📘 160_muziza_of_quran 📄 মু’জিজা নং- ২৭: পর্বতমালাার গঠন-কাঠামো ও ভূমিকা

📄 মু’জিজা নং- ২৭: পর্বতমালাার গঠন-কাঠামো ও ভূমিকা


তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমানসমূহ কোনো খুঁটি ব্যতীত, যা তোমরা দেখছ। আর তিনি পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা, পাছে যেন তা তোমাদের নিয়ে ঢলে না পড়ে। (লোকমান, ৩১ : ১০)
আমি কি করিনি ভূমিকে বিছানা এবং পর্বতমালাকে পেরেক? আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়। (নাবা, ৭৮ : ৬-৮)

সম্প্রতি ভূতত্ত্ববিদরা আবিষ্কার করেছেন, গাছের শিকড়ের মত পর্বতমালার সুদৃঢ় ভিত্তি রয়েছে, যা মাটির সুগভীর পর্যন্ত প্রোথিত। অধিকন্তু তা পৃথিবীর স্থিতি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুরআন মাজিদ এই আয়াতে যে আরবি শব্দ ব্যবহার করেছে তা হল ‘আওতাদ’ (أَوْتَادًا)। আব্দুল্লাহ ইউসুফ আলি এবং ড. মুহসিন খান ইংরেজিতে তার অনুবাদ করেছেন, Peg। ইংরেজি অভিধানগুলি Peg শব্দের অর্থ করতে গিয়ে লিখে— A pin or a nail that is used to bold something or to fasten part of a thing together. (একটি পিন কিংবা পেরেক যা কোনো কিছু ধরে রাখতে বা একটি বস্তুর দুটি অংশকে দৃঢ়ভাবে একত্রে আটকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়)। এই আয়াতগুলো থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলা পর্বতমালাকে করেছেন সুবৃহৎ পেরেক সদৃশ, যা মাটির সুগভীরে প্রোথিত এবং এসবের কাজ হল পৃথিবীর স্থিতি প্রতিষ্ঠা করা। এটি হুবহু তা-ই, যা বর্তমানে ভূতত্ত্ববিদরা পর্বতমালার গঠনপ্রকৃতি ও তার ভূমিকা সম্পর্কে আবিষ্কার করেছেন। লক্ষণীয় বিষয় হল, আরব উপদ্বীপে কোনো সুবৃহৎ পর্বত নেই। অধিকন্তু তার অধিকাংশ পর্বত‍ই বালিময়, শিলাবিশিষ্ট নয়। আল্লাহ তাআলা ব্যতীত তিনি আর কে হতে পারেন, যিনি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর কুরআন মাজিদে এই তথ্য অবতীর্ণ করেছেন?

📘 160_muziza_of_quran 📄 মু’জিজা নং- ২৮: আলোর একমাত্র উৎস হিসেবে সূর্য

📄 মু’জিজা নং- ২৮: আলোর একমাত্র উৎস হিসেবে সূর্য


আর আমি নির্মাণ করেছি তোমাদের ওপর সুদৃঢ় সপ্ত (আকাশ) এবং স্থাপন করেছি (তন্মধ্যে) একটি উজ্জ্বল প্রদীপ। (নাবা, ৭৮ : ১২-১৩)
তোমরা কি দেখ না যে, আল্লাহ কিভাবে সপ্ত আকাশ সৃষ্টি করেছেন স্তরে স্তরে এবং তন্মধ্যে চন্দ্রকে স্থাপন করেছেন আলোকরূপে এবং সূর্যকে রেখেছেন প্রদীপরূপে। (নূহ, ৭১ : ১৫-১৬)

এই আয়াতগুলিতে কুরআন মাজিদ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা দেয় যে, আমাদের সৌরজগতের জন্য সূর্যই একমাত্র আলোর উৎস। মহাকাশ বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এ সত্য প্রতিষ্ঠা করেছেন যে, চন্দ্র আলোর উৎস নয়, বরং সূর্যের আলোর প্রতিফলন মাত্র। কুরআন মাজিদ এই সত্যের বর্ণনা দিয়েছে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণার মাধ্যমে এই সত্য প্রতিষ্ঠা করার বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran 📄 মু’জিজা নং- ২৯: চন্দ্র ও সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি

📄 মু’জিজা নং- ২৯: চন্দ্র ও সূর্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকৃতি


তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি সূর্যকে বানিয়েছেন একটি জ্যোতিষ্ক এবং চন্দ্রকে আলোকরূপে। আর নির্ধারণ করেছেন তার জন্য মনজিলসমূহ। যাতে তোমরা জানতে পার বছরের গণনা ও (সময়ের) হিসাব। আল্লাহ তা সৃষ্টি করেন না, তবে যথার্থভাবে। তিনি (এভাবে) বিবৃত করেন (তাঁর) নিদর্শনসমূহ বিস্তারিতভাবে, সেসব লোকের জন্য যারা অনুধাবন করে। (ইউনুস, ১০ : ০৫)
শপথ, সূর্যের এবং তার কিরণের। শপথ, চন্দ্রের যখন তাকে প্রতিফলিত করে। (শামস, ৯১ : ১-২)

লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হল, বাইবেল চন্দ্র ও সূর্যকে সব সময় সমজাতীয় শব্দে উল্লেখ করেছে। যথা Light (বাতি)। এটি সূর্যের আগে greater (বৃহত্তর) বিশেষণ যোগ করে এবং চন্দ্রের আগে Lower (ক্ষুদ্রতর)। তাতে আছে, ‘বৃহত্তর বাতি দিন নিয়ে আসে এবং ক্ষুদ্রতর বাতি নিয়ে আসে রাত।’ (জেনেসিস, ১ : ১৭)
যদি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন মাজিদ বাইবেল থেকে নকল করতেন, যেমনটি কিছু খ্রিস্টান অপবাদ দিয়ে থাকে, তিনিও সূর্য ও চন্দ্রের জন্য একই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতেন। যাহোক, কুরআন মাজিদ এই সূর্য ও চন্দ্রের জন্য ভিন্ন ভিন্ন শব্দ ব্যবহার করেছে। একটিকে বলা হয়েছে, ‘নূর’ (আলো), যা চন্দ্রকে নির্দেশ করে। অন্যটিকে বলা হয়েছে ‘জিয়া’ (জ্যোতিষ্ক), যা নির্দেশ করে সূর্যকে। এভাবে কুরআন মাজিদ এ কথার স্বীকৃতি দিয়েছে যে, সূর্য হল আলোর উৎস এবং চন্দ্র কেবল তার আলোকেই প্রতিফলিত করে। বিজ্ঞানীরা এই সত্যকে আবিষ্কার করেছে মহাকাশ বিজ্ঞানের জ্ঞান-ভান্ডারের উৎকর্ষ সাধনের পর। অথচ কুরআন মাজিদ এই বর্ণনা প্রদান করেছে বহু শতাব্দী পূর্বে।

📘 160_muziza_of_quran 📄 মু’জিজা নং- ৩০: তাপের একমাত্র উৎসরূপে সূর্য

📄 মু’জিজা নং- ৩০: তাপের একমাত্র উৎসরূপে সূর্য


কল্যাণময় তিনি, যিনি নভোমন্ডলে সৃষ্টি করেছেন নক্ষত্রপুঞ্জ এবং তাতে স্থাপন করেছে সূর্য ও দীপ্তিমান চন্দ্র। (ফুরকান, ২৫ : ৬১)
তোমরা কি দেখতে পাও না কীভাবে আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আসমান, একটির ওপর আরেকটি এবং তাতে চন্দ্রকে রেখেছেন আলোকরূপে এবং সূর্যকে প্রদীপরূপে। (নূহ, ৭১ : ১৫-১৬)

কুরআন মাজিদের প্রতিটি শব্দেরই রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থ। প্রয়োজন আমাদের সতর্ক মনোযোগ। সূর্য ও চন্দ্রের জন্য দু’টি ভিন্ন ভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করার পাশাপাশি-যেমনটি ইতঃপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে- কুরআন মাজিদে একটি বিশেষ পারিভাষিক শব্দ ‘মিসবাহ’ ও ব্যবহৃত হয়েছে, যার ভাষান্তর করা হয়েছে Lamp বা প্রদীপ শব্দের মাধ্যমে। জেনে রাখা উচিত, কুরআন মাজিদ শব্দটি ব্যবহার করেছে কেবল সূর্যের জন্য, চন্দ্রের জন্য নয়। আমাদের জানা মতে, একটি Lamp বা প্রদীপ, যার থাকে কিছু জ্বালানি, যা জ্বলে এবং আলোর পাশাপাশি তাপ প্রদান করে। কুরআন মাজিদ এভাবে বর্ণনা করে যে, সূর্য কেবল আলোরই উৎস নয়, বরং তাপেরও একটি উৎস। আরবি ভাষার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তি মাত্রেই লক্ষ্য করবেন, সুরা বাকারার (২য় সুরা) ১৭ নং আয়াতে আগুন থেকে নির্গত আলোর বর্ণনা দেয়ার জন্য যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হল ‘আযাআত’ (أَضَاءَتْ), তা ঠিক একই ধাতু বা ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত হয়েছে, সূর্যের আলোর বর্ণনা দেয়ার জন্য যে ‘জিয়া’ (ضِيَاءً) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা যেখান থেকে উৎকলিত হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায়, সূর্য থেকে যে আলোক-রশ্মি বিচ্ছুরিত হয় তা আলো ও তাপ উভয়ই ধারণ করে। পক্ষান্তরে চন্দ্র থেকে যে রশ্মি (নূর) আসে তা কেবল আলোই ধারণ করে। কুরআন মাজিদের এই বিস্ময়কর শব্দ নির্বাচন দেখে যে কাউকেও পুনর্বার বিস্মিত হতে হবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية