📄 কারো সাথে সাক্ষাত হলেই সালাম দিতেন
বিশ্বনবী রাসূলুল্লাহ সা. নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যাঁর সাথেই সাক্ষাত হতো, তাকেই সালাম দিতেন। নিজে আগে সালাম দিতেন। অথবা কেউ তাঁকে সালাম দিলে উত্তমভাবে তার জবাব দিতেন।
আনাস বিনতে ইয়াসীন রা. বলেন, এক স্থানে আমরা কিছুসংখ্যক মহিলা বসা ছিলাম। তখন আমাদের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রমকালে রাসূলুল্লাহ সা. আমাদের সালাম দেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারেমি)।
আনাস রা. বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সা. একদল বালকের নিকট দিয়ে যাবার সময় তাদের সালাম দেন। (বুখারি ও মুসলিম)।
প্রিয় নবী সা. অন্যদের তো আগে সালাম দেবার চেষ্টা করতেনই, কিশোর আর মহিলাদেরকেও আগে সালাম দেবার চেষ্টা করতেন। তিনি বলেছেন, আগে সালাম দানকারী আল্লাহ্র অধিক নিকটে এবং অহংকারমুক্ত।
📄 হাসিমুখে কথা বলতেন
জরীর ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে রাসূলুল্লাহ সা. আমাকে কখনো তাঁর নিকট যেতে বাধা দেননি এবং যখনই আমাকে দেখতেন, স্মিত (মিষ্টি) হেসেছেন। (বু'আছার মালেক)।
📄 তিনি সাথিদের সাথে মুসাফাহা মু'আনাকা করতেন
হাতে হাত মিলিয়ে সম্ভাষণ জানানোকে মুসাফাহা এবং গলায় গলা মিলিয়ে গলাগলি করে সম্ভাষণ জানানোকে মু'আনাকা বলা হয়। রাসূলে করিম সা. তাঁর সহকর্মীদেরকে এসব পদ্ধতিতে সম্ভাষণ জানাতেন।
আবু আইউব মুসাঈর বলেন, এক ব্যক্তি আবু যার রা. কে জিজ্ঞাসা করেন, রাসূলুল্লাহ সা. যখন আপনাদের (সাহাবিদের) সাথে সাক্ষাত করতেন, তখন কি তিনি মুসাফাহা করতেন? আবু যার বলেন, আমি যখনই তাঁর সাথে সাক্ষাত করেছি, তিনি আমার সাথে মুসাফাহা করেছেন। একবার তিনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। তখন আমি ঘরে ছিলাম না। পরে ঘরে এসে সংবাদটি পাওয়ার সাথে সাথে আমি তাঁর সাথে সাক্ষাত করতে গেলাম। তখন তিনি খাটের উপর বসা ছিলেন। আমাকে দেখেই তিনি বুকে জড়িয়ে ধরলেন : তাতে কী যে আনন্দ পেয়েছি! কী যে খুশি অনুভব করেছি! (আবু দাউদ)।
উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা রা. বলেন, একবার যায়েদ বিন হারিসা (এক অভিযান থেকে) মদিনায় ফিরে এলেন। এ সময় রাসূলুল্লাহ সা. আমার ঘরে ছিলেন। যায়েদ এসে দরজায় টোকা দিতেই তিনি খালি গায়ে চাদর টানতে টানতে তার দিকে ছুটে গেলেন।… অতঃপর তার সাথে গলাগলি করলেন এবং তাকে চুম্বন করলেন। (তিরমিযি)।
জা'ফর ইবনে আবু তালিব রা. বলেন, আমরা হাবশা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে অবশেষে মদিনা এসে পৌঁছলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সা. আমার সাথে সাক্ষাত করতে এলেন এবং আমার সাথে মু'আনাকা (গলাগলি) করলেন। এ সময় তিনি আমাকে বললেন : ‘বুঝতে পারছি না, খায়বর বিজয় আমাকে বেশি আনন্দ দিচ্ছে, নাকি জা'ফরের আগমন!' ঘটনাচক্রে খায়বর বিজয় এবং জা'ফরের প্রত্যাবর্তন একই সময় ঘটেছিল। (মিশকাত)।
📄 তিনি ছিলেন সর্বাধিক দাতা ও সর্বাধিক সাহসী
আনাস রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. ছিলেন মানুষের মধ্যে সুন্দরতম এবং সবচে' বড় দাতা এবং সর্বাধিক সাহসী। এক রাত্রে লোকেরা (শহরবাসীর দিকে শোরগোল শুনে ভাবলো ইহুদিরা আক্রমণ করেছে, তাই) ভয় পেয়ে গেলো।
অতপর (রণপ্রস্তুতি নিয়ে) সবাই শোরগোলের দিকে যাএা শুরু করলো। কিছু দূর গিয়ে লোকেরা দেখলো নবী করিম সা. শোরগোলের দিক থেকে ফিরে আসছেন। তিনি সবার আগে শোরগোলের স্থানে গিয়েছিলেন। ফিরে আসার পর লোকদের সাথে দেখা হয়। তিনি তাদের বললেন : কিছুনা, ভয় পেয়ো না, ভয়ের কারণ নেই।’ (সহীহ বুখারি)।
জাবির রা. বলেন, এমন কখনো হয়নি যে, কেউ রাসূলুল্লাহ সা. এর কাছে কিছু চেয়েছে আর তিনি বলেছেন : ‘না’। (বুখারি ও মুসলিম)।
উমর ইবনুল খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার এক অভাবী ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ সা.-এর নিকট কিছু চাইলো। তিনি তাকে বললেন, এ মুহূর্তে তো আমার কাছে কোনো অর্থ কড়ি নেই। তুমি আমার নামে বাকি কিনে নাও। উমর বলেন, একথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কোন নিজের উপর এতো বোঝা চাপিয়ে নিচ্ছেন? উমর বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. আমার একথায়গুলো পছন্দ করলেন না। তখন অন্য এক সাহাবি বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি প্রচুর ব্যয় (দান) করুন। আরশের মালিকের কাছে আপনি কখনো আশংকা করবেন না।’ একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সা. হেসে দিলেন। এমনকি তাঁর মুখ মন্ডলে আনন্দের আভা ফুটে উঠলো। (আবদুল্লাহ্ নবী : আবু সায়্যিদ ইসফাহানি)।