রিয়াদুস সলেহিন > ক্রয়-বিক্রয় ও লেনদেনের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো, উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ ও প্রাপ্য তলব করা, ওজন ও মাপে বেশি দেওয়ার মাহাত্ম্য, ওজন ও মাপে নেওয়ার সময় বেশী নেওয়া এবং দেওয়ায় সময় কম দেওয়া নিষিদ্ধ এবং ধনী ঋণদাতায় অভাবী ঋণগ্রহীতাকে (যথেষ্ট সময় পর্যন্ত) অবকাশ দেওয়া ও তার ঋণ মকুব করার ফযীলত
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৭৫
وعن معاوية رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : من يرد الله به خيرًا يفقه في الدين" ((متفق عليه))
একটি লোক নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে রূঢ়ভাবে তাঁর কাছে পাওনা তলব করল। তখন সাহাবীগণ তাকে ভৎর্সনা করতে চাইলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে বললেন, “ওকে ছেড়ে দাও। কারণ হক (পাওনা)দারের কথা বলার অধিকার আছে।” তারপর বললেন, “ওকে ঠিক সেই বয়সের (উট) দিয়ে দাও যে বয়সের (উট) ওর ছিল।” তাঁরা বললেন, ‘হে আল্লাহর রসূল! তার চেয়ে উত্তম (উট) বৈ পাচ্ছি না।’ তিনি বললেন, “ওকে (ওটিই) দিয়ে দাও, কেননা, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম, যে ব্যক্তি উত্তমভাবে ঋণ পরিশোধ করে থাকে।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৭৬
وعن ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا حسد إلا في اثنتين: رجل آتاه الله مالا فسلطه على هلكته في الحق، ورجل آتاه الله الحكمة فهو يقضي بها ويعلمها" ((متفق عليه))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে ব্যক্তি উদার; যখন সে ক্রয় করে, যখন সে বিক্রয় করে এবং যখন সে পাওনা তলব করে।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৭৭
وعن أبي موسى رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم : مثل ما بعثني الله به من الهدى والعلم كمثل غيث أصاب أرضًا، فكانت منها طائفة طيبة قبلت الماء فأنبتت الكلأ، والعشب الكثير وكان منها أجادب أمسكت الماء، فنفع الله بها الناس، فشربوا منها وسقوا وزرعوا، وأصاب طائفة منها أخرى إنما هي قيعان لا تمسك ماء ولا تنبت كلأ فذلك مثل من فقه في دين الله ونفعه ما بعثني الله به وعلم، ومثل من لم يرفع بذلك رأسًا ولم يقبل هدى الله الذي أرسلت به" ((متفق عليه))
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, “যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনের অস্থিরতা ও বিপদ থেকে নিষ্কৃতি দেবেন, তাহলে সে যেন পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতা ব্যক্তিকে অবকাশ দান করে অথবা তার ঋণ মকুব করে দেয়।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৭৮
وعن سهل بن سعد رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعلي رضي الله عنه : فوالله لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير من حمر النعم" ((متفق عليه))
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “(প্রাচীনকালে) একটি লোক লোকদের ঋণ দিত এবং তার চাকরকে বলত যে, ‘যখন তুমি কোন পরিশোধে অসমর্থ ঋণগ্রহীতা ব্যক্তির কাছে যাবে, তাকে ক্ষমা করে দেবে। হয়তো (এর প্রতিদানে) আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। সুতরাং সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করলে (অর্থাৎ, মারা গেলে) আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন।” (বুখারী ও মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৭৯
وعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: بلغوا عني ولو آية وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج، ومن كذب علي متعمدًا فليتبوأ مقعده من النار" ((رواه البخاري))
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে একটি লোকের হিসাব নেওয়া হয়েছিল। তার একটি মাত্র সৎকর্ম ব্যতিরেকে আর কোন ভাল কাজ পাওয়া যায়নি। সেটি হল এই যে, সে লোক সমাজে মিলে-মিশে থাকত। সে ছিল সচ্ছল (বিত্তশালী) ব্যক্তি। নিজ চাকরদেরকে গরীব ঋণগ্রস্তদের ঋণ মকুব করার নির্দেশ দিত। (এসব দেখে) আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বললেন, ‘আমি তো ওর চাইতে বেশি ক্ষমা প্রদর্শনের অধিকারী। (হে ফিরিশ্তাবর্গ!) তোমরা ওকে মাফ করে দাও।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৮০
وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: ومن سلك طريقًا يلتمس فيه علما سهل الله له به طريقًا إلى الجنة" ((رواه مسلم))
তিনি বলেন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে এক এমন বান্দাকে---যাকে তিনি ধনৈশ্বর্য দ্বারা সমৃদ্ধ করেছেন; তাঁর কাছে হাজির করা হল। তিনি (আল্লাহ) তাকে বললেন, ‘তুমি দুনিয়াতে কি আমল করেছ?’ বর্ণনাকারী বলেন, অথচ আল্লাহর কাছে তারা (লোকেরা) কোন কথা গোপন রাখতে পারে না। সে বলল, ‘প্রভু! তুমি আমাকে ধনৈশ্বর্য দিয়েছিলে। আমি জনগণের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করেছি। আর উদারতা ছিল আমার বিশেষ অভ্যাস, ধনীর সাথে নমনীয় ব্যবহার দেখাতাম এবং গরীবদেরকে (সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত) অবকাশ দিতাম।’ মহান আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমার চাইতে এ ব্যাপারে অধিক হকদার। (হে ফিরিশ্তাবর্গ!) তোমরা আমার (এই) বান্দাকে ক্ষমা করে দাও।’ উক্ববাহ ইবনে আমের (রাঃ) ও আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) বলেন, ‘আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রমুখাৎ এরূপই শুনেছি।’ (মুসলিম)
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৮১
وعنه أيضًا رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: من دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه لا ينقص ذلك من أجورهم شيئًا ((رواه مسلم))."
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “যে ব্যক্তি পরিশোধে অক্ষম কোন ঋণগ্রহীতাকে (তার সচ্ছলতা আসা অবধি) অবকাশ দেবে বা তাকে ক্ষমা করে দেবে, আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিনে নিজ আরশের ছায়াতলে স্থান দেবেন, যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া থাকবে না।”
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৮২
وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : إذا مات ابن آدم انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية ،أو علم ينتفع به، أو ولد صالح يدعو له" ((رواه مسلم))
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার তাঁর (জাবেরের) নিকট থেকে একটি উট ক্রয় করলেন। সুতরাং তিনি তার মূল্য পরিশোধ করার সময় (স্বর্ণ-রৌপ্য প্রাপ্য অপেক্ষা) ওজনে বেশি দিলেন।
রিয়াদুস সলেহিন ১৩৮৩
وعنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: الدنيا ملعونة ملعون ما فيها إلا ذكر الله تعالى، وما والاه، وعالمًا أو متعلمًا" ((رواه الترمذي وقال: حديث حسن. )). (2)"
তিনি বলেন, আমি ও মাখরামাহ আব্দী ‘হাজার’ নামক জায়গা থেকে কিছু কাপড় (বিক্রির উদ্দেশ্যে) আমদানি করেছিলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিকট এসে পায়জামার দর-দাম করতে লাগলেন। আমার নিকটে একজন কয়াল (মাপনদার) ছিল, যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে (স্বর্ণ-রৌপ্য) ওজন করে দিত। সুতরাং তিনি কয়ালকে বললেন, “ওজন কর ও একটু ঝুঁকিয়ে ওজন কর।”