সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকির - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকির

রিয়াদুস সলেহিন ১৪৫৯

وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إذا أوى أحدكم إلى فراشه، فلينفض فراشه بداخلة إزاره فإنه لا يدري ما خلفه عليه، ثم يقول‏:‏ باسمك ربي وضعت جنبي، وبك أرفعه؛ إن أمسكت نفسي فارحمها، وإن أرسلتها، فاحفظها بما تحفظ به عبادك الصالحين‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় ‘সুবহানাল্লাহি অবিহামদিহ’ একশবার পাঠ করবে, কিয়ামতের দিনে ওর চাইতে উত্তম আমল কেউ আনতে পারবে না। কিন্তু যদি কেউ তার সমান বা তার থেকে বেশি সংখ্যায় ঐ তাসবীহ পাঠ করে থাকে (তাহলে ভিন্ন কথা)।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬০

وعن عائشة، رضي الله عنه، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان إذا أخذ مضجعه نفث في يديه، وقرأ بالمعوذات ومسح بهما جسده‏.‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية لهما‏:‏ ‏ ‏أن النبي صلى الله عليه وسلم، كان إذا أوى إلى فراشه كل ليلة جمع كفيه، ثم نفث فيهما فقرأ فيهما‏:‏ قل هو الله أحد، وقل أعوذ برب الفلق، وقل أعوذ برب الناس، ثم مسح بهما ما استطاع من جسده، يبدأ بهما على رأسه ووجهه، وما أقبل من جسده، يفعل ذلك ثلاث مرات‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! গত রাতে বিছার কামড়ে আমি যে কত কষ্ট পেয়েছি, (তা বলার নয়) ।’ তিনি বললেন, “শোন! যদি তুমি সন্ধ্যাবেলায় এই দুআ পাঠ করতে, ‘আঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি মিন শার্রি মা খালাক্ব।’ অর্থাৎ আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাণীর অসীলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার মন্দ হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাহলে তা তোমার ক্ষতি করতে পারত না।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬১

وعن البراء بن عازب رضي الله عنهما، قال‏:‏ قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏إذا أتيت مضجعك فتوضأ وضوءك للصلاة، ثم اضطجع على شقك الأيمن، وقل‏:‏ اللهم أسلمت نفسي إليك، ووجهت وجهي إليك وفوضت أمري إليك، وألجأت ظهري إليك رغبة ورهبة إليك لا ملجأ ولا منجا منك إلا إليك آمنت بكتابك الذي أنزلت، وبنبيك الذي أرسلت، فإن مت، مت على الفطرة، واجعلهن آخر ما تقول‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকালে এই দুআ পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহ&না অবিকা আমসাইনা, অবিকা নাহ্ইয়া, অবিকা নামূতু অইলাইকান নুশূর।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সকাল হল এবং তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হয়, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন। আর সন্ধ্যায় এই দুআ পড়তেন, ‘আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা, অবিকা নাহ্ইয়া, অবিকা নামূতু অইলাইকান নুশূর।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তোমারই হুকুমে আমাদের সন্ধ্যা হল, তোমারই হুকুমে আমরা জীবিত থাকি, তোমারই হুকুমে আমরা মৃত্যু বরণ করব এবং তোমারই দিকে আমাদের পুনর্জীবন।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬২

وعن أنس رضي الله عنه، أن النبي صلى الله عليه وسلم، كان إذا أوى فراشه قال‏:‏ ‏ ‏الحمد لله الذي أطعمنا وسقانا، وكفانا وآوانا، فكم ممن لا كافي له ولا مئوي‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

‘হে আল্লাহর রসূল! আমাকে কিছু বাক্য বাতলে দিন, যেগুলি সকাল-সন্ধ্যায় আমি পড়তে থাকব।’ তিনি বললেন, “বল, ‘আল্লা-হুম্মা ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি অল আরয্বি আ-লিমাল গায়বি অশশাহা-দাহ, রাব্বা কুলি শাইয়িন অমালীকাহ, আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা আঊযু বিকা মিন শার্রি নাফসী অশার্রিশ শায়ত্বা-নি অশির্কিহ।’ অর্থাৎ, হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃজনকর্তা, উপস্থিত ও অনুপস্থিত পরিজ্ঞাতা, প্রত্যেক বস্তুর প্রতিপালক ও অধিপতি আল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি আমার আত্মার মন্দ হতে এবং শয়তানের মন্দ ও শিক© হতে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। সকাল-সন্ধ্যা তথা শোবার সময় পাঠ করো।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৩

وعن حذيفة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم، كان إذا أراد أن يرقد وضع يده اليمنى تحت خده، ثم يقول‏:‏ ‏ ‏اللهم قني عذابك يوم تبعث عبادك‏" ‏‏‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال حديث حسن ورواه أبو داود من رواية حفصة رضي الله عنه وفيه أنه كان يقوله ثلاث مرات‏)‏‏)‏‏‏

