📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 প্রশ্নাবলীর জওয়াব

📄 প্রশ্নাবলীর জওয়াব


বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম।
সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য যাঁর অপার অনুগ্রহে আসমানী কিতাব সমূহের অবতরণ সম্ভব হয়েছে এবং নাবী রসূলগণের উত্থান ঘটেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহ নাবী রসূলদেরকে কেন প্রেরণ করেছেন? কেন কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন?
উত্তর: এ কাজ তিনি শুধু এজন্যই করেছেন যেন পৃথিবীতে সেই একক আল্লাহ, যাঁর কোন শরীক নেই, একমাত্র তাঁরই ইবাদাত হয়, একমাত্র তিনিই পূজিত হন, একমাত্র তাঁরই দাসত্ব বরণ করা হয়, একমাত্র তাঁরই কাছে সর্ব ব্যাপারে সাহায্য চাওয়া হয় এবং একমাত্র তাঁরই উপর সর্ববিষয়ে নির্ভর করা হয়। আর কল্যাণ লাভ এবং অকল্যাণ হতে নিষ্কৃতি লাভের জন্য একমাত্র তাঁকেই ডাকা হয়। যেমন আল্লাহ স্বয়ং এরশাদ ফরমিয়েছেনঃ

(تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللهِ الْعَزِيزِ الْحَكِيمِ إِنَّا أَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ الله مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ أَلَا اللَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ) (زمر: ১-৩)
"এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে প্রবল প্রতাপান্বিত প্রজ্ঞা বিভূষিত আল্লাহর নিকট হতে! (হে নাবী মোস্তফা!) প্রকৃত প্রস্তাবে- যথার্থভাবে এই কিতাব আপনার প্রতি আমিই নাযিল করেছি। সুতরাং আপনি একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করে যান, তাঁরই দাসত্ব পুরোপুরি বরণ করে নিন, দ্বীনকে একমাত্র তাঁরই উদ্দেশ্যে খালেস করে নিয়ে হুশিয়ার হয়ে যান, (মনে রাখবেন) খালেস দ্বীন তথা নিষ্কলুষ হৃদয়ের নিবেদন নির্ভেজাল ধর্মকর্মই গৃহীত হয় আল্লাহর কাছে। আর (এ কথাও জেনে রাখুন) যে সব লোক আল্লাহকে ছেড়ে অপর কাউকে ওলী অভিভাবক রূপে গ্রহণ করে (এবং নিজেদের সেই কর্মের সমর্থনে যুক্তি পেশ করে বলে,) আমরা তো তাদের পূজা করি না, তবে তাদের শরণাপন্ন হই শুধু এজন্য যে, তারা সুপারিশ করে আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে।" যে বিষয়ে তারা মতভেদ মতান্তর ঘটাচ্ছে সে বিষয়ে আল্লাহ তাদের মধ্যে সুনিশ্চিতভাবে চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেবেন। (সূরা যুমার ১-৩)

২। (রসূলুল্লাহ ﷺ কে ঘোষণা করতে বলা হয়েছে আপনি আরও জানিয়ে দিন যে,) সিজদার স্থান সমূহ একমাত্র আল্লাহর জন্যই সুনির্দিষ্ট (আর সিজদা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য), অতএব (তোমরা একমাত্র তাঁকেই ডাকবে) আল্লাহর সঙ্গে অপর কাউকেই ডাকবে না। (সূরা জ্বিন ১৮)

(قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدين) (اعراف : ٢٩)
(হে রসূল!) আপনি বলে দিন যে, আমার প্রভু পরোয়ার্দিগার আমাকে ইনসাফ করার হুকুম দিচ্ছেন এবং প্রত্যেক সিজদার সময়ে (প্রত্যেক নামাযের ওয়াক্তে) তাঁরই দিকে তোমাদের চেহারা, তোমাদের সমগ্র সত্তাকে একাগ্র করবে এবং তাঁরই জন্য দ্বীনকে খালেস করে (তাঁরই আনুগত্য পূর্ণভাবে বজায় রেখে) তাঁকে আহবান জানাবে। (সূরা আল-আরাফ-২৯)

(قُلْ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِهِ فَلَا يَمْلِكُونَ كَشَفَ الصُّرِّ عَنكُمْ وَلَا تَحْوِيلًا أولَئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَعُونَ إِلَى رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْدُورًا) (بني اسرائيل : ٥٦ ٥٧٠)
(হে রসূল!) আপনি ঐ সমস্ত মুশরিকগণকে বলে দিন যে, আল্লাহকে ছাড়া যাদেরকে তোমরা (বিপদের কান্ডারী রূপে) ধারণা করে নিয়েছ তাদেরকে ডেকে দেখ, (তাহলে দেখতে পাবে যে,) তারা তোমাদের উপর থেকে কোন বিপদই দূর করতে পারে না, (এমনকি সেই বিপদের) একটু খানি পরিবর্তনও ঘটাতে পারে না। যাদেরকে তারা ডেকে থাকে তারা তো নিজেরাই তাদের প্রভুর নৈকট্য লাভের 'ওসীলা' খুঁজে বেড়ায় যে, কোনটি নিকটতর। আর তারা আযাবের ভয়ও পোষণ করে চলে, নিশ্চয় আপনার প্রভুর আযাব হচ্ছে আশংকার বিষয়। (সূরা বনী ইসরাঈল ৫৬ ও ৫৭)

