আল লু'লু ওয়াল মারজান > নফল সলাত বাড়িতে আদায় করা মুস্তাহাব এবং তা মাসজিদে জায়িয।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৫
حديث ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اجعلوا في بيوتكم من صلاتكم ولا تتخذوها قبورا
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের ঘরেও কিছু সলাত আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবর বানিয়ে নিবে না। (বুখারী পর্ব ৮ : /৫২ হাঃ ৪৩২, মুসলিম ৬/২৯, হাঃ ৭৭৭)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৬
حديث أبي موسى رضي الله عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: مثل الذي يذكر ربه والذي لا يذكر مثل الحي والميت
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার রবের যিক্র করে, আর যে ব্যক্তি যিক্র করে না, তাদের দু’জনের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের। (বুখারী পর্ব ৮০ : /৬৬ হাঃ ৬৪০৭, মুসলিম ৬/২৯, হাঃ ৭৭৯)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৭
حديث زيد بن ثابت، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اتخذ حجزة، من حصير، في رمضان، فصلى فيها ليالي، فصلى بصلاته ناس من أصحابه، فلما علم بهم جعل يقعد، فخرج إليهم، فقال: قد عرفت الذي رأيت من صنيعكم، فصلوا أيها الناس في بيوتكم فإن أفضل الصلاة صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে একটি ছোট কামরা বানালেন। তিনি (বুস্র ইব্নু সা’ঈদ (রহঃ) বলেন, মনে হয়, (যায়দ ইব্নু সাবিত (রাঃ) কামরাটি চাটাই তৈরি ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সেখানে কয়েক রাত সলাত আদায় করেন। আর তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কিছু সাহাবীও তাঁর সঙ্গে সলাত আদায় করেন। তিনি যখন তাঁদের সম্বন্ধে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে থাকলেন। পরে তিনি তাঁদের নিকট এসে বললেন, তোমাদের কার্যকলাপ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঘরেই সলাত আদায় কর। কেননা, ফার্য সলাত ব্যতীত লোকেরা ঘরে যে সলাত আদায় করে তা-ই উত্তম। (বুখারী পর্ব ১০ : /৮১ হাঃ ৭৩১, মুসলিম ৬/২৯, ৭৮১)
আল লু'লু ওয়াল মারজান > কোন ব্যক্তি সলাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্র আযকার এলোমেলো হলে তার প্রতি শুয়ে যাওয়া অথবা বসে যাওয়ার নির্দেশ যে পর্যন্ত না ঐ অবস্থা কেটে যায়।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৮
حديث أنس بن مالك رضي الله عنه، قال: دخل النبي صلى الله عليه وسلم فإذا حبل ممدود بين الساريتين؛ فقال: ما هذا الحبل قالوا: هذا حبل لزينب، فإذا فترت تعلقت فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لاحلوه، ليصل أحدكم نشاطه، فإذا فتر فليقعد
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মাসজিদে) প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, দু’টি স্তম্ভের মাঝে একটি রশি টাঙানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ রশিটি কী কাজের জন্য? লোকেরা বললো, এটি যায়নাবের রশি, তিনি (‘ইবাদাত করতে করতে) অবসন্ন হয়ে পড়লে এটির সাথে নিজেকে বেঁধে দেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করলেনঃ না, ওটা খুলে ফেল। তোমাদের যে কোন ব্যক্তির প্রফুল্লতা ও সজীবতা থাকা পর্যন্ত ইবাদাত করা উচিত। যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যেন সে বসে পড়ে। (বুখারী পর্ব ১৯ : /১৮ হাঃ ১১৫০, মুসলিম ৬/৩১, হাঃ ৭৮৪)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৯
حديث عائشة، أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها وعندها امرأة، قال: من هذه قالت: فلانة، تذكر من صلاتها، قال: مه عليكم بما تطيقون، فوالله لا يمل الله حتى تملوا وكان أحب الدين إليه ما داوم عليه صاحبه
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার তাঁর নিকট আসেন, তাঁর নিকট তখন এক মহিলা ছিলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জিজ্ঞেস করলেনঃ ‘ইনি কে?’ আয়িশাহ (রাঃ) উত্তর দিলেন, অমুক মহিলা, এ বলে তিনি তাঁর সলাতের উল্লেখ করলেন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ ‘থাম, তোমরা যতটুকু সামর্থ্য রাখ, ততটুকুই তোমাদের করা উচিত। আল্লাহ্র শপথ! আল্লাহ্ তা’আলা ততক্ষণ পর্যন্ত (সওয়াব দিতে) বিরত হন না, যতক্ষণ না তোমরা নিজেরা পরিশ্রান্ত হয়ে পড়। আল্লাহ্র নিকট অধিক পছন্দনীয় আমল সেটাই, যা আমলকারী নিয়মিত করে থাকে। (বুখারী পর্ব ২ : /৩২ হাঃ ৪৩, মুসলিম ৬/৩১ হাঃ ৭৮৫)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৫০
حديث عائشة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إذا نعس أحدكم وهو يصلي فليرقد حتى يذهب عنه النوم، فإن أحدكم إذا صلى وهو ناعس لا يدري لعله يستغفر فيسب نفسه
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ সলাতরত অবস্থায় তোমাদের কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে সে যেন ঘুমের আমেজ চলে না যাওয়া পর্যন্ত ঘুমিয়ে নেয়। কারণ, যে তন্দ্রাবস্থায় সলাত আদায় করে সে জানে না যে, সে কি ইসতিগফার করছে নাকি নিজেকে গালি দিচ্ছে। (বুখারী পর্ব ৪ : /৫৩ হাঃ ২১২, মুসলিম ৬/৩১, হাঃ ৭৮৬)