‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, বাজারে বিক্রি হচ্ছিল এমন একটি রেশমী জুব্বা নিয়ে ‘উমর (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি এটি ক্রয় করে নিন। ‘ঈদের সময় এবং প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এটি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করবেন। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেনঃ এটি তো তার পোষাক, যার (আখিরাতে) কল্যানের কোন অংশ নেই। এ ঘটনার পর ‘উমর (রাঃ) আল্লাহ্র যত দিন ইচ্ছা ততদিন অতিবাহিত করলেন। অতঃপর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিকট একটি রেশমী জুব্বা পাঠালেন, ‘উমর (রাঃ) তা গ্রহণ করেন এবং সেটি নিয়ে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি তো বলেছিলেন, এটা তার পোষাক যার (আখিরাতে) কল্যাণের কোন অংশ নেই। অথচ আপনি এ জুব্বা আমার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেনঃ তুমি এটি বিক্রি করে দাও এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে তোমার প্রয়োজন পূরণ কর।
মালিক (র) থেকে বর্নিতঃ
মালিক (র) বলেন, তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলতেন, যে রুকূ পেয়েছে সে সিজদাও পেয়েছে। আর যাঁহার উম্মুল-কুরআন ফাউত হয়েছে (সূরা ফাতিহা চলে গেছে) তাঁর অনেক সওয়াব ফাউত হয়েছে। (হাদীসটি ইমাম মালিক (রঃ) একক ভাবে বর্ণনা করেছেন)
‘আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘উমর ইব্নু খাত্তাব (রাঃ) মসজিদে নববীর দরজার নিকটে এক জোড়া রেশমী পোশাক (বিক্রি হতে) দেখে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! যদি এটি আপনি খরিদ করতেন আর জুমু‘আর দিন এবং যখন আপনার নিকট প্রতিনিধি দল আসে তখন আপনি তা পরিধান করতেন। তখন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা তো সে ব্যক্তিই পরিধান করে, আখিরাতে যার (মঙ্গলের) কোন অংশ নেই। অতঃপর আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এ ধরনের কয়েক জোড়া পোশাক আসে, তখন তার এক জোড়া তিনি ‘উমর (রাঃ)-কে প্রদান করেন। ‘উমর (রাঃ) আরয করলেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনি আমাকে এটি পরতে দিলেন অথচ আপনি উতারিদের (রেশম) পোশাক সম্পর্কে যা বলার তা তো বলেছিলেন। তখন আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাকে এটি নিজের পরার জন্য দেইনি। ‘উমর ইব্নূ খাত্তাব (রাঃ) তখন এটি মক্কায় তাঁর এক ভাইকে দিয়ে দেন, যে তখন মুশরিক ছিল।
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (সিরিয়ার) সাহূল নগরীর তৈরি তিন কাপড় দ্বারা কাফন দেয়া হয়। তন্মধ্যে জামা ও পাগড়ী ছিল না। (তাঁর নিকট সংরক্ষিত) ‘জোড়া কাপড়’ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে দ্বিধা-দন্দ্ব ছিল যে, তা কাফনের উদ্দেশে খরিদ করা হয়েছে কিনা? তাই তা রেখে দেয়া হ’ল এবং সাহূল নগরীর তৈরি সাদা তিন কাপড়েই কাফন দেয়া হ’ল। এদিকে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বকর (রাঃ) জোড়াটা নিয়ে বললেন, আমি অবশ্যই তা সংরক্ষণ করব এবং আমি নিজেকে এর দ্বারা কাফন দিব। তিনি পুনরায় বললেন, আল্লাহ যদি এটা তাঁর নাবীর জন্য পছন্দ করতেন, তবে অবশ্যই তিনি তা দিয়ে কাফনের ব্যবস্থা করতেন। অতঃপর তা বিক্রি করে তিনি তার মূল্য সদাক্বাহ্ করে দিলেন। (ই.ফা. ২০৪৭, ই.সে. ২০৫২)
এ্যাডভান্স এনালাসিস লোড হচ্ছে...