সলফে সালিহীনের (ইসলামের প্রথম যুগের বুযুর্গ ব্যক্তিদের) মধ্যে এক দল বলেছেন যে, কতক লোক ঈসা ('আ.), উযায়র এবং ফেরেশতাদেরকে বিপদ-আপদ দূর করার জন্য আহ্বান জানাতেন। তাদের আহ্বান যে ব্যর্থ বিড়ম্বনা তা বুঝিয়ে দেবার জন্য আল্লাহ বলেছেন: তোমরা যাদের আহবান জানাচ্ছ তারাও তো তোমাদের মত আমারই বান্দা। তোমাদেরই মত তারাও আমার রহমাতের প্রত্যাশী এবং আমার শাস্তির ভয়ে ভীত। আর আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য তোমরা যেমন অভিলাষী তারাও সে জন্য তেমনি অভিলাষী। সুতরাং নাবী এবং ফেরেশতাদের আহ্বানকারীদেরই যখন এই অবস্থা, তখন ঐ সমস্ত লোক তো উল্লেখযোগ্য এবং বিবেচ্য হতেই পারে না যারা এমন সব লোকদেরকে আহবান জানায় যারা কোন দিক দিয়েই নাবী এবং ফেরেশতাদের সমপর্যায়ভুক্ত নয়।

আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমিয়েছেন:
(أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ يَتَّخِذُوا عِبَادِى مِنْ دُونِي أَوْلِيَاءَ إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا) (كاهف : ۱۰২)
কাফিররা কি এই আক্বীদাহ (দৃঢ় মূল) করে নিয়েছে যে আমাকে ছাড়া আমার বান্দাদেরকে নিজেদের ওলী-অভিভাবক বানিয়ে নিতে পারে? (অথচ এ জন্য তাদের কোন সওয়াল-জওয়াবের সম্মুখীন হতে হবে না) বস্তুতঃ আমি কাফিরদের মেহমানদারীর জন্য জাহান্নাম তৈরী করে রেখেছি। (সূরা কাহাফ ১০২)

আল্লাহ তা'আলা অন্যত্র বলেছেন,
(قُلْ ادْعُوا الَّذِينَ زَعَمْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَمَا لَهُمْ فِيهِمَا مِنْ شِرْكِ وَمَا لَهُ مِنْهُمْ مِنْ ظَهِيرٍ وَلَا تَنْفَعُ الشَّفَاعَةُ عِنْدَهُ إِلَّا لِمَنْ أَذِنَ لَهُ) (سَبَأ : ২২-২৩)
আপনি (হে রসূল!) মুশরিকদের বলে দিনঃ যাদেরকে তোমরা আল্লাহ ছাড়া অভাব দূরকারী ও বিপত্রাণ মনে করে থাক, তাদের ডাক দিয়ে দেখ, দেখতে পাবে যে তারা আসমান এবং যমীনে অণু পরিমাণ ক্ষমতাও রাখে না, আল্লাহর সঙ্গে এই ব্যাপারে তারা কোন শরীকও নয়, তাদের মধ্যে কেউ আল্লাহর সহায়তাকারীও নয়। আর আল্লাহর নিকট কোন শাফাআতই কাজে আসবে না কিন্তু সেই ব্যক্তির শাফাআত ছাড়া আল্লাহ যাকে অনুমতি প্রদান করবেন। (সূরা সাবা ২২)

এখানে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে যে, আল্লাহ যে কোন সৃষ্ট বস্তু, এমন কি ফেরেস্তা এবং নাবী রসূলদের মধ্যেও যাদেরকে আহবান জানান হয় তাদের মধ্যে কারোরই আল্লাহর আসমান-যমীনের বাদশাহীতে অণু-পরমাণু বরাবর কোন শক্তি নেই। তার সার্বভৌম রাজত্বে কেউ কোন শরীক বা অংশীদারও নেই। বরং একমাত্র সেই শাশ্বত সত্য-চিরন্তন আল্লাহই কারোর কোন অংশীদারত্ব ছাড়াই সার্বভৌম ও সর্বশক্তিধর অধিপতি, সর্ব বস্তুর উপর তাঁরই অপ্রতিহত ক্ষমতা বিরাজমান, ব্যবস্থাপনার মাঝেও তাঁর কোন সাহায্যকারী নেই, কারো কোনরূপ সহায়তার তিনি মোটেই মুখাপেক্ষী নন। বাদশাদের রাজত্ব পরিচালনা এবং শাসন ও বিচারের ব্যবস্থাপনায় যেমন সাহায্যকারী ও সহযোগীর প্রয়োজন হয় আল্লাহর বেলায় তা মোটেই প্রযোজ্য নয়। বস্তুতঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং অনুমতি ব্যতিরেকে তাঁর নিকট সুপারিশ জ্ঞাপনেরও সাধ্য কারও নেই। এভাবে এর দ্বারা শির্কের যত রকম প্রকরণ থাকতে পারে সমস্তই নিষিদ্ধ ও রহিত হয়ে যাচ্ছে।

📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 শির্ক সম্পর্কে চারি প্রকার ভ্রান্তির সম্ভাবনা এবং তার রদ

📄 শির্ক সম্পর্কে চারি প্রকার ভ্রান্তির সম্ভাবনা এবং তার রদ


চারটি উপায়ে শির্কের ন্যায় গুরুতর পাপাচার ঘটতে পারে। প্রথম- আল্লাহকে ছাড়া অন্য যাকেই ডাকা হবে, তার সম্বন্ধে এই ধারণা পোষণ করা হবে যে, সে মালিক অর্থাৎ তার কিছু করার পূর্ণ অধিকার আছে; দ্বিতীয়- সে মালিক নয়, তবে মালিকিয়তে শরীক আছে, সুতরাং কিছু করার আংশিক অধিকার রয়েছে; তৃতীয়ত- সে পূর্ণ অথবা আংশিক মালিক নয়, তবে সহায়তাকারী, চতুর্থত- তিনটির একটিও নয়, তার ভূমিকা হচ্ছে প্রার্থনাকারীর, যাজ্ঞাকারীর।

এ সম্পর্কে প্রথম বক্তব্য এই যে, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রকরণের শির্কের নিষিদ্ধতা সন্দেহতীতভাবে প্রতিষ্ঠিত। কারণ এক আল্লাহ ছাড়া কেউ পূর্ণ মালিক নন, মালিকুল মুল্ক তিনিই, সার্বভৌম অধিকার একমাত্র তাঁরই জন্য নির্দিষ্ট, তাঁর সার্বভৌম অধিকারেও কারও শরীকানা বা অংশ নেই, তাঁর কার্যে সহায়তাকারী ও সহযোগীও কেউ নেই। বাকী রইল চতুর্থ প্রকরণের শির্ক অর্থাৎ তাঁর নিকট সুপারিশের উদ্দেশে কোন প্রার্থনা জ্ঞাপন করা, কিছু যাজ্ঞা করা। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এই সুপারিশ এবং প্রার্থনা জ্ঞাপন সম্ভব নয়, সিদ্ধও নয়। কারণ সুপারিশের চাবিকাঠি তাঁরই হস্তে ন্যস্ত। নিম্নোধৃত আয়াতসমূহ পাঠ করলেই এ কথা পরিষ্কার হয়ে উঠবে:

১। আল্লাহর দরবারে তাঁর বিনা হুকুমে সুপারিশ করতে পারে এমন কে আছে? (সূরা আল-বাকারাহ ২৫৫)

২। আসমানে কতই না ফেরেশতা রয়েছে কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না অনুমতি এবং সম্মতি মিলবে ততক্ষণ পর্যন্ত কারও জন্য তাদের সুপারিশ কিছুমাত্রও উপকারে আসবে না (বস্তুতঃ তাঁরা অনুমতি ও সম্মতি ব্যতিরেকে সুপারিশই জানাতে সক্ষম হবে না)। (সূরা আন নাজম ২৬)

৩। তারা কি আল্লাহকে ছাড়া অপর কতককে সুপারিশকারী ধরে নিয়েছে? (হে রসূল!) আপনি বলে দিন: যে অবস্থায় কোন কিছুর উপর তাদের কোন অধিকার না থাকে এবং যদিও তাদের বিবেক বুদ্ধি বলে কিছু না থাকে সে অবস্থাতেও তোমরা তাদেরকে তোমাদের শাফাআতকারী তথা কল্যাণ করার অধিকারী বলে বিশ্বাস রাখবে? বলে দিন: সকল প্রকারের সমস্ত শাফাআত সুফারিশের একমাত্র মালিক হচ্ছেন আল্লাহ, আসমান এবং যমীনের রাজত্ব একমাত্র তারই অধিকারভুক্ত, অতঃপর তোমাদের সকলের ফিরে যেতে হবে তাঁরই সকাশে। (সূরা আয-যুমার ৪৩ ও ৪৪)

৪। আল্লাহ তো তিনিই যিনি আসমানসমূহ ও যমীন এবং এর মাঝে কিছু আছে সমস্তই ছয় দিনে সৃজন করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর আসন গ্রহণ করেছেন, তিনি ভিন্ন তোমাদের কোন ওলী অভিভাবকও নেই- কোন সুপারিশকারীও নেই। এরপরেও কি তোমরা চিন্তা-ভাবনা করবে না? এর থেকে উপদেশ গ্রহণ করবে না। (সূরা আস-সিজদা ৪)

৫। (হে রসূল!) আপনি কুরআনের মাধ্যমে ঐ সব লোকদের ভয় প্রদর্শন করতে থাকুন যারা এই কথায় ভয় রাখে যে, ক্বিয়ামাত দিবসে তাদেরকে স্বীয় প্রভুর সামনে সমাবিষ্ট করা হবে এমন অবস্থায় যে, তাদের সাহায্য করার জন্য না থাকবে কোন ওলী-অভিভাবক, না থাকবে কোন সুপারিশকারী; হয়ত এই ভয় প্রদর্শনের ফলে তারা হয়ে যাবে সংযমশীল-পরহেযগার। (সূরা আল-আন'আম ৫১)

৬। কোন মানুষের পক্ষেই এটা শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে প্রদান করেন আসমানী বিভাব, (ত্রুটিমুক্ত ও ধীরস্থির) জ্ঞান বুদ্ধি এবং পয়গম্বরী, অতঃপর সে লোকদের বলেঃ "তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে আমারই বান্দা হয়ে যাও।" বরং (যে ব্যক্তি এই মহা অবদান লাভ করবে) সে তো বলবে তোমরা হয়ে যাও আল্লাহওয়ালা, কেননা তোমরা অপর লোকদেরকে আল্লাহর কিতাব পড়িয়ে থাক এবং নিজেরাও পড়ে থাক। আর সে তোমাদেরকে কখনই এ কথা বলবে না যে, ফেরেশতা এবং পয়গম্বরদেরকে রব তথা প্রভু বলে স্বীকার করে নাও। তোমরা মুসলিম হওয়ার পরেও কি সে তোমাদেরকে (এরূপ) কুফরী করতে বলতে পারে? (সূরা আলু ইমরান ৭৮-৮০)

এই শেষোক্ত আয়াতে দেখা যাচ্ছে, যারা ফেরেশতা এবং নাবী রসূলদেরকে রব বা প্রভু রূপে গ্রহণ করে, তাদেরকে কুরআন মাজীদে কাফির বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং ঐরূপ গ্রহণ করার কাজকে কুফরী বলা হয়েছে। নাবী ও ফেরেশতাদেরকে যারা রব ভাবে তাদের সম্বন্ধেই যখন এরূপ কঠোর ব্যবস্থা ও হুশিয়ারী, তখন ওলী আউলিয়া, শেখ মাশায়েখদের যারা প্রভুর আসনে বসায় তাদের কি অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়। (তারা কাফির না হয়ে যায় কোথায়?)

📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 আল্লাহর ছাড়া অপর কারো নিকট কিছু চাওয়ার ব্যাখ্যা

