গীবতে (পরচর্চায়) অংশগ্রহণ করা হারাম। যার নিকট গীবত করা হয় তার উচিত গীবতকারীর তীব্র প্রতিবাদ করা এবং তার সমর্থন না করা। আর তাতে সক্ষম না হলে স‎ম্ভব হলে উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়া - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > গীবতে (পরচর্চায়) অংশগ্রহণ করা হারাম। যার নিকট গীবত করা হয় তার উচিত গীবতকারীর তীব্র প্রতিবাদ করা এবং তার সমর্থন না করা। আর তাতে সক্ষম না হলে স‎ম্ভব হলে উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়া

রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৬

وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بقبرين فقال‏:‏ “إنهما يعذابان ، وما يعذبان في كبير‏!‏ بلى إنه كبير‏:‏ أما أحدهما ، فكان يمشي بالنميمة، وأما الآخر فكان لا يستتر من بوله ‏(‏‏(‏متفق عليه وهذا لفظ إحدى روايات البخاري‏)‏‏)‏‏.‏ قال العلماء‏:‏ معنى ‏ ‏وما يعذبان في كبير‏" ‏ أي كبير في زعمهما وقيل‏:‏ كبير تركه عليهما‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করবে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের আগুন থেকে তার চেহারাকে রক্ষা করবেন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৭

وعن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ “ ألا أنبئكم ما العِضَه‏؟‏ هي النميمة، القالة بين الناس‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

যা বিগত ‘আল্লাহর প্রতি আশা’ পরিচ্ছেদে বর্ণিত একটি সুদীর্ঘ হাদীসের অংশ বিশেষ। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ানোর উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘মালেক ইবনে দুখ্‌শুম কোথায়!’’ একটি লোক বলে উঠল, ‘সে তো একজন মুনাফিক; আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে না।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘ও কথা বলো না। তুমি কি মনে কর না যে, সে (কালিমাহ) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং সে তার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়? যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশ্যে (কালিমাহ) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম ক‘রে দেন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৮

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ “لا يُبلغني أحد من أصحابي عن أحد شيءا، فإني أحب أن أخرج إلىكم وأنا سليم الصدر‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبوداود والترمذي‏)‏‏)‏"

যা তাওবাহ পরিচ্ছেদে ২২ নম্বরে সুদীর্ঘ হাদীস তাঁর তাওবার কাহিনী অতিবাহিত হয়েছে, তিনি বলেন, তাবূক পৌঁছে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের মাঝে বসে ছিলেন, তখন আমার ব্যাপারে বললেন, ‘‘কা’ব বিন মালেকের কি হয়েছে?’’ বানু সালেমাহ (গোত্রের) একটি লোক বলে উঠল যে, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার দুই চাদর এবং দুই পার্শ্ব (বাহু) দর্শন (অর্থাৎ ধন ও তার অহংকার) তাকে আটকে দিয়েছে।’ (এ কথা শুনে) মু‘আয ইবন জাবাল (রাঃ) বললেন, ‘‘তুমি নিকৃষ্ট কথা বললে। আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাকে ভালই জানি।’’ সুতরাং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব থাকলেন।


রিয়াদুস সলেহিন > যে সব কারণে গীবত বৈধ

রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৯

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ “تجدون الناس معادن‏:‏ خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا، وتجدون خيار الناس في هذا الشأن أشدهم له كراهية، وتجدون شر الناس ذا الوجهين، الذي يأتي هؤلاء بوجه، وهؤلاء بوجه‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏"

একটি লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আসার অনুমতি চাইল। তিনি বললেন, ‘‘ওকে অনুমতি দাও। ও নিজ বংশের অত্যন্ত মন্দ ব্যক্তি।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৪০

وعن محمد بن زيد أن ناسًا قالوا لجده عبد الله بن عمر رضي الله عنهما‏:‏ إنا ندخل على سلاطيننا فنقول لهم بخلاف ما نتكلم إذا خرجنا من عندهم‏.‏ قال‏:‏ كنا نعد هذا نفاقًا على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘আমার মনে হয় না যে, অমুক ও অমুক লোক আমাদের দ্বীন সম্পর্কে কিছু জ্ঞান রাখে।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৪১

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ إن الصدق يهدي إلى البر، وإن البر يهدي إلى الجنة، وإن الرجل ليصدق حتى يكتب عند الله صديقًا، وإن الكذب يهدي إلى الفجور، وإن الفجور يهدي إلى النار، وإن الرجل ليكذب حتى يكتب عند الله كذابًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে নিবেদন করলাম, ‘আবুল জাহ্ম ও মুয়াবিয়াহ আমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। (এ ক্ষেত্রে আমি কী করব?)’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘মুআবিয়াহ তো গরীব মানুষ, তার নিকট মালধনই নেই। আর আবুল জাহ্ম, সে তো নিজ কাঁধ হতে লাঠিই নামায় না।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৪২

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏أربع من كن فيه كان منافقًا خالصًا، ومن كانت فيه خصلة منهن كانت فيه خصلة من نفاق حتى يدعها‏:‏ إذا أؤتمن خان، وإذا حدث كذب، وإذا عاهد غدر، وإذا خاصم فجر‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏ وقد سبق بيانه مع حديث أبي هريرة بنحوه في باب الوفاء بالعهد‏‏

তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে এক সফরে বের হলাম, যাতে লোকেরা সাংঘাতিক কষ্ট পেয়েছিল। আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই (মুনাফিকদের সর্দার, স্ব-মতাবলম্বী লোকদেরকে সম্বোধন ক‘রে) বলল, ‘তোমরা আল্লাহর রসূলের সঙ্গীদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা সরে দাঁড়ায়।’ এবং সে আরও বলল, ‘আমরা মদিনায় ফিরে গেলে সেখান হতে সম্মানী অবশ্যই হীনকে বহিষ্কার করবে।’ (যায়েদ বলেন,) আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে তা জানিয়ে দিলাম। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে ডেকে পাঠালেন। আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই (কিন্তু) বারবার শপথ করে বলল যে, সে তা বলেনি। লোকেরা বলল, ‘যায়েদ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মিথ্যা কথা বলেছে।’ (যায়েদ বলেন,) লোকদের কথা শুনে আমার মনে অত্যন্ত দুঃখ হল। অবশেষে আল্লাহ আমার কথার সত্যতায় সূরা ‘ইযা জা-আকাল মুনাফিক্বূন’ অবতীর্ণ করলেন। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আল্লাহর নিকট) তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনার উদ্দেশ্যে তাদেরকে ডাকলেন। কিন্তু তারা নিজেদের মাথা ফিরিয়ে নিল।


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৪৩

وعن ابن عباس رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم ، قال‏:‏ ‏ ‏ من تحلم بحلم لم يره، كُلف أن يعقد بين شعيرتين ولن يفعل، ومن استمع إلى حديث قوم وهم له كارهون، صب في أذنيه الآنُك يوم القيامة، ومن صور صورة، عذب وكلف أن ينفخ فيها الروح وليس بنافخ‏" ‏‏‏

তিনি বলেন, আবূ সুফয়ানের স্ত্রী হিন্দ্ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললেন যে, ‘আবূ সুফয়ান একজন কৃপণ লোক। আমি তার সম্পদ থেকে (তার অজান্তে) যা কিছু নিই তা ছাড়া সে আমার ও আমার সন্তানকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খরচ দেয় না।’ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘তোমার ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন মোতাবেক খরচ (তার অজান্তে) নিতে পার।’’


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية