মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ। - হাদিস সম্ভার | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

হাদিস সম্ভার > মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ।

হাদিস সম্ভার ৫৯১

وَفِي اَلصَّحِيحَيْنِ" : عَنْ عَلِيٍّ [رَضِيَ اَللَّهُ عَنْهُ قَالَ]: { "ذِمَّةُ اَلْمُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ يَسْعَى ِبهَا أَدْنَاهُمْ" } 1‏ .‏"

তিনি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছেন, “যে ব্যক্তি কাউকে হারানো জিনিস সন্ধান (ঘোষণা) করতে শোনে, সে যেন বলে, “আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।’ কারণ, মসজিদ এর জন্য বানানো হয়নি।” (মুসলিম ১২৮৮নং)


হাদিস সম্ভার ৫৯২

زَادَ اِبْنُ مَاجَه مِنْ وَجْهٍ آخَرَ: { يُجِيرُ عَلَيْهِمْ أَقْصَاهُمْ" } 1‏ ‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমরা কাউকে মসজিদের মধ্যে কেনা-বেচা করতে দেখবে, তখন বলবে, ‘আল্লাহ তোমার ব্যবসায় যেন লাভ না দেন।’ আর যখন কাউকে হারানো জিনিস খুঁজতে দেখবে, তখন বলবে, আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।” (তিরমিযী ১৩২১, নাসাঈর কুবরা ১০০০৪, ইবনে খুযাইমা ১৩০৫, হাকেম ২৩৩৯, সহীহ তারগীব ২৮৭নং)


হাদিস সম্ভার ৫৯৩

وَفِي اَلصَّحِيحَيْنِ" مِنْ حَدِيثٍ أَمِ هَانِئٍ: { قَدْ أَجَرْنَا مَنْ أَجَرْتِ" } 1‏ .‏"

একটি লোক মসজিদের মধ্যে (হারানো বস্তু সম্পর্কে) ঘোষণা পূর্বক বলল, ‘আমাকে আমার লাল উটের সন্ধান কে দিতে পারবে?’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “তুমি যেন তা না পাও। মসজিদ সেই কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে, যে কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে।” (মুসলিম ১২৯০-১২৯১নং) (অর্থাৎ ইবাদতের জন্য, হারানো জিনিস খোঁজার জন্য নয়।)


হাদিস সম্ভার ৫৯৪

وَعَنْ عُمَرَ ‏- رضى الله عنه ‏- أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-يَقُولُ: { لَأَخْرِجَنَّ اَلْيَهُودَ وَالنَّصَارَى مِنْ جَزِيرَةِ اَلْعَرَبِ, حَتَّى لَا أَدَعَ إِلَّا مُسْلِماً" } رَوَاهُ مُسْلِمٌ‏ 1‏ ‏

তিনি তাঁর (আম্‌রের) দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন মসজিদের মধ্যে কেনা-বেচা করতে, হারানো বস্তু সন্ধান করতে অথবা তাতে (অবৈধ) কবিতা আবৃত্তি করতে। (আবূ দাউদ ১০৮১, তিরমিযী ৩২২নং, হাসান)


হাদিস সম্ভার ৫৯৫

وَعَنْهُ قَالَ: { كَانَتْ أَمْوَالُ بَنِي اَلنَّضِيرِ مِمَّا أَفَاءَ اَللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ, مِمَّا لَمْ يُوجِفْ عَلَيْهِ اَلْمُسْلِمُونَ بِخَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ, فَكَانَتْ لِلنَّبِيِّ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-خَاصَّةً, فَكَانَ يُنْفِقُ عَلَى أَهْلِهِ نَفَقَةَ سَنَةٍ, وَمَا بَقِيَ يَجْعَلُهُ فِي اَلْكُرَاعِ وَالسِّلَاحِ, عُدَّةً فِي سَبِيلِ اَللَّهِ } مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.‏ 1‏ .‏"

তিনি বলেন, আমি মসজিদে (নববীতে) ছিলাম। এমন সময় একটি লোক আমাকে কাঁকর ছুঁড়ে মারল। আমি তার দিকে তাকাতেই দেখি, তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি বললেন, ‘যাও, ঐ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এস।’ আমি তাদেরকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেন, ‘তোমরা কোথাকার?’ তারা বলল, ‘আমরা তায়েফের অধিবাসী।’ তিনি বললেন, ‘তোমরা যদি এই শহর (মদীনার) লোক হতে, তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছ!’ (বুখারী ৪৭০নং)


হাদিস সম্ভার ৫৯৬

وَعَنْ مُعَاذٍ ‏- رضى الله عنه ‏- قَالَ: { غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-خَيْبَرَ, فَأَصَبْنَا فِيهَا غَنَمًا , فَقَسَمَ فِينَا رَسُولُ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-طَائِفَةً, وَجَعَلَ بَقِيَّتَهَا فِي اَلْمَغْنَمِ } رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَرِجَالُهُ لَا بَأْسَ بِهِمْ 1‏ .‏"

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আখেরী যামানায় এক শ্রেণীর লোক হবে যারা মসজিদে (সাংসারিক) কথা-বার্তা বলবে। এদেরকে নিয়ে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (ইবনে হিব্বান ৬৭৬১, সহীহ তারগীব ২৯৬নং)


হাদিস সম্ভার ৫৯৭

وَعَنْ أَبِي رَافِعٍ ‏- رضى الله عنه ‏- قَالَ: قَالَ رَسُولُ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-{ إِنِّي لَا أَخِيسُ بِالْعَهْدِ, وَلَا أَحْبِسُ اَلرُّسُلَ " } رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ 1‏ ‏

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “শেষ জামানায় এমন এক শ্রেণীর লোক হবে, যারা মসজিদে গোল হয়ে বসবে; যাদের ইমাম হবে দুনিয়া (তারা জাগতিক কথা আলোচনা করবে)। সুতরাং তোমরা তাদের সাথে বসবে না। কারণ তাদেরকে নিয়ে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।” (ত্বাবারানী ১০৩০০, সিলসিলাহ সহীহাহ ১১৬৩নং)


হাদিস সম্ভার > (কাঁচা) রসুন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।

হাদিস সম্ভার ৫৯৮

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏- رضى الله عنه ‏- عَنْ اَلنَّبِيِّ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-قَالَ: { كُلِّ ذِي نَابٍ مِنْ اَلسِّبَاعِ, فَأَكَلَهُ حَرَامٌ" } رَوَاهُ مُسْلِمٌ‏ (1726)‏ ‏

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই গাছ---অর্থাৎ রসুন---থেকে কিছু খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।” (বুখারী ৮৫৩, মুসলিম ১২৭৭ নং) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদসমূহের নিকটবর্তী না হয়।”


হাদিস সম্ভার ৫৯৯

وَأَخْرَجَهُ: مِنْ حَدِيثِ اِبْنِ عَبَّاسٍ بِلَفْظٍ: نَهَى.‏ وَزَادَ: { وَكُلُّ ذِي مِخْلَبٍ مِنْ اَلطَّيْرِ" } (1727)‏ ‏

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি এই (রসুন) গাছ থেকে কিছু ভক্ষণ করল, সে যেন অবশ্যই আমাদের নিকটবর্তী না হয়, আর না আমাদের সাথে নামায পড়ে।” (বুখারী ৮৫৬, মুসলিম ১২৭৮নং)


হাদিস সম্ভার ৬০০

وَعَنْ جَابِرٍ ‏- رضى الله عنه ‏- قَالَ: { نَهَى رَسُولُ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ اَلْحُمُرِ اَلْأَهْلِيَّةِ, وَأْذَنْ فِي لُحُومِ اَلْخَيْلِ } مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.‏ (1728)‏ .‏ وَفِي لَفْظِ اَلْبُخَارِيِّ: { وَرَخَّصَ } .‏ (1729)‏ .‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি (কাঁচা) রসুন অথবা পিঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে।” (বুখারী ৮৫৫, মুসলিম ১২৮১নং) মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যক্তি (কাঁচা) পিঁয়াজ, রসুন এবং লীক পাতা খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কেননা, ফিরিশুাগণ সেই জিনিসে কষ্ট পান, যাতে আদম-সন্তান কষ্ট পায়।” (মুসলিম ১২৮২নং)


হাদিস সম্ভার ৬০১

وَعَنْ اِبْنِ أَبِي أَوْفَى قَالَ: { غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-سَبْعَ غَزَوَاتٍ, نَأْكُلُ اَلْجَرَادَ } مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ (1730)‏ .‏

তিনি এক জুমআর দিন খুতবা দিলেন, সে খুতবায় তিনি বললেন, “অতঃপর তোমরা হে লোক সকল! দুই শ্রেণীর এমন গাছ (সব্জি) খেয়ে থাক; যা (কাঁচা অবস্থায়) খাওয়ার অনুপযুক্ত মনে করি; পিঁয়াজ আর রসুন। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদের মধ্যে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ দুই (সব্জি)র দুর্গন্ধ পেতেন, তখন তাকে (মসজিদ থেকে বহিষ্কার করতে) আদেশ দিতেন। ফলে তাকে বাকী’ (নামক জায়গা) পর্যন্ত বের করে দেওয়া হত। সুতরাং যে ঐ দুই সব্জি খেতে চায়, সে যেন ঐগুলি রান্না ক’রে তার গন্ধ মেরে খায়।” (মুসলিম ১২৮৬নং)


হাদিস সম্ভার ৬০২

وَعَنْ أَنَسٍ ‏- فِي قِصَّةِ اَلْأَرْنَبِ ‏- { قَالَ: فَذَبَحَهَا, فَبَعَثَ بِوَرِكِهَا إِلَى رَسُولِ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-فَقَبِلَهُ } مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.‏ (1731)‏ .‏

‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করতে এবং তা পরিস্কার ও সুগন্ধময় করে রাখতে আদেশ করেছেন।” (আহমাদ, আবূ দাউদ ৪৫৫, তিরমিযী ৫৯৪, ইবনে মাজাহ ৭৫৮, ইবনে খুযাইমা ১২৯৪, ইবনে হিব্বান ১৬৩৪নং)


হাদিস সম্ভার ৬০৩

وَعَنْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اَللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: { نَهَى رَسُولُ اَللَّهِ ‏- صلى الله عليه وسلم ‏-عَنْ قَتْلِ أَرْبَعِ مِنْ اَلدَّوَابِّ: اَلنَّمْلَةُ, وَالنَّحْلَةُ, وَالْهُدْهُدُ, وَالصُّرَدُ } رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَأَبُو دَاوُدَ, وَصَحَّحَهُ اِبْنُ حِبَّانَ.‏ (1732)‏ .‏

‘কেউ যেন মসজিদকে শয়নাগার ও বিশ্রামাগার বানিয়ে না নেয়।’ (তিরমিযী ৩২১নং)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية