নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা ঘোর নিষিদ্ধ - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রাণীকে অভিসম্পাত করা ঘোর নিষিদ্ধ

রিয়াদুস সলেহিন ১৫৫৯

وعن أبي ذر رضي الله عنه أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏لا يرمي رجل رجلا بالفسق أو الكفر، إلا ارتدت عليه، إن لم يكن صاحبه كذلك‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

তিনি ‘বায়আতে রিয্ওয়ান’ (হুদাইবিয়াহ সন্ধির সময়ে কুরাইশের বিরুদ্ধে কৃত প্রতিজ্ঞার) অন্যতম সদস্য ছিলেন; তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ইসলাম ব্যতীত ভিন্ন ধর্মের মিথ্যা কসম খেল, তাহলে সে তেমনি হয়ে গেল, যেমন সে বলল। যে ব্যক্তি কোন বস্তু দ্বারা আত্মহত্যা করল, কিয়ামতের দিন তাকে সেই বস্তু দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। মানুষ যে জিনিসের মালিক নয়, তার মানত পূরণ করা তার পক্ষে জরুরী নয়। আর কোন মুমিন ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করা তাকে হত্যা করার সমান।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏المتسابان ما قالا فعلى البادي منهما حتى يعتدي المظلوم‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘কোন মহাসত্যবাদীর জন্য অভিসম্পাতকারী হওয়া সঙ্গত নয়।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬১

وعنه قال‏:‏ أتي النبي صلى الله عليه وسلم برجل قد شرب قال‏:‏ ‏‏اضربوه‏"‏ قال أبو هريرة‏:‏ فمنا الضارب بيده، والضارب بنعله، والضارب بثوبه‏.‏ فلما انصرف، قال بعض القوم‏:‏ أخزاك الله، قال‏:‏ ‏"‏لا تقولوا هذا، لا تُعينوا عليه الشيطان‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘অভিসম্পাতকারীরা কিয়ামতের দিনে না সুপারিশকারী হবে, আর না সাক্ষ্যদাতা।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬২

وعنه قال‏:‏ سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول‏:‏ ‏ ‏من قذف مملوكه بالزنا يقام عليه الحد يوم القيامة، إلا أن يكون كما قال‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘তোমরা একে অন্যের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ, তাঁর গযব এবং জাহান্নামের আগুন দ্বারা অভিসম্পাত করো না।’’ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী হাসান সহীহ)


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬৩

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏لا تسبوا الأموات فإنهم قد أفضوا إلى ما قدموا‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘মুমীন খোঁটা দানকারী, অভিশাপকারী, নির্লজ্জ ও অশ্লীলভাষী হয় না।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬৪

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏المسلم من سلم المسلمون من لسانه ويده، والمهاجر من هجر ما نهى الله عنه‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যখন কোন বান্দা কোন জিনিসকে অভিসম্পাত করে, তখন সেই অভিশাপ আকাশের দিকে উঠে যায়। কিন্তু তার সামনে আকাশের দ্বার বন্ধ ক‘রে দেওয়া হয়, ফলে পৃথিবীর দিকে নেমে আসে। তখনও তার সামনে (পৃথিবীর) দরজা বন্ধ ক‘রে দেওয়া হয়। কাজেই ডানে-বামে (এদিক ওদিক) ফিরতে থাকে। পরিশেষে যখন তা কোন যথার্থ স্থান পায় না, তখন অভিশপ্ত বস্তু বা ব্যক্তির প্রতি ফিরে যায়; যদি সে এর (অভিশাপের) উপযুক্ত হয়, তাহলে (তাকে অভিশাপ লেগে যায়)। নচেৎ তা অভিশাপ-কারীর প্রতি ফিরে আসে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬৫

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏من أحب أن يزحزح عن النار، ويدخل الجنة، فلتأته منيته وهو يؤمن بالله واليوم الآخر، وليأتِ إلى الناس الذي يحب أن يؤتى إليه‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏ وهو بعض حديث طويل سبق في باب طاعة ولاة الأمور‏‏

তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোন সফরে ছিলেন। আনসারী এক মহিলা এক উটনীর উপর সওয়ার ছিল। সে বিরক্ত হয়ে উটনীটিকে অভিসম্পাত করতে লাগল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা শুনে (সঙ্গীদেরকে) বললেন, ‘‘এ উটনীর উপরে যা কিছু আছে সব নামিয়ে নাও এবং ওকে ছেড়ে দাও। কেননা, ওটি (এখন) অভিশপ্ত।’’ ইমরান বলেন, ‘যেন আমি এখনো উঁটনীটিকে দেখছি, উটনীটি লোকদের মধ্যে চলাফেরা করছে, আর কেউ তাকে বাধা দিচ্ছে না।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৬৬

وعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏لا تباغضوا، ولا تحاسدوا ولا تدابروا، ولا تقاطعوا، وكونوا عباد الله إخوانًا، ولا يحل لمسلم أن يهجر أخاه فوق ثلاث‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

একবার এক যুবতী মহিলা একটি উটনীর উপর সওয়ার ছিল। আর তার উপর লোকদের (সহযাত্রীদের) কিছু আসবাব-পত্র ছিল। ইত্যবসরে মহিলাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রত্যক্ষ করল। আর লোকদের জন্য পার্বত্য পথটি সংকীর্ণ বোধ হল। মহিলাটি উটনীকে (দ্রুত গতিতে চালাবার উদ্দেশ্যে) বলল, ‘হাঃ! হে আল্লাহ! এর উপর অভিশাপ কর।’ তা শুনে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘‘ঐ উটনী যেন আমাদের সাথে না থাকে, যাকে অভিশাপ করা হয়েছে।’’


রিয়াদুস সলেহিন > অনির্দিষ্টরূপে পাপিষ্ঠদেরকে অভিসম্পাত করা বৈধ

এই অধ্যায়ে কোনো হাদিস পাওয়া যায়নি।

🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية