📄 মৃত ব্যক্তিকে মধ্যস্থ মেনে দু‘আ প্রার্থনা
ঈসা ('আ.)-এর গায়িব হওয়ার এবং উষায়র ('আ.)-এর ইন্তিকালের পর তাদেরকে (আল্লাহর পুত্র বলে মেনে নিয়ে) শির্ক করা হয়েছে।
চিন্তা করলে এখানেই উপলব্ধি করা যাবে নাবী অথবা কোন সালেহ ওলী-আল্লাহর জীবিতাবস্থায় তাদের নিকট সওয়াল করার এবং তাদের মৃত্যুর পর অথবা অনুপস্থিতি কালে তাদের স্মরণ করে কিছু সওয়াল করার তথা তাদের নিকট নিজেদের কোন দরখাস্ত পেশ করার মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে। আর তাই আমরা দেখতে পাই যে, সহাবীদের যুগে, তাদের পর তাবিয়ীনদের যুগে এবং তাদেরও পর তাবা-তাবিয়ীদের যুগে, এমনকি সমগ্র সলফে সালিহীনের মধ্যে এমন একজন লোক খুঁজে পাওয়া যায় না যিনি কবরের কাছে গিয়ে নামায পড়া পছন্দ করেছেন, অথবা মাযারসমূহে দু'আ করার জন্য উপস্থিত হয়েছেন। তারা কেউ কখনো না জানিয়েছেন মৃত বুযুর্গ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে কোন প্রার্থনা, না পেশ করেছেন কোন ফরিয়াদ। এভাবে সংসারের সঙ্গে যোগসূত্র ছিন্ন করে কবরের কাছে গিয়ে সাধন ভজনে নীরব থাকারও কোনই প্রামাণ এবং নযীর নেই।
প্রশ্নকারী তার ইস্তিফতায় যা উল্লেখ করেছেন অর্থাৎ মৃত ওলী আউলিয়া কিংবা অনুপস্থিত কোন পীর মুরশিদের নাম করে এরূপ প্রার্থনা করা যে, হে অমুক সাইয়েদ, হে অমুক পীর! আমার ফরিয়াদ শুনুন, আমার সাহায্য করুন অর্থাৎ তার নিকট বিপদ থেকে উদ্ধার এবং কল্যাণ লাভের আশা পোষণ করার প্রার্থনা জ্ঞাপন, তো এ সম্পর্কে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এরূপ প্রর্থানা জ্ঞাপন ও ফরিয়াদ পেশ করণ মারাত্মক ও নিকৃষ্টতম শির্কের অন্তর্ভুক্ত। খৃষ্টানগণ তো ঈসা ('আ.) সম্বন্ধে এবং তাদের পোপ-বিশপ, পাদরী পুরোহিত ও সন্ন্যাসী দরবেশদের সম্বন্ধে ঠিক এই ধারণাই পোষণ করে থাকে। এ কথা তো সর্বজনবিদিত যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট সৃষ্টির মুকুটমণি এবং মনুষ্যকুলের মধ্যে ফযীলতে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি হচ্ছেন আমাদের প্রিয় নাবী মুহাম্মাদ ﷺ। আর এ কথাও বলার অপেক্ষা রাখে না যে, তাঁর পবিত্র সাহচর্য ও সংস্পর্শ-ধন্য সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.)। এ সত্ত্বেও তারা তাঁর মহাপ্রয়াণের পর কিংবা তাঁর অনুপস্থিতি কালে এক মুহূর্তের জন্যও এ ধরনের কোন কাজ করেন নাই।
📄 শির্কের সঙ্গে মিথ্যার অবিচ্ছিন্ন সংযোগ
মুশরিকরা মহাপাপ তো করেই, তার সঙ্গে তারা মিথ্যাকেও মিশ্রিত করে, আর মিথ্যা হচ্ছে শির্কের অনুগামী, সহমর্মী। এজন্যই আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন:
(مِنْ جِيَّةٍ قَوْلَةِ الوَلَهُ وَالْأَسْلَمِيَّةُ لِمَنْ لَاهِيَ فِي أُذُنِيْ صَيرِيَا السَّيِّرُ المُسْتَقِلَةُ) (الحج : ٣١٣٠)
মূর্তিপূজার কদর্য সংস্পর্শ হতে বেঁচে চলবে তোমরা, আর মিথ্যা কথা হতেও আত্মরক্ষা করে চলবে তোমরা, একনিষ্ঠভাবে একমাত্র আল্লাহরই (অনুগত) হয়ে থাকবে তোমরা, কোন প্রকারেই অন্য কিছুকেই তাঁর সহিত শরীক করবে না তোমরা। (সূরা হাজ্জ ৩০ ও ৩১)