📄 আল্লাহর ছাড়া অপর কারো নিকট কিছু চাওয়ার ব্যাখ্যা


তা কয়েক প্রকার হতে পারে, যেমনঃ
১। যে বস্তু চাওয়া হয় বা যে বিষয়ে প্রার্থনা জানানো হয় তার প্রকরণ যদি এমন হয় যে, আল্লাহ ছাড়া আর কারোর পক্ষেই তা পূরণ করা সম্ভব নয়- তাহলে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নিকট ঐরূপ চাওয়া বা প্রার্থনা জানানো কিছুতেই সিদ্ধ হবে না। তা হবে সুস্পষ্ট শির্কের পর্যায়ভক্ত। বিষয়টি দৃষ্টান্ত দ্বারা বুঝানো হচ্ছে।
রুগ্ন ব্যক্তি অথবা ব্যাধিগ্রস্ত চতুষ্পদ জন্তুর রোগমুক্তির আবেদন, অজানিত উপায়ে ঋণমুক্তির প্রার্থনা, বিপদাপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা, শত্রুকে পরাভূত করার জন্য সাহায্য কামনা, নফসের হিদায়াত, অপরাধের মার্জনা, পাপের ক্ষালন এবং বেহেশত লাভের আকাঙ্ক্ষা জ্ঞাপন, দোযখের আগুনের শাস্তি থেকে নিষ্কৃতি লাভের বাসনা, ইলম ও কুরআনের শিক্ষা লাভের আকাঙ্ক্ষা, অন্তরের বিশোধন, আত্মার শুদ্ধি, চরিত্রের উন্নয়ন প্রভৃতির জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর নিকটেই দরখাস্ত পেশ করা জায়িয নয়। এ কাজ কোন প্রকারে কোন ওজুহাতেই সিদ্ধ নয়। কোন ফেরেশতা, কোন নাবী, কোন ওলী, কোন শাইখ, কোন পীর-জীবিত হোক অথবা মৃত, কারোর নিকট এ কথা বলা চলবে না যে, আমার গুনাহসমূহ মাফ করে দিন, আমার পরিবার পরিজনকে সুস্থ রাখুন ও নিরাপত্তা দান করুন, আমার অমুক জানোয়ারটিকে রোগ মুক্ত করুন- এই ধরনের অথবা এরূপ যে কোন প্রার্থনা জ্ঞাপন কড়াকড়িভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেনে রাখা উচিত, যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর সৃষ্ট কারো নিকট এরূপ প্রার্থনা জানায় তাহলে সে নিশ্চিতরূপে আল্লাহর সঙ্গে শির্ক করে বসে। ফেরেশতা বা নাবীদের পূজা করা, মূর্তি পূজা করা, ঈসা ('আ.) এবং তার মা মারঈয়াম ('আ.)-এর পূজা করা, আলিম উলামা, ওলী আউলিয়া, শাইখ মাশায়েখ প্রভৃতিকে আল্লাহর স্থলে রব বানিয়ে নেয়া সবই একই শির্কের বিভিন্ন পর্যায়ভুক্ত।

এই প্রসঙ্গে নিম্নোধৃত আয়াতগুলো লক্ষ্যযোগ্য:
১। এবং যখন ঈিসা ('আ.)-কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা'আলা বললেন, হে ঈসা ইবনে মারঈয়াম! তুমি কি লোকদেরকে এই কথা বলেছিলে যে, তোমরা আল্লাহকে ছাড়া আমাকে এবং আমার মাকে অতিরিক্ত উপাস্য প্রভুরূপে গ্রহণ কর-দুই মা'বুদ বলে মেনে নাও? (সূরা আল-মায়িদাহ ১১৬)
২। ঐ সমস্ত লোকেরা আল্লাহকে ছাড়া তাদের আলিম-উলামা ও পীর-দরবেশ, যাজক মোহন্তদেরকে আর মারঈয়ামের পুত্র ঈসাকে (অতিরিক্ত) প্রভু-পরোয়ারদিগার বানিয়ে নিয়েছে অথচ প্রকৃত কথা এই যে, তাদেরকে শুধু এই নির্দেশই দেয়া হয়েছিল যে, এক ও একক মা'বুদেরই ইবাদাত করে চলবে (অন্য আর কাউকে আরাধ্য-উপাস্য ধরবে না)। তিনি অর্থাৎ সেই একক প্রভু পরোয়ারদিগার ছাড়া অন্য কোন উপাস্য প্রভু নেই; তিনি তাদের শির্ক থেকে মুক্ত পাক পবিত্র। (সূরা আত-তাওবাহ্ ৩১)

দ্বিতীয়তঃ এমন কোন বিষয় বা বস্তু যদি চাওয়া হয় যার উপর মানুষের কিছু ক্ষমতা রয়েছে, তা হলে সেই অবস্থায় উক্ত বিষয় বন্ধু চাওয়া জায়িয আছে। কিন্তু কোন কোন অবস্থায় এই ধরনের চাওয়া থেকেও বিরত করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা রসূলুল্লাহ ﷺ কে লক্ষ্য করে বলেন,
"(হে রসূল।) যখন আপনি উদ্বেগ-দুশ্চিন্তা থেকে কিছুটা মুক্ত হবেন অথবা আপনাকে সত্য প্রচারের যে বিরাট দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার থেকে যখন কিছুটা ফারেগ হবেন, তখন আপনি সবদিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে আপনার প্রভু পরোয়ার্দিগারের প্রতি সমগ্র হৃদয় মন দিয়ে ঝুঁকে পড়বেন, একমাত্র তাঁরই দিকে একাগ্রচিত্ত হবেন।" (সূরা ইনশিরাহ ৭-৮)
রসূলুল্লাহ্ ﷺ ‘আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযি.)-কে ওসীয়ত করেছেন এভাবেঃ
২। তোমাকে যদি কিছু চাইতেই হয়, তাহলে চাইবে একমাত্র আল্লাহরই নিকটে, আর যদি কারোর সাহায্য কামনা করতে হয় তাহলে সাহায্য কামনা করবে একমাত্র আল্লাহর নিকটেই, অপর কারো নিকট নয়।

রসূলুল্লাহ্ ﷺ সহাবীদের মধ্যে একদল অর্থাৎ অনেককে এই নসীহাত করেছেনঃ কোন মানুষের নিকটেই কোন সওয়াল করবে না। যার ফলে তারা তাদের সমগ্র জীবনে কোন ব্যক্তির নিকটেই কিছু চান নাই- এমনকি অশ্বপৃষ্ঠে আরোহীদের মধ্যে কারোর হাত থেকে চাবুক নিচে পড়ে গেলেও কাউকে বলতেন না যে, আমার পড়ে-যাওয়া চাবুকটা তুলে দাও, বরং তিনি স্বয়ং ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে তা তুলে নিতেন। বুখারী ও মুসলিমের হাদীসে আছে রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
৩। "আমার উম্মাতের মধ্যে ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে বেহেশতে প্রবেশ করবে- তাদের আলামত হচ্ছে এই যে, তারা ঝাড়-ফুঁক করে না, দাগ দেয় না এবং শুভ-অশুভ সময় ক্ষণের সংস্কার মানে না, তারা সর্ব ব্যাপারে আল্লাহর উপরেই নির্ভর করে।" (ইসতিসকার অর্থ ঝাড়-ফুঁক কামনা করা এবং তা হচ্ছে এক প্রকার দু'আ)

এ সত্ত্বেও আবার রসূলুল্লাহ ﷺ থেকে এমন রিওয়ায়াতও এসেছে যাতে বলা হয়েছে,
"যে ব্যক্তি তার ভাই এর অনুপস্থিতিতে তার জন্য দু'আ প্রার্থনা করে, তখন আল্লাহ তা'আলা একজন ফেরেশতাকে তথায় নিয়োজিত রাখেন। যখনই সে তার ভাই এর জন্য দু'আ করে তখনই সেই ফেরেশতা বলেন, আপনার জন্য ঐরূপ হোক।"
তিনি আরও বলেছেন, "অনুপস্থিত এক ব্যক্তির জন্য অনুপস্থিত অন্য ব্যক্তির দু'আ গৃহীত হয়ে থাকে।"

এই ভিত্তিতেই রসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর উম্মাতকে তাঁর প্রতি দরূদ এবং তাঁর জন্য ওয়াসিলা কামনা করতে হুকুম প্রদান করেছেন; যারা এরূপ করবে তাদের জন্য তিনি প্রভূত পুরস্কারের শুভ সংবাদ শুনিয়েছেন। হাদীসে আছে রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
"যখন মুয়াযযিন আযান উচ্চারণ করতে থাকে তখনি মুয়াযযিন যা বলে তোমরা তাই বলে চলবে, তারপর আমার প্রতি দরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার প্রতি দশ বার দরূদ (শাস্তি) পাঠান, তারপর ঐ আযানের শ্রোতারা আমার জন্য ওয়াসীলা কামনা করবে আর ওয়াসীলা হচ্ছে বেহেশতের একটি সুউচ্চ ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ স্থান। তা আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে একটি মাত্র বান্দাই লাভ করবে, আমি আশা রাখি যে, আমিই হব সেই বান্দা। অতএব যে ব্যক্তি আমার জন্য সেই ওয়াসীলার প্রার্থনা জানাবে, ক্বিয়ামাত দিবসে সিদ্ধ হয়ে যাবে তার জন্য আমার শাফা'আত অর্থাৎ সে হবে আমার শাফা'আত লাভের হকদার।"

নিজের চাইতে ছোট এবং নিজের চাইতে বড় উভয়ের প্রতি দু'আর আবেদন জানান শরীয়তে সিদ্ধ। যেমন আমরা দেখতে পাই, রসূলুল্লাহ ﷺ উমরার দিবসে বিদায় তাওয়াফের সময় ওমার (রাযি.) কে বলেছেন,
"ভ্রাতঃ! তোমার দু'আয় আমাদের ভুলে যেও না, অর্থাৎ আমার কথাও স্মরণ রেখো।"
অবশ্য এর ভিতরে আমাদেরই কল্যাণ নিহিত রয়েছে। কেননা রসূলুলল্লাহ ﷺ এর এরশাদ যে, আমার প্রতি দরূদ পড় এবং আমার জন্য ওয়াসিলা চাও এবং সঙ্গে সঙ্গে এই কথা বলা যে, আমার প্রতি একবার যে দরূদ পাঠ করে, তার জন্য আল্লাহ তা'আলা দশবার শান্তি প্রেরণ করেন এবং তিনি এই বলেন যে, যে ব্যক্তি আমার জন্য ওয়াসিলা চাইবে সে আমার শাফাআত লাভের হকদার হয়ে যাবে-এর থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে যে, এই চাওয়া প্রকৃত প্রস্তাবে নিজেদের কল্যাণের জন্যই চাওয়া। আর এই দুই চাওয়ার মধ্যে রয়েছে সুস্পষ্ট পার্থক্য অর্থাৎ অন্য কারো জন্য আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া আর নিজের ব্যক্তিগত কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে চাওয়ার মধ্যে নিশ্চয়ই সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

