📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 ভীমরুলের চাকে আদর্শিক দাওয়াতের ঢিল

📄 ভীমরুলের চাকে আদর্শিক দাওয়াতের ঢিল


ইবনে জরীর তাবারী হারিস বিন আবূ হারিসার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমরা এক জামায়ায় গিয়ে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সা. সমবেত লোকদের উদ্দেশে ওয়ায করছিলেন। তিনি তাদের বললেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ (আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই) –একথা স্বীকার করো, সাফল্য লাভ করবে।”
আমরা দেখলাম, তিনি একাকী বলছেন আর উপস্থিত লোকেরা তাঁকে নানাভাবে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। কেউ তাঁর প্রতি শুধু নিক্ষেপ করছে। কেউবা মুষ্টিমেয় ধুলোবালি ছুঁড়ে মারছে। তারা অনবরত এমনটি করতে থাকলো। এর মধ্যে সূর্য মাথার উপর উঠে এলে তারা সবাই চলে গেলো। তিনি ক্লান্ত-অবসন্ন হয়ে সেখানে পড়ে রইলেন। এসময় একটি বালিকা ছুটে এসে কাছে। মেয়েটির সম্মুখভাগের গলা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল। ওর হাতে ছিলো একটি পানির পাত্র আর একটি রুমাল। রাসূলুল্লাহ সা. পানি পান করলেন। তারপর অযু করলেন। তিনি মেয়েটিকে বললেন : যা গলায় ঢেকে নাও। আমার লোকদের জিজ্ঞেস করলে জানতে পারলাম, মেয়েটি তারই কন্যা যায়নব রাদিয়াল্লাহু আনহা।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 ঘরের শত্রু বিভীষণ

📄 ঘরের শত্রু বিভীষণ


ইবনে আবি শাইবা, হাকিম, ইবনে হিব্বান, তাবারানি এবং ইবনে নাসায়ী তারিফ বিন আবদুুল্লাহ আল মুহারাবী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : আমি একবার (মক্কায়) যুল মাজায বাজারে গিয়ে দেখলাম, রাসূলুল্লাহ সা. উচ্চস্বরে জনতাকে বলছেন, “হে লোকেরা! বলো : ‘এক আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’- তোমরা সাফল্য লাভ করবে।” দেখলাম এক ব্যক্তি তাঁর পিছে পিছে লেগেছিল। সে তাঁর প্রতি পাথর নিক্ষেপ করছিল। এতে রাসূলুল্লাহ সা. এর পদদ্বয় রক্তাক্ত হয়ে পড়েছিল। তাঁর পিছু নেয়া লোকটি তাঁর প্রতি এ পাথর নিক্ষেপ করতে করতে লোকদের বলছিল, ‘তোমরা এর কথা শুনো না, এ মিথ্যাবাদী।’

বর্ণনাকারী তারিফ বিন আব্দুল্লাহ বলেন, আমি লোকদের জিজ্ঞেস করলাম, পিছু নেয়া এই লোকটি কে? লোকেরা বললো, এ ব্যক্তি তারই চাচা আবূ লাহাব।

মুসনাদে আহমদ, ইবনে জরীর তাবারী, ইবনে হিশাম, তাবারানি প্রমুখ রাবীয়া বিন আব্বাদ আদদাইলী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন : একবার ছোট বেলায় আমি আমার পিতার সাথে বাজারে গিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ সা. সমবেত কিছু লোকের কাছে বলছেন : ‘হে বনি অমুক! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহ্র রাসূল হিসেবে এসেছি। আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। তোমরা কেবল এক আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য করো। তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। তোমরা আমাকে আল্লাহ্র রাসূল হিসেবে সত্য বলে মানো এবং আমার সহযোগিতা করো, যাতে করে আমি যে কাজের জন্য আদিষ্ট হয়েছি তা সম্পন্ন করতে পারি।’ দেখলাম একটি লোক তাঁর পিছে লেগেছিল। সে লোকদের বলছিল, হে বনি অমুক! তোমরা এর কথা শুনো না। এ তোমাদেরকে লাত ও উজ্জা থেকে ফিরিয়ে নতুন ধর্মের দিকে নিয়ে যেতে চায়। তোমরা ওকে মেনো না। আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, বাবা! এই পিছু নেয়া লোকটি কে? তিনি বললেন, এই ব্যক্তি তারই চাচা আবূ লাহাব।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 প্রতিবেশীদের ঘৃণ্য আচরণ

📄 প্রতিবেশীদের ঘৃণ্য আচরণ


ইবনে জরীর তাবারী, বায়হাকি, ইবনে হিশাম, ইবনে আবি হাতিম, বায়হাকি ও ইবনে আসাকির বর্ণনা করেছেন, মক্কায় রাসূলুল্লাহ সা. এর নিকটতম প্রতিবেশী ছিলো আবু লাহাব। তাছাড়া হাকাম (মারওয়ানের পিতা), উকবা বিন আবু মুয়ীত, আদী, সাকাফী প্রমুখও তাঁর প্রতিবেশী ছিলো। এরা রাসূলুল্লাহ সা.-কে সীমাহীন জ্বালাতন করতো। নবী হবার পর তারা তাঁকে একদিনের জন্যেও নিজ বাড়িতে শান্তিতে বাস করতে দেয়নি।

কখনো তিনি নামায পড়তেন, আর ওরা তাঁর উপর ছাগল-ভেড়ার নাড়ীভুঁড়ি নিক্ষেপ করতো। কখনো উনুনে রান্নার হাড়ি চড়ালে ওরা তাঁর পাতিলে ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ করতো। রাসূল সা. সে সব শুধু এতটুকু বলতেন হে বনি আবদে মানাফ! এ কোন ধরনের আচরণ?

আবু লাহার স্ত্রী উম্মে জামিল প্রতি রাতে রাসূলুল্লাহ সা. এর ঘরের দরজায় কাঁটাদার ডাল-পালা ফেলে রাখতো, যাতে করে ভোরে নবী করিম সা. ঘরের বাইরে বেরুতে গেলে তিনি কাঁটাবিদ্ধ হন। এ মহিলা নিয়মিত এই অনাচার করতো। অথচ নবী করিম সা. সব সময়ই তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করতো।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 শয়তানের নোংরা অট্টহাসি

📄 শয়তানের নোংরা অট্টহাসি


সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সা. একদিন কা'বার হেরেমে নামায পড়ছিলেন। সেখানে অনতিদূরেই কুরাইশ নেতারা বসে গল্প করছিলো। আবু জাহেল বললো : মুহাম্মদ সাজদায় গেলে যদি উটের নাড়ীভুঁড়ি এনে তার উপরে ফেলে চাপ দিয়ে রাখতো, তবে কী মজাই না হতো।’-একথা শুনে উকবা ইবনে আবু মুয়ীত বললো : এ কাজ আমি করতে পারবো।
অতঃপর উকবা দৌঁড়ে গিয়ে উটের নাড়ীভুঁড়ি এনে সাজদারত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সা.-এর ঘাড়ের উপর ফেলে রাখলো। তিনি মাথা উঠাতে পারছিলেন না। পার্শ্বে ছিলো কিন্তু ভয়ে উম্মে মাখযুম দৌড়ে পারছিলেন না।

খবর শুনে রাসূলুল্লাহ সা.-এর কন্যা ফাতিমা দৌঁড়ে এলেন। বহু কষ্টে পিতার ঘাড়ের উপর থেকে নাড়ীভুঁড়ি সরিয়ে দিলেন। এ সময় শিশু ফাতিমা উকবাকে অভিশাপ দিচ্ছিলেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00