📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 বিদায় হজ্জে প্রদত্ত সাংবিধানিক ভাষণ

📄 বিদায় হজ্জে প্রদত্ত সাংবিধানিক ভাষণ


বিশ্বনবী মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা. আনুকূল্যভাবে উম্মতের উদ্দেশ্যে যেসব হাদিস ও সীরাত গ্রন্থাবলীতে তাঁর সাংবিধানিক ভাষণ এবং ব্যাখ্যামূলক উক্তি উল্লেখিত আছে, তা হলো:
আল্লাহর পক্ষ থেকে উম্মতের জন্য হজ্জের সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ্ এরশাদ করেছেন : “এই হজ্জ ‘বিদায় হজ্জ’ নামেই জ্ঞাত। তিনি এই হজ্জ কোরআনের উপর ভিত্তি করে পালন করেন।”
তিনি এই হজ্জ সম্পাদন করেন ১০ হিজরি সনে। ২৫ জিলহজ্জ থেকে ১৪ জিলহজ্জ মোট ১৯ দিন তিনি হজ্জের সফরে অতিবাহিত করেন। এই হজ্জ পালনের পর হিজরত থেকে জিলহজ্জ পর্যন্ত ৬২ খৃষ্টাব্দ।
তিনি এই হজ্জের সময় মুসলিমদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই সাথে কোরআনের কপি ও সোনালী উপদেশ।
এই হজ্জ পালনের সময় তিনি চারটি ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ভাষণগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ হচ্ছে বিদায় হজ্জের ভাষণ (৬৩২ খ্রিষ্টাব্দ)। এতে তিনি মৌলিক সাংবিধানিক নির্দেশনা এবং সর্বোচ্চ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। হাদিস ও সীরাত গ্রন্থাবলীতে এই ভাষণের বিস্তারিত বর্ণনা উল্লেখ আছে। এর মাধ্যমে সকল বর্ণনা সমাপ্ত করে দেওয়া হলো।

টিকাঃ
১. ইবন ইসহাকের সীরাতে ইবন হিশাম উল্লেখ করেছেন : রাসূল সা. হজ্জের সময় চারটি ভাষণ দিয়েছিলেন।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 তবুক প্রান্তরে রসূলুল্লাহ্র ভাষণ

📄 তবুক প্রান্তরে রসূলুল্লাহ্র ভাষণ


মেয়মুন বিনতে আবদুল্লাহ্ বলেন : মা গলীফা থেকে মদিনা এসে আমি আবদুল্লাহ্ ইবন আবূ হাসামার বর্ণনামতে উমরের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে হিজরতের জন্য প্রস্তুত হয়েছি, তখন মক্কার উমর ইবনুল খাত্তাব আমাদের কাছে এসেছিলেন।
ইবনে আবী শাইবা, হাকিম, ইবনে হিব্বান, তাবারানী এবং ইবন আসাকির বর্ণনা করেন, যে মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সা. তাবুক প্রান্তরে এই ভাষণ দেন। তিনি বলেন : আমরা একথার জন্য আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
উম্মু জানদাল বলেন, “হে লোকেরা! আপনারা আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি একাই আল্লাহ্। তার সাথে শরীক নেই। তোমরা আল্লাহ্র একত্বের ঘোষণা দাও এবং তাঁর কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।”
বর্ণনাকারী তাবারানী ও তাঁর সাথে থাকা জনৈক ব্যক্তি বলেন, “আমি লোকদের জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি এই ভাষণ দেন? লোকেরা বললেন, হ্যাঁ।”
মুসনাদে আহমাদ, ইবন জারীর তাবারী, ইবনে হিশাম, তাবারানী প্রমুখ বর্ণনা করেন : তিনি একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন। তিনি বলেন : আল্লাহ্ এক, তিনি একাই। আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। তিনি একমাত্র আল্লাহ্, তিনি একক। আল্লাহ্ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আল্লাহ্ তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।
আমাদের বর্ণনামতে তিনি এই ভাষণ দেন : তিনি এই ভাষণ দেন, হে লোকগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।
আল্লাহ্ তোমাদেরকে ইসলাম গ্রহণের জন্য আহ্বান করছেন। আল্লাহ্ তোমাদেরকে সঙ্গী হোন। এই ভাষণ ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

📘 আদর্শ নেতা মুহাম্মাদ রসুলুল্লাহ > 📄 জ্ঞান ও জ্ঞানীর মর্যাদা

📄 জ্ঞান ও জ্ঞানীর মর্যাদা


রাসূলুল্লাহ সা. -এর উক্তি এবং কার্যক্রমে জ্ঞান ও জ্ঞানীর মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। সে মর্যাদাগুলো কোনো শারয়ী নির্দেশনা বা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়নি। এই মর্যাদাগুলো মূলত প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে লাভ করা হয়েছে। তিনি বলেন:
“তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, কারণ:
০১. জ্ঞানার্জন দ্বারা অবজ্ঞা হতে মুক্তি হয়।
০২. জ্ঞানান্বেষণ একটি ইবাদত।
০৩. জ্ঞানান্বেষণ একটি কল্যাণ।
০৪. জ্ঞান চর্চা একটি আনন্দ।
০৫. জ্ঞান গবেষণা একটি জিহাদ।
০৬. যার যে জ্ঞান নেই তাকে তা শিক্ষা দেওয়া একটি দান।
০৭. উপযুক্ত জ্ঞান অর্জন একটি আত্মিক উন্নতি।
০৮. জ্ঞান হালাল-হারামের নির্ণায়ক।
০৯. জ্ঞান জান্নাত-প্রত্যাশীদের পথের প্রদীপ।
১০. জ্ঞান নির্জন বন্ধু।
১১. জ্ঞান পথ চলার সাথী।
১২. জ্ঞান আলো।
১৩. জ্ঞান আলোকিত পথ প্রদর্শক।
১৪. জ্ঞান সমাজ ও দুঃসময়ের পথপ্রদর্শক।
১৫. জ্ঞান শক্রর বিরুদ্ধে অস্ত্র।
১৬. জ্ঞান মন্দ থেকে রক্ষা করে।
১৭. জ্ঞান বহু মহলে অলংকার।
১৮. জ্ঞানীদের আল্লাহ্ মর্যাদা দান করেন।
১৯. জ্ঞানীর কল্যাণের কাজে নেতৃত্ব দেন।
২০. জ্ঞানীদের কর্ম অনুসরণ করা হয়।
২১. জ্ঞানীদের সম্মান দেওয়া হয়।
২২. জ্ঞানীদের মর্যাদা প্রদান করা হয়।
২৩. জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয় দুর্ভাগা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00