📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 বিপ্লবের নবী

📄 বিপ্লবের নবী


ইসলাম মানুষের জন্য মানুষের জীবনাদর্শ। জীবন পথের মূলনীতি। জীবন যাপনের ব্যবস্থা। আদর্শ জীবনাদর্শ রূপায়ণেই এই ইসলাম মানুষের জন্য প্রেরণ করেছেন মানুষের স্রষ্টা, প্রতিপালক, মানুষের মালিক ও মনিব আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। তিনি নিজেই এই জীবনাদর্শ, এই জীবন ব্যবস্থা মানুষের জন্য মনোনীত করেছেন। মানুষের জন্য মনোনীত এটা তাঁর চিরন্তন ব্যবস্থা। পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকে শেষ পর্যন্ত সকল কালের মানুষের জন্যেই তিনি এ ব্যবস্থা মনোনীত করেছেন।
মানুষের কাছে তাঁর এই জীবন ব্যবস্থা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থাও তিনি নিজেই করেছেন। সকল কালে সকল জাতির মধ্য থেকে সেরা মানুষদের তিনি তাঁর এই বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য নিয়োগ করেছেন। এ জন্যেই তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা দান করেছেন। এঁদের আমরা নবী রাসূল বলে জানি। মুহাম্মদ সা. এই নবুয়তি মালার শেষ কড়ি।
কুরআনে বলা হয়েছে, রাসূলদের কিতাব এবং মীযান দিয়ে পাঠানো হয়েছে, যাতে করে মানব সমাজ ন্যায়, সুবিচার, সুষ্ঠু ব্যবস্থা ও ইনসাফের উপর সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। (সূরা আল হাদীদ,আয়াত : ২৫)।
আল কুরআনেরই অন্য একটি স্থানে নবীনের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, তাঁদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, ‘দীন কায়েম করো’। অর্থাৎ আল্লাহ্র যে’বাণী তাঁদের নবী করে বলে দিয়েছেন, আমি তোমাদের মাধ্যমে যে’বাণী, যে ব্যবস্থা ও আদর্শ প্রেরণ করেছি, তা তোমরা সমাজের বুকে প্রতিষ্ঠিত করো। আর এর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই মানুষ ইনসাফ ও সুবিচারের উপর প্রতিষ্ঠিত হবে।
মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা.কেও একই উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে। একই জীবন ব্যবস্থা নিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। আর এই জীবন ব্যবস্থা বিজয়ী করার নির্দেশ তাঁকে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে আল কুরআনের ভাষায় বলা হলো :
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ
“তিনি সেই সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত (পথ নির্দেশ) এবং সত্য দীন (জীবন ব্যবস্থা ও জীবন যাপনের বিধান)সহ পাঠিয়েছেন, যেনো সে এই বিধানকে অন্যসকল বিধি ব্যবস্থার উপর বিজয়ী করে দেয়।” (সূরা আল ফাতাহ : আয়াত ২৮)
এখানে, কুরআনে এই আয়াতে মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহকে প্রেরণের যে উদ্দেশ্য বর্ণনা করা হয়েছে তাকেই প্রচলিত পরিভাষায় সমাজ বিপ্লবের পদক্ষেপ। এখানে এক চূড়ান্ত বিপ্লবের সাধনের দায়িত্ব তাঁর উপর অর্পণ করা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তন সাধনের কথা বলে দেয়া হয়েছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত সমস্ত চিন্তাধারা, সমস্ত আচার আচরণ, সমস্ত দুর্নীতি কূসংস্কার এবং সামাজিক সকল অপব্যবস্থা দূর করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বস্তুত, এই কাজটার নামই হলো ইসলামী বিপ্লব।
এই বিপ্লবের মাধ্যমে সমাজ থেকে কতকগুলো ধ্যানধারণা, মূলনীতি, জীবনাচার এবং এসবের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সমাজ ও রাষ্ট্র কাঠামোকে পরাভূত, অবদমিত এবং নিতান্ত অচল করে দেয়া হয়। কুরআন মজীদে এসব জিনিসকে বিভিন্ন নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যেমন : কুফর, শিরক, তুগীয়ান, ফিসক, ফাসাদ ইত্যাদি। এগুলোকে উৎখাত এবং এদের ওপর পরাভূত করে সে স্থলে ইসলামি জীবনাদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করাই ইসলামি বিপ্লবের লক্ষ্য। মূলত রাসূলুল্লাহ সা. উপর এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছিল। তিনি আল্লাহ তা'আলার পর্যবেক্ষণের অধীনে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সর্বোত্তম পন্থায় সুনিপুণভাবে এ মহান দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 ইসলামি বিপ্লবের মডেল

📄 ইসলামি বিপ্লবের মডেল


রাসূলুল্লাহ সা. পূর্ণাঙ্গ ইসলামি বিপ্লব সাধন করেছেন। যেসব জিনিসকে পরাভূত ও পরাজিত করার দায়িত্ব ছিলো, তিনি সেগুলোকে পরাভূত ও পরাজিত করে সে স্থলে ইসলামি সমাজ নির্মাণের পথ পরিষ্কার করে গেছেন। চিরদিনের জন্য বিশ্বের বুকে ইসলামের শিক্ষককে এমন মজবুতভাবে তিন পেয়ে গেছেন, যা নির্মূল করার ক্ষমতা আর কোনো শক্তির নেই।
তাই, ইসলামি বিপ্লব তিনি সর্বকালের নেতা। সকল যুগের ইসলাম প্রতিষ্ঠাকামীদের তাঁকে পথিকৃত অনুসরণ করতে হবে। কূচীদেরকেও তারই অনুসরণ করতে হবে। তিনি যে বিপ্লব সাধন করেছেন, অনুরূপ বিপ্লব সাধন করার নামই ‘ইসলামি সমাজ বিপ্লব’। তিনি ইসলামি সমাজ বিপ্লবের মডেল। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 ইসলামি বিপ্লবের পথিকৃত

📄 ইসলামি বিপ্লবের পথিকৃত


মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা. যে বিপ্লব সাধন করেছিলেন, তার কয়েকটি পর্যায় ছিলো। মূলত, তাঁর বিপ্লবের তিনটি পর্যায় ছিলো। সেগুলো হলো :

১. চিন্তার বিপ্লব বা মানসিক বিপ্লব।
২. নৈতিক ও চারিত্রিক বিপ্লব এবং
৩. সমাজ ও রাষ্ট্র বিপ্লব।

এই তিন পর্যায়ের বিপ্লবের মাধ্যমেই নবী করিম সা.-এর ইসলামি বিপ্লব পূর্ণতা লাভ করে। রাষ্ট্র ব্যবস্থা তাঁর নিয়ন্ত্রণ আসে। সমাজে পূর্ণ শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হয়। মানবাধিকার নিশ্চিত হয়। বিপ্লব ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে। মানুষ পশুত্বের মতো ছূঁড়ে ফেলে এই মহান জীবনাদর্শ গ্রহণ করার জন্য।

রসূলে করিম সা. যে সমাজ বিপ্লব সংঘটিত করেছিলেন তা ছিলো একটি নিয়মতান্ত্রিক বিপ্লব। কোনো জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি তাঁর আদর্শের উপর জোর জবরদস্তি করে চাপিয়ে দেননি। সমাজের কোনো বিশেষ শ্রেণীর নেতৃত্ব কজা করে অপর শ্রেণীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তাদের পরাভূত করে তিনি ক্ষমতা দখল করেননি। কোনো প্রকার প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের মাধ্যমেও তিনি ক্ষমতায় আরোহণ করেননি। মোট কথা এ ধরনের কোনো কৃত্রিম পন্থায় ক্ষমতায় আরোহন তিনি করেননি। নিজের আদর্শকেও তিনি জনগণের উপর তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ক্ষমতার বলে চাপিয়ে দেননি। তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সমাজ বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতা তাঁর হাতে এসে যায়।

তিনি প্রথমে জনগণের মধ্যে চিন্তা ও চরিত্রের বিপ্লব সাধন করেন। আর এই চিন্তা ও চরিত্রের বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হয় সমাজ ও রাষ্ট্র বিপ্লব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00