সুনানে ইবনে মাজাহ > “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এর ফাদীলাত
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৭৯৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ مَيْمُونٍ الْمَكِّيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَبَرُّ قَالَ أُمَّكَ " . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " أُمَّكَ " . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " أَبَاكَ " . قَالَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " الأَدْنَى فَالأَدْنَى " ."
আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আবূ হুরায়রাহ ও আবূ সাঈদ (রাঃ) সাক্ষ্য দেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ বান্দা যখন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, আল্লাহ মহান) বলেন, তখন মহান আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নাই এবং আমিই মহান। বান্দা যখন বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, তিনি এক), তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে, আমি একা ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নাই। বান্দা যখন বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লা শারীকা লাহু” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, তাঁর কোনো শরীক নাই), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নাই এবং আমার কোনো শরীক নাই। বান্দা যখন বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মূলকু ওয়ালাহুল হামদু” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, তিনিই সার্বভৌমত্বের মালিক এবং সকল প্রশংসা তাঁর), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে, আমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, সার্বভৌমত্ব আমারই এবং সকল প্রশংসা আমারই। যখন সে বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নাই, আল্লাহ ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ হাসিলের কোনো শক্তি নাই), তখন তিনি বলেন, আমার বান্দা সত্য কথা বলেছে। আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নাই এবং আমি ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ হাসিলের কোনো শক্তি নাই। আবূ ইসহাক (রাঃ) বলেন, আল-আগার (রাঃ) আরও কিছু বলেছিলেন, যা আমি হৃদয়ঙ্গম করতে পারিনি। তাই আমি আবূ জাফর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম যে, তিনি কি বলেছিলেন? তিনি বলেন, আল্লাহ যাকে মৃত্যুর সময় এই বাক্য বলার সৌভাগ্য দান করবেন, জাহান্নামের আগুন তাকে স্পর্শ করতে পারবে না। [৩১২৬]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৭৯৫
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لاَ يَجْزِي وَلَدٌ وَالِدَهُ إِلاَّ أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ "
তালহা বিন উবায়দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(সু’দা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ইনতিকালের পর উমার (রাঃ) তালহা (রাঃ)-র নিকট দিয়ে জেতে তাকে বলেন, তোমার কী হয়েছে? তুমি বিষণ্ণ কেন? তোমার চাচাতো ভাই এর খেলাফত কি তোমার অপছন্দ হয়েছে? তালহা (রাঃ) বলেন, না। বরং আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : আমার এমন একটি বাক্য জানা আছে, যা কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর সময় বললে সেটা তার আমলনামার জন্য নূর হবে এবং নিশ্চয়ই তার দেহ ও আত্মা মৃত্যুর সময় তাকে স্বস্তি দিবে। সেটি আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করিনি, এরই মধ্যে তিনি ইন্তিকাল করেন। উমার (রাঃ) বলেন, আমি সেটি জানি। তা হল সেই কলেমা যা তিনি তাঁর চাচার নিকট পেশ করেছিলেন। যদি তিনি জানতেন যে, সেই কলেমার চেয়েও অধিক নাজাত দানকারী কিছু আছে, তবে অবশ্যই সেটি তিনি সেটি তার চাচার নিকট পেশ করতেন। [৩১২৭]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৭৯৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ الْقِنْطَارُ اثْنَا عَشَرَ أَلْفَ أُوقِيَّةٍ كُلُّ أُوقِيَّةٍ خَيْرٌ مِمَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " . وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ أَنَّى هَذَا فَيُقَالُ بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ " ."
মুআয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে কোন ব্যক্তি সর্বান্তঃকরণে এ সাক্ষ্য দিয়ে মারা গেলো, “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং আমি আল্লাহর রাসূল”, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। [৩১২৮]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৭৯৭
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِيكَرِبَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِأُمَّهَاتِكُمْ - ثَلاَثًا - إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِآبَائِكُمْ إِنَّ اللَّهَ يُوصِيكُمْ بِالأَقْرَبِ فَالأَقْرَبِ "
উম্মু হানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (বান্দার) কোন আমলই “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” -কে অতিক্রম করতে পারে না এবং তা কোন গুনাহকেই মাফ না করিয়ে ছাড়ে না। [৩১২৯]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৭৯৮
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَقُّ الْوَالِدَيْنِ عَلَى وَلَدِهِمَا قَالَ هُمَا جَنَّتُكَ وَنَارُكَ "
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি দিনে একশত বার বলে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তাঁর কোন শরীক নাই, রাজত্ব তাঁরই ও সমস্ত প্রশংসা তাঁর, তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান”, তার জন্য দশটি গোলাম আযাদ করার সমান সওয়াব লেখা হয়, একশত নেকী লেখা হয় এবং তার একশত গুনাহ বিলোপ করা হয়, তার এ শব্দগুলো সারা দিন রাত পর্যন্ত তার জন্য শয়তান থেকে প্রতিবন্ধক হয় এবং তাকে যা দান করা হয় তার চেয়ে উত্তম কিছু নিয়ে অপর কেউ হাজির হতে পারবে না। তবে যে ব্যক্তি এ বাক্য তার চেয়ে অধিক সংখ্যায় পরে তার কথা স্বতন্ত্র। [৩১৩০]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৭৯৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، سَمِعَ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ الْوَالِدُ أَوْسَطُ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَأَضِعْ ذَلِكَ الْبَابَ أَوِ احْفَظْهُ "
আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ফজর সালাতের পর বলে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই, সার্বভৌমত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসা তাঁর, তাঁর হাতেই সমস্ত কল্যাণ নিহিত এবং তিনিই সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান , সে ঈসমাইলের (আঃ) বংশের একটি গোলাম আজাদ করার সমান সওয়াব পাবে। [৩১৩১]
সুনানে ইবনে মাজাহ > প্রশংসাকারীদের ফাদীলাত
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮০০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَسِيدِ بْنِ عَلِيِّ بْنِ عُبَيْدٍ، مَوْلَى بَنِي سَاعِدَةَ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ، مَالِكِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي سُلَيْمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَبَقِيَ مِنْ بِرِّ أَبَوَىَّ شَىْءٌ أَبَرُّهُمَا بِهِ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا قَالَ نَعَمْ الصَّلاَةُ عَلَيْهِمَا وَالاِسْتِغْفَارُ لَهُمَا وَإِيفَاءٌ بِعُهُودِهِمَا مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِمَا وَإِكْرَامُ صَدِيقِهِمَا وَصِلَةُ الرَّحِمِ الَّتِي لاَ تُوصَلُ إِلاَّ بِهِمَا "
জাবির বিন আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি : সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই) এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দুআ’ হলো “আলহামদু লিল্লাহ” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর)। [৩১৩২]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮০১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَدِمَ نَاسٌ مِنَ الأَعْرَابِ عَلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَقَالُوا أَتُقَبِّلُونَ صِبْيَانَكُمْ قَالُوا نَعَمْ . فَقَالُوا لَكِنَّا وَاللَّهِ مَا نُقَبِّلُ . فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَمْلِكُ أَنْ كَانَ اللَّهُ قَدْ نَزَعَ مِنْكُمُ الرَّحْمَةَ "
আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর বান্দাগণের মধ্যকার এক বান্দা বললো, “হে প্রভু! আপনার মহিমান্বিত চেহারার এবং আপনার রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা আপনার জন্য”। দু’জন ফেরেশতা একথা শুনে হতবাক হলেন এবং তারা ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না যে, তা কিভাবে লিপিবদ্ধ করবেন। তাই তারা আসমানে আরোহণ করে বলেন, হে আমাদের প্রভু! আপনার এক বান্দা এমন এক বাক্য বলেছে, যা আমরা কিভাবে লিখবো তা বুঝে উঠতে পারছি না। মহান আল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, যদিও তাঁর বান্দা যা বলেছে তা তিনি সম্যক অবগত,- আমার বান্দা কি বলেছে? ফেরেশতাদ্বয় বলেন, হে আমাদের প্রভু! সে বলেছে, “হে প্রভু! তোমার মহিমান্বিত চেহারার এবং তোমার মহান রাজত্বের উপযোগী প্রশংসা তোমার জন্য”। মহান আল্লাহ তাআলা তাদেরকে বলেন, আমার বান্দা যেভাবে বলেছে তদ্রূপই লিখে রাখো। আমার সাথে সাক্ষাত লাভের সময় আমি তাকে তার বিনিময় দান করবো। [৩১৩৩]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮০২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَفَّانُ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي رَاشِدٍ، عَنْ يَعْلَى الْعَامِرِيِّ، أَنَّهُ قَالَ جَاءَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ يَسْعَيَانِ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَضَمَّهُمَا إِلَيْهِ وَقَالَ إِنَّ الْوَلَدَ مَبْخَلَةٌ مَجْبَنَةٌ "
ওয়াইল বিন হুজর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে নামায পড়লাম। এক ব্যক্তি বললো, “আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তায়্যিবান মুবারাকান ফীহি” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, পর্যাপ্ত, পবিত্র ও বরকতপূর্ণ প্রশংসা)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ একথা যে বলেছে, সে কে? লোকটি বললো, আমি, তবে ভালো ছাড়া অন্য কিছু আমার উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেনঃ এই কথাগুলোর জন্য আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়েছে এবং আরশে উপনীত হওয়ার পথে কোন কিছুই তার প্রতিবন্ধক হয়নি। [৩১৩৪]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮০৩
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، سَمِعْتُ أَبِي يَذْكُرُ، عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى أَفْضَلِ الصَّدَقَةِ ابْنَتُكَ مَرْدُودَةً إِلَيْكَ لَيْسَ لَهَا كَاسِبٌ غَيْرُكَ "
আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পছন্দনীয় কিছু দেখলে বলতেন : “আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী বিনিয়’মাতিহি তাতিমুসসালিহাত” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যার করুণায় নেক কাজসমূহ পূর্ণতা লাভ করে)। তিনি অপছন্দনীয় কিছু দেখলে বলতেন : “আলহামদু লিল্লাহি আলা কুল্লি হাল” (সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য)। [৩১৩৫]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮০৪
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بِشْرٍ، عَنْ مِسْعَرٍ، أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ صَعْصَعَةَ، عَمِّ الأَحْنَفِ قَالَ دَخَلَتْ عَلَى عَائِشَةَ امْرَأَةٌ مَعَهَا ابْنَتَانِ لَهَا فَأَعْطَتْهَا ثَلاَثَ تَمَرَاتٍ فَأَعْطَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا تَمْرَةً ثُمَّ صَدَعَتِ الْبَاقِيَةَ بَيْنَهُمَا . قَالَتْ فَأَتَى النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ مَا عَجَبُكِ لَقَدْ دَخَلَتْ بِهِ الْجَنَّةَ "
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলতেন : “আলহামদু লিল্লাহি আলা কুল্লি হাল, রব্বি আউযুবিকা মিন হালি আহলিন্-নার” (সর্বাবস্থায় সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট জাহান্নামীদের অবস্থা থেকে আশ্রয় পার্থনা করি)। [৩১৩৬]
সুনানে ইবনে মাজাহ ৩৮০৫
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ حَرْمَلَةَ بْنِ عِمْرَانَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُشَّانَةَ الْمَعَافِرِيَّ، قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ مَنْ كَانَ لَهُ ثَلاَثُ بَنَاتٍ فَصَبَرَ عَلَيْهِنَّ وَأَطْعَمَهُنَّ وَسَقَاهُنَّ وَكَسَاهُنَّ مِنْ جِدَتِهِ - كُنَّ لَهُ حِجَابًا مِنَ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ কোন বান্দাকে যখন যে নিয়ামতই দান করেন, তাতে সে যদি বলে, “আলহামদু লিল্লাহ”, তবে তা (প্রশংসা) তাকে প্রদত্ত জিনিসের চেয়ে উত্তম। [৩১৩৭]