সুনানে ইবনে মাজাহ > অনুমানে খেজুর ও আঙ্গুরের পরিমাণ নির্ধারণ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮১৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، وَالزُّبَيْرُ بْنُ بَكَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نَافِعٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ صَالِحٍ التَّمَّارُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ عَتَّابِ بْنِ أَسِيدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَبْعَثُ عَلَى النَّاسِ مَنْ يَخْرُصُ عَلَيْهِمْ كُرُومَهُمْ وَثِمَارَهُمْ .
আত্তাব বিন আসীদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকেদের আঙ্গুর ও অন্যান্য ফলের পরিমাণ অনুমান করে নির্ধারণের জন্য লোক পাঠাতেন। [১৮১৯]
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২০
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ مَرْوَانَ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ بُرْقَانَ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ، عَنْ مِقْسَمٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حِينَ افْتَتَحَ خَيْبَرَ اشْتَرَطَ عَلَيْهِمْ أَنَّ لَهُ الأَرْضَ وَكُلَّ صَفْرَاءَ وَبَيْضَاءَ . يَعْنِي الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ . وَقَالَ لَهُ أَهْلُ خَيْبَرَ نَحْنُ أَعْلَمُ بِالأَرْضِ فَأَعْطِنَاهَا عَلَى أَنْ نَعْمَلَهَا وَيَكُونَ لَنَا نِصْفُ الثَّمَرَةِ وَلَكُمْ نِصْفُهَا . فَزَعَمَ أَنَّهُ أَعْطَاهُمْ عَلَى ذَلِكَ فَلَمَّا كَانَ حِينَ يُصْرَمُ النَّخْلُ بَعَثَ إِلَيْهِمُ ابْنَ رَوَاحَةَ فَحَزَرَ النَّخْلَ وَهُوَ الَّذِي يَدْعُونَهُ أَهْلُ الْمَدِينَةِ الْخَرْصَ فَقَالَ فِي ذَا كَذَا وَكَذَا . فَقَالُوا أَكْثَرْتَ عَلَيْنَا يَا ابْنَ رَوَاحَةَ . فَقَالَ فَأَنَا أَحْزُرُ النَّخْلَ وَأُعْطِيكُمْ نِصْفَ الَّذِي قُلْتُ . قَالَ فَقَالُوا هَذَا الْحَقُّ وَبِهِ تَقُومُ السَّمَاءُ وَالأَرْضُ . فَقَالُوا قَدْ رَضِينَا أَنْ نَأْخُذَ بِالَّذِي قُلْتَ .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খায়বার জয় করে তথাকার (ইহূদী) আদিবাসীদের সাথে এ চুক্তি করেন যে, খায়বারের ভূমি ও সোনা-রূপা তাঁর [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] সরকারের মালিকানাভুক্ত থাকবে। খায়বারবাসীগণ তাঁকে বললো, আমরা জমাজমি (কৃষিকার্য) সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। অতএব আপনি ভূমি (চাষাবাদের জন্য) এ শর্তে আমাদেরকে ছেড়ে দিন যে, ফল ও ফসলের অর্ধেক আমাদের এবং অর্ধেক আপনাদের। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উক্ত শর্তে খায়বারের ভূমি তাদেরকে (চাষাবাদের জন্য) দিলেন। খেজুর গাছের ফল কাটার সময় হলে তিনি আবদুল্লাহ্ বিন রাওয়াহা (রাঃ)-কে তাদের নিকট পাঠান। তিনি গিয়ে অনুমানে ফলের পরিমাণ নিরূপণ করলেন। মদীনাবাসীর নিকট এ অনুমানের পরিভাষা হলো ‘খারস’। তিনি বলেন, বাগানে এই এই পরিমাণ ফল হবে। ইহূদীরা বললো, হে বিন রাওয়াহা! আপনি আমাদের উপর অধিক ধার্য করেছেন। বিন রাওয়াহা (রাঃ) বলেন, আমি তো অনুমান করছি এবং যা ধার্য করছি তার অর্ধেকই তো তোমাদের দিবো। তারা বললো, এটাই সঠিক (ইনসাফ) এবং এ কারণেই আসমান-যমীন প্রতিষ্ঠিত আছে। অতঃপর তারা বললো, আপনি যা বলেছেন, আমরা তাতে সম্মত হলাম। [১৮২০]
সুনানে ইবনে মাজাহ > যাকাত বাবদ নিকৃষ্ট মাল দেয়া নিষেধ ।
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২১
