আল লু'লু ওয়াল মারজান > ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে যে সকাল পর্যন্ত সমস্ত রাত্রি ঘুমাল।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪২
حديث عبد الله بن مسعود رضي الله عنه، قال: ذكر عند النبي صلى الله عليه وسلم رجل نام ليله حتى أصبح، قال: ذاك رجل بال الشيطان في أذنيه أو قال: في أذنه
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এমন এক লোকের ব্যাপারে উল্লেখ করা হল, যে সারা রাত এমনকি ভোর পর্যন্ত ঘুমিয়ে ছিল। তখন তিনি বললেন, সে এমন লোক যার উভয় কানে অথবা তিনি বললেন, তার কানে শয়তান পেশাব করেছে। (বুখারী পর্ব ৫৯ : /১১ হাঃ ৩২৭০, মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৪)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৩
حديث علي بن أبي طالب، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم طرقه وفاطمة بنت النبي عليه السلام ليلة، فقال: ألا تصليان فقلت: يا رسول الله أنفسنا بيد الله، فإذا شاء أن يبعثنا بعثنا فانصرف حين قلنا ذلك، ولم يرجع إلي شيئا ثم سمعته وهو مول يضرب فخذه وهو يقول: (وكان الإنسان أكثر شيء جدلا)
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাতে তাঁর কন্যা ফাতিমাহ (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেনঃ তোমরা কি সলাত আদায় করছ না? আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমাদের আত্মাগুলো তো আল্লাহ্ তা’আলার হাতে রয়েছে। তিনি যখন আমাদের জাগাতে মরযী করবেন, জাগিয়ে দিবেন। আমরা যখন একথা বললাম, তখন তিনি চলে গেলেন। আমার কথার কোন প্রত্যুত্তর করলেন না। পরে আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে আপন উরুতে করাঘাত করছিলেন এবং কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেনঃ .............. “মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়”- (আল-কাহাফঃ ৫৪) (বুখারী পর্ব ১৯ : /৫ হাঃ ১১২৭, মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৫)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৪
حديث أبي هريرة رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: يعقد الشيطان على قافية رأس أحدكم إذا هو نام ثلاث عقد؛ يضرب على كل عقدة، عليك ليل طويل فارقد، فإن استيقظ فذكر الله انحلت عقدة، فإن توضأ انحلت عقدة، فإن صلى انحلت عقدة، فأصبح نشيطا طيب النفس، وإلا أصبح خبيث النفس كسلان
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদংশে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি শুয়ে থাক। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহ্কে স্মরণ করে একটি গিঁট খুলে যায়, পরে উযূ করলে আর একটি গিঁট খুলে যায়, অতঃপর সলাত আদায় করলে আর একটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, প্রফুল্ল মনে ও নির্মল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে। (বুখারী পর্ব ১৯ : /১২ হাঃ ১১৪২, মুসলিম ৬/২৮, হাঃ ৭৭৬)
আল লু'লু ওয়াল মারজান > নফল সলাত বাড়িতে আদায় করা মুস্তাহাব এবং তা মাসজিদে জায়িয।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৫
حديث ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: اجعلوا في بيوتكم من صلاتكم ولا تتخذوها قبورا
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের ঘরেও কিছু সলাত আদায় করবে এবং ঘরকে তোমরা কবর বানিয়ে নিবে না। (বুখারী পর্ব ৮ : /৫২ হাঃ ৪৩২, মুসলিম ৬/২৯, হাঃ ৭৭৭)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৬
حديث أبي موسى رضي الله عنه، قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: مثل الذي يذكر ربه والذي لا يذكر مثل الحي والميت
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার রবের যিক্র করে, আর যে ব্যক্তি যিক্র করে না, তাদের দু’জনের দৃষ্টান্ত হলো জীবিত ও মৃতের। (বুখারী পর্ব ৮০ : /৬৬ হাঃ ৬৪০৭, মুসলিম ৬/২৯, হাঃ ৭৭৯)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৪৭
حديث زيد بن ثابت، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم اتخذ حجزة، من حصير، في رمضان، فصلى فيها ليالي، فصلى بصلاته ناس من أصحابه، فلما علم بهم جعل يقعد، فخرج إليهم، فقال: قد عرفت الذي رأيت من صنيعكم، فصلوا أيها الناس في بيوتكم فإن أفضل الصلاة صلاة المرء في بيته إلا المكتوبة
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে একটি ছোট কামরা বানালেন। তিনি (বুস্র ইব্নু সা’ঈদ (রহঃ) বলেন, মনে হয়, (যায়দ ইব্নু সাবিত (রাঃ) কামরাটি চাটাই তৈরি ছিল বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি সেখানে কয়েক রাত সলাত আদায় করেন। আর তাঁর সাহাবীগণের মধ্যে কিছু সাহাবীও তাঁর সঙ্গে সলাত আদায় করেন। তিনি যখন তাঁদের সম্বন্ধে জানতে পারলেন, তখন তিনি বসে থাকলেন। পরে তিনি তাঁদের নিকট এসে বললেন, তোমাদের কার্যকলাপ দেখে আমি বুঝতে পেরেছি। হে লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঘরেই সলাত আদায় কর। কেননা, ফার্য সলাত ব্যতীত লোকেরা ঘরে যে সলাত আদায় করে তা-ই উত্তম। (বুখারী পর্ব ১০ : /৮১ হাঃ ৭৩১, মুসলিম ৬/২৯, ৭৮১)