অশুভ লক্ষণ মানা নিষেধ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > অশুভ লক্ষণ মানা নিষেধ

রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৩

وعن أبي طلحة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏لا تدخل الملائكة بيتًا فيه كلب ولا صورة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘রোগের সংক্রমণ ও অশুভ লক্ষণ বলতে কিছুই নেই। শুভ লক্ষণ মানা আমার নিকট পছন্দনীয়। আর তা হল, উত্তম বাক্য।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৪

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ وعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل أن يأتيه فراث عليه حتى اشتد على رسول الله صلى الله عليه وسلم، فخرج فلقيه جبريل فشكا إليه، فقال‏:‏ إنا لا ندخل بيتًا فيه كلب ولا صورة‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏ ‏(‏‏(‏‏ ‏راث‏" ‏‏:‏ أبطأ، وهو بالثاء المثلثة‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘ছোঁয়াচে ও অশুভ বলে কিছু নেই। অশুভ বলতে যদি কিছু থাকে, তাহলে তা ঘর, স্ত্রী ও ঘোড়ার মধ্যে আছে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৫

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ واعد رسول الله صلى الله عليه وسلم جبريل عليه السلام في ساعة أن يأتيه، فجاءت تلك الساعة ولم يأته‏!‏ قالت‏:‏ وكان بيده عصًا، فطرحها من يده وهو يقول‏:‏ ‏‏ما يخلف الله وعده ولا رسله‏"‏ ثم التفت، فإذا جرو كلب تحت سريره‏.‏ فقال‏:‏ ‏"‏متى دخل هذا الكلب‏؟‏‏"‏ فقلت‏:‏ والله ما دريت به، فأمر به فأخرج، فجاءه جبريل عليه السلام‏:‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏وعدتني، فجلست لك ولم تأتني‏"‏ فقال‏:‏ منعني الكلب الذي كان في بيتك، إنا لا ندخل بيتًا فيه كلب ولا صورة‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কোন কিছুকে) অশুভ লক্ষণ মানতেন না।


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৬

وعن أبي الهياج حيان بن حصين قال‏:‏ قال لي علي بن أبي طالب رضي الله عنه‏:‏ ألا أبعثك على ما بعثني عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏؟‏ أن لا تدع صورة إلا طمستها، ولا قبرًا مشرفًا إلا سويته‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মুখে অশুভ বা কুলক্ষণ সম্পর্কে কথা হচ্ছিল। তিনি বললেন: এর মধ্যে ভাল হল ফাল। কিন্তু কোন মুসলিমকে অশুভ লক্ষণ তার কর্ম থেকে বিরত রাখতে পারে না। তোমাদের মধ্যে কেউ অপছন্দীয় কোন বিষয় দেখলে সে যেন বলে, ‘‘হে আল্লাহ! তুমি ব্যতীত কেউ কল্যাণ দিতে পারে না এবং তুমি ব্যতীত কেউ অকল্যাণ দূর করতে পারে না। অবস্থার পরিবর্তন করা বা মঙ্গল ও অমঙ্গল বিধান করার ক্ষমতা শুধুমাত্র তোমারই’’।


রিয়াদুস সলেহিন > পাথর, দেওয়াল, ছাদ, মুদ্রা ইত্যাদিতে প্রাণীর মূর্তি খোদাই করা হারাম। অনুরূপভাবে দেওয়াল, ছাদ, বিছানা, বালিশ, পর্দা, পাগড়ী, কাপড় ইত্যাদিতে প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করা হারাম এবং মূর্তি ছবি নষ্ট করার নির্দেশ

রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৭

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏من اقتنى كلبًا إلا كلب صيد أو ماشية فإنه ينقص فإنه ينقص من أجره كل يوم قيراطان‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏ وفي رواية‏:‏ ‏ ‏قيراط‏‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যারা এ জাতীয় (প্রাণীর) মূর্তি বা ছবি তৈরি করে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে শাস্তি দেওয়া হবে। তাদেরকে বলা হবে, তোমরা যা বানিয়েছিলে তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা কর।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৮

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏من أمسك كلبًا فإنه ينقص كل يوم من عمله قيراط إلا كلب حرث أو ماشية‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية لمسلم‏:‏ ‏"‏من اقتنى كلبًا ليس بكلب صيد، ولا ماشية ولا أرض، فإنه ينقص من أجره قيراطان كل يوم‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাবূক যুদ্ধের) সফর থেকে ফিরে এলেন। আমি আমার কক্ষের তাক বা জানালায় পাতলা কাপড়ের পর্দা টাঙ্গিয়ে ছিলাম; তাতে ছিল (প্রাণীর) অনেকগুলি চিত্র। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ওটা দেখলেন, তখন তাঁর চেহারা পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘‘হে আয়েশা! কিয়ামতের দিন সেসব মানুষের সবচেয়ে বেশি শাস্তি হবে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির অনুরূপ তৈরি করবে।’’ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘সুতরাং আমরা তা ছিঁড়ে ফেললাম এবং তা দিয়ে একটি বা দু’টি হেলান-বালিশ তৈরি করলাম।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৮৯

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏لا تصحب الملائكة رفقة كلب أو جرس‏" ‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘প্রত্যেক ছবি (বা মূর্তি) নির্মাতা জাহান্নামে যাবে, তার নির্মিত প্রতিটি ছবি বা মূর্তির পরিবর্তে একটি ক’রে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে, যা তাকে জাহান্নামে শাস্তি দিতে থাকবে।’’ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘যদি তুমি করতেই চাও, তাহলে গাছপালা ও নিষ্প্রাণ বস্তুর ছবি বা মূর্তি তৈরি করতে পার।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯০

وعنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏الجرس مزامير الشيطان‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح على شرط مسلم‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন (প্রাণীর) চিত্র বানিয়েছে তাকে কিয়ামতের দিনে তাতে রূহ ফুঁকার জন্য বাধ্য করা হবে, অথচ সে রূহ ফুঁকতে পারবে না।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯১

عن ابن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الجلالة في الإبل أن يركب عليها‏.‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, ‘‘কিয়ামতের দিনে ছবি বা মূর্তি নির্মাতাদের সর্বাধিক কঠিন শাস্তি হবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯২

عن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏البصاق في المسجد خطيئة، وكفارتها دفنها‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘‘তার চাইতে বড় জালেম কে আছে, যে আমার সৃষ্টির অনুরূপ সৃষ্টি তৈরি করতে চায়? সুতরাং তারা একটি ধূলিকণা বা পিঁপড়ে সৃষ্টি করুক অথবা একটি শস্যদানা সৃষ্টি করুক অথবা একটি যবদানা সৃষ্টি করুক।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯৩

وعن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم رأى في جدار القبلة مخاطا أو بزاقا أو نخامة فحكه ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সে ঘরে (রহমতের) ফিরিশতা প্রবেশ করেন না যে ঘরে কুকুর থাকে এবং সে ঘরেও নয় যে ঘরে ছবি বা মূর্তি থাকে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯৪

وعن أنس رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من البول ولا القذر، إنما هي لذكر الله تعالى، وقراءة القرآن‏" ‏ أو كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, (একবার) জিব্রীল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসার ওয়াদা দিলেন। কিন্তু তিনি আসতে বিলম্ব করলেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত (এ বিলম্ব) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষে অত্যন্ত ভারী বোধ হতে লাগল। অবশেষে তিনি বাইরে বের হয়ে গেলেন। তখন জিব্রীল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি বিলম্ব হওয়ার অভিযোগ করলে জিব্রীল বললেন, ‘আমরা সেই ঘরে প্রবেশ করি না যে ঘরে কুকুর কিম্বা ছবি থাকে।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯৫

عن أبي هريرة رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏من سمع رجلا ينشد ضالة في المسجد فليقل‏:‏ لا ردها الله عليك، فإن المساجد لم تبنَ لهذا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, একদা জিব্রীল আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোন এক সময়ে সাক্ষাৎ করার জন্য ওয়াদা করেন। সুতরাং সে নির্ধারিত সময়টি এসে পৌঁছল; কিন্তু জিব্রীল আসলেন না। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে একটি লাঠি ছিল। তিনি তা ফেলে দিলেন এবং বললেন, ‘‘আল্লাহ নিজ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না এবং তাঁর দূতগণও না।’’ তারপর তিনি ফিরে দৃষ্টি নিক্ষেপ ক’রে দেখতে পেলেন যে, তাঁর খাটের নীচে একটি কুকুর ছানা বসে আছে। তখন তিনি বললেন, ‘‘এ কুকুরটি কখন এখানে ঢুকে পড়েছে?’’ (আয়েশা বলেন) আমি বললাম, ‘আল্লাহর কসম! আমি ওর ব্যাপারে জানতেই পারিনি।’ সুতরাং তিনি আদেশ দিলে ওটাকে বাইরে বের করা হল। তারপর জিব্রীল -এর আগমন ঘটল। তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (অভিযোগ ক’রে) বললেন, ‘‘আপনি আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন, আর আমি আপনার প্রতীক্ষায় বসেছিলাম, অথচ আপনি আসলেন না?’’ জিব্রীল বললেন, ‘আমাকে ঐ কুকুর ছানাটি (ঘরে ঢুকতে) বাধা দিয়েছিল; যেটা আপনার ঘরের মধ্যে ছিল। নিশ্চয় আমরা সে ঘরে প্রবেশ করি না, যে ঘরে কুকুর কিম্বা কোন ছবি বা মূর্তি থাকে।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৯৬

وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏إذا رأيتم من يبيع أو يبتاع في المسجد، فقولوا‏:‏ لا أربح الله تجارتك، وإذا رأيتم من ينشد ضالة فقولوا‏:‏ لا ردها الله عليك‏" ‏‏‏

তিনি বলেন, একদা আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) আমাকে বললেন, ‘তোমাকে সে কাজের জন্য পাঠাব না কি, যে কাজের জন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে পাঠিয়েছিলেন? (তা হচ্ছে এই যে,) কোন (প্রাণীর) ছবি বা মূর্তি দেখলেই তা নিশ্চিহ্ন ক’রে দেবে এবং কোন উঁচু কবর দেখলে তা সমান করে দেবে।’


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية