📄 সাহায্যকারী ও সহকর্মীদের দোষত্রুটি উপেক্ষা করতেন
আনাস রা. বলেন, আমি আট বছর বয়সে রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে এসেছি এবং দশ বছর কাল তাঁর খেদমত করেছি। তিনি কখনো আমাকে তিরস্কার করেননি। আমার কোনো কাজে কখনো ‘উহ’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি। এমনকি ‘এটা করলে কেন?', 'ওটা করলে না কেন?'-এরকম কথা কখনোই আমাকে বলেননি। আমার হাতে কখনো কিছু নষ্ট হবার কারণে কেউ আমাকে তিরস্কার করলে তিনি বলতেন, যা হবার হয়ে গেছে, ওকে ছেড়ে দাও। (বুখারি, মুসলিম)।
📄 তিনি নিজের ব্যাপারে কখনো প্রতিশোধ নিতেন না
রাসূলুল্লাহ সা. কখনো নিজের ব্যাপারে কারো উপর প্রতিশোধ নিতেন না। তবে কারো দাবি থাকলে নিজের উপর প্রতিশোধ নিতে দিতেন। উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রা. বলেন : রাসূলুল্লাহ সা. আল্লাহ্র পথে-জিহাদের অবস্থা ছাড়া কখনো নিজের হাতে আঘাত করেননি। নিজের ব্যাপারে কারো কারো উপর প্রতিশোধ নেননি। (বুখারি ও মুসলিম)।
📄 সব সময় সহজ কাজটি করতেন
উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা.-কে যখন দুটি বিষয়ের যে কোনো একটি গ্রহণ করার অবকাশ দেয়া হতো, তখন তিনি অবশ্যি উভয়টির মধ্যে সহজটি গ্রহণ করতেন। কিন্তু সেটি যদি গুনাহের কাজ হতো, তবে তিনি সেটি থেকে সকলের চেয়ে দূরে থাকতেন। তাঁর এ নীতির ব্যতিক্রম কখনো হয়নি। (বুখারি ও মুসলিম)।
📄 তিনি ছিলেন সরল জীবনের অধিকারী
প্রিয় নবী সা. তাঁর সাহাবিদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তোমরা সব সময় মানুষকে সুসংবাদ দেবে, নিরাশ করবে না। সহজতা বিধানের নীতি অবলম্বন করবে, কাঠিন্য আরোপ করবে না। (বুখারি ও মুসলিম)।
আনাস রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. রোগীর সেবা করতেন, কঠিনের সাথে যেতেন, সেবক কর্মচারীদের দায়িত্ব গ্রহণ করতেন এবং গাধার পিঠে চড়তেন। (ইবনে মাজাহ)
উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রা. বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. নিজেই নিজের জুতা মেরামত করতেন, নিজের কাপড় সেলাই করতেন এবং তোমাদের মতোই ঘরের কাজে লেগে থাকতেন। তিনি অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ ছিলেন। তিনি নিজের কাপড় চোপড় থেকে পোকা বাছতেন, নিজ বকরীর দুধ দোহন করতেন এবং নিজের কাজ নিজেই করতেন। (তিরমিযি)।
আবদুল্লাহ ইবনে আবি আউফা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. অভাবী, গরীব ও দরিদ্রের সাথে চলাফেরা করতে কোনো প্রকার সংকোচ বোধ করতেন না। তিনি তাদের প্রয়োজন পূরণ করতেন এবং বিধবাদের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। (নাসায়ী ও দারেমি)।