১। সহীহ বুখারীতে আছে, উয়াইস কারণী (রহ.)-এর উল্লেখ প্রসঙ্গে রসূলুল্লাহ ﷺ 'উমার (রাযি.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: "যদি সম্ভব হয় তাহলে তোমার নিজের জন্য তার দ্বারা দু'আয়ে মাগফিরাত করাবে।"
২। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের হাদীসে আছে, আবু বাক্স (রাযি.) এবং উমার (রাযি.)-এর মধ্যে কোন এক ব্যাপারে মতবিরোধ এবং তর্কবিতর্ক হয়ে যায়। আবু বাক্স অবশেষে বলেন, আমার জন্য মার্জনা ভিক্ষা করুন! অবশ্য অন্য রিওয়ায়াতে এ কথাও এসেছে যে, উক্ত ব্যাপারে আবূ বাক্স (রাযি.) 'উমার (রাযি.)-এর প্রতি নারায (অসন্তুষ্ট) হয়ে যান।
৩। এ কথা প্রমাণ সিদ্ধ যে, কতক লোক রসূলুল্লাহ ﷺ কে দু'আ পড়ে তাদেরকে ঝাড়ফুঁক করতে বলতেন এবং তিনি তাদের (অনুরোধ রক্ষার্থে) ঝাড়ফুঁক করতেন।
৪। সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমে এ কথাও পাওয়া যায় যে, অনাবৃষ্টির জন্য (মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের উদ্দেশে) রসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট ইসতিস্কার অর্থাৎ বৃষ্টি বর্ষণের দু'আর আবেদন জানানো হয়। ফলে তিনি দু'আ করেন এবং বর্ষণ হয়।
৫। সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিমে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ এর ইন্তিকালের পর ‘উমার (রাযি.) আব্বাস (রাযি.)-এর ইমামতিতে ইসতিস্কার নামায পড়েন। এই উপলক্ষে তিনি আল্লাহকে লক্ষ্য করে বলেন, "প্রভু হে! রসূলুল্লাহ ﷺ এর যামানায় আমরা নাবী ﷺ কে ওয়াসীলা ধরে পানি বর্ষণের জন্য তোমার কাছে প্রার্থনা জানাতাম, ফলে আমাদের জন্য তুমি পানি বর্ষণ করতে, এখন আমরা তোমার রসূল ﷺ এর চাচাকে ওয়াসীলা ধরে দু'আ করছি, তুমি আমাদের প্রতি রহমাতের পানি বর্ষণ কর।" ফলে পানি বর্ষিত হয়েছে।
৬। একবার এক বেদুঈন জান ও মালের ক্ষয় ক্ষতি এবং পরিবার পরিজনের অনাহার এবং অন্যান্য বিপদাপদের অভিযোগ করে যখন রসূলুল্লাহ ﷺ এর খিদমতে আরয করলো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের জন্য দু'আ করুন; তারপর বললো- "আমরা আপনার কাছে আল্লাহ তা'লাকে সুপারিশকারী রূপে উপস্থাপিত করছি আর আল্লাহর কাছে আপনাকে সুপারিশকারী রূপে পেশ করছি।"
বেদুঈনের মুখে এ কথা শুনার পর রসূলুল্লাহ ﷺ এর চেহারা মুবারকে বিরক্তি ও ক্রোধের চিহ্ন ফুটে উঠল। তিনি একক আল্লাহর মহত্ব ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা করে বেদুঈনকে বললেন, "আল্লাহ তোমার ভাল করুন। আল্লাহ তা'আলাকে তার কোন সৃষ্ট জীবের কাছে সুপারিশকারী রূপে উপস্থাপন করা যেতে পারে না, আল্লাহর শান-আল্লাহর মর্যাদা এর অনেক অনেক ঊর্ধ্বে।"
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আল্লাহকে সুপারিশকারী রূপে উপস্থাপনকে রসূলুল্লাহ ﷺ তীব্র বিরক্তি ও ক্রোধের সঙ্গে নাকচ করে দিলেন। এবং তা সিদ্ধ নয় বলে সাব্যস্ত করলেন, কেননা এটা আল্লাহর মর্যাদার পক্ষে অবমাননাকর। কিন্তু রসূলুল্লাহ ﷺ কে আল্লাহর কাছে সুপারিশকারীরূপে পেশ করার কাজকে বহাল রাখলেন এবং সিদ্ধ বলে মেনে নিলেন। এর কারণ এই যে, বান্দা তার প্রভুর নিকট প্রার্থনা জানায় এবং সুপারিশ মঞ্জুর করার যিনি কর্তা সুপারিশকারী তাঁর নিকট সুপারিশ জ্ঞাপন করে। প্রভু পরোয়ারদিগার কখনও বান্দার নিকট কিছু সওয়াল করেন না, তার কাছে সুপারিশও করেন না, করতে পারেন না।

📘 যিয়ারুল কুবুর বা কবর যিয়ারাত > 📄 শরীয়ত মুতাবেক এবং সুন্নাত অনুসারে কবরসমূহের যিয়ারত

📄 শরীয়ত মুতাবেক এবং সুন্নাত অনুসারে কবরসমূহের যিয়ারত


কবর যিয়ারতের সুন্নাহ-সম্মত পদ্ধতি এই যে, যিয়ারতকারী কবরের বাসিন্দার প্রতি সালাম জানাবে এবং তার জন্য ঠিক সেভাবে আল্লাহর নিকট দু'আ করবে যেভাবে জানাযার জন্য দু'আ পড়া হয়। রসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবায়ে কেরামকে এরূপ শিক্ষাই দিয়ে গিয়েছেন। তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলেছেন, যখন কবরসমূহ যিয়ারত করবে তখন এই কথাগুলো বলবে,

আস্সালামু আলাইকুম আহলাদ দিয়ারি মিনাল মু'মিনীনা ওয়া ইন্না ইনশা আল্লাহু বিকুম লাহিকূন। ইয়ার হামুল্লাহুল মুস্তাকদেমীনা মিন্না ওয়াল মুস্তাখেরীন, নাস্ আলুল্লাহা লানা ওয়া লাকুমুল আফীয়াতা, আল্লাহুম্মা লাতাহরিমনা দআজরাহুম ওয়া লা তাফতিন্না বা'দাহুম।
"হে মুমিন ও মুসলিমদের বস্তির (অর্থাৎ কবরের) অধিবাসীবৃন্দ! আপনাদের প্রতি সালাম (আল্লাহর তরফ থেকে আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক!) আমরা ইনশা আল্লাহ আপনাদের সঙ্গে মিলিত হবো। আমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছেন তাদের প্রতি এবং পরবর্তীদের প্রতি আল্লাহ রহমাত করুন। আমরা আমাদের জন্য এবং আপনাদের জন্য নিরাপত্তা ও শান্তির প্রার্থনা জানাই। হে আল্লাহ! আমাদেরকে তাদের পুরস্কার থেকে বঞ্চিত করো না এবং তাদের পর আমাদেরকে বিপদাপদে নিক্ষেপ করো না।"

রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ
"যখন কোন ব্যক্তি এমন কোন কবরের পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করে যার বাসিন্দা দুনিয়ায় ছিল তার নিকট পরিচিত, তাকে সে সালাম জানালে আল্লাহ তা'আলা তার রুহকে তার দিকে ফিরিয়ে দেন ফলে সে উক্ত সালামের জওয়াব প্রদান করে।"
মৃত ব্যক্তির জন্য জীবিত ব্যক্তির দু'আর সওয়াব ঠিক সেরূপ, যেরূপ তার জানাযা পড়ার সওয়াব। এজন্যই মুনাফিকদের জন্য দু'আ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে: আল্লাহ বলেনঃ
"তাদের (অর্থাৎ মুনাফিকদের) মধ্যে কেউ মারা গেলে তাদের জন্য কখনো (রহমাতের) দু'আ করবে না; আর তাদের কবরের কাছে গিয়েও দাঁড়াবে না।" (সূরা আত-তাওবাহ ৮৪)
মৃত ব্যক্তির নিকট জীবিত ব্যক্তির কোন প্রয়োজন মিটানোর আকাঙ্ক্ষা জ্ঞাপন করতে এবং তাকে ওয়াসীলারূপে পেশ করতে অনুমতি দেয়া হয়নি। বরং জীবিত ব্যক্তিকে হুকুম করা হয়েছে। সে যেন মৃত ব্যক্তির কল্যাণার্থে চেষ্টা চালায়। তার জানাযার নামাযে অংশ গ্রহণ করে, তার মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর নিকট দু'আ প্রার্থনা করে। কেননা (মুমিন) মৃত ব্যক্তির জন্য (মুমিন) জীবিত ব্যক্তির দু'আ একদিকে যেমন মৃত ব্যক্তির জন্য রহমাত নাযিলের কারণ হয়, তেমনি সেই ব্যক্তিও সওয়াব ও পুরস্কারের হকদার হয়ে যায়। সহীহ বুখারীতে রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
"মৃত্যুর পর মানুষের আমলের সিলসিলা বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকারের আমল ব্যতীত।
১। সদাকায়ে জারীয়া।
২। তার রেখে যাওয়া ইল্ম যার দ্বারা তার মৃত্যুর পরও মানুষ উপকৃত হয়।
৩। সৎ সন্তান, যে তার জন্য দু'আ করে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00