(عدلت شهادة الزور بالا شراك بالله)
মিথ্যা সাক্ষ্যদান আল্লাহর সাথে শির্ক করার সমতুল্য। সূরা আ'রাফে আল্লাহ মুশরিকদের পরিণতি এভাবে বর্ণনা করেছেন:
(إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَذِلَّةٍ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُقْتَرِينَ) (اعراف : ١٥٢)
"যে সব লোক বাছুরকে পূজার জন্য গ্রহণ করেছে তাদের উপর শীঘ্রই তাদের পরোয়ারদিগারের তরফ থেকে গযব নেমে আসবে আর (আপতিত হবে) পার্থিব-জীবনে অসম্মান অবমাননা, এভাবেই আমরা মিথ্যা রচনাকারীদরকে প্রতিফল প্রদান করে থাকি।" (সূরা আ'রাফ ১৬২)
আর ইব্রাহীম খলীলুল্লার ('আ.) কথা আল্লাহ উধৃত করেছেন এভাবে :
{اَفَكَ آلِهَةً دُونَ اللَّهِ تُرِيدُونَ (٨٦) فَمَا ظَنَّكُم بِرَبِّ الْعَالَمِينَ (الصافات : ٨٦-٨٧)}
ইব্রাহীম তার পিতা ও স্বজাতিদেরকে প্রশ্ন করছেন, "কী! আল্লাহকে ছেড়ে মিছামিছি অন্য দেবতার পিছনে পড়ে আছ তোমরা, বলতো তোমরা বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ সম্বন্ধে কী ধারণা পোষণ করছ?" (সূরা সাফ্ফাত ৮৬ ও ৮৭)
ফলতঃ এদের মিথ্যা সংস্কার ও মিথ্যা ধারণার উপরে গড়ে উঠা একটি আক্বীদাহ এই যে, তারা বিশ্বাস করে যে, পীর যদি অবস্থান করেন পূর্ব দিগন্তে আর মুরীদ থাকে পশ্চিম দিগন্তে তবু তিনি কষ্ণের প্রবল আকর্ষণে স্বীয় মুরীদকে নিজের দিকে টেনে আনতে সক্ষম হন। পীরের মধ্যে যদি এই গুণটি না থাকে তবে সে প্রকৃত পীরই নয়।
কখনও কখনও শয়তান তাদেরকে ঠিক সেভাবেই পথভ্রষ্ট করে থাকে যেভাবে আরবের অধিবাসীদেরকে তাদের বুতপরস্তীতে এবং নক্ষত্র-পূজকদেরকে তাদের শির্কী চাল চলন ও যাদুর ভোজবাজিতে শয়তান স্বীয় চাল চেলে গুমরাহীর পথে পরিচালিত করেছে। এমনিভাবে তাতার, হিন্দ, সুদান প্রভৃতি দেশে বিভিন্ন রূপী মুশরিকদের মধ্যেও শয়তান নানাভাবে তার প্ররোচনার জাল ফেলে ও ফাঁদ পেতে তাদের পথভ্রষ্ট করেছে। পীরপরস্ত ও মাশায়েখ ভক্তবৃন্দের মধ্যেও এমনিভাবে শয়তান তার গুমরাহী বিস্তারের কাজ চালিয়ে যায়। বিশেষ করে তাদের গানের আসর সঙ্গীতের তালে তালে বাঁশি (টুংরী তবলা) ও অন্যান্য বাদক দ্রব্যের সুর ও রাগ রাগিণীতে যখন সবাই বুঁদ হয়ে থাকে তখন শয়তান তাদের মাঝে অবতীর্ণ হয়ে তার ফাঁদে তাদরকে আটকে ফেলে। মৃত নাবী অথবা অলী-আউলিয়ার মাধ্যমে প্রার্থনা জ্ঞাপনের আর একটি প্রকরণ হচ্ছে এরূপ: যেমন কেউ বলে, "হে আল্লাহ! অমুক নাবী বা পীরের সম্মানে, বা অমুকের বরকতে বা অমুকের মাহাত্ম্যে আমার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দাও, আমার প্রার্থনা মঞ্জুর কর।" এ ধরনের কাজ (অধুনা) অনেকেই করে থাকে, কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন এবং আয়িম্মায়ে সলফ থেকে এ ধরনের কাজের সমর্থনে কোনই প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাদের দু'আয় তারা এ ধরনের কোন কথা বলেছেন-এমন কোন নযীর দেখতে পাওয়া যায় না। এ কাজে ওলামায়ে-দ্বীনের এমন কোন কওল, কোন সমর্থন আমার কাছে পৌঁছায়নি যা আমি এখানে উদ্ধৃত করতে পারি। ফকীহ আবূ মুহাম্মাদ ইবনে আবদিস সালামের সেই ফতোয়াটি আমি দেখেছি যাতে তিনি বলেছেন যে, একমাত্র নাবী ছাড়া অপর আর কারোর জন্য এরূপ করা জায়িয নয়। রসূলুল্লাহ ﷺ এর তুফায়লে দু'আ করার সমর্থনে যে হাদীস পেশ করা হয় তা যদি সহীহ হয় তাহলে বেশীর বেশী শুধু নাবী ﷺ এর মাহাত্মের উল্লেখে আল্লাহর নিকট এরূপ দু'আ করা যেতে পারে। (কিন্তু এ কথাও পরীক্ষা সাপেক্ষ যার পর্যালোচনা ও মন্তব্য পরে আসছে-অনুবাদক) প্রশ্নের জবাবে উক্ত ফকীহ তার ফতোয়ায় যা লেখেছেন তার বিষয়বস্তু নিম্নরূপঃ
নাসায়ী, তিরমিযী প্রভৃতি বর্ণনা করেছেন যে, রসূলুল্লাহ ﷺ কোন কোন সাহাবীকে এই দু'আ শিক্ষা দিয়েছেন:
(اللهم اني اسألك واتوسل اليك بنبيك نبي الرحمة يا محمد يارسول الله اني اتوسل بك إلى ربي في حاجتي ليقضيهالي اللهم فشفعه في-)
অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকটেই আমার প্রার্থনা জানাচ্ছি আর আপনার নাবী, রহমাতের নাবী ﷺ কে আপনার সমীপে ওয়াসীলা স্বরূপ (মাধ্যম রূপে) পেশ করছি- হে মুহাম্মাদ, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে আমার প্রয়োজনে আমার প্রভু পরোয়ারদিগারের দিকে ওয়াসীলা স্বরূপ পেশ করছি, (আপনার ওয়াসীলায়) যেন তিনি আমার প্রার্থনা পূরণ করেন। অতএব হে আল্লাহ! আমার সম্বন্ধে তাঁর সুপারিশ আপনি মঞ্জুর করুন।"
এই হাদীস দ্বারা কতিপয় লোক রসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবিতকালে এবং তাঁর মৃত্যুর পরেও তাকে ওয়াসীলা ধরার সিদ্ধতা প্রমাণ করতে চান। তারা বলতে চান, এতে আল্লাহর কোন সৃষ্টির নিকট দু'আ প্রার্থনা অথবা অভিযোগ পেশ করা হচ্ছে না বরং শুধু রসূলুল্লাহ ﷺ এর মাহাত্ম্য ও মর্যাদার তুফাইলে আল্লাহর নিকটেই প্রার্থনা জ্ঞাপন করা হচ্ছে।
সুনানে ইবনে মাজাহর সেই হাদীসও এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা হয় যাতে রসূলুল্লাহ ﷺ মাসজিদে নামায পড়ার জন্য ঘর থেকে নিষ্ক্রমণকারীকে এই দু'আ পাঠ করতে উপদেশ দিয়েছেন:
(اللهم اني اسالك بحق السائلين عليك ويحق ممشاي هذا فاني لم اخرج اشرا ولا بطرا ولارياء ولا سمعة خرجت اتفاء سخطك وابتغاء مرضاتك اسألك أن تنقذني من النار وأن تغفر لي ذنربي فانه لا يغفر الذنوب الا انت-)
"প্রভু হে! নিশ্চয় আমি প্রার্থনাকারী এবং নামাযের দিকে গমনকারীদের হক এর দাবীতে (তাদের ওয়াসীলায়) তোমার কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি, নামাযের উদ্দেশে আমার বের হওয়ার মধ্যে নেই কোন অহঙ্কার ও গর্বের মনোভাব, নেই এর পেছনে কোন কিছু লোক দেখানো ও শোনানোর বাতিক, আমি বের হয়েছি তোমার রোষ থেকে বাঁচার ব্যাকুলতায় এবং তোমার সন্তোষ লাভের আগ্রহ-উৎসাহের তাকীদে। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা জানাচ্ছি। আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো, আমার গুনাহ্ খাতা মাফ করে দাও, তুমি ছাড়া আর কেউই গুনাহ্ খাতা মাফ করতে পারে না।"
তারা বলে থাকেন, এই হাদীসে প্রার্থনাকারী এবং নামাযে গমনকারীদের আল্লাহর উপর হকের দাবীতে প্রার্থনা করার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। তারা এ দাবীর সমর্থনে আরও বলেন যে, আল্লাহ তাঁর অপার অনুগ্রহে নিজের উপর বান্দার হক স্বয়ং স্বীকার করে নিয়েছেন। যেমন তিনি কুরআন মাজীদে বলেছেন:
(وَكَانَ حَقًّا عَلَيْنَا نَصْرُ الْمُؤْمِنِينَ) (الروم : ٤٧)
"মুমিনদের সাহায্য করা আমার উপর তাদের হক অর্থাৎ পাপ্য অধিকার।" (সূরা রুম ৪৭)
অন্যত্র তিনি বলেন,
(كَانَ عَلَى رَبِّكَ وَعْدًا مسئولا)
"তোমার প্রভু পরোয়ারদিগার নিজের উপর তাঁর প্রদত্ত ওয়াদা পূরণ করার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন- যা তাঁর নিকট চাওয়া যেতে পারে।" (সূরা আল ফুরকান ১৬)
📄 বান্দার উপর আল্লাহর হক এবং আল্লাহর উপর বান্দার হক সংক্রান্ত হাদীস
সহীহ বুখারীতে মু'আয ইবনে জাবাল কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে: রসূলুল্লাহ ﷺ প্রশ্ন করেছেনঃ
(يا معاذ، اندرى ما حق الله على البعاد، قال الله ورسوله أعلم، قال حق الله على العباد أن يعبدوه ولا يشركوا به شيئا - اندرى ما حق العباد على الله اذا فعلوا ذالك فان حقهم عليه أن لا يعذبهم)
"হে মু'আয। তুমি কি জান যে, বান্দার উপর আল্লাহর হক কী? মু'আয বলেন, এ সম্পর্কে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলই এ অধিকতর জ্ঞান রাখেন।"
তখন রসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, বান্দার প্রতি আল্লাহর হক এই যে, (যেহেতু তিনিই খালেক ও মালেক কাজেই) তারা একমাত্র তাঁরই দাসত্ব বরণ করবে, একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সঙ্গে অপর কাউকেই শরীক করবে না। তিনি পুনঃ জিজ্ঞেস করলেন, "মু'আয! তুমি কি জান, যখন তারা আল্লাহর উক্ত হক আদায় করবে তখন আল্লাহর নিকট বান্দার হক কী? তিনি নিজেই উত্তরে বললেন, বান্দা যখন আল্লাহর হক আদায় করবে তখন আল্লাহর নিকট বান্দার পাপ্য হক অধিকার হবে এই যে, তিনি তাদেরকে (তাদের ভুল ভ্রান্তির জন্য) শাস্তি প্রদান করবেন না।"
কোন কোন হাদীসে এই হক সম্পর্কে আরও বিস্তৃত বিবরণ দেখতে পাওয়া যায়। যেমন রসূল ﷺ বলেছেন,
"মদ্যপায়ীর চল্লিশ দিবসের নামায কবুল হয় না। সে যদি তাওবাহ করে তবে আল্লাহ তার গুনাহ্ মাফ করে দেন। তারপর এই তাওবাহর পর আবার যদি সে মদ খাওয়া শুরু করে দেয় তবে (দ্বিতীয়বারও তাকে অনুরূপ তাওবাহয় আল্লাহ মাফ করে দিতে পারেন কিন্তু) তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় আল্লাহর এ অধিকার বর্তে যায় যে, তিনি তাকে 'তীনাতুল খাবাল' পান করাবেন। রসূলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞেস করা হল 'তীনাতুল খাবাল' কী? তিনি বললেন, তা জাহান্নামের অধিবাসীদের জন্য পানের অযোগ্য পানীয়ের তলানি।
📄 রসূল ﷺ এর ইন্তিকালের পর তাঁর ওয়াসীলার অসিদ্ধতা
আলিমদের অপর একদল বলেন, এ সব দলীল দ্বারা রসূল ﷺ এর ইস্তিকালের পর এবং অনুপস্থিতিকালে তাঁর ওয়াসীলা ধরার সিদ্ধতা মোটেই প্রমাণিত হয় না এবং কেবলমাত্র তাঁর জীবিতকালে এবং তার উপস্থিতিতেই 'ওয়াসীলাহর সিদ্ধতা প্রমাণিত হয়। যেমন সহীহ বুখারীতে রিওয়ায়াত এসেছে যে, 'উমার ইবনুল খাত্তাব (রাযি.) রসূলুল্লাহ ﷺ এর ইন্তিকালের পর তাঁর চাচা আব্বাসের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বৃষ্টি বর্ষণের প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন,
"হে আল্লাহ! যতদিন রসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলেন, ততদিন আমরা আমাদের নাবীর মাধ্যমে তোমার নিকট বৃষ্টির প্রার্থনা জানিয়েছি। ফলে তুমি বৃষ্টি প্রদান করেছ। এখন (তাঁর অনুপস্থিতিতে) আমাদের নাবীর চাচার মাধ্যমে আমাদের প্রার্থনা জ্ঞাপন করছি, অতএব তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর।"
সে প্রার্থনা মঞ্জুর হয়েছে এবং বৃষ্টিও বর্ষিত হয়েছে। ফারুকে আযম এই ঘটনার মাধ্যমে এ কথা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ ﷺ -এর কেবল জীবিতকালেই এ ধরনের ব্যাপারে তারা তাঁর ওয়াসীলা ধরেছেন এবং বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। এই ওয়াসীলার তাৎপর্য হচ্ছে এই যে, লোকেরা তাঁর নিকট এসে আল্লাহর নিকট দু'আর আবেদন জানাতেন। রসূলুল্লাহ ﷺ দু'আ করতেন আর সহাবাগণ তার সঙ্গে দু'আয় সামিল হতেন। তারা এভাবে রসূল ﷺ এর সুপারিশ এবং দু'আর ওয়াসীলা ধরতেন অর্থাৎ রসূল ﷺ এর সুপারিশ এবং দু'আই হচ্ছে তাঁর ওয়াসীলা। এ বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে নিম্ন বর্ণিত হাদীস থেকে।
সহীহ বুখারীতে আনাস ইবনে মালিক (রাযি.) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি জুমু'আহ্র দিবস মাসজিদে নববীতে আগমন করল। রসূলুল্লাহ ﷺ তখন খুৎবাহ দিচ্ছেলেন। ঐ ব্যক্তি রসূল ﷺ এর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আরয করলেন, হে আল্লাহর রসূল! (অতিরিক্ত বর্ষণের ফলে) সম্পদ ফল ফসলাদি ধ্বংস হয়ে গেল, রাস্তাঘাট (এ চলাচল) বন্ধ হয়ে গেল, আপনি আল্লাহর নিকট বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার প্রার্থনা জানিয়ে দু'আ করুন। রসূলুল্লাহ ﷺ দু'আর জন্য দু'হাত তুললেন এবং বললেন, "প্রভু হে! বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দিন- আমাদের উপর থেকে, বৃষ্টি দিতে থাকুন টালায়, পাহাড়ে উপত্যকায়, মুক্ত প্রান্তর, বনে জঙ্গলে।
রাবী বলেন, এই দু'আর সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল। ফলে যখন আমরা মসজিদ থেকে বের হলাম তখন আকাশ মেঘমুক্ত, সূর্যের প্রখর রৌদ্রে আমরা পথ চলতে লাগলাম।
এই হাদীসে দেখা যাচ্ছে যে, উক্ত ব্যক্তি রসূলুল্লাহ ﷺ এর খেদমতে আবেদন জানালোঃ
(ادع الله لنا أن يمسكها عنا)
ওগো আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য আল্লাহর দরগাহে দু'আ করুন তিনি যেন আমাদের উপর থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন।
এতে এ কথাই প্রমাণিত হচ্ছে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে দু'আর আবেদন জানান হত আর এটাই হচ্ছে তাঁর ওয়াসীলা ধরা।
বুখারী 'আবদুল্লাহ ইবনে 'উমার (রাযি) থেকে রিওয়ায়াত করেছেন, তিনি বলেন, 'আলী (রাযি.)-এর পিতা আবু তালিব রসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রশংসায় যে কথা বলতেন তা আমার বেশ মনে পড়ে।
তিনি বলতেন: (وابيض ايستسقى الغمام بوجهه ثمال لليتامى عصمة للارامل)
অর্থাৎ সেই শুভ্র-বদন যাঁর চেহারার ঔজ্জ্বল্যের তুফাইলে বৃষ্টির জন্য দু'আ প্রার্থনা করা হয়; তিনি হচ্ছে ইয়াতিমদের আশ্রয়স্থল আর বিধবাদের শরণ-কেন্দ্র।
ফলকথা এই যে, রসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবদ্দশায় পানি বর্ষণের জন্য তাঁর ওয়াসীলার আশ্রয় নেয়া হত। অর্থাৎ তাঁর নিকট দু'আর বাসনা জানানো হত। আর তাঁর মহা প্রয়াণের পর তাঁর চাচা আব্বাস (রাযি.)-এর মাধ্যমে পানি বর্ষণের জন্য দু'আ করা হ'ত।
কিন্তু রসূলুল্লাহ ﷺ এর ইস্তিকালের পর অথবা তাঁর অনুপস্থিতি কালে কিংবা তাঁর কবরের কাছে গিয়ে তাঁর ওয়াসীলা করা হ'ত না, তিনি ছাড়া অন্য কারও কবরের কাছে গিয়েও পানি চাওয়া হ'ত না।
এভাবে আমীরুল মু'মিনীন মু'আবিয়া ইবনে আবু সুফ্যান ইয়াযিদ ইবনে আসওয়াদ জারশীকে ইমাম বানিয়ে পানির জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ
অর্থাৎ "হে আল্লাহ! আমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিদেরকে তোমার সম্মুখে সুপারিশকারীরূপে উপস্থিত করেছি- হে ইয়াযীদ! আল্লাহর দরবারে দু'আর জন্য হাত উঠাও।"
তিনি হাত উঠিয়ে দু'আ করলেন আর উপস্থিত সবাই তাঁর সঙ্গে সঙ্গে দু'আ করলেন। ফলে আল্লাহ তা'আলা রহমতের পানি বর্ষণ করলেন।
এ জন্যই উলামায়ে কিরামের মতে মুত্তাকী এবং সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের দ্বারা দু'আ করানো মুস্তাহাব। সুপারিশকারী ব্যক্তি যদি রসূলুল্লাহ ﷺ এর আহলে বায়তের মধ্য থেকে হন তবে সর্বোত্তম, কিন্তু কোন আলিমই কোন নাবী অথবা কোন সালেহ বান্দার মৃত্যুর পর কিংবা তাঁর অনুপস্থিতিতে পানি বর্ষণের জন্য তাঁর ওয়াসীলায় দু'আ করা শরীঅত সম্মত কাজ বলে অভিমত প্রকাশ করেন নাই। অনুরূপভাবে কোন দুশমনের উপর বিজয় লাভের জন্য কিংবা অন্য কোনরূপ প্রার্থনায় তাঁদের ওয়াসীলারূপে পেশ করা জায়িয বলেননি। এরূপ কাজকে কোন আলিম মুস্তাহাবও বলেননি।
দু'আ তো সকল ইবাদাতের মস্তিষ্ক স্বরূপ আর ইবাদাতের ভিত্তি, নাবী ﷺ এর সুন্নাত এবং তাঁর ইত্তিবা (অনুসরণ)-এর উপর প্রতিষ্ঠিত।
হৃদয়ের বাসনা কামনা এবং স্বকপোলকল্পিত ও নব উদ্ভাবিত পদ্ধতির উপরেও ইবাদাতের বুনিয়াদ কায়িম নয়। সেই ইবাদাতই আল্লাহর ইবাদাতরূপে গণ্য হবে যা শরীয়ত সম্মত। যে ইবাদাত প্রবৃত্তির চাহিদা অনুসারে এবং নবাবিষ্কৃত পদ্ধতিতে করা হবে, তা কস্মিনকালে আল্লাহর ইবাদত রূপে গণ্য হবে না। তাই আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমিয়েছেন:
(ام لَهُمْ شُرَكَاءُ شَرَعُوا لَهُمْ مِنَ الدِّينِ مَا لَمْ يَأْذَنَ بِهِ اللَّهُ) (شوری : ۲۱)
অর্থাৎ তারা কি আল্লাহর সঙ্গে কতক শরীক (বিধানদাতা) কল্পনা করে নিয়েছে যারা তাদের জন্য এমন বিধান প্রদান করে যার অনুমতি আল্লাহ দেন নাই? (সূরা শূরা ২১)
বরং আল্লাহ হুকুম দিয়েছেন:
(ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَحُفَيَةٍ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ) (اعراف : ٥٥)
অর্থাৎ তোমরা তোমাদের প্রভু পরোয়ারদিগারকে আহ্বান করো বিনয় নম্র অন্তরে এবেং মনে মনে-সংগোপনে, নিশ্চয় তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না। (সূরা আল আ'রাফ ৫৫)
আর রসূলুল্লাহ ﷺ হুঁশিয়ার বাণী উচ্চারণ করেছেন:
(سيكون في هذه الامة قوم يعتدن في الدعاء والطهور)
অর্থাৎ এই উম্মতের মধ্যে এমন লোকের আবির্ভাব অবশ্যই ঘটবে যারা দু'আ এবং পাক-পবিত্রতার ব্যাপারে ন্যায়ের সীমারেখা অতিক্রম করে চলবে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে কোন ব্যক্তি বিপদে নিপতিত হয়ে অথবা ভয়ে সন্ত্রস্ত হয়ে যদি তার পীর মুর্শিদের নিকট এই বলে সাহায্য প্রার্থনা করে যে, তার পীর যেন তার সন্ত্রস্ত হৃদয়ের অস্থিরতা দূর করে তাতে প্রশান্তি ও দৃঢ়তা আনয়ন করেন, তা হলে সে কাজ হবে সুস্পষ্ট শির্ক আর সে শির্ক হবে খৃষ্ট ধর্মে প্রচলিত শির্কের একটি প্রকরণ।
স্মরণ রাখা প্রয়োজন যে, আল্লাহই হচ্ছেন একমাত্র সত্তা যিনি রহমত এনায়েত করে হৃদয়ে প্রশান্তি বিধান করেন আর তিনিই সেই একমাত্র সত্তা যিনি বিপদ আপদ, দুঃখ-কষ্ট ও চিন্তা উদ্বেগের অনিষ্ট অপসারিত করে থাকেন।
আল্লাহ কুরআন মাজীদে ইরশাদ ফরমিয়েছেন:
(الوَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍ فَلا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ) (یونس : ۱۰۷)
আল্লাহ যদি তোমাকে কোন যাতনা-ক্লেশ (অথবা বিপদ আপদ) পৌঁছিয়ে দেন, তা হলে কেউ নেই তার মোচনকারী, নেই এমন কেউ যে হটিয়ে দিতে সক্ষম আর আল্লাহ যদি তোমার কোন মঙ্গল চান, তবে তা রদ করবারও কেউ নেই। (সূরা ইউনুস ১০৭)
তিনি আবার বলেন:
(مَا يَفْتَحُ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلَا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكَ فَلَا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ) (فاطر : ۲)
আল্লাহ মানুষের জন্য স্বয়ং তাঁর রহমতের যে দুয়ার খুলে দেন, তা বন্ধ করে দেবার মত কেউ নেই, আর তিনিই যে প্রবল পরাক্রান্ত প্রজ্ঞামণ্ডিত। (সূরা আল্-ফাতির ২)
অন্যত্র আল্লাহ ইরশাদ ফরমিয়েছেন:
(قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَكُمْ عَذَابُ اللَّهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِنْ كُنتُمْ صَادِقِينَ بَلْ إِيَّاهُ تَدْعُونَ فَيَكْشِفُ مَا تَدْعُونَ إِلَيْهِ إِنْ شَاءَ وَتَنْسَوْنَ مَا تُشْرِكُونَ)
(হে রসূল) আপনি বলে দিন, "আচ্ছা দেখ তো, যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর আযাব এসে যায় অথবা তোমাদের উপর যদি কিয়ামাত আপতিত হয় তখন কি তোমরা (সাহায্য ও আশ্রয়ের জন্য) ডাকবে আল্লাহ ছাড়া অপর কাউকে (যাদেরকে তোমাদের দেবতারূপে গ্রহণ করেছ)? যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক- (তবে এর জবাব দাও) না, বরং তাঁকেই (একক প্রভু-পরোয়ারদিগারকেই) তোমরা ডাকবে। তখন যে বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য তাঁকে তোমরা ডাকবে, যদি তিনি ইচ্ছা করেন সেই বিপদ তিনি দূর করে দেবেন, আর যাদেরকে তোমরা আল্লাহর শরীক ধরে নিয়েছিলে (সেই বিপদের দিনে) তাদেরকে তোমরা ভুলে যাবে। (সূরা আন'আম ৪০-৪১)
সূরা বানী ইসরাঈলে আল্লাহ বলেন,
(হে পয়গম্বর!) আপনি (তাদের) বলে দিন: তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য যাদেরকে বিপদ উদ্ধারকারী মনে করে নিয়েছ তাদেরকে ডেকে দেখ। (ডেকে ডেকে ব্যর্থ হবে, তখন বুঝতে পারবে) তোমাদের দুঃখ-ক্লেশ দূর করার কোন ক্ষমতাই তাদের নেই, তার কোন পরিবর্তন সাধনের ক্ষমতাও তারা রাখে না।
যাদেরকে এরা আহ্বান করে তারাই তো স্বীয় প্রভুর নৈকট্য লাভের জন্য 'ওয়াসীলা'র সন্ধান করে বেড়ায় এজন্য যে, কে (তাদের মধ্যে) অধিকতর নিকটবর্তী, আর তারা আল্লাহর দয়া প্রত্যাশা করে এবং (সঙ্গে সঙ্গে) তাঁর শান্তিকে ভয় ক'রে চলে, নিশ্চয় আপনার প্রভু-প্রতিপালকের শান্তি ভয়েরই যোগ্য-ভয়াবহ। (সূরা বানী ইসরাঈল ৫৬ ও ৫৭)
উপরে সংকলিত আয়াতগুলোতে আল্লাহ এ কথা অত্যন্ত স্পষ্ট এবং খোলাসা করে দিয়েছেন যে, যে সব লোক বিপদত্রাণের জন্য ফেরেশতা, নাবী-রসূল, ওলী-আউলিয়া, পীর মুরশিদ প্রমুখকে ডেকে থাকে, "তারা লা ইয়ামলেকুনা কাশফায় যুবরে ওলা তাহবীলা" দুঃখ-ক্লেশ বিপদ আপদ দূর করার অথবা তার পরিবর্তন সাধনের কোন ক্ষমতাই রাখে না। তারা বর্তমানের বিপদও দূর করতে পারে না, ভবিষ্যতের দুঃখ কষ্ট প্রতিরোধের ক্ষমতাও তাদের নেই।
যদি কোন ব্যক্তি বলে যে, আমি আমার শায়খ তথা পীর মুরশিদের এ জন্যই ডাকি যে, তিনি হবেন আমার সুপারিশকারী, তবে সে খৃষ্টান এবং তাদের পোপ, বিশপ ও সন্ন্যাসীদের মত ও পথকেই অবলম্বন করবে, মুমিন মুসলিমদের পথ এটা নয়। মুমিন একমাত্র তার প্রভু পরোয়ারদিগারের অনুগ্রহেরই প্রত্যাশী এবং তাঁরই শাস্তির ভয়ে ভীত, সদা সন্ত্রস্ত। একনিষ্ঠভাবে অকপট মনে সে তার প্রভুকেই ডেকে থাকে। পীর মুরশিদের কাজ হচ্ছে তার মুরীদের জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করা এবং তার প্রতি সহৃদয় ব্যবহার করা।
এ কথা কস্মিনকালে বিস্তৃত হওয়া উচিত নয় যে, সম্মান ও মর্যাদায় সৃষ্টিকুলের সেরা হচ্ছে আমাদের রসূল ﷺ! আর এর সঙ্গে এ কথাও হৃদয়ে গেঁথে রাখা প্রয়োজন যে, সহাবাগণ যারা তাঁর সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁর অমিয় বাণী শুনেছেন, তার সমুদয় কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেছেন, তারাই হচ্ছেন রসূলুল্লাহ ﷺ এর আদেশ নিষেধ এবং শরীয়াতের হুকুম আহকাম সম্পর্কে অধিকতর জ্ঞানবান। তাঁর সম্মান ও মান মর্যাদা সম্পর্কে তারাই অধিকতর ওয়াকেফহাল। আর তারাই ছিলেন তাঁর সর্বাধিক অনুগত-হুকুমবরদার।
সেই পাক-পূত মানব মুকুট, রসূল-শ্রেষ্ঠ ও নাবী-সম্রাট তাঁর সহচরদের কাউকেই কখনও এ হুকুম দেননি যে, ভয়-ভীতি এবং বিপদ আপদ ও দুঃঃখ ক্লেশের সময় 'ইয়া সাইয়েদী', হে আল্লাহর রসূল! হে আমাদের নেতা, হে আল্লাহর রসূল- বলে ডেকো। আর সহাবাগণের মধ্যে কেউ-না নাবী ﷺ এর জীবিতকালে, না তাঁর ওফাতের পরে এরূপভাবে তাঁকে ডেকেছেন।
বরং তিনি ডাকতে বলেছেন, একমাত্র আল্লাহকেই এবং নির্ভর করতে বলেছেন একমাত্র তাঁরই উপরে।