স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধ্যাতীত কর্ম করা নিষেধ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধ্যাতীত কর্ম করা নিষেধ

রিয়াদুস সলেহিন ১৬৬৪

وعن أسيد بن أبي أسيد التابعي عن امرأة من المبايعات قالت‏:‏ كان فيما أخذ علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم، في المعروف الذي أخذ علينا أن لا نعصيه فيه‏:‏ أن لا نخمش وجهًا، ولا ندعو ويلا، ولا نشق جيبًا، وأن لا ننشر شعرًا‏‏‏.‏"

তিনি বলেন, ‘স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধ্যাতীত কর্ম করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৬৫

وعن أبي موسى رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ما من ميت يموت، فيقوم باكيهم، فيقول‏:‏ واجبلاه، وأسيداه، أو نحو ذلك إلا وكل به ملكان يلهزانه‏:‏ أهكذا كنت‏؟‏‏!‏‏" ‏‏‏ رواه الترمذي وقال حديث حسن‏‏

তিনি বলেন, একদা আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) এর নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন ‘হে লোক সকল! যে ব্যক্তির কিছু জানা থাকে, সে যেন তা বলে। আর যার জানা নেই, সে যেন বলে, ‘আল্লাহই ভালো জানেন।’ কারণ তোমার অজানা বিষয়ে ‘আল্লাহই ভালো জানেন’ বলাও এক প্রকার ইলম (জ্ঞান)। মহান আল্লাহ তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সম্বোধন ক’রে বলেছেন, ‘‘বল, আমি উপদেশের জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না এবং যারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সাধ্যাতীত কর্ম করে, আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই।’’


রিয়াদুস সলেহিন > মৃত্যের জন্য মাতম করে কাঁদা, গাল চাপড়ানো, বুকের কাপড় ছিঁড়া, চুল ছেঁড়া, মাথা নেড়া করা ও সর্বনাশ ও ধ্বংস ডাকা নিষিদ্ধ

রিয়াদুস সলেহিন ১৬৬৬

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏اثنان في الناس هما بهم كفر‏:‏ الطعن في النسب، والنياحة على الميت‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মৃত ব্যক্তিকে তার কবরের মধ্যে তার জন্য মাতম ক’রে কান্না করার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়।’’ (বুখারী ও মুসলিম) অন্য এক বর্ণনায় আছে, যতক্ষণ তার জন্য মাতম ক’রে কান্না করা হয়, (ততক্ষণ মৃত-ব্যক্তির আযাব হয়।)


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৬৭

عن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم أناس عن الكهان، فقال‏:‏ ‏‏ليسوا بشيء‏"‏ فقالوا‏:‏ يا رسول الله إنهم يحدثونا أحيانًا بشيء، فيكون حقًا‏؟‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏تلك الكلمة من الحق يخطفها الجني‏.‏ فيقرها في أذن وليه، فيخلطون معها مائة كذبة‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية للبخاري عن عائشة رضي الله عنها أنها سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏"‏إن الملائكة تنزل في العَنان -وهو السحاب-‏.‏ فتذكر الأمر قضي في السماء، فيسترق الشيطان السمع، فيسمعه، فيوحيه إلى الكهان، فيكذبون معها مائة كذبة من عند أنفسهم‏"‏‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে (শোকের সময়) গালে আঘাত করে, বুকের কাপড় ছিঁড়ে এবং জাহেলিয়াতের ডাকের ন্যায় ডাক ছাড়ে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৬৮

وعن قبيصة بنت أبي عبيد، عن بعض أزواج النبي صلى الله عليه وسلم، ورضي الله عنها، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من أتي عرافًا فسأله عن شيء، فصدقه، لم تقبل له صلاة أربعين يومًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, (তাঁর পিতা) আবূ মুসা আশআরী (রাঃ) যন্ত্রণায় কাতর হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। আর (ঐ সময়) তাঁর মাথা তাঁর এক স্ত্রীর কোলে রাখা ছিল এবং সে চিৎকার ক’রে কান্না করতে লাগল। তিনি (অজ্ঞান থাকার কারণে) তাকে বাধা দিতে পারলেন না। সুতরাং যখন তিনি চেতনা ফিরে পেলেন, তখন বলে উঠলেন, ‘আমি সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত, যে মহিলা থেকে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই মহিলা থেকে সম্পর্কমুক্ত হয়েছেন, যে শোকে উচ্চ স্বরে মাতম ক’রে কান্না করে, মাথা মুণ্ডন করে এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৬৯

وعن قبيصة بن المخارق رضي الله عنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏العِيافة، والطِّيَرة، والطرق، من الجبت‏" ‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি বলতে শুনেছি যে, ‘‘যার জন্য মাতম ক’রে কান্না করা হয়, তাকে কিয়ামতের দিনে তার জন্য মাতম করার দরুন শাস্তি দেওয়া হবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭০

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من اقتبس علمًا من النجوم، اقتبس شعبة من السحر زاد ما زاد‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, ‘বায়আতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে এই অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন যে, আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য মাতম করব না।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭১

وعن معاوية بن الحكم رضي الله عنه قال‏:‏ قلت يا رسول الله إني حديث عهد بجاهلية، وقد جاء الله تعالى بالإسلام، وإن منا رجالا يأتون الكهان‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏فلا تأتهم‏"‏ قلت‏:‏ ومنا رجال يتطيرون‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ذلك شيء يجدونه في صدورهم، فلا يصدهم‏"‏ قلت‏:‏ ومنا رجال يخطون‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏كان نبي من الأنبياء يخط، فمن وافق خطه، فذاك‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাহ (রাঃ) (একবার) অজ্ঞান হয়ে পড়লে তাঁর বোন কান্না করতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘ও (আমার) পাহাড় গো! ও আমার এই গো! ও আমার ওই গো!’ এভাবে তাঁর একাধিক গুণ বর্ণনা করতে লাগলেন। সুতরাং যখন তিনি জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন বললেন, ‘তুমি যা কিছু বলেছ, সে সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করা হচ্ছিল যে, তুমি ঐরূপ ছিলে নাকি?’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭২

وعن أبي مسعود البدري رضي الله عنه قال‏:‏ إن رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ ‏نهى عن ثمن الكلب، ومهر البغي وحُلوان الكاهن‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, সা’দ ইবনে উবাদাহ (রাঃ) একবার পীড়িত হলে আব্দুর রহমান ইবনে আওফ, সা’দ ইবনে আবী অক্কাস এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদদের সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট কুশল জিজ্ঞাসার জন্য গেলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তাঁকে অজ্ঞান অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘ও কি মারা গেছে?’’ লোকেরা জবাব দিল, ‘হে আল্লাহর রসূল! না (মারা যায়নি)।’ তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেঁদে ফেললেন। সুতরাং লোকেরা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কান্না করতে দেখল, তখন তারাও কাঁদতে লাগল। তিনি বললেন, ‘‘তোমরা কি শুনতে পাও না? নিঃসন্দেহে আল্লাহ চোখের অশ্রু ঝরাবার জন্য শাস্তি দেন না এবং আন্তরিক দুঃখ প্রকাশের জন্য ও শাস্তি দেন না। কিন্তু তিনি তো এটার কারণে শাস্তি দেন অথবা দয়া করেন।’’ এই বলে তিনি নিজ জিভের প্রতি ইঙ্গিত করলেন।


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭৩

عن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏لا عدوى ولا طِيَرة ويعجبني الفأل‏"‏ قالوا‏:‏ وما الفأل‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏كلمة طيبة‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মাতম-কারিণী মহিলা যদি মরণের পূর্বে তাওবাহ না করে, তাহলে আল-কাতরার পায়জামা এবং পাঁচড়ার জামা পরিহিতা অবস্থায় তাকে কিয়ামতের দিনে দাঁড় করানো হবে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭৪

وعن ابن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏لا عدوى ولا طِيَرة، وإن كان الشؤم في شيء ففي الدار والمرأة، والفرس‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

এমন এক মহিলা থেকে বর্ণনা করেন, যিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বায়আত-কারিণী মহিলাদের একজন ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব সৎকর্ম করতে ও তাতে তাঁর অবাধ্যতা না করতে আমাদের কাছে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন, সে সবের মধ্যে এটিও ছিল যে, (শোকাহত হয়ে) আমরা চেহারা খামচাব না, ধ্বংস ও সর্বনাশ কামনা করব না, বুকের কাপড় ছিঁড়ব না এবং মাথার চুল আলুথালু করব না।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭৫

وعن بريدة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان لا يتطير‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যখনই কোনো মৃত্যুগামী ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করে। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে রোদন-কারিণী রোদন করে এবং বলে, ‘ও আমার পাহাড় গো! ও আমার সর্দার গো!’ অথবা অনুরূপ আরও কিছু বলে, তখনই সেই মৃতের জন্য দু’জন ফিরিশতা নিযুক্ত করা হয়, যারা তার বুকে ঘুষি মেরে বলতে থাকেন, ‘তুই কি ঐ রকম ছিলি নাকি?’


রিয়াদুস সলেহিন ১৬৭৬

وعن عروة بن عامر رضي الله عنه قال‏:‏ ذكرت الطِيَرة عند رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ ‏ ‏أحسنها الفأل، ولا ترد مسلمًا فإذا رأى أحدكم ما يكره، فليقل‏:‏ اللهم لا يأتي بالحسنات إلا أنت، ولا يدفع السيئات إلا أنت، ولا حول ولا قوة إلا بك‏" ‏‏‏‏(‏‏(‏حديث صحيح رواه أبو داود بإسناد صحيح‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘মানুষের মধ্যে দুটো আচরণ এমন পাওয়া যায়, যা তাদের ক্ষেত্রে কুফরীমূলক কর্ম; বংশে খোঁটা দেওয়া ও মৃতের জন্য মাতম ক’রে কান্না করা।’’


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية