📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 কবরের অধিবাসী (নবী ওলী) এর নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপনের দুই প্রকরণ

📄 কবরের অধিবাসী (নবী ওলী) এর নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপনের দুই প্রকরণ


কবরের অধিবাসীর (তিনি নাবী হোক অথবা ওলী) নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপন দুই প্রকার হতে পারে।

📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 প্রথম প্রকরণ

📄 প্রথম প্রকরণ


যদি তুমি কবরের অধিবাসীর নিকট এজন্য কিছু প্রার্থনা বা যাজ্ঞা করে থাক যে, তোমার ধারণায় তিনি তোমার চাইতে আল্লাহর অধিকতর নৈকট্যের অধিকারী এবং আল্লাহর নিকট তার পদ-মর্যাদা তোমার অপেক্ষা অনেক উচ্চ, তাহলে হয়তো কথাটা একদিক দিয়ে সত্য, কিন্তু সেটা এমন এক সত্য যার থেকে তুমি একটা ভুল অর্থ বুঝে নিয়েছো-একটা ভ্রান্ত ধারণা মনে মনে পোষণ করে চলেছে। কেননা যদি তিনি তোমার চাইতে আল্লাহর কাছে অধিকতর নৈকট্যের অধিকারী হয়ে থাকেন এবং উচ্চতর মর্যাদার হকদার হন, তাহলে তার অর্থ এই দাঁড়াবে যে, আল্লাহ তাকে তোমার চাইতে বেশী নিয়ামত দ্বারা অনুগৃহীত করবেন এবং তোমার চাইতে উচ্চতর মর্যাদা তাকে প্রদান করবেন। তার অর্থ এটা নয় যে, যখন তুমি মৃত বুযুর্গকে ডাকবে তখন সেই ডাকের কারণে আল্লাহ তোমার সরাসরি ডাকের চাইতে বেশী করে এবং সুন্দরতররূপে তোমার প্রয়োজন মিটিয়ে দেবেন। (অর্থাৎ তোমার প্রার্থনা মঞ্জুর হওয়ার যোগ্য হলে তোমার সরাসরি ডাকেই তা মঞ্জুর হবে আর মঞ্জুর হওয়ার যোগ্য না হলে মৃত কোন বুযুর্গের মাধ্যমে তা পেশ করলেও মঞ্জুর হবে না)।

কেননা যে পাপাচারের কারণে তুমি হবে আযাব লাভের হকদার অথবা যখন তোমার প্রার্থনার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয় গুনাহের উপর এবং সে কারণে তা প্রত্যাখ্যানের যোগ্য বিবেচিত হবে তখন সে অবস্থায় নাবীগণ এবং সালিহীন কিছুতেই তোমার সহায়তায় এগিয়ে আসবেন না- আসতে পারেন না। কারণ আল্লাহর নিকট যে বন্ধু বা বিষয় অপ্রীতিকর এবং হারাম তেমন বিষয়ে তোমাকে সাহায্য করার জন্য রাখা কর্তব্য যে, তোমার সরাসরি প্রার্থনাই কবুল হওয়ার যোগ্য, কেননা আল্লাহর পবিত্র সত্তাই সব চাইতে বেশী দয়াশীল এবং সর্বাধিক করুণাময়।

📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 দ্বিতীয় প্রকরণ

📄 দ্বিতীয় প্রকরণ


যদি তুমি এই ধারণা পোষণ করে থাক যে, আমি এক গুনাহগার বান্দা, আমার সরাসরি দু'আ অপেক্ষা কবরের বুযুর্গ অধিবাসী যখন আমার জন্য দু'আ করবেন সেই দু'আ আল্লাহ অতি দ্রুত এবং উত্তমরূপে কবুল করবেন-কবরে শায়িত নাবী অথবা ওলীর নিকট প্রার্থনা জ্ঞাপনের এ হচ্ছে দ্বিতীয় প্রকরণ। এই ব্যাপারে তোমার বক্তব্য অবশ্য এই যে, তুমি তার নিকট কিছু প্রার্থনা জানাও না আর তার প্রতি আহবানও জানাও না বরং তার নিকট তুমি এই আবেদন জানাও যে, তিনি যেন তোমার জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করেন, যেমন জীবিত মানুষের নিকট বলা হয়ে থাকে- "আমার জন্য দু'আ করুন" সহাবাগণ যেমন রসূলুল্লাহ ﷺ -এর নিকট তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করার দরখাস্ত পেশ করতেন। জেনে রাখা প্রয়োজন, জীবিত লোকদের নিকট এ ধরনের আবেদন জ্ঞাপন তো সিদ্ধ এবং শরীয়ত-সম্মত, যা উপরে পূর্বেই বলা হয়েছে। কিন্তু নাবী রসূল, পীর ওলী প্রমুখ সালিহীন-যারা এ দুনিয়া থেকে চিরবিদায় গ্রহণ করেছেন, তাদের নিকট এরূপ প্রার্থনা জ্ঞাপন করা যে, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করুন অথবা আমার জন্য প্রভু পরোয়ারদিগারের নিকট কিছু প্রার্থনা জানান-মোটেই সিদ্ধ নয়। সহাবা এবং তাবিয়ীন থেকেও এরূপ করার কোন প্রমাণ সাব্যস্ত নয়। আয়িম্মাদের মধ্যে কোন ইমামই এরূপ করাকে জায়িয বলেননি, আর তার সিদ্ধতার স্বপক্ষেও কোন একটা হাদীসও দেখতে পাওয়া যায় না।

বরং এর বিপরীত বুখারীতে এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে যে, 'উমার ফারূক (রাযি.)-এর খিলাফতকালে যখন অনাবৃষ্টির জন্য লোকের দুঃখ কষ্টের অভিযোগ উত্থাপিত হলো, তখন 'উমার (রাযি.) আব্বাস (রাযি.)-এর মাধ্যমে বৃষ্টির জন্য আল্লাহ্র নিকট দু'আ জানালেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বললেনঃ
(اللهم انا كنا اذا اجد بنا نتوسل اليك بنبينا فتسقينا وانا نتوسل اليك بعم نبينا فاسقنا)
"হে আল্লাহ! নাবী ﷺ এর জীবতকালে কখনও অনাবৃষ্টি দেখা দিলে, আমাদের নাবী ﷺ কে তোমার নিকট ওয়াসীলা স্বরূপ পেশ করতাম, ফলে বৃষ্টিধারা বর্ষিত হতঃ এখন (তিনি ইন্তিকাল করায়) তাঁর চাচাকে ওয়াসীলা করে অর্থাৎ মধ্যস্থ বানিয়ে তোমার নিকট বৃষ্টির প্রার্থনা জানাচ্ছি, হে প্রভু! তুমি আমাদের প্রতি বৃষ্টি বর্ষণ কর।"

'উমার (রাযি.) (কিংবা সহাবীদের মধ্যে অন্য কেউই) রসূলুল্লাহ ﷺ এর কবরের কাছে গিয়ে এ কথা বলেননি- 'হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ করুন' অথবা এ কথাও বলেননি- 'হে নাবী ﷺ! বারি বর্ষণের আবেদন জ্ঞাপন করুন' অথবা তিনি এ কথাও বলেননি, অনাবৃষ্টির ফলে যে দুর্ভিক্ষ এবং বিপদ আমাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আমরা তার অভিযোগ আপনার নিকট নিয়ে এসেছি কিংবা এ ধরনের অন্য কোন কথা কোন একজন সহাবাও কস্মিনকালে বলেননি এবং এসবই হচ্ছে বিদআ'ত নব আবিষ্কৃত প্রথা যার সমর্থনে কুরআন এবং সুন্নাহয় কোনই দলীল নেই।

সহাবায়ে কেরামের (রাযি.) দস্তুর শুধু এই টুকুই ছিল যে, যখন তারা রসূলুল্লাহ ﷺ এর রওযা মোবারাক যিয়ারত করতে যেতেন তখন তাঁরা তার প্রতি সালাম জানাতেন। যখন দু'আ করার ইচ্ছা করতেন তখন রসূলুল্লাহ ﷺ এর মাযারের দিকে মুখ করতেন না, বরং সে দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে কিবলামুখী হয়ে আল্লাহ ওয়াহদাহু লা শারীকালাহুর নিকট প্রার্থনা জানাতেন ঠিক যেমন অন্যত্র অবস্থান কালে কিবলামুখী হয়ে দু'আ করতে তারা অভ্যস্ত ছিলেন। এর প্রমাণের জন্য পেশ করা যেতে পারে রসূলুল্লাহ ﷺ এর নিম্নোক্ত কয়েকটি হাদীসঃ

১। মুওয়াত্তা এবং অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে সঙ্কলিত হয়েছেঃ রসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর নিকট দু'আ করেছেন:
(اللهم لا تجعل قبرى وثنا يعبد اشتد غضب الله على قوم اتخذوا قبور انبيا مهم مساجد)
"প্রভু হে! আমার কবরকে সাজদাহর স্থানে পরিণত হতে দিওনা, সেই কওমের উপর আল্লাহর ভয়াবহ গযব নাযিল হয়েছে যারা নিজেদের নাবীদের কবরগুলোকে সাজদাহর স্থানে পরিণত করছে।"

(لا تتخذوا قبرى عيدا وصلوا على حيثما كنتم فان صلواتكم تبلغني)
"(হে আমার উম্মাতের লোক সকল!) তোমরা আমার কবরস্থানকে উৎসবের স্থানে পরিণত করো না, তোমরা (তৎপরিবর্তে) যেখানেই অবস্থান কর না কেন, আমার প্রতি দরূদ প্রেরণ করো, কেননা তোমাদের দরূদ আমার নিকট পৌছানো হবে।"

বুখারীতে এসেছে রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
(لعن الله اليهود والنصارى اتخذوا قبور انبياء هم مساجد يحذر ما فعلوا)
"ইয়াহুদী এবং নাসারাদের প্রতি আল্লাহর লা'নাত বর্ষিত হোক! তারা তাদের নাবীদের কবরগুলোকে সাজদাহর স্থান বানিয়ে নিয়েছে। রসূলুল্লাহ ﷺ সহাবাদেরকে তাদের ঐ অপকর্মের পরিণতির কথা বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন।"
'আয়িশাহ (রাযি.) বলেন, এরূপ হুশিয়ার বাণী উচ্চারিত না হলে রসূলুল্লাহ ﷺ এর কবর উন্মুক্ত রাখা হতো, তাঁর কবরকে সাজদাহর স্থানে পরিণত করাকে তিনি পছন্দ করেননি।

সহীহ মুসলিমে রিওয়ায়াত এসেছে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর মহাপ্রয়াণের ৫ দিন পূর্বে বলেছেন:
(ان من كان قبلكم كانوا يتخذون القبور مساجد، الا فلا تتخذوها مساجد، فاني اذهاكم عن ذلك.)
"তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতেরা কবরসমূহকে সাজদাহর স্থান বানিয়ে নিত, খবরদার! তোমরা কখনো এরূপ করো না। আমি তোমাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে যাচ্ছি।”

সুনানে আবু দাউদে আছে- রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
(لعن الله زوارات القبور والمتخذين عليها المساجد والسوج.)
আল্লাহ লা'নাত করেছেন- ১। কবর যিয়ারতকারী নারীদের উপর, ২। তাতে মাসজিদ নির্মাণকারীদের উপর এবং ৩। তাতে বাতি প্রজ্জ্বলনকারীর (আলোক সজ্জাকারীদের) উপর।

এসব কারণেই আমাদের আলিম ওলামা কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ জায়িয রাখেন নাই। তাদের নিকট কবর মাযারের উদ্দেশে নযর নিয়ায মানৎ করা, তার খাদিমকে নগদ অর্থ, তৈল, বাতি, মোম, পশু (গরু-বকরী, হাঁস-মুরগী) প্রভৃতি মানৎ অথবা নযর নিয়াষরূপে প্রদান করা কোন ক্রমেই জায়িয নয়। এই ধরনের সর্ববিধ মানৎ ও নযর নিয়ায গুনাহের মধ্যে শামিল।

📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 কেউ নাজায়িয কাজে নযর মানলে তা পুরা না করণ

📄 কেউ নাজায়িয কাজে নযর মানলে তা পুরা না করণ


সহীহ বুখারীতে রসূলুল্লাহ ﷺ এর এই এরশাদ রয়েছেঃ
(من نذر أن يطيع الله فليطعه، ومن نذر أن يعصى الله فلا بعصه.)
"আল্লাহর আনুগত্য বরণে তথা তাঁর হুকুম মানার উদ্দেশে যে ব্যক্তি কোন নযর-মানৎ করে, তা অবশ্যই পুরা করবে, কিন্তু আল্লাহর অবাধ্যাচরণে তথা তার নিষিদ্ধ কাজে নযর মানলে তা পুরা করা চলবে না।"

নিষিদ্ধ কাজে নযর মানৎ করলে তা কুফরের পর্যায়ে পড়বে কিনা সে সম্পর্কে আলিমগণের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলেও আয়েম্মায়ে সলফের (পূর্ববর্তী যুগের ইমামদের) মধ্যে কোন একজনও কবরের পার্শ্বে অথবা তার চত্বরে কিংবা তার দরগাহে নামায পড়ার অধিক ফযীলত কিংবা তার মুস্তাহাব হওয়ার কায়েল (প্রবক্তা) নন। তাদের মধ্যে কেউ এ কথা বলেননি যে, অন্য সব স্থান অপেক্ষা মাযারের পার্শ্বে নামায পড়া অথবা দু'আ করা উত্তম, বরং আয়িম্মায়ে সলফের সর্বসম্মত অভিমত এই যে, কবরের পার্শ্বে-সে কবর নাবী রসূল ও ওলী আউলিয়ারই হোক না কেন, নামায পড়া অপেক্ষা মাসজিদে এবং গৃহে নামায পড়া অধিক উত্তম।

আল্লাহ এবং তাঁর রসূল এ মাসজিদ সম্পর্কে অনেক স্থলে অনেক কথা বলেছেন কিন্তু মাযার তথা সাধারণ্যে প্রচলিত দরগাহ প্রভৃতি সম্পর্কে তাঁরা কিছুই বলেননি। এতদসম্পর্কীয় কয়েকটি আয়াত নিম্নে (অনুবাদসহ) উদ্ধৃত হচ্ছে। আল্লাহ বলেন,

(وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ مَنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَنْ يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا) (البقرة : ١١٤)
"সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় যালিম আর কে আছে যে ব্যক্তি মাসজিদসমূহে আল্লাহর নাম যিক্র করার ব্যাপারে অন্তরায় সৃষ্টি করে এবং তার বিরাণ হওয়ার জন্য চেষ্টা চালায়।” (সূরা আল-বাকারাহ ১১৪)

আল্লাহ বলেন,
(الوَانتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ) (البقرة : ۱۸۷)
"তোমরা মাসজিদগুলিতে যে অবস্থায় ই'তিকাফে থাকবে (সে অবস্থায় স্ত্রীদের সঙ্গে সহবাস করবে না)।" (সূরা আল-বাকারাহ ১৮৭)

(القُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدِ) (الأعراف : ٢٩)
"হে রসূল! আপনি বলে দিন, আমার প্রভু পরোয়ার্দিগার যে হুকুমই জারী করেছেন, তার সমস্তই ন্যায়সঙ্গত আর তিনি হুকুম করেছেন যে, তোমরা প্রত্যেক মাসজিদে (নামাযের প্রাক্কালে) তোমাদের মুখমণ্ডল সোজা করে নাও।" (সূরা আরাফ ২৯)

তিনি আরও বলেছেন,
(إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ) (التوبة : ۱۸)
"আল্লাহ তা'আলার মাসজিদগুলোকে আবাদ করে থাকে তারাই যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর এবং আখিরাত সম্পর্কে প্রত্যয় রাখে।" (সূরা আত্-তাওবাহ ১৮)

(وَأَنَّ الْمَسَاجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدْعُوا مَعَ اللَّهِ أَحَدًا) (الجن : ۱۸)
"আর মাসজিদগুলো হচ্ছে একমাত্র আল্লাহরই (যিকিরের) জন্য, সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।" (সূরা জ্বিন ১৮)

এগুলোর কোনটিতেই, অথবা অন্য কোথাও আল্লাহ মাসজিদের সঙ্গে মাযার দরগার কোনই উল্লেখ করেননি।
আর রসূল ﷺ বলেছেন,
(১) (صلوة الرجل في المسجد تفضل على صلوته في بيته وسوقه بخمس وعشرين درجة)
"কোন ব্যক্তির স্বীয় গৃহে অথবা বাজারে নামায পড়ার চাইতে মাসজিদে নামায পড়ার সওয়াব ২৫ গুণ বেশী।"

(২) (من بنى الله مسجدا بنى الله له بيتا في الجنة)
"যে ব্যক্তি আল্লাহর ওয়াস্তে মাসজিদ তৈরী করে, তার জন্য আল্লাহ বেহেশতে (আলিশান) গৃহ নির্মাণ করে রাখেন।"

অপর পক্ষে মাযার দরগাহ সম্পর্কে তাঁর নির্দেশ হচ্ছে:
তাকে মাসজিদ বানিয়ে নিওনা-সাজদার স্থানে পরিণত করো না। যে ব্যক্তি, কবরকে সাজদাহর স্থান অথবা মাসজিদ বানিয়ে নেয়, তার উপর তিনি লা'নাত করেছেন।
বহু সহাবা এবং তাবিয়ীন এই প্রসঙ্গে নিম্নোধৃত আয়াত উল্লেখ করেছেন:
(لَا تَدْرُنَّ الهَتَكُمْ وَلَا تَذَرُنَّ وَدًّا وَلَا سُوَاعًا وَلَا يَعُوثَ وَيَعُوقَ وَتَسْرًا) (نوح ٢٣)
"নূহ ('আ.)-এর কওমের লোকেরা (তাদের স্বজাতিকে আরও বলেছে, সাবধান!) তোমরা নিজেদের কোনও উপাস্য ঈশ্বরকে কোন মতেই বর্জন করবে না, বিশেষতঃ "ওয়াদ, সোওয়াআ এবং য়াগ্‌স, য়াউক ও নাসার-এই পঞ্চ দেবতাকে।" (সূরা নূহ ২৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00