রিয়াদুস সলেহিন > ইচ্ছাকৃত মিথ্যা কসম খাওয়া কঠোর নিষিদ্ধ
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২১
عن جابر رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا يسأل بوجه الله إلا الجنة" ((رواه أبو داود))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির মাল নাহক আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা কসম খাবে, সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে, যখন তিনি তার উপর ক্রোধান্বিত থাকবেন। অতঃপর এর সমর্থনে আল্লাহ আযযা অজাল্লার কিতাব থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পড়ে শোনালেন, যার অর্থ, ‘যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি ও নিজেদের শপথ স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করে, পরকালে তাদের কোন অংশ নেই। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সঙ্গে কথা বলবেন না, তাদের দিকে (দয়ার দৃষ্টিতে) চেয়ে দেখবেন না, তাদেরকে পরিশুদ্ধ করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২২
وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من استعاذ بالله فأعيذوه، ومن سأل بالله، فأعطوه، ومن دعاكم فأجيبوه، ومن صنع إليكم معروفًا فكافئوه، فإن لم تجدوا ما تكافئونه به، فادعوا له حتى تروا أنكم قد كافأتموه" ((حديث صحيح رواه أبو داود والنسائي بأسانيد الصحيحين))
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন মুসলিম ব্যক্তির অধিকার নিজ কসম দ্বারা আত্মসাৎ করবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন ওয়াজেব ক’রে দেবেন এবং তার উপর জান্নাত হারাম ক’রে দেবেন।’’ এ কথা শুনে তাঁকে এক ব্যক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! যদি তা সামান্য জিনিস হয় তবুও?’ তিনি বললেন, ‘‘যদিও পিল্লু গাছের একটি ডালও হয়।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২৩
وعن أبي هريرة رضي الله عنه النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن أخنع اسم عند الله عز وجل رجل تسمى ملك الأملاك" ((متفق عليه))
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘কাবীরাহ গোনাহ হচ্ছে আল্লাহর সাথে শির্ক করা। মাতা-পিতার অবাধ্যাচরণ করা, (অন্যায় ভাবে) কোন প্রাণ হত্যা করা, মিথ্যা কসম খাওয়া।’’
রিয়াদুস সলেহিন > নির্দিষ্ট বিষয়ে কসম খাওয়ার পর যদি তার বিপরীতে ভালাই প্রকাশ পায়, তাহলে কসমের কাফফারা দিয়ে ভালো কাজটাই করা উত্তম
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২৪
عن بريدة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا تقولوا للمنافق سيد، فإنه إن يكن سيدًا، فقد أسخطتم ربكم عز وجل" ((رواه أبو داود بإسناد صحيح))
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘যখন তুমি কোন কিছুর ব্যাপারে কসম খাবে এবং তা ব্যতীত অন্য কিছুর মধ্যে কল্যাণ দেখতে পাবে, তবে নিজ কসমের কাফফারা দিয়ে (যাতে কল্যাণ নিহিত আছে) সেই উত্তমটি গ্রহণ করো।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২৫
عن جابر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل على أم السائب، أو أم المسيب فقال: مالك يا أم السائب -أو يا أم المسيب- تزفزفين؟ " قالت: الحمى لا بارك الله فيها، فقال: "لا تسبي الحمى، فإنها تذهب خطايا بني آدم، كما يذهب الكير خبث الحديد" ((رواه مسلم))."
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন কিছুর ব্যাপারে কসম খায় এবং তা ব্যতীত অন্য কিছুর মধ্যে কল্যাণ দেখতে পায়, তাহলে সে যেন তার কসমের কাফফারা দিয়ে যেটি উত্তম সেটি গ্রহণ করে।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২৬
عن أبي المنذر أبي بن كعب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : لا تسبوا الريح، فإذا رأيتم ما تكرهون، فقولوا: اللهم إنا نسألك من خير هذه الريح وخير ما فيها وخير ما أُمرت به، ونعوذ بك من شر هذه الريح وشر ما فيها وشر ما أُمرت به" ((رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح))
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর শপথ! ইন শাআল্লাহ, আমি যখনই কিছুর ব্যাপারে হলফ করব, তারপর তার চেয়ে উত্তম কিছু দেখতে পাব, তখন আমার কসম ভঙ্গের কাফফারা দিয়ে যেটি উত্তম সেটিই করব।’’
রিয়াদুস সলেহিন ১৭২৭
وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: الريح من روح الله، تأتي بالرحمة، وتأتي بالعذاب، فإذا رأيتموها فلا تسبوها، وسلوا الله خيرها، واستعيذوا بالله من شرها" ((رواه أبو داود بإسناد حسن))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আপন পরিবার পরিজনের ব্যাপারে কসম খায় ও (তার চেয়ে উত্তম অন্য কিছুতে জেনেও) তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, সে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নিকট এই কর্মটি বেশি গোনাহর কারণ হবে এই কর্ম থেকে যে, সে (কসম ভেঙ্গে) সেই কাফফারা আদায় করবে, যা আল্লাহ তার উপর ফরয করেছেন।’’