সহিহ বুখারী অঃ->হিবা ও তার ফযীলত এবং এর প্রতি উৎসাহ প্রদান বাব->পরিধেয় হিসেবে অপছন্দনীয় কিছু হাদিয়া দেয়া। হাঃ-২৬১২

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ‘উমার (রাঃ) মাসজিদের দ্বার প্রান্তে একজোড়া রেশমী বস্ত্র দেখে বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এটা যদি আপনি ক্রয় করে নেন এবং তা জুমু‘আর দিনে ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতেন। তখন তিনি বললেন, এতো সে-ই পরিধান করে, আখিরাতে যার কোন অংশ নেই। পরে কিছু রেশমী জোড়া আসলে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখান থেকে ‘উমার (রাঃ) -কে এক জোড়া দান করলেন। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আপনি এটা আমাকে পরিধান করতে দিলেন অথচ (আগে) রেশমী কাপড় সম্পর্কে আপনি যা বলার বলেছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমিতো এটা তোমাকে পরিধানের জন্য দেইনি। তখন ‘উমার (রাঃ) তা মক্কার তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।


সহিহ মুসলিম অঃ->পোশাক ও সাজসজ্জা বাব->নারী ও পুরুষের জন্য স্বর্ণ- রৌপ্যের বাসন এবং পুরুষের জন্য স্বর্ণের আংটি ও রেশম জাতীয় বস্ত্র ব্যবহার্য হারাম এবং মহিলাদের জন্য এগুলো ব্যবহার করা মুবাহ্; সোনা রূপা ও রেশমের কাপড় অনধিক চার আঙ্গুল পর্যন্ত কারুকার্য খচিত বস্তু পুরুষের জন্য মুবাহ্ হাঃ-৫২৯৪

ইবনু ‘উমার (রা:) থেকে বর্নিতঃ

(একদা) ‘উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) মাসজিদের ফটকের পাশে লাল রঙের ‘হুল্লা’ (রেশম মিশ্রিত চাদর) প্রত্যক্ষ করে বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি যদি এটি ক্রয় করে জুমু’আর দিন এবং যখন কোন নেতৃস্থানীয় দল আপনার কাছে আসে তখন ব্যবহার করতেন (তবে কতই না উত্তম হতো)। সে সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃএটি সে লোকই পরিধান করবে আখিরাতে যার সামান্য অংশও নেই। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে এ রকম কয়েকটি হুল্লা আসলে তিনি সেগুলো থেকে একটি হুল্লা ‘উমার (রাঃ) কে দিলেন। ‘উমার (রা”) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি এটি অধমকে পরতে দিলেন? অথচ আপনিই ‘উতারিদ- এর (এক ব্যক্তি) হুল্লা সম্বন্ধে কত কিছু বলেছেন? তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি এটি তোমাকে ব্যবহার করতে দেইনি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) সেটি তাঁর মাক্কার এক মুশরিক ভাইকে পরিধান করতে দিলেন। (ই.ফা. ৫২২৭, ই.সে. ৫২৪০)


সুনানে আবু দাউদ অঃ->সালাত (নামায) বাব->জুমু’আহর সালাতের পোশাক সম্পর্কে হাঃ-১০৭৬

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মাসজিদে নববীর দরজার সামনে রেশমী পোশাক বিক্রি হতে দেখে বললেন, হে আল্লাহর রসূল ! আপনি এ পোশাক খরিদ করলে এটি জুমু’আহর দিনে এবং আপনার কাছে প্রতিনিধি দলের আগমনকালে পরিধান করতে পারতেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এটা তো তারাই পরবে আখিরাতে যাদের জন্য কিছুই থাকবে না। পরবর্তীতে ঐ ধরনের কাপড় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলে তার একখানা কাপড় তিনি ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে প্রদান করেন। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে পরার জন্য এ কাপড় দিলেন। অথচ ইতিপূর্বে আপনি উত্বারিদ (নামক ব্যাক্তির) কাপড় সম্পর্কে যা বলার বলেছেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন আমি এ কাপড় তোমাকে পরার জন্য দেইনি। অতঃপর ‘উমার (রাঃ) কাপড়টি মক্কার অধিবাসী তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দেন। সহীহঃ বুখারী ও মুসলিম।


সুনানে আবু দাউদ অঃ->পোশাক-পরিচ্ছেদ বাব->রেশমী কাপড় পরিধান সম্পর্কে হাঃ-৪০৪০

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) মাসজিদের দরজায় একজোড়া রেশমী পোশাক বিক্রি হতে দেখে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এক পোশাকটি ক্রয় করতেন তাহলে জুমু’আহ্‌র দিন ও প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতকালে পরতে পারতেন! একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এ পোশাক সেই ব্যাক্তিই পরে যার আখিরাতে কোন প্রাপ্য নেই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু রেশমী কাপড় এলে তিনি তা হতে ‘উমার ইবনুল খাত্তাবকে একজোড়া কাপড় দিলেন। ‘উমার (রাঃ) বললেন বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এটা আমাকে ব্যবহার করতে দিলেন, অথচ ‘উতারিদের’ (জনৈক কাপড় ব্যাবসায়ী) কাপড় সম্পর্কে আপনি এই মন্তব্য করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তোমাকে এটা পরতে দেইনি। অতঃপর ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এটা মক্কাহ্‌য় তার এক মুশরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->জুমু’আ বাব->জুমু’আর পরিচ্ছদ হাঃ-১৩৮২

আব্দুল্লাহ ইব্‌ন উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ) এক জোড়া কাপড় দেখে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! যদি আপনি এই জোড়াটা কিনে নিতেন এবং তা জুমু’আর দিনে পরিধান করতেন! এবং যখন কোন প্রতিনিধি দল আপনার কাছে আসে তখনও! রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এই জোড়া কাপড় তারাই পরিধান করবে যাদের জন্য আখিরাতে কোন অংশ নেই। তারপর একদিন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে অনুরূপ কাপড় হাদিয়া আসলে তিনি উমর (রাঃ)-কে সেখান থেকে এক জোড়া কাপড় দিয়ে দিলেন, তখন উমর (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি এই কাপড় তো আমাকে দান করলেন অথচ আপনি উতারিদের [১] কাপড় জোড়া সম্পর্কে যা যা বলার বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তোমাকে তা পরিধান করার জন্য দেইনি। তখন উমর (রাঃ) উক্ত কাপড় জোড়া তাঁর মক্কার এক মুসরিক ভাইকে দিয়ে দিলেন।


সুনান নাসাঈ অঃ->সাজসজ্জা বাব->সোনালী ডোরাবিশিষ্ট রেশমী কাপড় ব্যবহার নিষেধ হাঃ-৫২৯৫

উমর ইব্‌ন খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি মসজিদের দরজায় সোনালী ডোরাদার রেশমী চাদর বিক্রি হতে দেখলেন। তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! যদি আপনি জুমুআর দিনের জন্য এবং আপনার নিকট কোন বিদেশী প্রতিনিধিদল আসলে পরার জন্য এরূপ একজোড়া খরিদ করতেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এতো ঐ ব্যক্তি পরিধান করবে, আখিরাতে যার কোন অংশ থাকবে না। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ্‌(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ঐরকম কয়েক জোড়া কাপড় আসলে, তিনি তা হতে একজোড়া আমাকে দান করলেন। উমর (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ্‌! আপনি আমাকে এটা দিচ্ছেন, অথচ আগে আপনি এব্যাপারে যা বলার বললেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তা তোমাকে পরার জন্য দেইনি। আমি এজন্য দিয়েছি যে, তুমি এটা অন্য কাউকে পরতে দেবে বা বিক্রি করে অন্য কাজে লাগাবে। উমর (রাঃ) তা তাঁর এক বৈপিত্রেয় ভাইকে দান করেন, যে মুশরিক ছিল।