📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 প্রতিবেশীদের ঘৃণ্য আচরণ

📄 প্রতিবেশীদের ঘৃণ্য আচরণ


ইবনে জরীর তাবারী, বায়হাকি, ইবনে হিশাম, ইবনে আবি হাতিম, বায়হাকি ও ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন, মক্কায় রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকটতম প্রতিবেশী ছিলো আবু লাহাব। তাছাড়া হাকাম (মারওয়ানের পিতা), উকবা বিন আবু মুয়ীত, আদী, সাকাফী প্রমুখও তাঁর প্রতিবেশী ছিলো। এরা রাসূলুল্লাহ সা.-কে সীমাহীন জ্বালাতন করতো। নবী হবার পর তারা তাঁকে একদিনের জন্যেও নিজ বাড়িতে শান্তিতে বাস করতে দেয়নি।

কখনো তিনি নামায পড়তেন, আর ওরা তাঁর উপর ছাগল-ভেড়ার নাড়ীভুঁড়ি নিক্ষেপ করতো। কখনো উনুনে রান্নার হাড়ি চড়ালে ওরা তাঁর পাতিলে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করতো। রাসূল সা. সে সব শুধু এতটুকু বলতেন হে বনি আবদে মানাফ! এ কোন ধরনের আচরণ?

আবু লাহার স্ত্রী উম্মে জামিল প্রতি রাতে রাসূলুল্লাহ সা. এর ঘরের দরজায় কাঁটাদার ডাল-পালা ফেলে রাখতো, যাতে করে ভোরে নবী করিম সা. ঘরের বাইরে বেরুতে গেলে তিনি কাঁটাবিদ্ধ হন। এ মহিলা নিয়মিত এই অনাচার করতো। অথচ নবী করিম সা. সব সময়ই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতো।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 শয়তানের নোংরা অট্টহাসি

📄 শয়তানের নোংরা অট্টহাসি


সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা. একদিন কা'বার হেরেমে নামায পড়ছিলেন। সেখানে অনতিদূরেই কুরাইশ নেতারা বসে গল্প করছিলো। আবু জাহেল বললো : মুহাম্মদ সাজদায় গেলে যদি উটের নাড়ীভুঁড়ি এনে তার উপরে ফেলে চাপ দিয়ে রাখতো, তবে কী মজাই না হতো।’-একথা শুনে উকবা ইবনে আবু মুয়ীত বললো : এ কাজ আমি করতে পারবো।
অতঃপর উকবা দৌঁড়ে গিয়ে উটের নাড়ীভুঁড়ি এনে সাজদারত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সা.-এর ঘাড়ের উপর ফেলে রাখলো। তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। পার্শ্বে ছিলো কিন্তু ভয়ে উম্মে মাখযুম দৌড়ে পারছিলেন না।

খবর শুনে রাসূলুল্লাহ সা.-এর কন্যা ফাতিমা দৌঁড়ে এলেন। বহু কষ্টে পিতার ঘাড়ের উপর থেকে নাড়ীভুঁড়ি সরিয়ে দিলেন। এ সময় শিশু ফাতিমা উকবাকে অভিশাপ দিচ্ছিলেন।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 গলায় চাদর পেঁচিয়ে মারার চেষ্টা

📄 গলায় চাদর পেঁচিয়ে মারার চেষ্টা


ইমাম বুখারি, ইবনে ইসহাক ও ইবনে হিশামের সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, একদিন কুরাইশ সর্দাররা কা'বার চত্বরে বসে ছিলো। এমনি সময় রাসূল আকরাম সা. হঠাৎ সেখানে উপস্থিত হন। তারা তাঁকে দেখেই তাঁর উপর হিংস্র পশুর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে।

তখনকার কিশোর আবদুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনুল আ'স রা. বলেন, আমি দেখলাম, তাদের একজন (অর্থাৎ- উকবা ইবনে আবু মুয়ীত) রাসূলুল্লাহ সা. কে তাঁর গলার উপরে ঝুলে থাকা চাদর দু'পাশ ধরে টেনে ফাঁস লাগিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করছিলো। ঠিক সে মুহূর্তে আবু বকর সেখানে দৌড়ে এলেন। তিনি উকবাকে প্রতিহত করলেন এবং রাসূলুল্লাহ সা.-এর গলায় ফাঁস খুলতে খুলতে বললেন : “আল্লাহ্ আমার প্রভু -একথাটি বলার কারণে কি তোমরা একজন লোককে হত্যা করবে?”

আবদুল্লাহ্ বলেন, তখন পাপিষ্ঠরা সেখানে থেকে চলে গেলো। তিনি আরো বলেন, সেদিন আমি রাসূলুল্লাহ সা.-এর উপর কুরাইশদের যে রকম মারাত্মক আক্রমণ দেখেছি, সেরকম আর কখনো দেখিনি।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দিলেও নয়

📄 ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দিলেও নয়


ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাক এবং ইবনে হিশামসহ বহুসংখ্যক ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সা.-এর চাচা আবু তালিব ইসলাম গ্রহণ না করলেও তাঁকে কাজীর সহযোগিতা করে আসছিলেন। কুরাইশদের আক্রমণ থেকে তিনি তাঁকে রক্ষা করতেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়াতেন। কুরাইশরা এসে আবু তালিবের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতো এবং তাঁর কঠোর সমালোচনা করে তাঁর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করার অনুরোধ করতো।

কিন্তু আবু তালিব তাদের বুঝিয়ে সুজিয়ে বিদায় দিতেন। এদিকে রাসূলুল্লাহ সা. তাঁর দাওয়াত ও প্রচার কাজ যথারীতি চালিয়ে যেতেন। ফলে কুরাইশদের বিদ্বেষ ও আক্রোশ দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে। অবশেষে তারা রাসূল সা. কে হত্যা করতেও উদ্যত হয়।

কুরাইশরা আবারো আবু তালিবের কাছে উপস্থিত হয়। তারা তাঁকে বলে : হে আবু তালিব! আপনি আমাদের প্রধান ও মুরব্বী। আমরা আপনাকে নেতা ও আমাদের অন্যায়ের প্রধান স্তম্ভ মনে করি। আপনি আমাদের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু এখন আপনিই আমাদের বিরুদ্ধে আপনার ভাতিজাকে পক্ষ থেকে বিরত রাখুন। নতুবা আমরা আপনার ও তার বিরুদ্ধে যুদ্ধের অবতীর্ণ হবো। এ যুদ্ধ আমাদের যতোক্ষণ না এক পক্ষ ধ্বংস হয়ে যায়।

আবু তালিব রাসূলুল্লাহ সা.-কে ডেকে পাঠান। তিনি এসে আবু তালিব বললেন : ভাতিজা! তোমার কওমের লোকেরা আমার কাছে এই এই কথা বলেছে। কুরাইশ নেতৃবৃন্দ যা যা বলেছিল, তিনি সবই তাঁকে খুলে বলার পর বললেন : অবস্থা যখন এতোটা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন তুমি নিজেকে এবং আমাকে সামাল দিয়ে চলো। আমার সাধ্যাতীত কোনো কিছু আমার উপর চাপিয়ে দিও না।

চাচার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সা. ভাবলেন, কুরাইশ নেতারা হয়তো চাচার মতও পাল্টে দিতে চলেছে। তিনি এখন হয়তো কুরাইশদের মোকাবিলায় তাঁকে একা ছেড়ে দিতে চাচ্ছেন এবং তাঁর সহযোগিতা করতে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তাই বিশ্বস্ত চাচাকে লক্ষ্য করে বলে দিলেন :
“চাচা, আল্লাহ্র কসম! এরা যদি আমার ডান হাতে সূর্য আর বাম হাতে চাঁদ এনে দেয় এবং তার বিনিময়ে আমাকে একাজ থেকে বিরত থাকতে বলে, তবু আমি একাজ ত্যাগ করবো না, যতোদিন না আল্লাহ্ তাঁর দীনকে বিজয়ী করেন, কিংবা এ কাজ করতে করতে আমার মৃত্যু হয়।”

এই কথাগুলো বলতে বলতে রাসূলুল্লাহ সা.-এর দু'চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠলো। অশ্রু গড়িয়ে পড়লো তাঁর দু'গাল বেয়ে। অতঃপর তিনি উঠে দাঁড়ান এবং নীরবে ফিরে চলেন।

কয়েক কদম যেতে না যেতেই আবু তালিব তাঁকে ডেকে কাছে আনলেন। বললেন : ভাতিজা! ঠিক আছে তুমি যা কাজ করছো, করে যাও। আমি কিছুতেই তোমাকে ওদের হাতে সমর্পণ করবো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00