حَدَّثَنَا أَبُو بِشْرٍ، بَكْرُ بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنِي صَالِحُ بْنُ أَبِي عَرِيبٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ مُرَّةَ الْحَضْرَمِيِّ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَقَدْ عَلَّقَ رَجُلٌ قِنَاءً أَوْ قِنْوًا وَبِيَدِهِ عَصًا فَجَعَلَ يَطْعَنُ بِذَلِكَ يُدَقْدِقُ فِي ذَلِكَ الْقِنْوِ وَيَقُولُ لَوْ شَاءَ رَبُّ هَذِهِ الصَّدَقَةِ تَصَدَّقَ بِأَطْيَبَ مِنْهَا إِنَّ رَبَّ هَذِهِ الصَّدَقَةِ يَأْكُلُ الْحَشَفَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ "
আওফ বিন মালিক আল-আশজাঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাইরে এসে দেখেন যে, এক ব্যক্তি মাসজিদে কয়েকটি খেজুরের ছড়া ঝুলিয়ে রেখেছে। তাঁর হাতে ছিল একটি ছড়ি। তিনি ছড়ি দিয়ে এগুলোতে টোকা দিলেন এবং বললেনঃ ইচ্ছা করলে এই দানকারী আরও উৎকৃষ্টগুলো দান করতে পারতো। এই দানের মালিক কিয়ামাতের দিন তার নিকৃষ্ট মালই খেতে পাবে। [১৮২১]
সুনানে ইবনে মাজাহ ১৮২২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَنْقَزِيُّ، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، عَنِ السُّدِّيِّ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، فِي قَوْلِهِ سُبْحَانَهُ {وَمِمَّا أَخْرَجْنَا لَكُمْ مِنَ الأَرْضِ وَلاَ تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} . قَالَ نَزَلَتْ فِي الأَنْصَارِ كَانَتِ الأَنْصَارُ تُخْرِجُ إِذَا كَانَ جِدَادُ النَّخْلِ مِنْ حِيطَانِهَا أَقْنَاءَ الْبُسْرِ فَيُعَلِّقُونَهُ عَلَى حَبْلٍ بَيْنَ أُسْطُوَانَتَيْنِ فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَيَأْكُلُ مِنْهُ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ فَيَعْمِدُ أَحَدُهُمْ فَيُدْخِلُ قِنْوَ الْحَشَفِ يَظُنُّ أَنَّهُ جَائِزٌ فِي كَثْرَةِ مَا يُوضَعُ مِنَ الأَقْنَاءِ فَنَزَلَ فِيمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ {وَلاَ تَيَمَّمُوا الْخَبِيثَ مِنْهُ تُنْفِقُونَ} . يَقُولُ لاَ تَعْمِدُوا لِلْحَشَفِ مِنْهُ تُنْفِقُونَ . {وَلَسْتُمْ بِآخِذِيهِ إِلاَّ أَنْ تُغْمِضُوا فِيهِ } يَقُولُ لَوْ أُهْدِيَ لَكُمْ مَا قَبِلْتُمُوهُ إِلاَّ عَلَى اسْتِحْيَاءٍ مِنْ صَاحِبِهِ غَيْظًا أَنَّهُ بَعَثَ إِلَيْكُمْ مَا لَمْ يَكُنْ لَكُمْ فِيهِ حَاجَةٌ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْ صَدَقَاتِكُمْ .
বারা’ বিন আযিব (রাঃ), থেকে বর্নিতঃ
মহান আল্লাহ্র বাণী (অনুবাদ): “এবং আমি যা ভূমি থেকে উৎপাদন করে দেই তার মধ্যে যা উৎকৃষ্ট তা ব্যয় করো এবং তা থেকে নিকৃষ্ট অংশ ব্যয় করার সংকল্প করো না” (২:২৬৭) সম্পর্কে বর্ণিত। তিনি বলেন, এ আয়াত আনসারদের সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। কেননা তাদের বাগানে উৎপন্ন খেজুর আধাপাকা হলে তারা খেজুরের কিছু ছড়া রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাসজিদের দু’ খুঁটির মাঝখানে বাঁধা রশিতে ঝুলিয়ে রাখতেন। গরীব মুহাজিরগণ উক্ত ছড়া থেকে খেজুর খেতেন। দানকারীদের ধারণা ছিলো যে, ভালো খেজুরের সাথে নিম্ন মানের খেজুরও থাকলে দোষের কিছু নেই। যারা এরূপ করতো তাদের সম্পর্কে এ আয়াত নাযীল হয় (অনুবাদ): “তোমরা তা থেকে নিকৃষ্ট অংশ ব্যয় করার সংকল্প করো না। কেননা তোমরাও সন্তুষ্টচিত্তে এমন মাল গ্রহণ করবে না।” অর্থাৎ কেউ যদি তোমাদেরকে এমন নিকৃষ্ট জিনিস উপহারস্বরূপ দেয় তবে হয়তো তোমরা দাতার প্রতি চক্ষুলজ্জায় অসন্তুষ্ট চিত্তে তা গ্রহণ করবে আর বলবে, তোমাদের এরূপ উপহারের প্রয়োজন ছিল না। তোমরা জেনে রাখো! আল্লাহ্ তোমাদের দান-খয়রাত থেকে মুখাপেক্ষীহীন। (আল্লাহ্ তায়ালা প্রয়োজনের উর্ধ্বে, তিনি প্রশংসিত)। [১৮২২] তাহকীক আলবানীঃ সহীহ, তা’লীক ইবনু মাজাহ।