আল লু'লু ওয়াল মারজান > চাশতের সলাত মুস্তাহাব এবং তার সর্বনিম্ন পরিমাণ দু’ রাক’আত। সর্বোচ্চ পরিমাণ আট রাক’আত, মধ্যম পরিমাণ চার বা ছয় রাক’আত এবং এই সলাত সংরক্ষণের প্রতি উৎসাহ প্রদান।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪১৬
حديث عائشة، قالت: إن كان رسول الله صلى الله عليه وسلم ليدع العمل وهو يحب أن يعمل به خشية أن يعمل به الناس فيفرض عليهم، وما سبح رسول الله صلى الله عليه وسلم سبحة الضحى قط، وإني لأسبحها
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে ‘আমাল করা পছন্দ করতেন, সে ‘আমাল কোন কোন সময় এ আশঙ্কায় ছেড়েও দিতেন যে, সে ‘আমাল করতে থাকবে, ফলে তাদের উপর তা ফার্য হয়ে যাবে। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চাশ্তের সলাত আদায় করেননি। আমি সে সলাত আদায় করি। (বুখারী পর্ব ১৯ : /৫ হাঃ ১১২৮, মুসলিম ৬/১৩, হাঃ ৭১৮) * আয়িশাহ (রাঃ) এ কথা তাঁর জানা অনুসারে বলেছেন। উম্মু হানী (রাঃ)-এর রিওয়ায়াতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চাশ্ত আদায় প্রমাণিত আছে।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪১৭
حديث أم هانيء عن ابن أبي ليلى، قال: ما أنبأنا أحد أنه رأى النبي صلى الله عليه وسلم صلى الضحى غير أم هانيء ذكرت أن النبي صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة اغتسل في بيتها، فصلى ثمان ركعات، فما رأيته صلى صلاة أخف منها غير أنه يتم الركوع والسجود
উম্মু হানী (রাঃ) ব্যতীত অন্য কেউ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সলাতুয্ যুহা (পূর্বাহ্নের সলাত) আদায় করতে দেখেছেন বলে আমাদের জানাননি। তিনি [উম্মে হানী (রাঃ)] বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন তাঁর ঘরে গোসল করার পর আট রাক’আত সলাত আদায় করেছেন। আমি তাঁকে এর থেকে সংক্ষিপ্ত কোন সলাত আদায় করতে দেখিনি, তবে তিনি রুকূ’ ও সাজদাহ্ পূর্ণভাবে আদায় করেছিলেন। (বুখারী পর্ব ১৯ : /৩৩ হাঃ ৩৫৭, মুসলিম ৬/১৬, হাঃ ৩৩৬)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪১৮
حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: أوصاني خليلي بثلاث، لا أدعهن حتى أموت: صوم ثلاثة أيام من كل شهر، وصلاة الضحى، ونوم على وتر
তিনি বলেন, আমার খলীল ও বন্ধু (নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) আমাকে তিনটি কাজের ওসিয়্যাত (বিশেষ আদেশ) করেছেন, মৃত্যু পর্যন্ত তা আমি পরিত্যাগ করব না। (তা হল) (১) প্রতি মাসে তিন দিন সিয়াম (পালন করা), (২) সলাতুয্-যোহা (চাশ্ত এর সলাত আদায় করা) এবং (৩) বিত্র (সলাত) আদায় করে শয়ন করা। (বুখারী পর্ব ১৯ : /৩৩, হাঃ ১১৭৮, মুসলিম ৬/১৩, হাঃ ৭২১)
আল লু'লু ওয়াল মারজান > ফাজ্রের দু’ রাক’আত সলাত মুস্তাহাব এবং তার প্রতি উৎসাহ প্রদান।
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪১৯
حديث حفصة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان، إذا اعتكف المؤذن للصبح، وبدا الصبح، صلى ركعتين خفيفتين قبل أن تقام الصلاة
তিনি বলেন, যখন মুআয্যিন সুব্হে সাদিকের প্রতীক্ষায় থাকত (ও আযান দিত) এবং ভোর স্পষ্ট হতোথ- জামা’আত দাঁড়ানোর পূর্বে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সংক্ষেপে দু’রাক’আত সলাত আদায় করে নিতেন। (বুখারী পর্ব ১০ : /১২ হাঃ ৬১৮, মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৩)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২০
حديث عائشة، أنها قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يصلي ركعتين خفيفتين بين النداء والإقامة من صلاة الصبح
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের আযান ও ইকামতের মাঝে দু’ রাক’আত সলাত সংক্ষেপে আদায় করতেন। (বুখারী পর্ব ১০ : /১২ হাঃ ৬১৯, মুসলিম ৬/১৪, হাঃ ৭২৪)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২১
حديث عائشة، قالت: كان النبي صلى الله عليه وسلم يخفف الركعتين اللتين قبل صلاة الصبح، حتى إني لأقول هل قرأ بأم الكتاب
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের আযান ও ইকামতের মাঝে দু’ রাক’আত সলাত এতো সংক্ষেপে আদায় করতেন যে আমি মনে মনে বলতাম, তিনি কি সুরাহ ফাতিহা পাঠ করেছেন? ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের আযান ও ইকামতের মাঝে দু’ রাক’আত সলাত সংক্ষেপে আদায় করতেন। (বুখারী পর্ব ১৯ : /২৮ হাঃ ১১৬৫, মুসলিম পর্ব ৬/১৪ হাঃ ৭২৪)
আল লু'লু ওয়াল মারজান ৪২২
حديث عائشة، قالت: لم يكن النبي صلى الله عليه وسلم على شيء من النوافل أشد منه تعاهدا على ركعتي الفجر
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কোন নফল সলাতকে ফাজরের দু’রাক’আত সুন্নাতের চেয়ে অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন না। (বুখারী পর্ব ১৯ :/২৭ হাঃ ১১৬৩, মুসলিম পর্ব ৬ :/১৪, হাঃ ৬২৪) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, । (বুখারী পর্ব ১৯ : /২৭ হাঃ ১১৬৩, মুসলিম হাঃ ,)