📄 তিনি ছিলেন সর্বাধিক দাতা ও সর্বাধিক সাহসী
আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ছিলেন মানুষের মধ্যে সুন্দরতম এবং সবচে' বড় দাতা এবং সর্বাধিক সাহসী। এক রাত্রে লোকেরা (শহরবাসীর দিকে শোরগোল শুনে ভাবলো ইহুদিরা আক্রমণ করেছে, তাই) ভয় পেয়ে গেলো।
অতপর (রণপ্রস্তুতি নিয়ে) সবাই শোরগোলের দিকে যাএা শুরু করলো। কিছু দূর গিয়ে লোকেরা দেখলো নবী করিম সা. শোরগোলের দিক থেকে ফিরে আসছেন। তিনি সবার আগে শোরগোলের স্থানে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর লোকদের সাথে দেখা হয়। তিনি তাদের বললেন : কিছুনা, ভয় পেয়ো না, ভয়ের কারণ নেই।’ (সহীহ বুখারি)।
জাবির রা. বলেন, এমন কখনো হয়নি যে, কেউ রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে কিছু চেয়েছে আর তিনি বলেছেন : ‘না’। (বুখারি ও মুসলিম)।
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক অভাবী ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট কিছু চাইলো। তিনি তাকে বললেন, এ মুহূর্তে তো আমার কাছে কোনো অর্থ কড়ি নেই। তুমি আমার নামে বাকি কিনে নাও। উমর বলেন, একথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কোন নিজের উপর এতো বোঝা চাপিয়ে নিচ্ছেন? উমর বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমার একথায়গুলো পছন্দ করলেন না। তখন অন্য এক সাহাবি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি প্রচুর ব্যয় (দান) করুন। আরশের মালিকের কাছে আপনি কখনো আশংকা করবেন না।’ একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সা. হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর মুখ মন্ডলে আনন্দের আভা ফুটে উঠলো। (আবদুল্লাহ্ নবী : আবু সায়্যিদ ইসফাহানি)।
📄 তিনি সকলের আবদার রক্ষা করতেন
আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন ফজরের সালাত পড়া শেষ করতেন, তখন মদিনার লোকরা ঢাকনা-ঢাকনাওয়ালা তাঁর কাছে পাত্র ভরা পানি নিয়ে উপস্থিত হতো (যেনো তিনি ওসব পাত্রে পানি স্পর্শ করে দেন)। তখন তিনি তাদের প্রত্যেকের পাত্রে পানি হাত ডুবিয়ে দিতেন। অনেক সময় তারা শীতের সকালেও আসতো। তখনো তিনি তাদের পানির পাত্রে হাত ডুবিয়ে দিতেন। (সহীহ মুসলিম)।
আনাস রা. বলেন, মদিনার একটি ছোট বালিকাও নবী করিম সা. কে হাত ধরে (নিজের অভিযোগ জানানোর জন্য) যেখানে ইচ্ছে নিয়ে যেতে পারতো। (বুখারি)।
📄 তিনি কখনো মানুষকে খারাপ কথা বলতেন না
আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. কখনো কাউকেও অশ্লীল-অশালীন কথা বলতেন না, অভিশাপ দিতেন না এবং গালিগালাজ করতেন না। কারো প্রতি অসন্তুষ্ট হলে শুধু এতোটুকু বলতেন : তার কি হলো, তার কপাল ধূলোমলিন হোক! (সহীহ বুখারি)।
📄 তিনি ছিলেন অত্যন্ত লজ্জাশীল
আবু সাঈদ খুদরি রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ছিলেন পর্দানশীল কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিক লজ্জাশীল। তিনি যখন কিছু অপছন্দ করতেন, তখন আমরা তাঁর মুখমণ্ডলের দিকে তাকিয়ে তা বুঝতে পারতাম। (বুখারি ও মুসলিম)।
সাহল ইবনে সা'দ রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ছিলেন অত্যধিক লজ্জাশীল। যখনই তাঁর কাছে কিছু চাওয়া হতো, তিনি দিয়ে দিতেন। (আবদুল্লাহ নবী)।