সুনানে ইবনে মাজাহ > কোন ব্যক্তি এভাবে বলবে না, হে আল্লাহ্‌! তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করো

সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ مِينَاءَ، عَنْ جَوْدَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ ‏ مَنِ اعْتَذَرَ إِلَى أَخِيهِ بِمَعْذِرَةٍ فَلَمْ يَقْبَلْهَا كَانَ عَلَيْهِ مِثْلُ خَطِيئَةِ صَاحِبِ مَكْسٍ ‏" ‏ ‏‏

আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলে : ‘‘হে আল্লাহ্‌ তুমি চাইলে আমাকে ক্ষমা করো’’, বরং সে যেন পূর্ণ দৃঢ়তা সহকারে কামনা করে। কেননা কোন কাজই আল্লাহ্‌র জন্য বাধ্যতামূলক নয়। [৩১৮৬]


সুনানে ইবনে মাজাহ > আল্লাহ্‌র মহান নাম (ইসমে আযম)

সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫৫

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، - هُوَ ابْنُ مِينَاءَ - عَنْ جَوْدَانَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِثْلَهُ ‏.‏

আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র মহান নাম (ইসমে আযম) এই দু’ আয়াতের মধ্যে নিহিত আছে (অনুবাদ) : ‘‘আর তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। তিনি দয়াময় অতি দয়ালু ’’ (২ : ১৬৩) এবং সূরা আল ইমরানের প্রথম আয়াত। [৩১৮৭]


সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ زَمْعَةَ بْنِ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ وَهْبِ بْنِ عَبْدِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا زَمْعَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبِ بْنِ زَمْعَةَ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ خَرَجَ أَبُو بَكْرٍ فِي تِجَارَةٍ إِلَى بُصْرَى قَبْلَ مَوْتِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بِعَامٍ وَمَعَهُ نُعَيْمَانُ وَسُوَيْبِطُ بْنُ حَرْمَلَةَ وَكَانَا شَهِدَا بَدْرًا وَكَانَ نُعَيْمَانُ عَلَى الزَّادِ وَكَانَ سُوَيْبِطٌ رَجُلاً مَزَّاحًا فَقَالَ لِنُعَيْمَانَ أَطْعِمْنِي ‏.‏ قَالَ حَتَّى يَجِيءَ أَبُو بَكْرٍ ‏.‏ قَالَ فَلأُغِيظَنَّكَ ‏.‏ قَالَ فَمَرُّوا بِقَوْمٍ فَقَالَ لَهُمْ سُوَيْبِطٌ تَشْتَرُونَ مِنِّي عَبْدًا لِي قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ إِنَّهُ عَبْدٌ لَهُ كَلاَمٌ وَهُوَ قَائِلٌ لَكُمْ إِنِّي حُرٌّ ‏.‏ فَإِنْ كُنْتُمْ إِذَا قَالَ لَكُمْ هَذِهِ الْمَقَالَةَ تَرَكْتُمُوهُ فَلاَ تُفْسِدُوا عَلَىَّ عَبْدِي ‏.‏ قَالُوا لاَ بَلْ نَشْتَرِيهِ مِنْكَ ‏.‏ فَاشْتَرَوْهُ مِنْهُ بِعَشْرِ قَلاَئِصَ ثُمَّ أَتَوْهُ فَوَضَعُوا فِي عُنُقِهِ عِمَامَةً أَوْ حَبْلاً ‏.‏ فَقَالَ نُعَيْمَانُ إِنَّ هَذَا يَسْتَهْزِئُ بِكُمْ وَإِنِّي حُرٌّ لَسْتُ بِعَبْدٍ ‏.‏ فَقَالُوا قَدْ أَخْبَرَنَا خَبَرَكَ ‏.‏ فَانْطَلَقُوا بِهِ فَجَاءَ أَبُو بَكْرٍ فَأَخْبَرُوهُ بِذَلِكَ ‏.‏ قَالَ فَاتَّبَعَ الْقَوْمَ وَرَدَّ عَلَيْهِمُ الْقَلاَئِصَ وَأَخَذَ نُعَيْمَانَ ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا قَدِمُوا عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَخْبَرُوهُ ‏.‏ قَالَ فَضَحِكَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَصْحَابُهُ مِنْهُ حَوْلاً ‏.‏

কাসিম (রাঃ) (তিনি সত্যবাদী তবে হাদীস বর্ণনায় অপরিচিত) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র ইসমে আযম, যার উল্লেখ করে দুআ’ করলে তা কবুল হয়, তা তিনটি সূরায় রয়েছেঃ সূরা বাকারা, সূরা আল ইমরান ও সূরা তাহা। [উপরোক্ত হাদীসে মোট ২টি সানাদের ১টি বর্ণিত হয়েছে, অপর সানাদটি হলোঃ] ৩/৩৮৫৬ (১). আবূ উমামাহ (রাঃ), নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [৩১৮৮]


সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫৭

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُخَالِطُنَا حَتَّى يَقُولَ لأَخٍ لِي صَغِيرٍ ‏ ‏ يَا أَبَا عُمَيْرٍ مَا فَعَلَ النُّغَيْرُ ‏" ‏ ‏‏ قَالَ وَكِيعٌ يَعْنِي طَيْرًا كَانَ يَلْعَبُ بِهِ ‏‏

বুরায়দাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্‌! নিশ্চয় আমি তোমার নিকট এই বিশ্বাসে প্রার্থনা করছি যে, তুমিই একমাত্র আল্লাহ্‌, তুমি একক সত্তা, স্বয়ংসম্পূর্ণ, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি এবং তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই’’ তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয় এ ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নিকট তাঁর মহান নামের ওয়াসীলায় প্রার্থনা করেছে, যার ওয়াসীলায় প্রার্থনা করলে তিনি অবশ্যই দান করেন এবং যার ওয়াসীলায় দুআ’ করলে তিনি অবশ্যই কবুল করেন। [৩১৮৯]


সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَنْ نَتْفِ الشَّيْبِ وَقَالَ ‏ ‏ هُوَ نُورُ الْمُؤْمِنِ ‏" ‏ ‏‏

আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেনঃ ‘‘হে আল্লাহ্‌! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, কেননা সমস্ত প্রশংসা তোমার, তুমি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তুমি একক সত্তা, তোমার কোন শরীক নেই, তুমি অনুগ্রহকারী, আসমানসমূহ ও যমীনের উদ্ভাবনকারী, মহা শক্তি ও সম্মানের অধিকারী, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে আল্লাহ্‌র নিকট তাঁর ইসমে আযমের (মহান নামের) ওয়াসীলায় প্রার্থনা করেছে, যার ওয়াসীলায় প্রার্থনা করলে তিনি দান করেন এবং যার ওয়াসীলায় দুআ’ করলে তিনি কবুল করেন। [৩১৯০]


সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮৫৯

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ أَبِي الْمُنِيبِ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ نَهَى أَنْ يُقْعَدَ بَيْنَ الظِّلِّ وَالشَّمْسِ ‏.‏

আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ ‘‘হে আল্লাহ্‌! আমি আপনার নিকট আপনার পবিত্র, উত্তম, বরকতপূর্ণ এবং আপনার অধিক প্রিয় নামের ওয়াসীলায় আপনার নিকট প্রার্থনা করছি, যে নামের ওয়াসীলায় আপনাকে ডাকলে আপনি সাড়া দেন, যে নামের ওয়াসীলায় প্রার্থনা করলে আপনি দান করেন, যে নামের ওয়াসীলায় রহমত প্রার্থনা করা হলে আপনি রহমত নাযিল করেন এবং যে নামের ওয়াসীলায় বিপদমুক্তি কামনা করা হলে আপনি বিপদমুক্ত করেন’’। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, একদিন তিনি বললেনঃ হে আয়িশাহ! তুমি কি জানো, আল্লাহ্‌ আমাকে সেই নামটি বলে দিয়েছেন, যে নামের ওয়াসীলায় ডাকলে তিনি সাড়া দেন? আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, তা আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেনঃ হে আয়িশাহ! তা তোমার পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, তখন আমি সরে গিয়ে কিছুক্ষণ বসে থাকলাম, অতঃপর উঠে দাঁড়িয়ে তাঁর মাথায় চুমা দিয়ে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তা আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বলেনঃ হে আয়িশাহ! তা তোমার পক্ষে সম্ভব হবে না। আমি যদি তোমাকে শিখিয়ে দেই তবে সেই নামের ওয়াসীলায় পার্থিব জগতের কিছু প্রার্থনা করা তোমার জন্য সংগত হবে না। আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, তখন আমি উঠে গিয়ে উযু করার এবং দু’ রাক’আত নামায পড়ার পর বললাম, ‘‘হে আল্লাহ্‌! আমি তোমাকে ‘আল্লাহ্‌’ নামে ডাকছি, আমি তোমাকে রহমান নামে ডাকছি, আমি তোমাকে ‘বাররুর রহীম’ নামে ডাকছি এবং আমি তোমাকে আমার জানা-অজানা তোমার যাবতীয় সর্বোত্তম নামে ডাকছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও এবং আমার প্রতি দয়া করো। ’’ আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, এতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অকৃত্রিম হাসি দিলেন, অতঃপর বললেনঃ তুমি যেসব নামে ডাকলে, সেই নামটি অবশ্যই এগুলোর মধ্যে আছে। [৩১৯১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية