সুনানে ইবনে মাজাহ > মুকাতাব (চুক্তিবদ্ধ দাস) সম্পর্কে।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫১৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْجَرَّاحِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مَيْسَرَةَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشَّرِيكُ أَحَقُّ بِسَقَبِهِ مَا كَانَ "
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তিন শ্রেনীর লোকের প্রত্যেককে সাহায্য করা আল্লাহর কর্তব্য (যদিও কোন কাজ তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়) : আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী, মুকাতাব চুক্তিবদ্ধ দাস যে তার চুক্তিকৃত অর্থ পরিশোধ করতে সংকল্পবদ্ধ এবং যে বিবাহকারী পূত-পবিত্র থাকতে ইচ্ছুক। [২৫১৮]
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫১৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ إِنَّمَا جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشُّفْعَةَ فِي كُلِّ مَا لَمْ يُقْسَمْ فَإِذَا وَقَعَتِ الْحُدُودُ وَصُرِّفَتِ الطُّرُقُ فَلاَ شُفْعَةَ ."
আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে গোলাম এক শত উকিয়ার বিনিময়ে মুক্তিলাভ করতে চুক্তিবদ্ধ, দশ উকিয়া ব্যতিত বাকিটা পরিশোধ করতে পারলে সে আযাদ। [২৫১৯]
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫২০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الشُّفْعَةُ كَحَلِّ الْعِقَالِ "
উম্মু সালামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের (মহিলাদের) মালিকানায় কারো মুকতাব দাস থাকলে এবং তার নিকট চুক্তিকৃত অর্থের সম-পরিমান সম্পদ থাকলে তার থেকে তোমাদের পর্দা করা উচিত। [২৫২০]
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫২১
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْبَيْلَمَانِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لاَ شُفْعَةَ لِشَرِيكٍ عَلَى شَرِيكٍ إِذَا سَبَقَهُ بِالشِّرَاءِ وَلاَ لِصَغِيرٍ وَلاَ لِغَائِبٍ "
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
বারীরা (রাঃ) তার নিকট এলেন, তিনি ছিলেন মুকাতাবা। তিনি তার মালিকের সাথে নয় উকিয়া পরিশোধে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। আয়িশাহ (রাঃ) তাকে বলেন, তোমার মালিক চাইলে আমি এককালীন তাদেরকে তা পরিশোধ করে দিতে পারি এই শর্তে যে, ওয়ালার মালিক হবো আমি। রাবী বলেন, বারীরা তার মালিকের নিকট এসে একথা জানালে তারা এতে অসম্মতি জানায় এবং ওয়ালার মালিকানা তাদের থাকার শর্ত আরোপ করে। আয়িশাহ (রাঃ) বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বলেনঃ তুমি তাকে ক্রয় করো। রাবী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও গুনগান করেন, তারপর বলেনঃ লোকদের কী হলো যে, তারা এমন সব শর্ত আরোপ করে, যা আল্লাহর কিতাবে নাই। যেসব শর্ত আল্লাহর কিতাবে নাই তা বাতিল, যদিও তা সংখ্যায় একশত হয়। আল্লাহর কিতাবই যথার্থ এবং আল্লাহর শর্তই অধিক মজবুত। ওয়ালার মালিক হবে আযাদকারী। [২৫২১]
সুনানে ইবনে মাজাহ > দাসত্বমুক্তি
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫২২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ضَالَّةُ الْمُسْلِمِ حَرَقُ النَّارِ "
কা’ব বিন মুররাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি কাব (রাঃ) কে বললাম, হে কাব বিন মুররাহ! আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীস বর্ণনা করুন এবং সাবধানতা অবলম্বন করুন। তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি একটি মুসলমান গোলাম আযাদ করলো, সে তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের বিনিময় হবে। আজাদকৃত দাসের প্রতিটি হাড় তার হাড়ের প্রতিদান হবে। যে ব্যাক্তি দু’জন মুসলিম দাসীকে আযাদ করবে তারা তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের বিনিময় হবে। তাদের দুটি হাড় তার একটি হাড়ের প্রতিদান হবে। [২৫২২]
সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫২৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنَا الضَّحَّاكُ، خَالُ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ عَنِ الْمُنْذِرِ بْنِ جَرِيرٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ أَبِي بِالْبَوَازِيجِ فَرَاحَتِ الْبَقَرُ فَرَأَى بَقَرَةً أَنْكَرَهَا فَقَالَ مَا هَذِهِ قَالُوا بَقَرَةٌ لَحِقَتْ بِالْبَقَرِ . قَالَ فَأَمَرَ بِهَا فَطُرِدَتْ حَتَّى تَوَارَتْ ثُمَّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لاَ يُئْوِي الضَّالَّةَ إِلاَّ ضَالٌّ "
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ! কোন গোলাম আযাদ করা অধিক উত্তম? তিনি বলেনঃ যে গোলাম তার মনিবের বেশী পছন্দনীয় এবং বেশী মূল্যবান। [২৫২৩]