সুনানে ইবনে মাজাহ > আত্মমর্যাদাবোধ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৯৬
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ سُلَيْمٍ الْكَلْبِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ جَابِرٍ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَمِّهِ، مِخْمَرِ بْنِ مُعَاوِيَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ لاَ شُؤْمَ وَقَدْ يَكُونُ الْيُمْنُ فِي ثَلاَثَةٍ فِي الْمَرْأَةِ وَالْفَرَسِ وَالدَّارِ "
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ্ আত্মমর্যাদাবোধ পছন্দ করেন এবং অপছন্দও করেন। যা থেকে বিপর্যয় সৃষ্টির আশংকা থাকে তা ত্যাগ করার আত্মমর্যাদাবোধ আল্লাহ্ পছন্দ করেন এবং যাতে বিপর্যয় সৃষ্টির আশংকা নেই তা ত্যাগের আত্মমর্যাদাবোধ আল্লাহ্ অপছন্দ করেন। [১৯৯৬]
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৯৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ بْنُ عَاصِمٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ إِنْ كَانَ فَفِي الْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ وَالْمَسْكَنِ " يَعْنِي الشُّؤْمَ
আ'য়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি খাদিজা (রাঃ) -এর ক্ষেত্রে যে আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধি করতাম, তদ্রূপ অপর কোন নারীর ক্ষেত্রে অনুভব করতাম না। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে প্রায়ই তার কথা উল্লেখ করতে দেখেছি। আল্লাহ্ তাআলা তার রসূলকে খাদীজা (রাঃ) -এর জন্য জান্নাতে স্বর্ণ নির্মিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনু মাজাহ (রঃ) তা বলেছেন (অর্থাৎ কাসাব-এর অর্থ সোনা বলেছেন)। [১৯৯৭]
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৯৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَبُو سَلَمَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَاقَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ الشُّؤْمُ فِي ثَلاَثَةٍ فِي الْفَرَسِ وَالْمَرْأَةِ وَالدَّارِ "
মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ বনূ হিশাম ইবনুল মুগীরাহ তাদের কন্যাকে আলী বিন আবূ তালিবের নিকট বিবাহ দিতে আমার নিকট অনুমতি চেয়েছে। আমি তাদেরকে অনুমতি দিবো না, আমি তাদেরকে অনুমতি দিবো না, আমি অনুমতি দিবো না, আমি তাদেরকে অনুমতি দিবো না। তবে আলী বিন আবূ তালিব আমার কন্যাকে তালাক দিলে তা করতে পারে। কেননা ফাতিমা অবশ্যি আমার দেহের একটি টুকরা। যা তার মনঃকষ্টের কারণ হয় তা আমারও মনঃকষ্টের কারণ হয় এবং যা তাকে কষ্ট দেয় তা আমাকেও কষ্ট দেয়। [১৯৯৮]
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৯৯৯
قَالَ الزُّهْرِيُّ فَحَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ، أَنَّ جَدَّتَهُ، زَيْنَبَ حَدَّثَتْهُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّهَا كَانَتْ تَعُدُّ هَؤُلاَءِ الثَّلاَثَةَ وَتَزِيدُ مَعَهُنَّ السَّيْفَ .
মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আলী বিন আবূ তালিব (রাঃ) আবূ জাহলের কন্যাকে বিবাহ করার প্রস্তাব দেন। অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কন্যা ফাতিমাহ (রাঃ) তাঁর বিবাহাধীন ছিলেন। ফাতিমাহ (রাঃ) তা শুনতে পেয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে বলেন, আপনার সম্প্রদায়ের লোক বলাবলি করছে যে, আপনি আপনার কন্যাদের ব্যাপারে কোন কথায় রাগান্বিত হন না। এই আলী আবূ জাহলের কন্যাকে বিবাহ করতে যাচ্ছে। মিসওয়ার (রাঃ) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়ালেন, আমি তাঁকে কালিমা শাহাদাত পাঠ করার পর বলতে শুনলামঃ আমি আবূল আস ইবনুল রাবী' এর নিকট আমার এক কন্যার (যায়নব) বিবাহ দিয়েছিলাম। সে আমাকে যে কথা দিয়েছিল তা রক্ষা করেছে। নিশ্চয় ফাতিমাহ বিনতু মুহাম্মাদ আমার দেহের একটি অংশ। তোমরা তাকে গুনাহে নিক্ষেপ করবে তা আমি পছন্দ করি না। আল্লাহ্র শপথ! আল্লাহ্র রসূলের কন্যা এবং আল্লাহ্র দুশমনের কন্যা এক ব্যক্তির অধীন কখনো একত্র হতে পারে না। [১৯৯৯]
সুনানে ইবনে মাজাহ > যে মহিলা নিজেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য হেবা করে।
সুনানে ইবনে মাজাহ ২০০০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ شَيْبَانَ أَبِي مُعَاوِيَةَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَهْمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ مِنَ الْغَيْرَةِ مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يَكْرَهُ اللَّهُ فَأَمَّا مَا يُحِبُّ فَالْغَيْرَةُ فِي الرِّيبَةِ وَأَمَّا مَا يَكْرَهُ فَالْغَيْرَةُ فِي غَيْرِ رِيبَةٍ "
আ'য়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলতেন, যে নারী নিজেকে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য পেশ করে তার কি লজ্জা হয় না? অবশেষে এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থানুবাদ) : "তুমি তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট থেকে দূরে রাখতে পারো এবং যাকে ইচ্ছা তোমার নিকট স্থান দিতে পারো" (সূরা আহযাবঃ ৫১)। আ'য়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, আপনার প্রভু তো আপনার ইচ্ছা পূরণে আপনার চেয়েও অগ্রগামী। [২০০০]
সুনানে ইবনে মাজাহ ২০০১
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ قَطُّ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ مِمَّا رَأَيْتُ مِنْ ذِكْرِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لَهَا وَلَقَدْ أَمَرَهُ رَبُّهُ أَنْ يُبَشِّرَهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ . يَعْنِي مِنْ ذَهَبٍ قَالَهُ ابْنُ مَاجَهْ .
আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(সাবিত) বলেন, আমরা আনাস বিন মা'লিক (রাঃ) -এর সাথে উপবিষ্ট ছিলাম। তার সাথে তার এক কন্যাও ছিলো। আনাস (রাঃ) বলেন, এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকট এসে নিজেকে তাঁর জন্য পেশ করে। সে বলে, হে আল্লাহ্র রসূল! আপনার কি আমাকে প্রয়োজন আছে? (এ হাদীস শুনে) আনাস (রাঃ) -এর মেয়ে বললো, মহিলাটি কত নির্লজ্জ! আনাস (রাঃ) বলেন, সে তোমার চেয়ে অনেক উত্তম। সে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর প্রতি অনুরক্ত হওয়ার কারণেই নিজেকে তাঁর জন্য পেশ করেছে। [২০০১]