আল লু'লু ওয়াল মারজান > নফল সলাত দাঁড়িয়ে, বসে এবং একই সলাতের কিছু দাঁড়িয়ে ও বসে পড়া বৈধ।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২৪
حديث عائشة قالت: ما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في شيء من صلاة الليل جالسا، حتى إذا كبر قرأ جالسا، فإذا بقي عليه من السورة ثلاثون أو أربعون آية، قام فقرأهن ثم ركع
তিনি বলেন, রাতের কোন সলাতে আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বসে কিরা’আত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্যে উপনীত হলে তিনি বসে কিরা’আত পড়তেন। যখন (আরম্ভকৃত) সূরার ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সে পরিমাণ কিরা’আত পড়ার পর রুকূ’ করতেন। (বুখারী পর্ব ১৯ : /১৬ হাঃ ১১৪৮, মুসলিম ৬/১৬, হাঃ ৭৩১)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২৫
حديث عائشة أم المؤمنين، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلي جالسا، فيقرأ وهو جالس، فإذا بقي من قراءته نحو من ثلاثين أو أربعين آية قام فقرأها، وهو قائم، ثم ركع ثم سجد، يفعل في الركعة الثانية مثل ذلك، فإذا قضى صلاته نظر، فإن كنت يقظى تحدث معي، وإن كنت نائمة اضطجع
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসে সলাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরা’আত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরা’আতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে যেতেন এবং দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, অতঃপর রুকূ’ করতেন; পরে সাজদাহ্ করতেন। দ্বিতীয় রাকা’আতেও অনুরূপ করতেন। সলাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জাগ্রত থাকলে আমার সাথে বাক্যালাপ করতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন। (বুখারী পর্ব ১৮ : /২০ হাঃ ১১১৯, মুসলিম ৬/১৬, হাঃ ৭৩১)
আল লু'লু ওয়াল মারজান > রাতের সলাত, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রাতের সলাতের সংখ্যা এবং বিত্রের সলাত এক রাক’আত ও এক রাক’আত সলাত সহীহ।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২৬
حديث عائشة عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أنه سأل عائشة، كيف كانت صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فقالت: ما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يزيد [ص: 143] في رمضان ولا في غيره على إحدى عشرة ركعة، يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي أربعا فلا تسل عن حسنهن وطولهن، ثم يصلي ثلاثا قالت عائشة: فقلت يا رسول الله أتنام قبل أن توتر فقال: يا عائشة إن عيني تنامان ولا ينام قلبي
তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, রমাযান মাসে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাত কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতের বেলা) এগার রাক’আতের অধিক সলাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাক’আত সলাত আদায় করতেন। তুমি সেই সলাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাক’আত সলাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। অতঃপর তিনি তিন রাক’আত (বিত্র) সলাত আদায় করতেন। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, (একদিন) আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি বিত্রের পূর্বে ঘুমিয়ে থাকেন? তিনি ইরশাদ করলেনঃ আমার চোখ দু’টি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না। (বুখারী পর্ব ১৯ : /১৬ হাঃ ১১৪৭, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৮)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২৭
حديث عائشة، قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي من الليل ثلاث عشرة ركعة؛ منها الوتر، وركعتا الفجر
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের বেলা তের রাক’আত সলাত আদায় করতেন, বিত্র এবং ফাজরের দু রাক’আত (সুন্নাত)ও এর অন্তর্ভুক্ত। (বুখারী পর্ব ১৯ : /১০ হাঃ ১১৪০, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৮)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২৮
حديث عائشة عن الأسود، قال: سألت عائشة، كيف كان صلاة النبي صلى الله عليه وسلم بالليل قالت: كان ينام أوله، ويقوم آخره، فيصلي ثم يرجع إلى فراشه، فإذا أذن المؤذن وثب فإن كان به حاجة اغتسل، وإلا توضأ وخرج
তিনি বলেন, ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সলাত কেমন ছিল? তিনি বলেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সলাত আদায় করতেন। অতঃপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুআয্যিন আযান দিলে দ্রুত উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, অন্যথায় উযূ করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন। (বুখারী পর্ব ১৯ : /১৫ হাঃ ১১৪৬, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৩৯)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২৯
حديث عائشة عن مسروق، قال: سألت عائشة، أي العمل كان أحب إلى النبي صلى الله عليه وسلم قالت: الدائم، قلت: متى كان يقوم قالت: كان يقوم إذا سمع الصارخ
তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কোন্ আমলটি সর্বাধিক পছন্দনীয় ছিল? তিনি বললেন, নিয়মিত ‘আমল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন? তিনি বললেন, যখন মোরগের ডাক শুনতে পেতেন। (বুখারী পর্ব ১৯ : /৭ হাঃ ১১৩২, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৪১)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৩০
حديث عائشة قالت: ما ألفاه عندي إلا نائما تعني النبي صلى الله عليه وسلم
তিনি বলেন, তিনি আমার নিকট ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই সাহ্রীর সময় হতো। তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে এ কথা বলেছেন। (বুখারী পর্ব ১৯ : /৭ হাঃ ১১৩৩, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৪২)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪৩১
حديث عائشة قالت: كل الليل أوتر رسول الله صلى الله عليه وسلم، وانتهى وتره إلى السحر
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) বিত্র আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহ্রীর সময় তিনি বিত্র আদায় করতেন। (বুখারী পর্ব ১৪ : /২ হাঃ ৯৯৬, মুসলিম ৬/১৭, হাঃ ৭৪৫)