তিনি বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সন্ধ্যাবেলায় এই দুআ পড়তেন, ‘আমসাইনা অ আমসাল মুলকু লিল্লা-হ, অলহামদু লিল্লা-হ, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহ&দাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুলি শাইয়িন ক্বাদীর। রাব্বি আস্আলুকা খাইরা মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি অ খাইরা মা বা’দাহা, অ আঊযু বিকা মিন শার্রি মা ফী হা-যিহিল লাইলাতি অ শার্রি মা বা’দাহা, রাবিব আঊযু বিকা মিনাল কাসালি অ সূইল কিবার, রাবিব আঊযু বিকা মিন আযা-বিন ফিন্না-রি অ আযা-বিন ফিল ক্বাবর।’ অর্থাৎ, আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, (বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাতে বললেন,) তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় স্তুতি, এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি। আর আমি তোমার নিকট এই রাত্রে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা হতে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমার নিকট অলসতা এবং বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার প্রভু! আমি তোমার নিকট জাহান্নামের এবং কবরের সকল প্রকার আযাব হতে আশ্রয় চাচ্ছি। তিনি যখন সকালে উঠতেন তখনও এই দুআ পাঠ করতেন; বলতেন ‘আসবাহনা ও আসবাহাল মুলকু লিল্লাহ------।’


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৪

وعن النعمان بن بشير رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏الدعاء هو العبادة‏" ‏‏‏

তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন, “সকাল-সন্ধ্যায় ‘ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ (সূরা ইখলাস) এবং ‘ক্বুল আঊযু বিরাবিবল ফালাক্ব’ ও ‘ক্বুল আঊযু বিরাবিবন্নাস’ তিনবার করে পড়। তাহলে প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৫

وعن عائشة، رضي الله عنها، قالت‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، يستحب الجوامع من الدعاء، ويدع ما سوى ذلك‏.‏ ‏(‏‏(‏رواه أبو داود بإسناد جيد‏)‏‏)‏‏.‏

তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রত্যেক দিন সকাল ও সন্ধ্যায় এই দুআ তিনবার করে পড়বে, ‘বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা য়্যাযুর্রু মাআসমিহী শাইউন ফিল আরয্বি অলা ফিসসামা-ই অহুওয়াস সামীউল আলীম।’ অর্থাৎ আমি শুরু করছি সেই আল্লাহর নামে যার নামের সাথে পৃথিবীর ও আকাশের কোন জিনিস ক্ষতি সাধন করতে পারে না এবং তিনিই সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা। কোন জিনিস সে ব্যক্তির ক্ষতি করতে পারবে না।”


রিয়াদুস সলেহিন > ঘুমাবার সময়ের দুআ

রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৬

وعن أنس رضي الله عنه، قال‏:‏ كان أكثر دعاء النبي صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏اللهم آتنا في الدنيا حسنة، وفي الآخرة حسنة، وقنا عذاب النار‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏ زاد مسلم في روايته قال‏:‏ وكان أنس إذا أراد أن يدعو بدعوة دعا بها، وإذا أراد أن يدعو بدعاء دعا بها فيه‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শোবার সময় এই দুআ পড়তেন, ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা আহ্ইয়াহ অ আমূতু।’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামেই আমি বাঁচি ও মরি) ।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৭

وعن ابن مسعود، رضي الله عنه، أن النبي، صلى الله عليه وسلم، كان يقول‏:‏ ‏ ‏اللهم إني أسألك الهدى، والتقى، والعفاف، والغنى‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা তাঁকে ও ফাতেমাকে বললেন, “যখন তোমরা বিছানায় যাবে, তখন ৩৩ বার ‘আল্লাহ আকবার’, ৩৩ বার ‘সুবহানাল্লাহ’ এবং ৩৩ বার ‘আলহামদুলিল্লাহ’ পাঠ করবে।” অন্য এক বর্ণনা অনুপাতে ৩৪ বার ‘সুবহানাল্লাহ’, আর এক বর্ণনা অনুপাতে ৩৪ বার ‘আল্লাহু আকবার’ পড়তে আদেশ করেছিলেন।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৮

وعن طارق بن أشيم، رضي الله عنه، قال‏:‏ كان الرجل إذا أسلم علمه النبي صلى الله عليه وسلم، الصلاة، ثم أمره أن يدعو بهؤلاء الكلمات‏:‏ ‏‏اللهم اغفر لي، وارحمني، واهدني، وعافني، وارزقني‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية له عن طارق أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم، وأتاه رجل، فقال‏:‏ يا رسول الله، كيف أقول حين أسأل ربي‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏قل‏:‏ اللهم اغفر لي، وارحمني، وعافني، وارزقني، فإن هؤلاء تجمع لك دنياك وآخرتك‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ শয্যা গ্রহণ করবে, তখন সে যেন নিজ লুঙ্গীর একাংশ দ্বারা তার বিছানাটা ঝেড়ে নেয়। কারণ, সে জানে না যে, তার অনুপস্থিতিতে কি কি জিনিস সেখানে এসেছে। তারপর এই দুআ পড়বে, ‘বিসমিকা রাব্বি অয্বা‘তু জানবী অবিকা আরফাউহু ফাইন আমসাকতা নাফসী ফারহামহা অইন আরসালতাহা ফাহফাযহা বিমা তাহফাযু বিহী ইবা-দাকাস স্বা-লিহীন।’ অর্থাৎ হে আমার প্রতিপালক! আমি তোমারই নামে আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমারই নামে তা উঠাব। অতএব যদি তুমি আমার আত্মাকে আবদ্ধ করে নাও, তাহলে তার প্রতি করুণা করো। আর যদি তা ছেড়ে দাও, তাহলে তাকে ঐ জিনিস দ্বারা হিফাযত কর, যার দ্বারা তুমি তোমার নেক বান্দাদের করে থাক।”


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৬৯

وعن عبد الله بن عمرو بن العاص، رضي الله عنهما، قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏ ‏اللهم مصرف القلوب صرف قلوبنا على طاعتك‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন শয্যা-গ্রহণ করতেন, তখন নিজ হাত দু’টিতে ‘মুআউবিযাত’ (তিন ক্বুল) পড়ে ফুঁ দিতেন এবং তার দ্বারা নিজ সমগ্র শরীরে বুলাতেন।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৭০

وعن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال‏:‏ ‏ ‏تعوذوا بالله من جهد البلاء، ودرك الشقاء، وسوء القضاء، وشماته الأعداء‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏ وفي رواية‏:‏ قال سفيان‏:‏ أشك أني زدت واحدة منها‏‏

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তুমি শয্যা গ্রহণ করবে, তখন নামাযের ওজুর ন্যায় ওযু করবে। তারপর ডানপাশে শুয়ে এই দুআ পড়বে, ‘আল্লা-হুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইক, অ অজ্জাহতু অজহিয়া ইলাইক, অফাউওয়ায্ব তু আমরী ইলাইক, অ আলজা’তু যাহরী ইলাইক, রাগ্বাতাঁঊ অরাহবাতান্ ইলাইক্, লা মাল্জাআ’ অলা মান্জা মিনকা ইল্লা ইলাইক, আ-মানতু বিকিতা-বিকাল্লাযী আনযালতা অ বিনাবিয়্যিকাল্লাযী আরসালত্।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আমি আমার প্রাণ তোমার প্রতি সমর্পণ করেছি, আমার মুখমণ্ডল তোমার প্রতি ফিরিয়েছি, আমার সকল কর্মের দায়িত্ব তোমাকে সোপর্দ করেছি, আমার পিঠকে তোমার দিকে লাগিয়েছি (তোমার উপরেই সকল ভরসা রেখেছি), এসব কিছু তোমার সওয়াবের আশায় ও তোমার আযাবের ভয়ে করেছি। তোমার নিকট ছাড়া তোমার আযাব থেকে বাঁচতে কোন আশ্রয়স্থল নেই। তুমি যে কিতাব অবতীর্ণ করেছ তার উপর এবং তুমি যে নবী প্রেরণ করেছ তার উপর ঈমান এনেছি।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৭১

وعنه قال‏:‏ كان رسول الله صلى الله عليه وسلم، يقول‏:‏ ‏ ‏اللهم أصلح لي ديني الذي هو عصمة أمري، وأصلح لي دنياي التي فيها معاشي، وأصلح لي آخرتي التي فيها معادي، واجعل الحياة زيادة لي في كل خير، واجعل الموت راحة لي من كل شر‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শয্যা গ্রহণ করতেন তখন এই দুআ পড়তেন, ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আত্বআমানা অ সাক্বা-না অকাফা-না অ আ-ওয়া-না, ফাকাম মিম্মাল লা কা-ফিয়া লাহু অলা মু’বী।’ অর্থাৎ, সেই আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদেরকে পানাহার করিয়েছেন, তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট হয়েছেন এবং আশ্রয় দিয়েছেন। অথচ কত এমন লোক আছে যাদের যথেষ্টকারী ও আশ্রয়দাতা নেই।


রিয়াদুস সলেহিন ১৪৭২

وعن علي رضي الله عنه قال‏:‏ قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏‏قل‏:‏ اللهم اهدني، وسددني‏"‏‏.‏ وفي رواية‏:‏ ‏"‏اللهم إني أسألك الهدى، والسداد‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুমাবার ইচ্ছা করতেন, তখন স্বীয় ডান হাতটি গালের নিচে স্থাপন করতেন, তারপর এই দুআ পাঠ করতেন। ‘আল্লাহুম্মা ক্বিনী আযাবাকা য়্যাওমা তাব্আসু ইবাদাকা।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! সেই দিনের আযাব থেকে আমাকে নিষ্কৃতি দাও, যেদিন তুমি তোমার বান্দাদের পুনরুত্থান ঘটাবে।


ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية