রিয়াদুস সলেহিন > ঘুমাবার ও ঘুম থেকে উঠার সময় দুআ
রিয়াদুস সলেহিন ১৪৫৪
وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: كان نبي الله صلى الله عليه وسلم، إذا أمسى قال: أمسينا وأمسى الملك لله، والحمد لله، لا إله إلا الله وحده لا شريك له قال الراوي: أراه قال فيهن: "له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، رب أسألك خير ما في هذه الليلة، وخير ما بعدها، وأعوذ بك من شر ما في هذه الليلة وشر ما بعدها، رب أعوذ بك من الكسل، وسوء الكبر، رب أعوذ بك من شر ما في هذه الليلة، وخير ما بعدها، وأعوذ بك من شر ما في هذه الليلة وشر ما بعدها، رب أعوذ بك من الكسل، وسوء الكبر، رب أعوذ بك من عذاب النار، وعذاب في القبر" وإذا أصبح قال ذلك أيضًا: "أصبحنا وأصبح الملك لله" ((رواه مسلم))."
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন বিছানায় শোবার জন্য যেতেন, তখন এই দুআ পড়তেন, ‘বিসমিকাল্লাহুম্মা আহ্ইয়া অআমূত।’ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! তোমার নামে আমি বাঁচি ও মরি)। আর যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন পড়তেন। ‘আলহামদু লিল্লা-হিল্লাযী আহয়্যা-না বা‘দা মা আমা-তানা অ ইলাইহিন নুশূর।’ অর্থাৎ যাবতীয় প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে মারার পর আবার জীবিত করলেন এবং তাঁরই প্রতি পুনরুত্থান ঘটবে।
রিয়াদুস সলেহিন > যিকিরের মহফিলের ফযীলত
রিয়াদুস সলেহিন ১৪৫৫
وعن عبد الله بن خُبيب -بضم الخاء المعجمة- رضي الله عنه قال: قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: اقرأ: قل هو الله أحد، والمعوذتين حين تمسي وحين تصبح، ثلاث مرات، تكفيك من كل شيء" رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহর কিছু ফিরিশতা আছেন, যারা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে-ফিরে আহলে যিক&র খুঁজতে থাকেন। অতঃপর যখন কোন সম্প্রদায়কে আল্লাহর যিক&ররত অবস্থায় পেয়ে যান, তখন তাঁরা একে অপরকে আহ্বান ক‘রে বলতে থাকেন, ‘এস তোমাদের প্রয়োজনের দিকে।’ সুতরাং তাঁরা (সেখানে উপস্থিত হয়ে) তাদেরকে নিজেদের ডানা দ্বারা নিচের আসমান পর্যন্ত বেষ্টিত করে ফেলেন। অতঃপর তাঁদেরকে তাঁদের প্রতিপালক জানা সত্ত্বেও তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার বান্দারা কি বলছে?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘তারা আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছে, আপনার মহত্ত্ব বর্ণনা করছে, আপনার প্রশংসা ও গৌরব বয়ান করছে।’ আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি আমাকে দেখেছে?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘জী না, আল্লাহর কসম! তারা আপনাকে দেখেনি।’ আল্লাহ বলেন, ‘ কি হত, যদি তারা আমাকে দেখত?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘যদি তারা আপনাকে দেখত, তাহলে আরও বেশী বেশী ইবাদত, গৌরব বর্ণনা ও তসবীহ করত।’ আল্লাহ বলেন, ‘ কি চায় তারা?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘তারা আপনার কাছে বেহেশ&ত& চায়।’ আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি জান্নাত দেখেছে?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘জী না, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা তা দেখেনি।’ আল্লাহ বলেন, ‘ কি হত, যদি তারা তা দেখত?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘তারা তা দেখলে তার জন্য আরও বেশী আগ্রহান্বিত হত। আরও বেশী বেশী তা প্রার্থনা করত। তাদের চাহিদা আরও বড় হত।’ আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি থেকে পানাহ চায়?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘তারা দোযখ থেকে পানাহ চায়।’ আল্লাহ বলেন, ‘তারা কি দোযখ দেখেছে?’ ফেরেশতারা বলেন, ‘জী না, আল্লাহর কসম! হে প্রতিপালক! তারা তা দেখেনি।’ আল্লাহ বলেন, ‘ কি হত, যদি তারা তা দেখত?’ ফিরিশ&তারা বলেন, ‘তারা তা দেখলে বেশী বেশী করে তা হতে পলায়ন করত। বেশী বেশী ভয় করত।’ তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদেরকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, আমি তাদেরকে মাফ ক‘রে দিলাম।’ ফিরিশ&তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, ‘কিন্তু ওদের মধ্যে অমুক ওদের দলভুক্ত নয়। সে আসলে নিজের কোন প্রয়োজনে সেখানে এসেছে।’ আল্লাহ বলেন, ‘(আমি তাকেও মাফ করে দিলাম! কারণ,) তারা হল এমন সম্প্রদায়, যাদের সাথে যে বসে সেও বঞ্চিত (হতভাগা) থাকে না।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৪৫৬
وعن عثمان بن عفان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما من عبد يقول في صباح كل يوم ومساء كل ليلة: بسم الله الذي لا يضر مع اسمه شيء في الأرض ولا في السماء وهو السميع العليم، ثلاث مرات، إلا لم يضره شيء" رواه أبو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, “যখনই কোন সম্প্রদায় আল্লাহ আয্যা অজাল্লার যিক&রে রত হয়, তখনই তাদেরকে ফিরিশ&তাবর্গ ঢেকে নেন, তাদেরকে রহমত আচ্ছন্ন করে নেয়, তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাবর্গের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৪৫৭
وعن حذيفة وأبي ذر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا أوى إلى فراشه قال: باسمك اللهم أحيا وأموت" ((رواه البخاري))
একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসেছিলেন এবং তাঁর সঙ্গে কিছু লোকও ছিল। ইতোমধ্যে তিনজন লোক আগমন করল। তাদের মধ্যে দু’জন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে উপস্থিত হল এবং একজন চলে গেল। নবাগত দু’জন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পাশে দাঁড়িয়ে রইল। তাদের একজন সভার মধ্যে ফাঁক দেখে সেখানে বসে পড়ল। আর অপরজন সভার পিছনে বসে গেল। আর তৃতীয় ব্যক্তি পিঠ ঘুরিয়ে প্রস্থান করল। যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অবসর পেলেন, তখন বললেন, “তোমাদেরকে তিন ব্যক্তি সম্পর্কে বলব না কি? তাদের একজন তো আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করল, ফলে আল্লাহ তাকে আশ্রয় দান করলেন। আর দ্বিতীয়জন সে (সভার মধ্যে ঢুকে বসতে) লজ্জাবোধ করল, বিধায় আল্লাহও তাঁর ব্যাপারে লজ্জাশীলতা প্রয়োগ (ক‘রে তাকে রহম) করলেন। আর তৃতীয় জন মুখ ফিরিয়ে নিলো, বিধায় আল্লাহও তার দিক থেকে বিমুখ হয়ে গেলেন।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৪৫৮
وعن علي رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له ولفاطمة، رضي الله عنهما: إذا أويتما إلى فراشكما، أو: إذا أخذتما مضجعكما - فكبرا ثلاثًا وثلاثين، وسبحا ثلاثًا وثلاثين، واحمدا ثلاثًا وثلاثين" وفي رواية: التسبيح أربعًا وثلاثين" وفي رواية: "التكبير أربعًا وثلاثين" ((متفق عليه))."
তিনি বলেন, মুআবিয়াহ (রাঃ) একবার মসজিদে (কিছু লোকের) এক হালকায় (গোল বৈঠকে) এসে বললেন, ‘তোমরা এখানে কি উদ্দেশ্যে বসেছ?’ তারা বলল, ‘আল্লাহর যিক&র করার উদ্দেশ্যে বসেছি।’ তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম! তোমরা একমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই বসেছ?’ তারা জবাব দিল, ‘(হ্যাঁ,) আমরা একমাত্র ঐ উদ্দেশ্যেই বসেছি।’ তিনি বললেন, ‘শোন! তোমাদেরকে (মিথ্যাবাদী) অপবাদ আরোপ ক‘রে কসম করাইনি। (মনে রাখবে) কোন ব্যক্তি এমন নেই, যে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট আমার সমমর্যাদা লাভ করেছে এবং আমার থেকে কম হাদিস বর্ণনা করেছে। নিঃসন্দেহে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (একবার) স্বীয় সহচরদের এক হালকায় উপস্থিত হয়ে তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, “তোমরা এখানে কি উদ্দেশ্যে বসেছ?” তাঁরা জবাব দিলেন, ‘উদ্দেশ্য এই যে, আমরা আল্লাহর যিক&র করব এবং তাঁর প্রশংসা করব যে, তিনি আমাদেরকে ইসলামের পথ দেখিয়েছেন ও তার মাধ্যমে আমাদের প্রতি বড় অনুগ্রহ করেছেন।’ এ কথা শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহর কসম! তোমরা একমাত্র এ উদ্দেশ্যেই এখানে বসেছ?” তাঁরা বললেন, ‘আল্লাহর কসম! আমরা কেবল এ উদ্দেশ্যেই বসেছি।’ তিনি বললেন, “শোন! আমি তোমাদেরকে এ জন্য কসম করাইনি যে, আমি তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী ভেবে অপবাদ আরোপ করছি। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার এই যে, জিব্রীল আমার কাছে এসে বললেন, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে নিয়ে ফিরিশ&তাদের সামনে গর্ব করছেন!”