রিয়াদুস সলেহিন > মৃতের জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হারাম। তবে স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চারমাস দশদিন শোক পালন করবে
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৩
وعن جابر رضي الله عنه قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يتعاطى السيف مسلولا" ((رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن))
তিনি বলেন, যখন শাম (সিরিয়া) থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মে হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহার পিতা আবূ সুফয়ান (রাঃ)-এর মৃত্যু সংবাদ পৌঁছল, তখন আমি তাঁর বাসায় প্রবেশ করলাম। (মৃত্যুর তিনদিন পর) তিনি হলুদ বর্ণ দ্রব্য বা অন্য দ্রব্য মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন। তা থেকে কিছু নিয়ে স্বীয় দাসীকে এবং নিজের দুই গালে মাখলেন। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর (খুতবা দান কালে) এ কথা বলতে শুনেছি যে, ‘‘যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশ দিন শোক পালন করবে।’’ যয়নাব বলেন, তারপর যখন যয়নাব বিন্তে জাহ্শ রাদিয়াল্লাহু আনহার ভাই মারা গেলেন, তখন আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি সুগন্ধি আনালেন এবং তা থেকে কিছু নিয়ে মাখার পর বললেন; আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধির কোন প্রয়োজন ছিল না, কিন্তু আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বরের উপর (খুতবা দান কালে) এ কথা বলতে শুনেছি যে, ‘‘যে স্ত্রীলোক আল্লাহ ও কিয়ামতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে স্বামী ছাড়া অন্য কোন মৃত ব্যক্তির জন্য তিন দিনের বেশী শোক পালন করা জায়েয নয়। অবশ্য তার স্বামীর জন্য সে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।’’
রিয়াদুস সলেহিন > ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত কিছু বিধি-নিষেধ
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৪
عن أبي الشعثاء قال: كنا قعودًا مع أبي هريرة رضي الله عنه في المسجد فأذن المؤذن، فقام رجل من المسجد يمشي، فأتبعه أبو هريرة بصره حتى خرج من المسجد فقال أبو هريرة: أما هذا فقد عصى أبا القاسم صلى الله عليه وسلم ((متفق عليه))."
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যেন কোন শহুরে লোক কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে; যদিও সে তার সহোদর ভাই হয়।’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৫
عن أبي هريرة رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : “من عرض عليه ريحان، فلا يرده، فإنه خفيف المحمل طيب الريح ((رواه مسلم))."
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘বাজারে নামার পূর্বে কোন পণ্য (বাজারের বাইরে) আগে বেড়ে ক্রয় করবে না।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৬
وعن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يرد الطيب” ((رواه البخاري)).
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘(বাজারের) বাইরে গিয়ে পণ্য নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করবে না। আর কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে।’’ ত্বাউস তাঁকে বললেন, ‘কোন শহুরে লোক যেন কোন গ্রাম্য লোকের পণ্য বিক্রয় না করে’ এর অর্থ কী? তিনি বললেন, ‘সে যেন তার দালালি না করে।’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৭
وعن أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا يُثني على رجل ويُطريه في المدحة، فقال: أهلكتم، أو قطعتم ظهر الرجل" ((متفق عليه)). (23)."
তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গ্রাম্য লোকের পণ্যদ্রব্য বেচতে শহুরে লোককে নিষেধ করেছেন। (তিনি বলেছেন,) ‘‘ক্রেতাকে প্রতারিত ক’রে মূল্য বৃদ্ধির জন্য দালালি করো না। কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় করবে না। আর কোন ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের প্রস্তাব দেবে না। কোন মহিলা তার বোনের [সতীনের] তালাক চাইবে না; যাতে সে তার পাত্রে যা আছে তা ঢেলে ফেলে দেয়। (এবং একাই স্বামী-প্রেমের অধিকারিণী হয়।)’’ অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পণ্য ক্রয় করার জন্য (বাজারের) বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে সাক্ষাৎ করতে, মুহাজির হয়ে মরুবাসীর পণ্যদ্রব্য বিক্রয় করতে, (বিয়ের সময়) মহিলার তার বোনের (সতীনকে) তালাক দিতে হবে এরূপ শর্তারোপ করতে এবং (মুসলিম) ভাইয়ের দর-দাম করার উপর দর-দাম করতে বারণ করেছেন। আর তিনি (প্রতারণার দালালি ক’রে) পণ্যের দাম বাড়াতে এবং কয়েকদিন ধরে পশুর স্তনে দুধ জমা রেখে তা ফুলিয়ে রাখতে নিষেধ করেছেন।
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৮
وعن أبي بكر رضي الله عنه أن رجلا ذُكر عند النبي صلى الله عليه وسلم ، فأثنى عليه رجل خيرًا، فقال النبي صلى الله عليه وسلم : ويحك! قطعت عنق صاحبك" يقوله مرارًا "وإن كان أحدكم مادحًا لا محالة، فليقل: أحسب كذا وكذا إن كان يرى أنه كذلك وحسيبه الله، ولا يزكي على الله أحدًا" ((متفق عليه))."
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যেন অপরের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয় না করে এবং তার মুসলিম ভাইয়ের বিবাহ প্রস্তাবের উপর নিজের বিবাহ-প্রস্তাব না দেয়। কিন্তু যদি সে তাকে সম্মতি জানায় (তবে তা বৈধ)।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭৮৯
وعن همام بن الحارث، عن المقداد، رضي الله عنه أم رجلا جعل يمدح عثمان رضي الله عنه ، فعمد المقداد، فجثا على ركبتيه، فجعل يحثو في وجهه الحصباء، فقال له عثمان: ما شأنك؟ فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: “إذا رأيتم المادحين، فاحثوا في وجوههم التراب ((رواه مسلم)). فهذه الأحاديث في النهي، وجاء في الإباحة أحاديث كثيرة صحيحة. قال العلماء: وطريق الجمع بين الأحاديث أن يقال: إن كان الممدوح عنده كمال إيمان ويقين، ورياضة نفس، ومعرفة تامة بحيث لا يفتن، ولا يغتر بذلك، ولا تلعب به نفسه، فليس بحرام ولا مكروه، وإن خيف عليه شيء من هذه الأمور، كره مدحه في وجهه كراهة شديدة، وعلى هذا التفصيل تنزل الأحاديث المختلفة في ذلك. ومما جاء في الإباحة قوله صلى الله عليه وسلم لأبي بكر رضي الله عنه: “أرجو أن تكون منهم" أي من الذين يُدعون من جميع أبواب الجنة لدخولها، وفي الحديث الآخر: "لست منهم" أي: لست من الذين يُسبلون أُزرهم خيلاء. وقال صلى الله عليه وسلم لعمر رضي الله عنه: “ما رآك الشيطان سالكًا فجًا إلا سلك فجًا غير فجك” والأحاديث في الإباحة كثيرة، وقد ذكرت جملة من أطرافها في كتاب: "الأذكار"."
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘এক মু’মিন অপর মু’মিনের ভাই। কোন মু’মিনের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের কথা বলবে। আর এটাও বৈধ নয় যে, সে ভাইয়ের বিবাহ-প্রস্তাবের উপর নিজের বিবাহ-প্রস্তাব দেবে; যতক্ষণ না সে বর্জন করে।’’