মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ

রিয়াদুস সলেহিন ১৭০৫

عن أم سلمة رضي الله عنها قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من كان له ذبح يذبحه، فإذا أهل هلال ذي الحجة، فلا يأخذن من شعره ولا من أظفاره شيئًا حتى يضحي‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কাউকে হারানো জিনিস সন্ধান (ঘোষণা) করতে শোনে, সে যেন বলে, ‘আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।’ কারণ, মসজিদ এর জন্য বানানো হয়নি।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৭০৬

عن ابن عمر، رضي الله عنهما، عن النبي صلى الله عليه وسلم ، قال‏:‏ ‏‏إن الله تعالى ينهاكم أن تحلفوا بآبائكم، فمن كان حالفًا، فليحلف بالله، أو ليصمت‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية في الصحيح ‏"‏فمن كان حالفًا فلا يحلف إلا بالله أو ليسكت‏"‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখন তোমরা কাউকে মসজিদের মধ্যে কেনা-বেচা করতে দেখবে, তখন বলবে, ‘আল্লাহ তোমার ব্যবসায়ে যেন লাভ না দেন।’ আর যখন কাউকে হারানো জিনিস খুঁজতে দেখবে, তখন বলবে, ‘আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৭০৭

وعن عبد الرحمن بن سَمُرَة، رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏لا تحلفوا بالطواغي، ولا بآبائكم‏"‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ ‏"‏الطواغي‏"‏‏:‏ جمع طاغية، وهي الأصنام، ومنه الحديث‏:‏ ‏"‏هذه طاغية دوس‏"‏‏:‏ أي‏:‏ صنمهم ومعبودهم، وروي في غير مسلم‏:‏ ‏"‏بالطواغيت‏"‏ جمع طاغوت، وهو الشيطان والصنم‏.‏"

একটি লোক মসজিদের মধ্যে (হারানো বস্তু সম্পর্কে) ঘোষণা পূর্বক বলল, ‘আমাকে আমার লাল উটের সন্ধান কে দিতে পারবে?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘তুমি যেন তা না পাও। মসজিদ সেই কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে, যে কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৭০৮

وعن بريدة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من حلف بالأمانة، فليس منا‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏حديث صحيح رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏

তিনি তাঁর (আম্রের) দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন মসজিদের মধ্যে কেনা-বেচা করতে, হারানো বস্তু সন্ধান করতে অথবা তাতে (অবৈধ) কবিতা আবৃত্তি করতে।


রিয়াদুস সলেহিন ১৭০৯

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من حلف فقال‏:‏ إني بريء من الإسلام، فإن كان كاذبًا، فهو كما قال، وإن كان صادقًا، فلن يرجع إلى الإسلام سالمًا‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, আমি মসজিদে নববীতে ছিলাম। এমন সময় একটি লোক আমাকে কাঁকর ছুঁড়ে মারল। আমি তার দিকে তাকাতেই দেখি, তিনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি বললেন, ‘যাও, ঐ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এস।’ আমি তাদেরকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেন, ‘তোমরা কোথাকার?’ তারা বলল, ‘আমরা তায়েফের অধিবাসী।’ তিনি বললেন, ‘তোমরা যদি এই শহর (মদীনার) লোক হতে, তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলছ!’


রিয়াদুস সলেহিন > (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।

রিয়াদুস সলেহিন ১৭১০

وعن ابن عمر رضي الله عنهما أنه سمع رجلا يقول‏:‏ لا والكعبة، قال ابن عمر‏:‏ لا تحلف بغير الله، فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏‏من حلف بغير الله، فقد كفر أو أشرك‏"‏‏.‏‏(‏‏(‏ رواه الترمذي وقال حديث حسن‏)‏‏)‏ وفسر بعض العلماء قوله‏:‏ ‏"‏كفر أو أشرك‏"‏ على التغليظ، كما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏"‏الرياء شرك‏"‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এই গাছ---অর্থাৎ রসুন ---থেকে কিছু খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৭১১

عن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من خلف على مال امرئ مسلم بغير حقه، لقي الله وهو عليه غضبان‏" ‏ قال‏:‏ ثم قرأ علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مصداقه من كتاب الله عز وجل‏:‏ ‏{‏إن الذين يشترون بعهد الله وأيمانهم ثمنًا قليلا‏}‏ ‏(‏‏(‏آل عمران‏:‏ 77‏)‏‏)‏ إلى آخر الآية‏:‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এই (রসুন) গাছ থেকে কিছু ভক্ষণ করল, সে যেন অবশ্যই আমাদের নিকটবর্তী না হয়, আর না আমাদের সাথে নামায পড়ে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৭১২

وعن أبي أُمامة إياس بن ثعلبة الحارثي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏من اقتطع حق امرئ مسلم بيمينه، فقد أوجب الله له النار‏.‏ -وحرم عليه الجنة‏"‏ فقال له رجل‏:‏ وإن كان شيئًا يسيرًا يا رسول الله‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏وإن كان قضيبًا من أراك‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি (কাঁচা) রসূন অথবা পিঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৭১৩

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏الكبائر‏:‏ الإشراك بالله، وعقوق الوالدين، وقتل النفس، واليمين الغموس‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏ وفي رواية‏:‏ أن أعرابيًا جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله ما الكبائر‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏الإشراك بالله‏ ‏ قال‏:‏ ثم ماذا‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏اليمين الغموس‏ ‏ قلت‏:‏ وما اليمين الغموس‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏الذي يقتطع مال امرئ مسلم‏ ‏ يعني بيمين هو فيها كاذب

তিনি এক জুমআর দিন খুতবা দিলেন, সে খুতবায় তিনি বললেন, ‘‘....অতঃপর তোমরা হে লোক সকল! দুই শ্রেণীর এমন গাছ (সবজি) খেয়ে থাক; যা (কাঁচা অবস্থায়) খাওয়ার অনুপযুক্ত মনে করি; পিঁয়াজ আর রসুন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদের মধ্যে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ দুই (সবজি)র দুর্গন্ধ পেতেন, তখন তাকে (মসজিদ থেকে বহিষ্কার করতে) আদেশ দিতেন। ফলে তাকে বাকী’ (নামক জায়গা) পর্যন্ত বের করে দেওয়া হত। সুতরাং যে ঐ দুই সবজি খেতে চায়, সে যেন ঐগুলি রান্না করে তার গন্ধ মেরে খায়।’’


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية