গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব

রিয়াদুস সলেহিন ১৫১৯

وعن عقبة بن عامر رضي الله عنه قال‏:‏ قلت يا رسول الله ما النجاة‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏أمسك عليك لسانك، وليسعك بيتك، وابكِ على خطيئتك‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي، وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে; নচেৎ চুপ থাকে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২০

وعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ “إذا أصبح ابن آدم، فإن الأعضاء كلها تكفر اللسان، تقول‏:‏ اتقِ الله فينا، فإنما نحن بك‏:‏ فإن استقمت استقمنا وإن اعوججت اعوججنا”‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي‏)‏‏)‏‏.‏ ‏ '‏معني “تكفر اللسان” أي تذل وتخضع ل‏‏.‏

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! সর্বোত্তম মুসলিম কে?’ তিনি বললেন, “যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২১

وعن معاذ رضي الله عنه قال‏:‏ قلت يا رسول الله‏:‏ أخبرني بعمل يدخلني الجنة، ويباعدني من النار‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏لقد سألت عن عظيم، وإنه ليسير على من يسره الله تعالى عليه‏:‏ تعبد الله لا تشرك به شيئًا، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلا ثم قال‏:‏ ألا أدلك على أبواب الخير‏؟‏ الصوم جُنة، والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل من جوف الليل” ثم تلا‏:‏ ‏{‏تتجافى جنوبهم عن المضاجع‏}‏ حتى بلغ‏:‏ ‏{‏يعملون‏}‏ ‏(‏‏(‏السجدة‏:‏ 16-17‏)‏‏)‏‏.‏ ثم قال‏:‏ ‏"‏ألا أخبرك برأس الأمر وعموده وذِروة سنامه‏"‏ قلت‏"‏ بلى يا رسول الله، قال‏:‏ رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذِروة سنامه الجهاد” ثم قال‏:‏ “ألا أخبرك بملاك ذلك كله‏؟‏‏"‏ قلت‏:‏ بلى يا رسول الله، فأخذ بلسانه قال‏:‏ ‏"‏كف عليك هذا‏"‏ قلت‏:‏ يا رسول الله وإنا لمؤاخذون بما نتكلم به‏؟‏ فقال‏:‏ ثكلتك أمك‏!‏ وهل يُكب الناس في النار على وجوههم إلا حصائد ألسنتهم‏؟‏‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن صحيح، وقد سبق شرحه في باب قبل هذا‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী (অঙ্গ জিভ) এবং দুই পায়ের মধ্যবর্তী (অঙ্গ গুপ্তাঙ্গ) সম্বন্ধে নিশ্চয়তা দেবে, আমি তার জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা দেব।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২২

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ “أتدرون ما الغيبة‏؟‏” قالوا‏:‏ الله ورسوله أعلم قال‏:‏ ‏‏ذكرك أخاك بما يكره‏"‏ قيل‏:‏ أفرأيت إن كان في أخي ما أقول‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏إن كان فيه ما تقول، فقد اغتبته، وإن لم يكن فيه ما تقول فقد بهته”‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, “মানুষ চিন্তা-ভাবনা না ক‘রে এমন কথাবার্তা বলে ফেলে, যার দ্বারা তার পদস্খলন ঘটে পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকে বেশি দূরত্ব দোযখে গিয়ে পতিত হয়।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৩

وعن أبي بكر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال في خطبته يوم النحر بمنًى في حجة الوداع‏:‏ ‏‏إن دماءكم، وأموالكم، وأعراضكم حرام عليكم كحرمة يومكم هذا، في شهركم هذا، في بلدكم هذا، ألا هل بلغت” ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏"

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “বান্দা আল্লাহ তা‘আলার সন্তোষজনক এমন কথা অন্যমনস্ক হয়ে বলে ফেলে, যার ফলে আল্লাহ তার মর্যাদা উন্নীত ক‘রে দেন। আবার কখনো বান্দা অন্যমনস্ক হয়ে আল্লাহর অসন্তোষজনক এমন কথা বলে ফেলে, যার ফলে সে জাহান্নামে গিয়ে পতিত হয়।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৪

وعن عائشة رضي الله عنها‏:‏ قالت قلت للنبي صلى الله عليه وسلم حسبك من صفية كذا وكذا‏.‏ قال بعض الرواة‏:‏ تعني قصيرة، فقال‏:‏ ‏‏لقد قلت كلمة لو مُزجت بماء البحر لمزجته‏!‏‏"‏ قالت‏:‏ وحكيت له إنسانًا فقال‏:‏ “ما أحب أني حكيت إنسانًا وإن لي كذا وكذا”‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح‏.‏‏)‏‏)‏ ومعني‏:‏ ‏"‏مزجته‏"‏ خالطته مخالطة يتغير بها طعمه، أو ريحه لشدة نتنها وقبحها، وهذا الحديث من أبلغ الزواجر عن الغيبة، قال الله تعالى‏:‏ ‏{‏وما ينطق عن الهوى، إن هو إلا وحي يوحى‏}‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সন্তোষমূলক এমন কথা বলে, আর সে কল্পনাও করে না যে, তা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, আল্লাহ তার দরুন তাঁর সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত তার জন্য সন্তুষ্টি লিখে দেন। পক্ষান্তরে মানুষ আল্লাহ তা‘আলার অসন্তোষমূলক এমন কথা বলে, আর সে কল্পনাও করে না যে, তা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, আল্লাহ তার দরুন তাঁর সাক্ষাতের দিন পর্যন্ত তার জন্য অসন্তুষ্টি লিখে দেন।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৫

وعن أنس رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ “لما عُرج بي مررت بقوم لهم أظفار من نُحاس يخمشون وجوههم وصدورهم، فقلت‏:‏ من هؤلاء يا جبريل‏؟‏ قال‏:‏ هؤلاء الذين يأكلون لحوم الناس، ويقعون في أعراضهم‏!‏”‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود‏.‏‏)‏‏)‏

একদা আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন কথা বাত্লে দিন, যা মজবুত-ভাবে ধরে রাখব।’ তিনি বললেন, “তুমি বল, আমার রব আল্লাহ, অতঃপর তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাক।” আমি পুনরায় নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য আপনি কোন্ জিনিসকে সব চাইতে বেশি ভয় করেন?’ তিনি স্বীয় জিহ্বাকে (স্বহস্তে) ধারণ-পূর্বক বললেন, “এটাকে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৬

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏كل المسلم على المسلم حرام‏:‏ دمه وعرضه وماله‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহর যিকর ভিন্ন অধিক কথা বলো না। কেননা আল্লাহ তা‘আলার যিকর শূন্য অধিক কথা বার্তা অন্তরকে শক্ত করে ফেলে আর শক্ত অন্তরের লোক আল্লাহ থেকে সবচাইতে দূরে।


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৭

- وعن أبي الدرداء رضي الله عنه، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏من رد عن عِرض أخيه، رد الله عن وجهه النار يوم القيامة‏" ‏‏‏‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال حديث حسن‏‏‏)‏‏)‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত অঙ্গ (জিহ্বা) ও দু’পায়ের মাঝখানের অঙ্গ (লজ্জাস্থান) এর ক্ষতি থেকে মুক্ত রাখবেন, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৮

وعن عتبان بن مالك رضي الله عنه في حديثه الطويل المشهور الذي تقدم في باب الرجاء قال‏:‏ قام النبي صلى الله عليه وسلم يصلي فقال‏:‏ ‏ ‏أين مالك بن الدخشم‏؟‏ فقال رجل‏:‏ ذلك منافق لا يحب الله ورسوله، فقال النبي صلى الله عليه وسلم‏:‏ “لا تقل ذلك ألا تراه قد قال‏:‏ لا إله إلا الله يريد بذلك وجه الله‏!‏ وإن الله قد حرم على النار من قال لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! কিসে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব?’ তিনি বললেন, “তুমি নিজ রসনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখ। তোমার ঘর তোমার জন্য প্রশস্ত হোক। (অর্থাৎ, অবসর সময়ে নিজ গৃহে অবস্থান কর।) আর নিজ পাপের জন্য ক্রন্দন কর।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫২৯

وعن كعب بن مالك رضي الله عنه في حديثه الطويل في قصة توبته وقد سبق في بابه التوبة‏.‏ قال‏:‏ قال النبي صلى الله عليه وسلم وهو جالس في القوم بتبوك‏:‏ ‏ ‏ما فعل كعب مالك‏؟‏ فقال رجل من بني سلمة‏:‏ يا رسول الله حبسه برداه، والنظر في عطفيه فقال معاذ بن جبل رضي الله عنه بئس ما قلت والله يا رسول الله ما علمنا عليه إلا خيرًا، فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আদম সন্তান যখন সকালে উপনীত হয়, তখন তার সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জিভকে অত্যন্ত বিনীতভাবে নিবেদন করে যে, ‘তুমি আমাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর। কারণ, আমাদের ব্যাপারসমূহ তোমার সাথেই সম্পৃক্ত। যদি তুমি সোজা সরল থাক, তাহলে আমরাও সোজা-সরল থাকব। আর যদি তুমি বক্রতা অবলম্বন কর, তাহলে আমরাও বেঁকে বসব।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩০

عن عائشة رضي الله عنها أن رجلا استأذن على النبي صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ “ائذنوا له، بئس أخو العشيرة‏؟‏ ‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ احتج به البخاري في جواز غيبة أهل الفساد وأهل الريب‏.‏"

তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমল বাত্লে দেন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।’ তিনি বললেন, “তুমি বিরাট (কঠিন) কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে। তবে এটা তার পক্ষে সহজ হবে, যার পক্ষে মহান আল্লাহ সহজ ক‘রে দেবেন। (আর তা হচ্ছে এই যে,) তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার কোন অংশী স্থাপন করবে না। নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে, মাহে রমযানের রোযা পালন করবে এবং কাবা গৃহের হজ্জ পালন করবে।” পুনরায় তিনি বললেন, “তোমাকে কল্যাণের দ্বারসমূহ বাতলে দেব না কি? রোযা ঢাল স্বরূপ, সদকাহ গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে; যেমন পানি আগুনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর মধ্য রাত্রিতে মানুষের নামায।” অতঃপর তিনি এই আয়াত দু’টি পড়লেন- যার অর্থ, “তারা শয্যা ত্যাগ করে, আশায় বুক বেধেঁ এবং আশংকায় ভীতি-বিহ্বল হয়ে তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে এবং আমি তাদেরকে যে সব জীবিকা দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় ক‘রে থাকে। তাদের সৎকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের জন্য নয়ন-প্রীতিকর যা কিছু লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, কেউ তা অবগত নয়।” (সূরা সেজদা ১৬-১৭ আয়াত) তারপর বললেন, “আমি তোমাকে সব বিষয়ের (দ্বীনের) মস্তক, তার খুঁটি, তার উচ্চতম চূড়া বাতলে দেব না কি?” আমি বললাম, ‘অবশ্যই বাতলে দিন, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “বিষয়ের মস্তক হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে নামায এবং তার উচ্চতম চূড়া হচ্ছে জিহাদ।” পুনরায় তিনি প্রশ্ন করলেন, “আমি তোমাকে সে সবের মূল সম্বন্ধে বলে দেব না কি?” আমি বললাম, ‘অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রসূল!’ তখন তিনি নিজ জিভটিকে ধরে বললেন, “তোমার মধ্যে এটিকে সংযত রাখ।” মু‘আয বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা যে কথা বলি তাতেও কি আমাদেরকে হিসাব দিতে হবে?’ তিনি বললেন, “তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক হে মুআয! মানুষকে তাদের নিজেদের জিভ-ঘটিত পাপ ছাড়া অন্য কিছু কি তাদের মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩১

وعنها قالت‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏ما أظن فلانًا وفلانًا يعرفان من ديننا شيئًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏ قال الليث بن سعد أحد رواة هذا الحديث‏:‏ هذان الرجلان كانا من المنافقين‏‏

একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তোমরা কি জান, গীবত কাকে বলে?” লোকেরা বলল, ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূল অধিক জানেন।’ তিনি বললেন, “তোমার ভাই যা অপছন্দ করে, তাই তার পশ্চাতে আলোচনা করা।” বলা হল, ‘আমি যা বলি, তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, তাহলে আপনার রায় কি? (সেটাও কি গীবত হবে?)’ তিনি বললেন, “তুমি যা (সমালোচনা ক‘রে) বললে, তা যদি তার মধ্যে থাকে, তাহলেই তার গীবত করলে। আর তুমি যা (সমালোচনা ক‘রে) বললে, তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তাহলে তাকে অপবাদ দিলে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩২

وعن فاطمة بنت قيس رضي الله عنها قالت‏:‏ أتيت النبي صلى الله عليه وسلم، فقلت‏:‏ إن أبا الجهم ومعاوية خطباني‏؟‏ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏‏‏أما معاوية، فصعلوك لا مال له ، وأما أبوالجهم، فلا يضع العصا عن عاتقه‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏ وفي رواية لمسلم ‏:‏ ‏"‏وأما أبو الجهم فضراب للنساء‏"‏ وهو تفسير لرواية‏:‏ ‏"‏ لا يضع العصا عن عاتقه‏"‏ وقيل‏:‏ معناه‏:‏ كثير الأسفار‏.‏"

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায়ী হজ্জে মিনায় ভাষণ দানকালে বলেছেন, “নিশ্চয় তোমাদের রক্ত, তোমাদের মাল এবং তোমাদের স‎ম্ভ্রম তোমাদের (আপসের মধ্যে) এ রকমই হারাম, যেমন তোমাদের এ দিনের সম্মান তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে রয়েছে। শোন! আমি কি পৌঁছে দিলাম?”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৩

وعن زيد بن أرقم رضي الله عنه قال‏:‏ خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر أصاب الناس فيه شدة، فقال عبد الله بن أبي‏:‏ لا تنفقوا على من عند رسول الله حتى ينفضوا وقال‏:‏ لئن رجعنا إلى المدينة ليخرجن الأعز منها الأذل فأتيت رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأخبرته بذلك، فأرسل إلى عبد الله بن أبي ، فاجتهد يمينه‏:‏ ما فعل، فقالوا‏:‏ كذب زيد رسول الله صلى الله عليه وسلم فوقع في نفسي مما قالوا شدة حتى أنزل الله تعالى تصديقي ‏{‏إذا جاءك المنافقون‏}‏ ثم دعاهم النبي صلى الله عليه وسلم، ليستغفر لهم فلووا رءوسهم‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏.‏

তিনি বলেন, একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বললাম, ‘আপনার জন্য সাফিয়ার এই এই হওয়া যথেষ্ট।’ (কোন কোন বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, সাফিয়া বেঁটে।) এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) (আমাকে) বললেন, “তুমি এমন কথা বললে, যদি তা সমুদ্রের পানিতে মিশানো হয়, তাহলে তার স্বাদ পরিবর্তন করে দেবে!” আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা তাঁর নিকট একটি লোকের পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করলাম। তিনি বললেন, “কোন ব্যক্তির পরিহাসমূলক ভঙ্গি নকল করি আর তার বিনিময়ে এত এত পরিমাণ ধনপ্রাপ্ত হই, এটা আমি আদৌ পছন্দ করি না।” (আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সহীহ) (আবূ দাউদ ৪৮৭৫, তিরমিযী ২৫০২, আহমাদ ২৫০৩২) مَزَجَته এর ভাবার্থ হল, তার সাংঘাতিক দুর্গন্ধ ও নিকৃষ্টতার কারণে সমুদ্রের পানিতে মিশে তার স্বাদ অথবা গন্ধ পরিবর্তন ক‘রে দেয়। এই উপমাটি গীবত নিষিদ্ধ হওয়া ও তা থেকে সতর্কীকরণের ব্যাপারে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও পরিণত বাক্য।


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৪

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ قالت هند امرأة أبي سفيان للنبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ إن أبا سفيان رجل شحيح وليس يعطيني ما يكفيني وولدي إلا ما أخذت منه، وهو لا يعلم‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏خذي ما يكفيك وولدك بالمعروف‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏ ‏‏

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যখন আমাকে মি‘রাজে নিয়ে যাওয়া হল, সে সময় এমন ধরনের কিছু মানুষের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, যাদের নখ ছিল তামার, তা দিয়ে তারা নিজেদের মুখমণ্ডল খামচে ক্ষত-বিক্ষত করছিল। আমি, প্রশ্ন করলাম, ওরা কারা? হে জিব্রীল! তিনি বললেন, ওরা সেই লোক, যারা মানুষের মাংস ভক্ষণ করত ও তাদের সম্ভ্রম লুটে বেড়াত।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৫

وعن حذيفة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏لا يدخل الجنة نمام‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “প্রত্যেক মুসলিমের রক্ত, সম্ভ্রম ও ধন-সম্পদ অন্য মুসলিমের উপর হারাম।”


রিয়াদুস সলেহিন > গীবতে (পরচর্চায়) অংশগ্রহণ করা হারাম। যার নিকট গীবত করা হয় তার উচিত গীবতকারীর তীব্র প্রতিবাদ করা এবং তার সমর্থন না করা। আর তাতে সক্ষম না হলে স‎ম্ভব হলে উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়া

রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৬

وعن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر بقبرين فقال‏:‏ “إنهما يعذابان ، وما يعذبان في كبير‏!‏ بلى إنه كبير‏:‏ أما أحدهما ، فكان يمشي بالنميمة، وأما الآخر فكان لا يستتر من بوله ‏(‏‏(‏متفق عليه وهذا لفظ إحدى روايات البخاري‏)‏‏)‏‏.‏ قال العلماء‏:‏ معنى ‏ ‏وما يعذبان في كبير‏" ‏ أي كبير في زعمهما وقيل‏:‏ كبير تركه عليهما‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সম্ভ্রম রক্ষা করবে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তা'আলা জাহান্নামের আগুন থেকে তার চেহারাকে রক্ষা করবেন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৭

وعن ابن مسعود رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ “ ألا أنبئكم ما العِضَه‏؟‏ هي النميمة، القالة بين الناس‏‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

যা বিগত ‘আল্লাহর প্রতি আশা’ পরিচ্ছেদে বর্ণিত একটি সুদীর্ঘ হাদীসের অংশ বিশেষ। তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামায পড়ানোর উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘মালেক ইবনে দুখ্‌শুম কোথায়!’’ একটি লোক বলে উঠল, ‘সে তো একজন মুনাফিক; আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে না।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘‘ও কথা বলো না। তুমি কি মনে কর না যে, সে (কালিমাহ) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে এবং সে তার দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চায়? যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার উদ্দেশ্যে (কালিমাহ) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম ক‘রে দেন।’’


রিয়াদুস সলেহিন ১৫৩৮

وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ “لا يُبلغني أحد من أصحابي عن أحد شيءا، فإني أحب أن أخرج إلىكم وأنا سليم الصدر‏‏‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبوداود والترمذي‏)‏‏)‏"

যা তাওবাহ পরিচ্ছেদে ২২ নম্বরে সুদীর্ঘ হাদীস তাঁর তাওবার কাহিনী অতিবাহিত হয়েছে, তিনি বলেন, তাবূক পৌঁছে যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকদের মাঝে বসে ছিলেন, তখন আমার ব্যাপারে বললেন, ‘‘কা’ব বিন মালেকের কি হয়েছে?’’ বানু সালেমাহ (গোত্রের) একটি লোক বলে উঠল যে, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার দুই চাদর এবং দুই পার্শ্ব (বাহু) দর্শন (অর্থাৎ ধন ও তার অহংকার) তাকে আটকে দিয়েছে।’ (এ কথা শুনে) মু‘আয ইবন জাবাল (রাঃ) বললেন, ‘‘তুমি নিকৃষ্ট কথা বললে। আল্লাহর কসম! হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাকে ভালই জানি।’’ সুতরাং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নীরব থাকলেন।


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية