সুনানে ইবনে মাজাহ > এক-তৃতীয়াংশ সম্পদে ওসিয়াত করা
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭০৮
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ شِبَاكٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ هُنَىِّ بْنِ نُوَيْرَةَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَعَفَّ النَّاسِ قِتْلَةً أَهْلُ الإِيمَانِ "
সা‘দ বিন আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মক্কা বিজয়ের বছর আমি অসুস্থ হয়ে পরলাম, এমনকি আমি মুমূর্ষু অবস্থায় উপনীত হলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে দেখতে এলে আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার প্রচুর মাল আছে। একটি মাত্র কন্যা ব্যতীত আমার কোন ওয়ারিস নেই। আমি কি আমার দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ দান-খয়রাত করবো? তিনি বলেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম, তাহলে এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বলেনঃ এক-তৃতীয়াংশ করতে পারো, তবে এক-তৃতীয়াংশও অধিক। তুমি তোমার ওয়ারিসদেরকে সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাবে, সেটা তাদেরকে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর মত নিঃস্ব অবস্থায় রেখে যাওয়ার তুলনায় অধিক উত্তম। [২৭০৮] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭০৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى الصَّنْعَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُونَ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَهُمْ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ يَسْعَى بِذِمَّتِهِمْ أَدْنَاهُمْ وَيُرَدُّ عَلَى أَقْصَاهُمْ "
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমাদের মৃত্যুর সময়ও তোমাদের মাল থেকে আল্লাহ তাআলা এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করার অধিকার প্রদান করে তোমাদের নেক আমলের পরিমাণ আরো বাড়ানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। [২৭০৯] তাহকীক আলবানীঃ হাসান।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭১০
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعِيدٍ الْجَوْهَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ أَبُو ضَمْرَةَ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ أَبِي الْجَنُوبِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ مَعْقِلِ بْنِ يَسَارٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْمُسْلِمُونَ يَدٌ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ وَتَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ "
ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা বলেন, হে আদম সন্তান! দু’টি জিনিস তোমার পাওনা ছিলো না। তার একটি এই যে, তোমার মৃত্যুর সময় তোমার মাল থেকে একটি অংশ (দান-খয়রাতের জন্য) নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, যাতে তুমি (গুনাহ থেকে) পাকসাফ হতে পারো। আর অপরটি হলো তোমার মৃত্যুর পর তোমার জন্য আমার বান্দাদের দোয়া। [২৭১০] তাহকীক আলবানীঃ দঈফ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭১১
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَيَّاشٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَدُ الْمُسْلِمِينَ عَلَى مَنْ سِوَاهُمْ تَتَكَافَأُ دِمَاؤُهُمْ وَيُجِيرُ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَدْنَاهُمْ وَيَرُدُّ عَلَى الْمُسْلِمِينَ أَقْصَاهُمْ "
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি আশা করি যে, লোকেরা (তাদের ওসিয়াতের পরিমাণ) এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে কমিয়ে আনুক। কেননা, রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক-তৃতীয়াংশও বেশী বা পর্যাপ্ত হয়ে যায়। [২৭১১] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ > ওয়ারিসের অনুকূলে ওসিয়াত করা যাবে না
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭১২
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ أَرْبَعِينَ عَامًا "
আমর বিন খারিজাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্ত্তযানে আরোহিত অবস্থায় তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন। জন্ত্তটি তখন জাবর কাটছিল এবং মুখের লালা আমার উভয় কাঁধের মাঝখান দিয়ে পড়ছিল। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা (মৃতের) পরিত্যক্ত মালে প্রত্যেক ওয়ারিসের অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। তাই কোন ওয়ারিসের অনুকূলে ওসিয়াত করা জায়েয নয়। সন্তান যার অধীন সন্তানের মালিকানা তার, যেনাকারীর জন্য রয়েছে পাথর। যে ব্যক্তি তার পিতাকে বাদ দিয়ে অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেয় অথবা নিজের মনিবকে ত্যাগ ক‘রে অপরকে মনিব বলে পরিচয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার নফল বা ফরয কোন ইবাদাতই কবুল করা হবেনা। [২৭১২] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭১৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مَعْدِيُّ بْنُ سُلَيْمَانَ، أَنْبَأَنَا ابْنُ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ قَتَلَ مُعَاهِدًا لَهُ ذِمَّةُ اللَّهِ وَذِمَّةُ رَسُولِهِ لَمْ يَرَحْ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ سَبْعِينَ عَامًا "
আবূ উমামা আল-বাহিলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বিদায় হজ্জের দিন তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। অতএব কোন ওয়ারিসের অনুকূলে ওসিয়াত করা যাবে না। [২৭১৩] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৭১৪
باب مَنْ أَمِنَ رَجُلاً عَلَى دَمِهِ فَقَتَلَهُ .
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উষ্ট্রীর নিচে ছিলাম এবং এর মুখের লালা আমার গায়ে পড়ছিল। এমতাবস্থায় আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। সাবধান! ওয়ারিসের অনুকূলে ওসিয়াত করা যাবেনা। [২৭১৪] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।