাথে যেনো দাওয়াত দেয়া না হয়, বরং বুদ্ধিমত্তার সাথে শ্রোতার মানসিকতা ও সামর্থ্য এবং তার ধারণ ক্ষমতা বুঝে উপযুক্ত স্থান, সময় ও সুযোগ অনুযায়ী কথা বলতে হবে। সব ধরনের লোকদের একই ঢংয়ে নিয়ে সোজা করার চেষ্টা করা ঠিক নয়। যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের কাছে দাওয়াত নিয়ে যাওয়া হবে, প্রথমে তার রোগ নির্ণয় করতে হবে। অতঃপর এমনসব যুক্তি ও প্রমাণের সাহায্যে তার চিকিৎসা করতে হবে, যা তার মন-মানসিকতার গভীরে থেকে সমস্ত রোগের টলমল উপড়ে ফেলতে সমর্থ হবে। ‘মাওয়ায়েযায়ে হাসানা’ বা উত্তম উপদেশের দুটি অর্থ রয়েছে। এক. প্রত্যেক শুধুমাত্র যুক্তি প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে ক্ষান্ত হলে চলবে না, বরং মানুষের মধ্যে জন্মগতভাবে অন্যায়ের প্রতি যে ঘৃণা ও নফরত রয়েছে তাকে জাগ্রত করে তুলতে হবে এবং সৎকাজের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি সম্পর্কে সতর্ক করে দিতে হবে। হিদায়াত ও আমলের সালেহর সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতার যুক্তি ও বুদ্ধিগত প্রমাণই যথেষ্ট নয়, সাথে সাথে শ্রোতার প্রতি শ্রোতার আকর্ষণ ও মহব্বত পয়দা করে দিতে হবে।
দুই. সহানুভূতি আন্তরিকতা ও একান্ত দরদের সাথে উপদেশ দান করতে হবে। শ্রোতা যেনো অনুভব করতে না পারে যে, উপদেশদানকারী তাকে ক্ষুদ্র জ্ঞান করছে এবং নিজেকে বিরাট কিছু মনে করে তার সাথে বিদ্রূপ করছে।
বরং এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে যেনো শ্রোতা অনুভব করতে পারে যে তার সংশোধনের জন্যে উপদেশদানকারীর অন্তরে সত্যিই দরদ ও সহানুভূতিপূর্ণ অনুভূতি রয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে তিনি তার কল্যাণ কামনা করছেন।” -তাফহীমুল কুরআন, সূরা ১৬ আন-নাহল, টীকা : ১২২।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 বিতর্কের পথ পরিহার

📄 বিতর্কের পথ পরিহার


দাওয়াতদানকারী প্রতিপক্ষের সাথে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়বেন না। কারণ তর্ক-বিতর্ক এমন একটি জিনিস, যা দাওয়াতদানকারীর উদ্দেশ্য পশু করে দেয়। প্রতিপক্ষের সাথে অধিকতর দুরত্ব সৃষ্টি করে। এতে প্রতিপক্ষ জিদের বশবর্তী হয়ে অধিকতর অন্যায়ের দিকে ধাবিত হয়। বিতর্ক এমন একটি জিনিস, যাতে উভয় পক্ষই জিততে চায়। আর যেখানে জেত-জিতের পালা এসে যায়, সেখানে কিছুতেই দাওয়াতি কাজের পরিবেশ থাকে না। তাই কুরআন বলছে :
وَلَا تُجَادِلُوا أَهْلَ الْكِتَابِ إِلَّا بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“আহলে কিতাবের সাথে উত্তম পন্থা ছাড়া ছাড়া বিতর্ক করো না।” (সূরা ২৯ আনকাবুত : আয়াত ৪৬)
وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ
“আর লোকদের সাথে বিতর্ক করবে উত্তম পন্থায়।” (সূরা ১৬ আন নাহল : আয়াত ২৫)
‘উত্তম পন্থা’ মানে তোমার প্রতিপক্ষ যদি তোমার সাথে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তবে তুমি তাতে অংশ নেবে কেবল যুক্তি সংগত, প্রমাণসিদ্ধ, সত্য শাহীনের এবং বুঝানোর ভাষায়। তর্কের জন্যে তর্ক এবং যে কোনোভাবে জেতার জন্যে বিতর্কে লিপ্ত হবে না। কারণ তাতে তোমার দ্বারা লোকেরা অধিকতর গোমরাহির দিকে ধাবিত হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00